21/11/2025
মিরাজের রাতে আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) যখন হযরত জিবরাইল (আঃ)-এর সাথে হাঁটছিলেন তখন হৃদয় জুড়ানো সুঘ্রাণ পাচ্ছিলেন। কী মন মাতানো সেই ঘ্রাণ! রাসূল (সাঃ) অবাক হলেন এবং জিবরাইল (আঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন- 'হে জিবরাইল, আমি নাকে কিসের সুঘ্রাণ অনুভব করছি?' তখন জিবরাইল (আঃ) বললেন- 'ইয়া রাসুলাল্লাহ্, এই সুঘ্রাণ ফেরাঊনের দাসীর কবর থেকে আসছে।' মহানবী (সাঃ) তখন জিবরাইল (আঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, 'ফেরাঊনের দাসীর কবর থেকে এমন সুঘ্রাণ আসার কারণ কী, হে জিবরাইল?'
তখন জিবরাইল (আঃ) বললেন- 'একদিন ফেরাঊনের দাসী ফেরাঊন কন্যার চুল আঁচড়ে দিচ্ছিলেন, হঠাৎ তাঁর হাত থেকে চিরুনিটি পড়ে গেলো। চিরুনিটি তোলার সময় দাসী আনমনে বলে উঠলেন- 'বিসমিল্লাহ্' বা আল্লাহর নামে।
তখন ফেরাঊন কন্যা জিজ্ঞেস করলো- 'এই কথা দ্বারা তুমি আমার পিতাকে বুঝিয়েছো নিশ্চয়?'
দা*সী উত্তর দিলেন- 'না, আমি বলেছি আল্লাহ্! যিনি আমার প্রভু, তোমার বাবার প্রভু, জান্নাতের প্রভু, সারা জাহানের প্রভু।'
ফেরাঊন কন্যা বললো- 'তুমি যা বলেছো তা কি আমি আমার পিতাকে জানাবো?' নির্ভয়ে দাসী উত্তর দিলেন- 'হ্যাঁ, জানাও!' কথাটি জালিমদের মধ্যে নিকৃষ্ট জালিম ফেরাঊনের কানে গেলো, তখন সে দাসীকে দরবারে তলব করলো।
দাসী তাঁর দরবারে গেলেন। তখন ফেরাঊন তার উপদেষ্টাদের সাথে তার দরবারে বসেছিলো। তাচ্ছিল্যের সূরে সে দাসীকে জিজ্ঞেস করলো- 'হে আমার দাসী, তোমার প্রভু কে?' সাথে সাথে দাসীর নির্লিপ্ত উত্তর- 'আল্লাহ্, তিনি আমার প্রভু এবং তোমারও প্রভু!' দাসীর এমন উত্তর শুনে ফেরাঊন ক্রোধ মাখানো অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো এবং বললো- 'যাও, বাড়ি যাও।'
পরদিন ফেরাঊন সেই দা*সী ও তাঁর সন্তানদের দরবারে হাজির করার জন্য রক্ষীদের পাঠালো।
যখন দাসীকে দরবারে হাজির করা হলো তখন তিনি দেখলেন, ফেরাঊন একটি বড় কড়াইয়ের পাশে পায়চারী করছে। ইবনে কাথির (রাহঃ) এই কড়াইকে বর্ণনা করে বলেছেন- 'এটি এমন বিশাল একটি কড়াই যেখানে অনায়াসে বিশাল সাইজের একটি গরু ঠাঁই পাবে'।
তিনি আরও বলেছেন- 'সেই কড়াইতে তেল টগবগ করে ফুটছিল এবং কড়াইয়ের নিচে দাউদাউ আগুন জ্বলছিল'। সন্তানসহ হাজির করানোর পর ফেরাঊন দাসীকে বললো- 'ওহে দাসী, এবার বল তোর প্রভু কে'?' এবারও দাসী উত্তর দিলেন- 'আল্লাহ্, যিনি আমার প্রভু এবং তোরও প্রভু।' এ কথা শুনে ফেরাঊনের আদেশে রক্ষীরা তার বড় সন্তানকে ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপ করলো।
মা মা চিৎকার করতে করতে দাসীর ছেলেটি উত্তপ্ত তেলে নিমেষেই গলে গেলো। এই দৃশ্য দেখে জালিম কাফিরের দল হো হো করে হাসতে লাগলো। প্রথম
সন্তানকে মেরে ফেলার পর ফেরাঊন আবারও জিজ্ঞেস করলো- 'হে আমার দাসী, তোমার প্রভু কে?' দাসী আবারও বললেন, 'আল্লাহ্!'
এই কথা বলার সাথে সাথে রক্ষীরা তাঁর অন্য সন্তানকেও ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপ করলো। সাথে সাথে সেও সিদ্ধ তেলের সাথে মিলিয়ে গেলো। তারপর ফেরাঊন আবারও জানতে চাইলো- 'তোমার প্রভু কে?' চোখের সামনে সদ্য দুই সন্তান হারানো দাসী একটুও বিচলিত না হয়ে এবারও উত্তর দিলেন-'আল্লাহ্, যিনি আমারও প্রভু, তোরও প্রভু।'
এবার রক্ষীরা দাসীর দুধের শিশুটিকে তুলে নিক্ষেপ করার জন্য ঝুলিয়ে রাখলো, ঠিক তখনই দেখা গেলো আল্লাহর কুদরত। ছোট শিশুটি বলে উঠলো- 'চিন্তা করো না মা, আমরা জান্নাতে আছি!'
দাসী এবার আরো জোর গলায় চিৎকার করে বলে উঠলেন, 'আল্লাহ্! তিনি আমারও প্রভু, তোরও প্রভু'। এরপর সেই দাসীকে ফুটন্ত তেলে নিক্ষেপ করা হলো। দাসীর অটুট ঈমান নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যান। আর এমন কঠিন ঈমান নিয়ে জান্নাতে যাওয়ার জন্যই তাঁকে এমন মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে, সুবহানাল্লাহ...