15/05/2026
বাংলাদেশের এডটেকের ভাইয়াদের প্রায়ই একটা কথা বলতে শুনছি। তারা নাকি অনেক ডেডিকেশন দিয়ে পড়ান। "কত কষ্ট করে পড়াচ্ছি, রাত জেগে ওয়ান শট নিচ্ছি, সামনে সিটি তাও ক্লাস নিচ্ছি। রেকর্ডিং রুমের তীব্র আলোতে ঘন্টার পর ঘন্টা ক্লাস নিচ্ছি" - ইত্যাদি।
জেন-জি পোলাপান এইসব খায় ও। তারা মুগ্ধ হয়। তারা ভাবে আহা ভাইয়াদের কি ডেডিকেশন, জ্ঞান বিতরণে ভাইয়াদের কি অসীম আগ্রহ!
বাচ্চা গরুগুলা বোঝেনা, এইগুলো স্রেফ ফালতু আলাপ। বিনিময়ে কিছু না পাইলে ৯৯.৯৯% এডটেক ভাইয়াদের এইসব ডেডিকেশন থাকত না। বিনিময় অনেক ভাবে হয়: কোর্স ফি, ইউটিউব/ফেসবুক থেকে ইনকাম, অথবা স্রেফ জনপ্রিয়তা। সবই বিনিময়, সবই এক ধরণের মুনাফা।
মুনাফা বা বিনিময় যে ফর্মেই হোক সেটা খারাপ কিছু না, কোনও সার্ভিসই পৃথিবীতে ফ্রি না। টাইপিস্টের বেতন, ভিডিওগ্রাফারের বেতন, ক্যামেরা সহ রেকর্ডিং রুমের সেটাপ, রুম ভাড়া, স্মার্টবোর্ডের দাম, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের বেতন এইসব এমনি এমনি জুটবে না। এত খরচ উঠাতে গেলে কোনও সার্ভিসই ফ্রি তে সম্ভবও না৷ আমার আপত্তি তাই মুনাফা বা বিনিময়ের বিরুদ্ধে না।
আমার আপত্তি সাধু সাজা নিয়ে। ব্যবসায়ী সমস্যা না। সমস্যা ব্যবসায়ী যখন সাধুবেশ ধারণ করেন। সাধু আর সাধুবেশে চোর এক ব্যাপার না। টাকার বিনিময়ে পড়াই এতে লজ্জার কিছু নাই। কিন্তু টাকার বিনিময়ে পড়িয়ে নিজেকে সমাজ সংস্কারক, জ্ঞান বিতরক হিসাবে উপস্থাপন করাটা আপত্তিকর। এতে যেটা হয়, প্যাসিভ মার্কেটিং হয়, নিজেকে যোগ্যতার চেয়ে বেশি হিসাবে উপস্থাপন করা হয়, কোর্স বেঁচতে সুবিধা হয়।
অভিজ্ঞ ও একচুয়ালি জ্ঞানী টিচারদের বাইপাস করে কম অভিজ্ঞ কম নলেজ নিয়েও টাকা ইনকাম করা যাদের প্রধান লক্ষ্য তারাই এই সব ডেডিকেশনের ফালতু গল্প শোনায়। শোনাতেই পারে, শিক্ষাব্যবস্থা এইভাবেই চলছে। কারণ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কচুর বন।
আর,
কচু বনে হে* গেল কালো কুকুরে...