Dyuti Shop - দ্যুতি শপ

Dyuti Shop - দ্যুতি শপ Dyuti Shop is an e-commerce site. We strive to provide quality products at reasonable prices.

জাতীয় ও বিশ্ব বাস্তবতাকন্যাশিশু অধিকার বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকারদ্যুতিময় বুলবুলআজ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, রোজ সোমবার, বাংলাদেশ...
30/09/2024

জাতীয় ও বিশ্ব বাস্তবতা
কন্যাশিশু অধিকার বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার
দ্যুতিময় বুলবুল

আজ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, রোজ সোমবার, বাংলাদেশে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। ২০০৩ সালে কন্যাশিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় ৩০ সেপ্টেম্বরকে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে, প্রতি বছর এই দিন, বাংলাদেশে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশুদের পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রিক ভেদাভেদ ও বৈষম্য থেকে রক্ষা করার লক্ষে- জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য, ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’ পালনের আদেশ জারি করে।

আদেশে বলা হয়, আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সপ্তাহ (২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর) এর দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কন্যাশিশুর জন্ম অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনাকাঙ্ক্ষিত হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে, গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থায় কন্যাশিশুর জন্মকে বাড়তি বোঝা হিসেবে বিরক্তির সঙ্গে গ্রহণ করা হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে শিক্ষিত, সচেতন, কর্মদক্ষ একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার সুযোগ থেকে কন্যাশিশুরা অনেকাংশেই বঞ্চিত হয়।
মূলত কন্যা শিশুদের নিরাপদ জীবন, শিক্ষার অধিকার, খাদ্য ও পুষ্টির সুরক্ষা, আইনি সহায়তা ও ন্যায় বিচারের অধিকার, স্বাস্থ্যকর জীবনের অধিকার, চিকিৎসা সুবিধা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, নারীর বিরুদ্ধে হিংসা ও বলপূর্বক বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য এ দিবসের সূচনা হয়।

কারণ, আজকের কন্যাশিশু আগামী দিনের জায়া, জননী, ভগ্নি, শিক্ষক, সমাজকর্মী, উদ্যোক্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরামর্শদাতা, পরিবার প্রধান, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী প্রভূতি। ফলে কন্যাশিশুদের আধুনিক পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, কন্যাশিশুকে বাদ দিয়ে দেশে কোনো ভাবেই টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব না। তাই মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ পুত্র ও কন্যাশিশুর উন্নয়ন, সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘের ‘আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস’ চালুর ৮/৯ বছর আগেই, বাংলাদেশে এই জাতীয় কন্যাশিশু দিবস চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশের কন্যাশিশুদের শিক্ষার অধিকার, খাদ্য ও পুষ্টির সুরক্ষা, আইনি সহায়তা, ন্যায় বিচারের অধিকার, চিকিৎসা সুবিধা, বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং বলপূর্বক বাল্যবিবাহ বন্ধ করার লক্ষে প্রতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালন করা হয়। এবার ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের থিম হলো '‘কন্যাশিশুর স্বপ্নে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ।”
২০১১ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস’প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় কানাডা এই আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উদযাপনের প্রস্তাব তোলে। এরপর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ রেজোলিউশন ৬৬/১৭০ গ্রহণ করে। কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মেয়েরা যে সব কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, তার স্বীকৃতি ও মোকাবেলার জন্য এই রেজোলিউশন গৃহীত হয়।

ফলে ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রস্তাব রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় গৃহীত হয় এবং ১১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস বা ইন্টারন্যাশনাল ডে অফ গার্ল চাইল্ড ঘোষণা করা হয়। তারপর ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর থেকেই বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালন করা হচ্ছে।

প্রতি বছর এই আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের একটা থিম বা প্রতিপাদ্য থাকে। প্রথম আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের থিম ছিল "বাল্য বিবাহ বন্ধ করো"। এরপর থেকে গত এক যুগ ধরে প্রতি বছর একটি করে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের থিম ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশ্ব উন্নতি, বৈষম্য রোধ, সহিংসতা এবং বৈশ্বিক দারিদ্র্য দূর করার জন্য দিনটি এখন ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সমতার চাবিকাঠি।

এই আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা। মূলত কন্যা শিশুর শিক্ষার অধিকার, স্বাস্থ্য অধিকার, আইনি অধিকার ও ন্যায় বিচার, বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, নারীর বিরুদ্ধে হিংসা ও বলপূর্বক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা এই দিবসটির প্রধান প্রতিপাদ্য। সঠিক সম্মান, সমর্থন, সম্পদ এবং সুযোগের সঙ্গে, বিশ্বের ১.১ বিলিয়নেরও বেশি কন্যাশিশুর সীমাহীন সম্ভাবনার পথ উন্মুক্ত করা এই দিবসের লক্ষ্য।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশ শিশু। সেই হিসাবে শিশুর সংখ্যা প্রায় ৬০ মিলিয়ন, যাদের বয়স ১৮ বছরের কম। এই শিশুদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ কন্যাশিশু। ফলে বাংলাদেশে এখন কন্যাশিশু ১ কোটি ৬০ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ১০ ভাগ৷ অন্যদিকে, বিশ্বে মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ কন্যাশিশু। আর তাদের অর্ধেকই কন্যাশিশু। সারাবিশ্বেই এই কন্যাশিশুরা নানাভাবে অবহেলিত ও অধিকার বঞ্চিত এবং লিঙ্গ বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার ৷ (চলবে)

একটি ত্রিভুজ প্রেমের দম্পতির জবানবন্দীদ্যুতিময় বুলবুলচতুর্থ পর্বএরপর থেকে আমি সোমেনকে নজরে রাখি। ভাবতে থাকি, তার কলিগের ...
05/05/2024

একটি ত্রিভুজ প্রেমের দম্পতির জবানবন্দী
দ্যুতিময় বুলবুল
চতুর্থ পর্ব

এরপর থেকে আমি সোমেনকে নজরে রাখি। ভাবতে থাকি, তার কলিগের কাছ থেকে যে পরকীয়ার খবর পেয়েছি, সেটা হয়তো সত্য! যদিও সোমেন ওই মহিলার কাছে মোবাইল ফোনে প্রেমের বার্তা পাঠায় না, হয়তো ধরা পড়ার ভয়ে। কিন্তু সারাদিন সে ওই মহিলার সঙ্গে মোবাইল ফোনে অফিসের মধ্যে, বাড়ি থেকে কিংবা বাইরে থেকে নানা আলোচনা করে।

কিন্তু সে আমার সঙ্গে এখন মেপে কথা বলে। চোখের সামনেই যেন সে পড়তে চায় না। আমার তো এসব মোটেই ভালো লাগে না। দিনে দিনে মনটা বিষিয়ে উঠেছে।

অথচ এখনো সোমেন অফিস থেকে বাড়ি ফিরার আগেই প্রতিদিন তার জন্যে রান্না করে খাবার নিয়ে বসে থাকি আমি, আগের মতোই। ওর পছন্দের পদ বানানোর চেষ্টা করি। কিন্তু সে বাড়ি ফিরে কোনো দিন খায়, আবার কোনো দিন না খেয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে বসে পড়ে। আমার দিকে ফিরেও তাকায় না। তাই আজকাল আমার খুব একা লাগে। আমি ছেলে মেয়েকেও কষ্টের কথা কিছুই বলতে পারি না।

এখন এমন অবস্থা যে, আমি মাঝে মধ্যে সোমেনের কাছে সময় চাই। বেড়াতে যেতে চাই। কিন্তু সে আমার ডাকে সাড়া দেয় না। এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। কাজের অছিলা দিয়ে কেটে পড়ে। নানা ধরনের ব্যস্ততা দেখায়। আমার বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, সুযোগ পেলে খোটা দেয়! সোমেনের এসব আচরণে আমার মন ভেঙে যায়।

অথচ আত্মীয়-স্বজনরা সবাই আমার কাজের প্রশংসা করে। বাড়িতে শুধু স্বামীর কাছে আজকাল কোনো সম্মান পাই না। এতো আত্মত্যাগ করেও এখন আমি স্বামীর মন পাই না! সোমেন কী তাহলে সব সময় আমাকে এভাবে Avoid করে অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাবে? জানি না আর কী করলে ওকে কাছে পাব। হতাশায় ডুবে যাওয়া ছাড়া আমার সামনে আর কোনো রাস্তা খোলা নেই।

একদিন হঠাৎ কী মনে করে সোমেনের অফিসে গেলাম। তারপর জানলাম, সেখানে এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক ‘ওপেন সিক্রেট’ (Open Secret)। সেই নারীকেও দেখলাম। এ সবকিছু জেনেশুনে আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম। তাহলে কী সোমেনের সম্পর্কে পরকীয়ার অভিযোগ সত্য! সত্য আমার সন্দেহটাও!!

তবে সোমেনকে ওর অফিসে কিছু বললাম না। বাসায় ফেরার পর, শোয়ার আগে তাকে অফিসের ওই নারীর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি জিজ্ঞেস করলাম। প্রথমে সোমেন সব কিছু অস্বীকার করলো। পরে তার কাছে নানা ঘটনার বিবরণ ও তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরলাম। তার বদলে যাওয়ার লক্ষণ ও আচরণগুলো জানালাম। ফলে শেষ পর্যন্ত সোমেন সত্যটা স্বীকার করতে বাধ্য হলো। শুধু তাই নয়, ওই মহিলাকে সে যে গোপনে বিয়ে করেছে, সেই কথাও জানালো।

সোমেন আমাকে বললো, কল্যাণী আমার ছোটবেলার ভালোবাসা। একইসঙ্গে বড় হয়েছি আমরা। সে ছোটবেলায় গার্লস স্কুলে পড়লেও, কলেজ জীবনে আমরা একইসঙ্গে পড়াশুনা করেছি। আমরা পরস্পরের বাড়িতে আসা যাওয়া করতাম। কারণ, সে আমার দূর সম্পর্কের আত্মীয়া। পড়ালেখার ছলে আমরা দিনের বিরাট একটা সময় একসঙ্গে কাটাতাম। কিন্তু আমাদের উভয় পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায়, এক সময় আমাদের প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেল। শুধু দুই পরিবার নয়, আমাদের কলেজ সহ পুরো মফস্বল শহরেই এ নিয়ে নানা গুঞ্জণ ও গুজব ছড়িয়ে পড়লো। ফলে আমাদের পরস্পরের বাড়িতে আসা যাওয়া বন্ধ হলো।

কল্যাণীর ওপর পারিবারিক কড়াকড়ি ক্রমেই বাড়তে লাগলো। কিন্তু আমাদেরকে তারা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারলেন না। প্রতিদিন আমরা কলেজে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে গোপনে দেখা করতাম। কোনো বন্ধুর বাসায়, কলেজ হোস্টেলে কিংবা ঘনিষ্ট বন্ধুদের ম্যাচে অথবা দূরে কোথাও, দূরে দূরে, বহু দূরে। অন্য কোথাও, অন্য কোনো খানে।

কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষার পর আর সেই সুযোগ থাকলো না। কল্যাণীকে পুরোপুরি বাড়িতে আটকে ফেললো তার পরিবার। পরীক্ষায় আমরা দু’জনেই প্রথম শ্রেণীতে পাশ করলাম। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। কিন্তু কল্যাণীর বাবা মা তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে দিলেন না, আমার কাছ থেকে দূরে রাখার জন্য। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে ভর্তি হতে বাধ্য করা হলো।

তবুও আমাদের যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হলো। আমি মাঝে মধ্যেই ঢাকা থেকে রাজশাহী গিয়ে কল্যাণীর সঙ্গে দেখা করতাম। কয়েক দিন সেখানে বিভিন্ন হলে বন্ধুদের সঙ্গে থাকতাম। সেও একাধিকবার ঢাকায় এসে বান্ধবীর সঙ্গে রোকেয়া হলে থেকে আমার সঙ্গে দেখা করেছে। একসঙ্গে ঘুরেছি।

কিন্ত এই যোগাযোগ বেশি দিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হলো না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এলাকার ছেলে মেয়েদের মাধ্যমে কল্যাণীর পরিবারে খবর পৌঁছে গেল। ফলে অর্থনীতি প্রথম বর্ষে থাকতেই জোর করে কল্যাণীর বাবা-মা তাকে রাজশাহীতেই এক ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে বিয়ে দিলেন। কিন্তু সংসার জীবন তাদের সুখের হলো না।

শুরুতেই তাদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব ও অশান্তি তৈরি হলো। অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর, এক পর্যায়ে কল্যাণী স্বামীর সংসার ত্যাগ করে ঢাকায় এসে নীলক্ষেত কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে ওঠে, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলো। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একের পর এক চাকরির পরীক্ষা দিয়ে, শেষ পর্যন্ত আমাদের ব্যাংকেই সে চাকরি পেলো।

ব্যাংকে প্রথম যেদিন কল্যাণীকে দেখলাম, আমি কোনো ভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, এটা সত্যি কোনো ঘটনা। ব্যাপারটা পুরোটাই আমার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হলো। যদিও সে আগে থেকেই জানতো আমি এই ব্যাংকে চাকরি করি, কিন্তু তারপরও কোনো দিন সে আমার সঙ্গে দেখা করেনি।

কিন্তু চাকুরি যে তার আমারই ব্যাংকে এবং আমারই শাখায় হবে, সেটা সে কখনো ভাবতে পারেনি। তাই ক’বছর পর প্রথম দেখাতেই আমরা উভয়েই বিস্মিত হয়ে পড়েছিলাম। কল্যাণী তো একেবারে কেঁদেই ফেলেছিল। আমিও নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি। প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম।

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতা থেকে কল্যাণী সেদিন আমার উদ্দেশে আবৃত্তি করেছিল, “আমাকে খোঁজো না তুমি বহুদিন-কতদিন আমিও তোমাকে খুঁজি নাকো;- এক নক্ষত্রের নিচে তবু–একই আলো পৃথিবীর পারে আমরা দুজনে আছি; পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয়, প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়... ” । (চলবে)

দ্যুতিময় বুলবুল: লেখক, সাংবাদিক, গবেষক।
https://bangalinews.com/%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A6%9C-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0/
প্রথম পর্ব: https://bangalinews.com/%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE/

দ্বিতীয় পর্ব: https://bangalinews.com/%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%95%E0%A7%80/

তৃতীয় পর্ব: https://bangalinews.com/%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A6%9C-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A6%AE%E0%A7%8D/

একটি ত্রিভুজ প্রেমের দম্পতির জবানবন্দীদ্যুতিময় বুলবুলতৃতীয় পর্বএখন বাইরের জগত আমার প্রায় বন্ধ। আগে সোমেন যতটা রোম্যান্...
05/05/2024

একটি ত্রিভুজ প্রেমের দম্পতির জবানবন্দী
দ্যুতিময় বুলবুল
তৃতীয় পর্ব

এখন বাইরের জগত আমার প্রায় বন্ধ। আগে সোমেন যতটা রোম্যান্টিক ছিল, এখন তার কানাকড়িও নেই। আমার কথা এখন সে ভাবে না বললেই চলে। অথচ সম্পর্কের ভিত তৈরি হয় ভালোবাসা এবং বিশ্বাসে। কিন্তু সেই ভিত যখন নড়ে যায়, সম্পর্ক ধ্বসে পড়তে সময় লাগে না!

তারপরও স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কে সবকিছু মেনে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু স্বামী গোপনে অন্য কারো সঙ্গে প্রেম করছে, এটা মেনে নেওয়া অসম্ভব। কেউ যদি একটা সম্পর্কে থেকে অন্য সম্পর্কে Switch করতে চায়, সেটা খোলাখুলি পার্টনারের (Partner) সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সত্য যত অপ্রিয়ই হোক তা পরস্পরকে জানানো উচিত। কিন্তু এক সম্পর্কে থেকে, গোপনে আরেক সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়াটা দ্বিচারিতা, ভয়াবহ অপরাধ। ভালোবাসা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও সম্পর্কে কুঠারাঘাত। বিশ্বাসঘাতকতা তো বটেই।

বিশ্বাস ও ভালোবাসা ভেঙে গেলে সম্পর্কে আর কী থাকে? আমার তো মনে হয় কিছুই থাকে না। বিনে সুতার বন্ধন ছিঁড়ে যায়, স্বপ্ন হারিয়ে যায়, ভবিষ্যৎ ভেঙে যায়। পড়ে থাকে শুধু ভাব লেশহীন, সম্পর্কহীন, ভঙ্গ হৃদয় ও একটি চেতনাহীন মানব দেহের খোলশ।

নারী পুরুষ যেই হোক, যার দায়িত্ব ও কাণ্ডজ্ঞান কম, কথা দিয়ে কথা রাখে না, নিজের ভবিষ্যত বা সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে উদাসীন, সন্তানের কথা ভাবে না, পরকীয়া আসক্তির মতো বদভ্যাসে মজে থাকে, তার সঙ্গে সংসার করা যায়?

প্রত্যেক নারীই তার স্বামীর সঙ্গে সুখে শান্তিতে সংসার করার স্বপ্ন দেখেন। স্বামীকে আগলে রাখতে চান। কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেন না যে, তার স্বামীর সঙ্গে অন্য কোনো নারীর কারণে দূরত্ব তৈরি হোক। আমিও এমন কখনো চাইনি। বরং স্বামীকে নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকতে চেয়েছি। অথচ এখন প্রায়ই দেখি সে অনেক রাতে বাড়ি ফিরে। না খেয়েই শুয়ে পড়ে। মধ্যরাতে কারো সঙ্গে বারান্দায় ফিসফিস করে কথা বলে!

প্রেম করে বিয়ের পর মনে হয়েছিল, এই মানুষটির জন্য আমি নিজের সর্বস্ব ত্যাগ করতে পারি। আর সাত পাকে বাঁধা পড়ার পর থেকেই, তাকে দেবতার আসনে বসিয়েছিলাম। স্বামীকে ভালো রাখতে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। তার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত ছিলাম। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছিও। চাকরি নিয়ে নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে, তার ওপর বিশ্বাস ও ভরসা করে সংসারের দায়িত্ব নিয়েছি। ছেলে মেয়ে মানুষ করছি।

সারাদিন ঘরের কাজ সামলে আমি আজকাল প্রায়ই খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। টুকটাক নিজের কাজ করে শুয়ে পড়ি। স্বামীর সঙ্গে সুখ দুঃখের কথা বলার ইচ্ছে হলে ওর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করি, কিন্তু ও আমাকে আগের মতো পাত্তা দেয় না। তাই নিজেই এক পাশ ফিরে শুয়ে পড়ি। ক্লান্ত থাকায় চোখে তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসে। পরের দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্বামী সন্তানদের খাবার বানিয়ে তাদের খাওয়ানোর পর স্বামীকে অফিস পাঠিয়ে সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাই। স্কুল থেকে ফিরে পরিবারের যাবতীয় কাজ ও রান্নাবান্না করি। স্বামীর সঙ্গে অফিসে কথা বলে খোঁজ খবর নেই। দুপুরে সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে আসি।

আমি ঘুমিয়ে পড়ার পর সে কী করে, তা কখনও জানতে চাইনি। কোনোদিন ওর মোবাইল ফোন চেক করার কথাও ভাবিনি। কিন্তু গত কয়েক দিন আগে আমার সামনেই ওর মোবাইল ফোনে মেসেজের নোটিফিকেশন আসে। এক অপরিচিত নারীর ছবি ভেসে ওঠে। আমি তখন সেই চ্যাট খুলে দেখে বুঝতে পারি, মধ্যরাতে সে এই মহিলার সঙ্গেই কথা বলে। এসব দেখে আমার মন ভেঙে যায়। প্রচণ্ড হতাশ হয়ে পড়ি। (চলবে)

দ্যুতিময় বুলবুল: লেখক, সাংবাদিক, গবেষক।
https://bangalinews.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%81%e0%a6%9c-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%ae%e0%a7%8d/

প্রথম পর্ব: https://bangalinews.com/%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE/

দ্বিতীয় পর্ব: https://bangalinews.com/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%95%e0%a7%80/

একটি ত্রিভুজ প্রেমের দম্পতির জবানবন্দীদ্বিতীয় পর্বদ্যুতিময় বুলবুলবিদেশি ব্যাংকের চাকরিতে বেতন ও সুযোগ সুবিধা ভালো ছিল। ত...
30/04/2024

একটি ত্রিভুজ প্রেমের দম্পতির জবানবন্দী
দ্বিতীয় পর্ব
দ্যুতিময় বুলবুল

বিদেশি ব্যাংকের চাকরিতে বেতন ও সুযোগ সুবিধা ভালো ছিল। তাই আর বিসিএস পরীক্ষার দিকে এগুলো না সোমেন। কথা ছিল দু’জনেই চাকরি করব। কিন্তু আমাকে সে চাকরি করতে দিলো না। আমার ওপর চাপিয়ে দিলো সংসার। তার যুক্তি, দু’জনেই চাকরি করলে সংসারটা ভালোভাবে করা যাবে না। লিভ টুগেদার (Living together) বা ম্যাচ কিম্বা হোস্টেল জীবনের মতো হবে। সঠিকভাবে সংসার জীবনের দায়-দায়িত্ব পালন করা কঠিন হবে। আবার এমনও হতে পারে চাকরির কারণে দু’জন একসঙ্গে থাকাও যাবে না। ফলে ভবিষ্যতে ছেলে মেয়ের পড়ালেখা ও তাদের মানুষ করা সমস্যা হবে। সোমেনের এসব চিন্তা-ভাবনা আমার কাছে গোঁড়া ও পশ্চাৎপদ মনে হয়েছে। তাই আমার দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত তার যুক্তিই আমি মেনে নিয়েছি, সংসারে সুখ ও শান্তির প্রত্যাশায়।

বিয়ের পর অফিস থেকে প্রতিদিন অন্তত তিন/চারবার সোমেন ফোন করতো। আমি খেয়েছি কি-না। কী করছি, কেমন আছি, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব খোঁজ-খবর নিতো। প্রায়ই বলতো তোমাকে ভীষণ মিস করছি। আমার বেশ ভালোই লাগতো। বিকেলে অফিস থেকে ফিরেই জড়িয়ে ধরে চুমু দিয়ে সে বলতো,“I love You My Darling”. আমি ভীষণ খুশি হতাম।

তারপর ফ্রেস হয়ে চা-নাস্তা খেয়ে কখনো একসঙ্গে টিভি দেখা ও গল্প আড্ডা চলতো, আবার কখনো সন্ধ্যায় ধানমন্ডি লেকের ধারে একসঙ্গে হাঁটতে যেতাম আমরা। আর শুক্র ও শনিবার বন্ধের দিন বিকেলে হয় কোথাও বেড়াতে যেতাম অথবা কেনাকাটা, না হলে কোনো রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া এবং সিনেমা দেখা ছিল আমাদের রুটিন কাজ।

ফলে ছকে বাঁধা রুটিন জীবনটা ভালোই কাটত। সোমেন চাকরি করছে। আর আমি সংসার চালাচ্ছি। বাচ্চা প্রতিপালন করছি। তাদের পড়াশুনা দেখছি। স্কুলে আনা-নেয়া করছি। এসব নিয়েই সারাদিন ব্যস্ত থাকছি। নিজের জন্য আলাদা সময় বের করতে চাইলেও পারি না। তবুও মনে হতো বেশ আছি, ভালো আছি। যদিও অনেক সময় হাঁপিয়ে উঠতাম। ভাবতাম, এটা একটা মানবজীবন, নাকি রোবট জীবন। এমন জীবন কি আমি চেয়েছিলাম?

তবে আনন্দও ছিল। কোনো কোনো দিন হয়তো অফিসে কাজের চাপে সোমেন ফোন করার সময় পেতো না। আমারও অনেক bored লাগতো। সে সেটা বুঝতে পারতো। তাই বাসায় ফিরেই সে Sorry করতো। বলতো, শ্যামলী Sorry, আজ তোমাকে একবারও ফোন করতে পারিনি। নিশ্চয়ই তোমার একা একা ঘরে শুয়ে বসে Bore লাগছিল। আমি তাকে শান্ত্বনা দিয়ে বলতাম-না ঠিক আছে, আমি তো সারাক্ষণ ব্যস্তই থাকি। সময় পেলে বই পড়ি, টিভি দেখি, গান শুনি। তাই কোনো অসুবিধা হয় না।

কথা বলতে বলতেই সোমেন জড়িয়ে ধরে চুমু দিতো, আদর করতো। আমার বরফ জমাট মান-অভিমান ভেঙে জল হয়ে গড়িয়ে পড়তো। তারপর কাপড় ছেড়ে ফ্রেস হয়ে হাত পা ছড়িয়ে বিছানায় শরীর এলিয়ে দিতো সোমেন। আমি সন্ধ্যায় হালকা নাস্তার আয়োজন করতাম। তারপর দু’জন বাইরে হাঁটতে অথবা ঘুরতে বেরুতাম। আর প্রতি উইকএন্ড-এ মুভি দেখা এবং রেস্টেুরেন্টে খেতে যাওয়া কখনোই Miss হতো না।

আজকাল আর এসব কিছু হয় না। কোনো সারপ্রাইজ নেই। নেই কোনো আনন্দ, উল্লাস, উপহার। সম্পর্কটা মনে হয় পানশে হয়ে গেছে। সম্পর্কে আজ এমন কিছু নেই, যার ওপর ভিত্তি করে আমরা আবার পুরনো দিন ফিরিয়ে আনতে পারি। আমি মাঝে মধ্যেই তার এই বদলে যাওয়া আচরণগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু সে কোনো জবাব দেয় না। কানেই তোলে না। বরং দুর্ব্যবহার করে। কাজের চাপের কথা বলে। অফিসে ব্যস্ততার কথা বলে। আগে তার অফিসিয়াল ট্যুর তেমন ছিল না। এখন প্রায় ঢাকার বাইরে ট্যুরে যাওয়ার কথা বলে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। ক’দিন পর ফিরে আসে। বলে চাকরিতে সিনিয়র হয়ে গেছি। তাই এখন যেমন কাজ বেড়েছে, ট্যুরও বেড়েছে।

অনেক দিন ধরেই আমাদের সম্পর্ক একঘেয়ে হয়ে উঠেছে। এখন সে অফিস থেকে ফিরে কাপড় ছেড়ে চুপচাপ শুয়ে থাকে, অথবা একা একা টিভি দেখে কিম্বা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ নিয়ে বসে, মোবাইল ফোনে কারো সঙ্গে কথা বলে বা বই পড়ে। আমার খোঁজ-খবর নেয় না। এমন কি, আগে সে ছেলেমেয়ের পড়াশুনার খোঁজ-খবর নিতো, এখন সেটাও না। আগে রাত ১০টায় সবার সঙ্গে খেতে বসতো। এখন সে সবের বালাই নেই।

শুধু তাই নয়, আগে সে মিথ্যা বলতো না। এখন প্রায়ই মিথ্যা বলে। সব সময় নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। প্রায়ই তার মা, বোন বা অন্যদের সঙ্গে আমার তুলনা করে। অথচ দু’জন দু’জনকে দু’জনের মতো করে মেনে নেবে—এমনটাই দাম্পত্য জীবনের কাম্য। কারণ, পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষ আলাদা। সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেটা মেনে নেওয়ার মতো ‘minimum common sense’ থাকতে হয়।

দু’জনে দু’জনকে সমান গুরুত্ব দেবে, বিশ্বাস করবে। একজন আরেকজনের ভালো-মন্দ দেখাশোনা করবে। পরস্পরের প্রতি মনোযোগ দেবে। পরস্পরকে সুখি রাখার চেষ্টা করবে। দু’জনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সবকিছু দু’জন ভাগাভাগি করবে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দু’জন দু’জনকে ভালোবাসবে। একে অপরকে সময় দেবে। তাহলেই না দাম্পত্য সম্পর্ক মধুর ও বন্ধুত্বপূর্ণ হবে।

কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে উদাসীনতা, আবেগহীনতা, অসহযোগিতা, যোগাযোগহীনতা, অস্বচ্ছতা থাকা উচিত নয়। কোনো ক্ষোভ, বিরক্তি, তিক্ততা, অকৃতজ্ঞতা, অমিমাংসা, বিচ্ছিন্নতা, অসংযুক্তিতা, যৌন অসন্তুষ্টি বা যৌন অসম্পৃক্ততা অথবা অপূর্ণতা এবং পরস্পরের প্রতি অসম্মান, মনোমালিন্য বা কথা কম বলা এবং নিরাসক্ততা সম্পর্ক নষ্ট করে। আমরা কি এখন সে পথেই এগুচ্ছি?

শ্যামলী নিজেকে প্রশ্ন করেন, তাহলে কী হুমায়ূন আহমেদের কথাই সত্য? তিনি বলেছেন, “ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে বিয়ে না হওয়াটাই ভালো। বিয়ে হলে মানুষটা থাকে, ভালোবাসা থাকেনা। আর যদি বিয়ে না হয়, তাহলে হয়তোবা ভালোবাসাটা থাকে। শুধু মানুষটাই থাকেনা। মানুষ এবং ভালোবাসার মধ্যে ভালোবাসাই হয়তো বেশী প্রিয়।”

তাহলে কী হুমায়ূন আহমেদের এই কথাটাই মানতে হবে যে, “স্বামী – স্ত্রী উভয়েরই পরস্পরের প্রতি এক্সপেকটেশন বা প্রত্যাশা যতো কম রাখা যায়, ততোই মঙ্গল। তাহলেই বিবাহিত জীবন শান্তিময় হয়।”

পরস্পরের চাওয়া-পাওয়া ও ভালো-মন্দ বুঝা, পরস্পরকে ছাড় ও সম্মান দেয়া, পরস্পরের আশা-ভরসা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার মূল্য দেয়া এবং পরস্পরের প্রতি উদারতা ও ইগো পরিত্যাগ করা দাম্পত্য সম্পর্কের চাবিকাঠি।

কারণ, ‘দাম্পত্য’ মানে দু’জনের বিশ্বাস। বিশ্বাস শব্দের আরেক রূপ হলো ভালোবাসা, সততা ও প্রত্যয়। মূলত দু’জনের সততা, ভালোবাসা ও প্রত্যয়ের মিলনই ‘দাম্পত্য’। সংসারে দু’জন দু’জনকে অনেক দাম দিতে হবে। দায়িত্বশীল হতে হবে, সম্পর্কের দৃঢ় বন্ধন থাকতে হবে, তবেই হবে ‘দাম্পত্য’। সুস্থ, সুন্দর ও আবেদনময় একান্ত সম্পর্ক ছাড়া দাম্পত্য কখনোই সুখের ও প্রেমময় হয় না। (চলবে)

দ্যুতিময় বুলবুল: লেখক, সাংবাদিক, গবেষক।
https://bangalinews.com/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%95%e0%a7%80/

প্রথম পর্ব: https://bangalinews.com/%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%95%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE/

পরকীয়া না আপনকীয়া?একটি ত্রিভুজ প্রেমের দম্পতির জবানবন্দী দ্যুতিময় বুলবুলস্বামী সোমেনের পরকীয়া (Extramarital affair) সম্প...
30/04/2024

পরকীয়া না আপনকীয়া?
একটি ত্রিভুজ প্রেমের দম্পতির জবানবন্দী
দ্যুতিময় বুলবুল

স্বামী সোমেনের পরকীয়া (Extramarital affair) সম্পর্কে হঠাৎ জানতে পেরে, মাথায় যেন বাজ পড়ে যায় শ্যামলীর। যদিও তিনি তা বিশ্বাস করেননি। কারণ, ১৫ বছরের সংসার জীবন তাদের। তার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবন ও পরবর্তী সময় মিলিয়ে ছয় বছরের প্রেম। মোট ২১ বছরের সম্পর্ক। উপরন্ত ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে। তাই শ্যামলী ভাবতেই পারেন না, সোমেন এই মধ্য বয়সে এসে পরকীয়া প্রেম করবে!

কিন্তু অনেক সময় মানুষ ভাবে এক, হয় আর এক। শ্যামলীরও সন্দেহটা সেখানেই। কারণ, মানুষের মন বড় বিচিত্র। কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন, “মানুষের মন বিচিত্র জিনিস। সমস্ত নক্ষত্র পূঞ্জে যে জটিলতা ও রহস্য তার থেকেও রহস্যময় মানুষের মন।”

মন নিয়ে একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে,“মানুষের মন আকাশের মতো”। কারণ, আকাশের রঙের যেমন কোনো স্থায়িত্ব নেই, কখন কোন অবস্থায় কী রূপ ধারণ করবে, বলা যায় না। তেমনি মানুষের মনও নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে, কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর সারাক্ষণ স্থির থাকে না। সত্যিই মানুষের মন বড়ই বিচিত্র।

তাই যদিও শ্যামলী সোমেনের পরকীয়া প্রেমের খবরটা বিশ্বাস করতে পারছেন না, কিন্তু তাঁর মনও মানছে না। অস্থির হয়ে পড়েছেন তিনি। বুকের মধ্যে খচ খচ করছে। মাথায় কত প্রশ্ন আসছে। কিন্তু জবাব কোথায়? যা শুনেছি, তা কি সত্যি? নাকি মিথ্যা? নিজেকেই প্রশ্ন করেন শ্যামলী।

শ্যামলী ভাবছেন, এখন উত্তরাধুনিক যুগ, নারী-পুরুষ অনেক স্বাধীন, খোলামেলা। মেলামেশাও খুব সহজ, স্বাভাবিক ও অবাধ। তাই শুধু অবিবাহিতা তরুণ-তরুণীদের প্রেম নয়, বিবাহিত নারী-পুরুষেরও পরকীয়া প্রেমের কাহিনি অহরহ শুনি। সোমেনও এমন কাজ করছে না তো? তা না হলে হঠাৎ করে এমন কথা কেউ বলবে কেন? কথায় আছে, “যা রটে, তার কিছু তো বটে!” ভাবতে থাকেন শ্যামলী।

আজকাল প্রায় সোমেনকে খিটমিটে মেজাজে দেখি। সামান্য কিছুতেই রেগে যায়। বাসায় আগে যতটা সময় দিত, এখন দেয় না। ছেলে মেয়ের পড়াশুনায় নজর দিত, এখন সেদিকেও খেয়াল নেই। আগে যেমন সব সময় হাসিখুশি থাকত, এখন সেটাও দেখি না। রান্না নিয়েও এখন প্রায় প্রশ্ন তোলে। কিন্তু আগে যেভাবে-যা রান্না হতো, তাই খেতো। কোনো প্রশ্ন তুলতো না। এখন প্রায়ই বলে আজ তরকারিতে লবণ কম তো, কাল ঝাল বেশি। পরশু তেল কম তো-তরশু হলুদ বেশি। প্রায় প্রতিদিন তার এমন অভিযোগ লেগেই আছে। ১৫ বছর ঘর করার পর, যেন এখন নতুন করে রান্না শিখছি! কেন সোমেন এত বদলে গেল!

অবশ্য সোমেন আগে থেকেই কিছুটা ‘আত্মপ্রেমী’, মনোবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে নার্সিসিস্ট (narcissist) বলা হয়! মনে হয় তার আত্মপ্রেম আরও বেড়েছে। এখন সে আমার সব কাজের খুঁত ধরে। সুযোগ পেলেই সমালোচনা করে। নেতিবাচক কথা বলে। আমার চাওয়া-পাওয়া কিম্বা আমার খুশি-অখুশি নিয়ে তেমন ভাবে না। আগে এতটা স্বার্থপর সে ছিল না। তবে নিজের স্বার্থটা সব সময় বড় করে দেখত।

বিয়ের আগে ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষ অনার্স পড়ার সময়, আমাদের প্রেম হয়। তখনও দেখেছি, সে নিজের চাওয়া পাওয়া এবং নিজ মতামতের ওপর বেশি জোর দিত। তার ইচ্ছা-অনিচ্ছা চাপিয়ে দিত। তবে যথেষ্ট রোমান্টিক ছিল সে। প্রতিদিন একসঙ্গে ঘোরাফেরা, টিএসসিতে আড্ডা দেওয়া, মাঝে মধ্যে রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া, প্রতি সপ্তাহে মহিলা সমিতি মঞ্চে নাটক দেখা, সিনেমা হলে গিয়ে মাসে অন্তত দু’টি সিনেমা দেখা, একসঙ্গে ভালো বইপড়া বা বই আদান-প্রদান করা কিংবা কোনো জ্ঞানগর্ভ বিষয়ে আলোচনা-সবই চলতো।

এভাবেই দ্বিতীয় বর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে চারটি বছর কাটিয়ে মাস্টার্স শেষ করার পর, আমরা বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকলাম। পাশাপাশি আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ করলাম। সোমেনের রেজাল্ট বরাবরই ভালো ছিল। তাই দ্রুত সে একটি বিদেশি ব্যাংকে (HSBC) চাকরি পেল। তারপর আমরা বিয়ে করলাম। (চলবে)

দ্যুতিময় বুলবুল: লেখক, সাংবাদিক, গবেষক।
https://bangalinews.com/%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be/

স্টিভ জবস: তথ্য-প্রযুক্তির মহানায়কদ্যুতিময় বুলবুলআজ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ শনিবার, প্রযুক্তি জগতের কিংবদন্তি পুরুষ স্টিভ পল ...
24/02/2024

স্টিভ জবস: তথ্য-প্রযুক্তির মহানায়ক
দ্যুতিময় বুলবুল

আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ শনিবার, প্রযুক্তি জগতের কিংবদন্তি পুরুষ স্টিভ পল জবস’র ৬৯তম জন্মদিন। ১৯৫৫ সালের এই দিনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সানফ্রান্সিস্কোতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা জোয়ান ক্যারোল ছিলেন একজন আমেরিকান খ্রিস্টান এবং বাবা আব্দুল্লাহ ফাতাহ জান্দালি ছিলেন সিরিয়ান বংশোদ্ভূত আমেরিকান। তাঁরা ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন এর গ্রাজুয়েট। তাঁদের প্রেমের ফসল স্টিভস জবসের জন্মের পর, এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে এ্যাডাপশন বা দত্তক দেন।

জবসকে এ্যাডাপশন বা দত্তক নেন পল ও ক্লারা জবস নামের এক দম্পতি। এরপর তারা জবসের নাম রাখেন স্টিভেন পল জবস। নাম না রেখেই নবজাতক জবসকে দত্তক দিয়েছিলেন তাঁর বাবা মা। তাই পল এবং ক্লারা জবস তাঁদের পালক পুত্রের নাম রাখেন স্টিভেন ‘পল’ জবস।

ছোটবেলা থেকেই জবস ছিলেন প্রখর বুদ্ধিমান কিন্তু লেখাপড়ায় তাঁর মনোযোগ ছিল না। তাই তিনি বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্ট নিয়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষা চালাতেন। ফলে কলেজ থেকে ড্রপ আউট হয়ে ১৯৭৬ সালে এ্যাপল শুরু করেন। আর এই এ্যাপল তাঁকে নিয়ে যায় সাফল্যের শীর্ষে। লাভ করেন প্রযুক্তির নায়কের আসন।

স্টিভ জবস ছিলেন আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান রূপকার। বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তি জগতের মহানায়ক। কম্পিউটার ও প্রযুক্তিকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে যাঁদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তাঁদের মধ্যে স্টিভ জবস অন্যতম। তিনি বদলে দিয়েছেন প্রাচীন প্রযুক্তি। তাঁর সৃষ্টি ছিল পৃথিবীকে বদলে দেয়ার এক বৈপ্লবিক মাধ্যম। স্টিভ জবস তাঁর কাজ দিয়ে এক নতুন বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন।

পার্সোনাল কম্পিউটার ( ডেক্সটপ, লেপ্টপ, মোবাইল ইত্যাদি ) জগতের পথিকৃত ও প্রযুক্তির বরপুত্র স্টিভ জবস-ই কম্পিউটার নামক বিস্ময়কর যন্ত্রটি আমাদের সবার হাতে নিয়ে ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছেন। জবস সেই ব্যবস্থা না করলে হয়তো কম্পিউটার শুধু গবেষণাগার ও সরকারি কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো। আজকের এই প্রযুক্তি বিপ্লব হতো না। তাই বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রগতিশীল, প্রভাবশালী, প্রতিভাবান ও সফল প্রযুক্তিবিদ হিসেবে স্টিভ জবসের নাম সর্বাগ্রে স্মরণীয়।

স্টিভস জবস স্টিভ ওজনিয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েনকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৭৬ সালে "অ্যাপল কম্পিউটার" প্রতিষ্ঠা করেন। অ্যাপল ইনকরপোরেটেডের সহপ্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী স্টিভেন পল জবস’র জীবনের গল্প রূপকথার মতো। একসময় যে তরুণ জবস এক বেলা খাবারের জন্য রাস্তায় কোকের বোতল কুড়াতেন, মৃত্যুর সময় তিনিই রেখে যান ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০১১ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, জবসের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় এক হাজার দুইশ কোটি মার্কিন ডলার। এই সম্পদের বেশিরভাগই এসেছিল ২০০৬ সালে ওয়াল্ট ডিজনির কাছে পিক্সার স্টুডিও বিক্রয় থেকে। কিন্তু ধারণা করা হয়, জবস যদি ১৯৮৫ সালে এ্যাপল ছাড়ার সময় তাঁর এ্যাপলের সব শেয়ার বিক্রী না করতেন, তবে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াতো প্রায় তিন হাজার ছয়শ’কোটি মার্কিন ডলার।

স্টিভস জবস’র হাতেই বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল ছাড়াও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পিক্সার এনিমেশন। তাঁর হাত ধরেই আসে আইফোন, আইপড ,ম্যাকিন্টোস কম্পিউটার সহ প্রযুক্তি দুনিয়ার সেরা পণ্যগুলো। আর সে কারণেই স্টিভ জবসকে বলা হয় “টেক-টাইটান” এবং এনিমেশন জগতের পথিকৃৎ । তবে নিজের তৈরি প্রতিষ্ঠান থেকে ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়ে লজ্জাজনকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতাও তাঁর আছে। আবার সেই প্রতিষ্ঠানে বীরের মতো ফিরে এসে বিস্ময়কর সাফল্যও দেখিয়েছেন জবস।

আমেরিকান উদ্ভাবক, ডিজাইনার এবং এ্যাপল কম্পিউটারের সহ উদ্যোক্তা, স্টিভেন জবস ছিলেন এ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং চেয়ারম্যান। এ্যাপল ইনকরপোরেশন এর বিশ্বখ্যাত পণ্য আইপড, আইপ্যাড, আইফোন, আইম্যাককে ধরা হয় বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির শুরুর প্রথম ধাপ হিসেবে। এর সবগুলোর পেছনেই ছিল তাঁর সরাসরি অবদান। তাঁর বিস্ময়কর সৃজনশীলতার জন্য বিশ্বে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং সভ্যতার বিকাশ তরান্মিত হয়েছে।

১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকের কম্পিউটার বিপ্লবের পথিকৃৎ হিসেবে গণ্য করা হয় স্টিভ জবসকে। অ্যাপলের ম্যাকিনটোশ কম্পিউটার তৈরিতে তাঁর ব্যাপক অবদান ছিল। এই ম্যাকিনটোশ কম্পিউটার অ্যাপলকে অভাবনীয় সাফল্য এনে দেয়। তারপরও স্টিভেন ১৯৮৫ সালে জবসকে তাঁর নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত প্রিয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এ্যাপল ছাড়তে হয়, অ্যাপল ইনকর্পোরেশনের "বোর্ড অব ডিরেক্টর্সের" সদস্যদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে। মূলত তাঁরই নিয়োগকৃত সহকর্মীদের ষড়যন্ত্র ও অসহযোগিতার কারণে তিনি এ্যাপল ইনকর্পোরেশন থেকে পদত্যাগ করেন।

তবে এ্যাপল ছাড়ার পর জবস কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নেক্সট চালু করেন এবং এই নতুন প্রতিষ্ঠানের সিইও এবং চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই নেক্সট কম্পিউটার ব্যবহার করে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার সার্ন থেকে পৃথিবীর প্রথম ওয়েবসাইট প্রকাশ করেন ওয়েবের জনক স্যার টিম বার্নার্স-লি।

স্টিভস জবস ১৯৯১ সালের ১৮ মার্চে লরেন পাওয়েলকে প্রেম করে বিয়ে করেন। পাওয়েলের সঙ্গে জবসের সাক্ষাৎ হয় ১৯৯০ সালের প্রথম দিকে, স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুলে। পাওয়েল তখন সেখানে এমবিএ করছিলেন। তাঁদের তিন সন্তানের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলটোতে তাঁরা বসবাস করতেন।

উল্লেখ্য, জবস’র ২৩ বছর বয়সে প্রেমিকা ক্রিসান ব্রেনানের গর্ভে লিসা নামে তাঁর একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়েছিল। আদালতে অবশ্য তিনি নিজেকে সন্তান জন্মদানে অক্ষম দাবি করে লিসার পিতৃত্ব অস্বীকার করেছিলেন। জবস লিসার সাত বছর বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনও যোগাযোগ করেননি। তবে লিসা যখন কিশোরী তখন জবস মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে নেন।

বিশ্বখ্যাত অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিক্সারের প্রতিষ্ঠাতাও স্টিভ জবস। তিনি "পিক্সার এ্যানিমেশন স্টুডিওস"-এরও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। তবে ওয়াল্ট ডিজনি পিক্সার অধিগ্রহণ করার পর, তিনি ডিজনির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হন। তিনি ১৯৯৫ সালে টয় স্টোরি নামের অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন।

১৯৯৬ সালে অ্যাপল কম্পিউটার নেক্সট কম্পিউটারকে কিনে নিলে জবস ১৯৯৭ সালে অ্যাপলে ফিরে আসেন। অ্যাপলে ফিরে স্টিভ জবস আইম্যাক, আইফোন, আইটিউনস মিউজিক স্টোর, আইপড ও আইপ্যাডের মতো যুগান্তকারী প্রযুক্তিপণ্য ও সেবা বাজারে এনে অ্যাপলকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যান।

২০০৩ সালে স্টিভস জবসের অগ্নাশয়ের নিউরোইনডক্রিন টিউমার ধরা পড়ে। দুর্লভ এই ক্যান্সার ছিল অপারেশনযোগ্য। কিন্তু জবস অসুস্থতার খবর গোপন রাখেন দীর্ঘ নয় মাস। তবে ২০০৪ সালে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জবসের টিউমার অপসারণ করা হয়।

অস্ত্রোপচারে তিনি সুস্থ হলেও, ২০০৯ এর শুরুর দিকে তাঁর ওজনহ্রাস পেতে থাকে। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে জবস ঘোষণা দেন, তিনি অসুস্থকালীন ছুটিতে যাচ্ছেন। অগাস্টে তিনি এ্যাপলের সিইও পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং পাকাপাকি ভাবে টিম কুকের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করেন। এক মাস পর, ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর তাঁর দ্বিতীয় দফায় ক্যান্সারে বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান ঘটে। প্রায় এক দশক অগ্নাশয়ের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে যুক্তরাষ্ট্রের পালো আলটোতে ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন প্রযুক্তি জগতের এই প্রবাদ পুরুষ।

জবস’র বোন মোনা সিম্পসনের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর মূহুর্তে জবস তাঁর বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের দিকে তাকিয়ে শেষ বাক্য বলেছিলেন, “OH WOW. OH WOW. OH WOW.” যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়, “চমৎকার! চমৎকার! চমৎকার!” তিনি কেন মৃত্যুর সময় এই কথা বলেছিলেন তার কোনও সঠিক ব্যাখ্যা কারও কাছে নেই।

আধুনিক বিশ্বকে এগিয়ে নেওয়ার এই মহান কারিগর স্টিভস জবসের জীবন ও সৃষ্টিকর্ম অনেকটাই সিনেমার গল্পের মতো। তাই তাঁর সৃষ্টিশীল জীবনের গল্প নিয়ে অনেক বই ও একাধিক সিনেমা তৈরি হয়েছে।

স্টিভস জবসকে নিয়ে ইতোমধ্যে যে সব বই প্রকাশিত হয়েছে, তার মধ্যে ২০১১ সালে প্রকাশিত ওয়াল্টার আইজ্যাকসনের লেখা স্টিভ জবসের জীবনী গ্রন্থটি স্বয়ং জবস অনুমোদিত। জবসের অনুরোধে ‘স্টিভস জবস’ শিরোনামে বইটি লিখেছেন ওয়াল্টার আইজ্যাকসন। তিনি সিএনএন ও টাইম পত্রিকার নির্বাহী ছিলেন এবং বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ও আলবার্ট আইনস্টাইনের জীবনী লিখেছেন।

বইটি ২০১১ সালের ২৪ অক্টোবর জবসের মৃত্যুর ১৯ দিন পর, সিমন অ্যান্ড শুস্টার থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয়। বইটিতে এ্যাপলের সিইও হিসেবে জবসের উত্তরসূরী টিম কুক এর প্রতারণার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এরপর ২০১২ সালে ক্যারেন ব্লুমিনটাল কিশোর-তরুণদের জন্য জবস’র জীবনী লিখেছেন। ২০১৫ সালে ব্রেন্ট স্লেন্ডার এবং রিক টেটজিল যৌথভাবে ‘বিকামিং স্টিভ জবস’ নামে একটি তথ্যভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ লিখেছেন।

জবসকে নিয়ে যেসব সিনেমা তৈরি হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ২০১৩ সালে নির্মিত ও অতি সমালোচিত চলচ্চিত্র ‘জবস’। আর ওয়াল্টার আইজ্যাকসনের লেখা স্টিভ জবসের জীবনী গ্রন্থটি অবলম্বনে ড্যানি বয়েলের পরিচালনায় এবং অ্যারন সরকিনের চিত্রনাট্যে ২০১৫ সালের ৯ অক্টোবর ‘স্টিভ জবস’ ছবি মুক্তি পায়। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন মাইকেল ফাসবেন্ডার।

দ্যুতিময় বুলবুল: লেখক, সাংবাদিক, গবেষক।
https://bangalinews.com/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%ad-%e0%a6%9c%e0%a6%ac%e0%a6%b8-%e0%a6%a4%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf/

Address

House 29, Road 01, Dhanmondi
Dhaka
1205

Telephone

+8801714034259

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dyuti Shop - দ্যুতি শপ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Dyuti Shop - দ্যুতি শপ:

Share