17/07/2024
কয়দিন ধরে কিছু প্রশ্ন মাথায় ঘুরছে, কেউ উত্তর না দিলে হবে। শুধু নিজের বিবেক দিয়ে একা একা বসে একবার চিন্তা করবেন, এতেই হবে। দেখেন আপনার বিবেক কি বলে?
অল্প কিছু কথা, কিন্তু শুরু করতে গেলে আমাদের সেই ১৯৭১-এর গল্প দিয়ে শুরু করতে হবে। তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৫১ লাখ (৭৫.১ মিলিয়ন) (বিশ্বব্যাংকের জনসংখ্যা তথ্য এবং জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগ অনুযায়ী)। প্রতিটি পরিবারের গড় সদস্য সংখ্যা ৫.৫ জন হিসাব করে মোট পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১৩.৬৩৮ মিলিয়ন (১৩,৬৩৮,১৮১ পরিবার)।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে, অনুমানিক ২,০০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ জন মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন (বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী)। সুতরাং, যদি প্রতিটি পরিবার থেকে ১ জন করে যুদ্ধ করে, তাহলে ২,০০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ পরিবার সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে জড়িত ছিল তাদের প্রতিনিধিত্বকারী মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে। বাকি ১৩,৪৩৮,১৮১ থেকে ১৩,৩৩৮,১৮১ পরিবারের লোকজন তাহলে কি?
এতগুলো পরিবারের যারা আছে, তাদের কি কোনো অধিকার নেই? ২০০ বছর ইংরেজদের কাছে, ২৭ বছর পাকিস্তানের কাছে আমরা পরাধীন ছিলাম। সম্মানের নামে সমস্ত বাঙালি কি ২,০০,০০০ থেকে ৩,০০,০০০ পরিবারের কাছে আরও কয়েকশ বছর পরাধীন থাকবো? যারা এই কোটাকে এখন গুরুত্ব দিচ্ছেন না, যারা আন্দোলন করছে তাদেরকে রাজাকার বলে উপাধি দিচ্ছেন, আপনাদের কতজনের কাছে মুক্তিযোদ্ধার সম্মান আছে? যদি আপনার কাছে না থাকে বা আপনার পরিবারের কারো কাছে না থাকে, মনে রাখেন আপনার পরিবারও রাজাকার। কারণ আমরা জানিনা আপনার পরিবার যুদ্ধের সময় কোন পাক-বাহিনির সাহায্যকারী ছিল?
রাজাকার প্রসঙ্গ একটু অন্যদিকে রাখি। আপনি একবার চিন্তা করেন, আপনার হয়তো কোনো প্রয়োজন নেই, মুক্তিযোদ্ধার সম্মানে আপনি তাদের সবাইকে একটা ভালো অবস্থানে দেখতে চান, কিন্তু সেটা কতদিন বা কত সময়?
আপনার কাছে যদি কোনো সার্টিফিকেট না থাকে, তাহলে আপনার পরিবারের কেউ কোনো ভালো জায়গায় যেতে পারবে না, কারণ সে ৯০ আর একজন ৬০ পাওয়া লোক সমান। ৬১ পেলেই আপনার সন্তান আর চাকরি পাবে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেটা আবার ৯০ আর ৪০-৫০ ও একই সমান হয়ে যাবে।
আমাদের শিক্ষিত সমাজের মানুষগুলো একদিন এইভাবে দেশ থেকে হারিয়ে যাবে। আপনি হয়তো আপনার সন্তানকে পড়াশুনা করাবেন কিনা এটা নিয়েও চিন্তায় থাকবেন। এখনো দেখা যায় গ্রামের বাবা-মা সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য ছোটবেলা থেকে বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে! যেখানে আগে বাবা-মা সন্তানদেরকে গর্ব করে বলতো, পড়াশুনা কর, জীবন কিছু করতে পারবি।
পরিশেষে আমার কথা হচ্ছে: কোটার নামে পুরো বাঙালি জাতিকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে যাতে আবার জিম্মি হয়ে না থাকতে হয়। আমাদের ১৯৭১-এর সেই লিডাররা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা আজ বেঁচে থাকলে তারা এটা হয়তো মেনে নিতেন না।
আর একটা কথা বলতে চাই, আমাদের দেশটা আমাদের সিনেমার মতো হয়ে যাচ্ছেনাতোও? জন্মের ৫০ বছর আগের তার বড়-বাবা (দাদার বাপ) একটা কথা বলেছিল, তার সে কথা চৌধুরী সাহেবের ভালো লাগেনি। সে জন্য যতদিন তার এই বংশ নির্বংশ না হবে, ততদিন এই অত্যাচার চলতে থাকবে! সব জিনিসেরই শেষ আছে, একদিন আমরাও হয়তো এর শেষটা দেখতে পাবো, ইনশাআল্লাহ।
--Agm Khair Sabbir