22/08/2024
ভুল" এবং "অপরাধ" এই দুইটাই পারস্পরিক ভাবে সম্পর্কিত
তবে সব "ভুল" এর মধ্যে অপরাধ নেই।
হাদিসের ভাষ্যমতে, মানুষ ভুল করার পর অনুতপ্ত হবে এটাই আল্লাহর পছন্দ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'যদি তোমরা পাপ না করতে তবে আল্লাহ এমন মাখলুক বানাতেন, যারা পাপ করত এবং আল্লাহ তাদের মাফ করে দিতেন। যে ব্যক্তি ভুল স্বীকার করে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে ক্ষমাকারী ব্যক্তির চেয়ে অগ্রগামী।
ভুল কি?.............. ভুল হলো দুই প্রকার;
এক - ইচ্ছাকৃত ভুল
দুই - অনিচ্ছাকৃত ভুল
ইচ্ছাকৃত ভুল:...............
যে ভুলটা মানুষ জেনে বুজে সুস্থ মস্তিষ্কে ইচ্ছেকৃতভাবে করে থাকে সেটা হলো ইচ্ছেকৃত ভুল।এই ইচ্ছেকৃত ভুলটির ক্ষমা পাওয়ার সম্ভবনা খুবই কম।
যদি ক্ষমা চেয়ে নিজেকে সুদরে না নিতে পারে তবে। আর যদি নিজের ভুলটা চিহ্নিত করে, ভুল সস্বীকারের পর ক্ষমা চেয়ে নেয়।তাহলে এই ভুলের ক্ষমা পাওয়ার সম্ভবনা ১০০ পারসেন্ট যদি সৃষ্টি কর্তার কাছে এই ভুলটি করা হয়ে থাকে তবে।
ইনশাআল্লাহ তিনি চাইলে মাফ করে দিবেন।
আর যদি সেই ইচ্ছেকৃত ভুলটি কোনো মানুষ বা কোনো ব্যাক্তির সাথে করা হয়। তাহলে এটা তার উপরই নির্ভর করবে। সে যদি ক্ষমা করে তাহলেও ভালো। আর যদি ক্ষমা না করে, এই ভুলের দায় মৃত্যুর পরে ও আপনার পিছু ছারবেনা। তিলে তিলে কাটায় কাটায় এই ভুলের মাশুল দিয়ে হবে।
অনিচ্ছাকৃত ভুল:..................
যে ভুল গুলো মানুষ অনিচ্ছাকৃতভাবে করে থাকে। অর্থাৎ
নিজের অজান্তেই যদি কোনো ভুল করে ফেলে তা হলো অনিচ্ছাকৃত ভুল, এই ভুলে দায় কম থাকে বা ক্ষমা পাওয়ার সম্ভবনা ও বেশি থাকে।
অপরাধ কি?............................
অপরাধ...................
অপরাধ অনেক ধরনের রয়েছে। মানুষ জীবনে চলার পথে নানাভাবে – নানা কৌশলে অপরাধ করে থাকে।কিছু কিছু অপরাধ খুবই বয়াভহ মারাত্তক ধরনের হয়ে থাকে। যা ক্ষমার অযোগ্য।
উদাহরণ হিসেবে মনে করেন কেও যদি আপনার পরিবার এর কোনো সদস্য কে হত্যা করে ফেলে বা জনসম্মুখে আপনার সন্মানহানি করে ফেলে, সে ক্ষেত্রে এটা ও বড় ধরনের অপরাধ। আপনি চাইলে ও হয়তো মন থেকে এই অপরাধী ব্যাক্তিকে ক্ষমা করতে পারবেন না।
কিন্তু ক্ষমা করা হলো একটি মহৎ গুন।যা সবার মধ্যে থাকেনা।
কিন্তু................
এমনো কিন্তু ছোটো অপরাধ রয়েছে যা চাইলেই ক্ষমা করে দেয়া যায়।
যেমন ধরেন আপনার বন্ধু আপনার কাছে ১০ টাকা ধার নেওয়ার পর যদি তা পরিষদ না করে। তাহলে এটা ও একটা অপরাধ। যা আপনি চাইলেই মাফ করে দিতে পারবেন। কিন্তু আপনি মাফ না করলে পরকালে এই ছোট্ট অপরাধ টিও আপনার বন্ধুর জন্য কাল হয়ে দাড়াবে।
অপরাধ যত ক্ষুদ্র বা সামান্য হোক না কেনো,তা করা উচিৎ নয়।
অপবাদ আরোপ একটি জঘন্য অপরাধ। এ অপরাধের কারণে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। নষ্ট হয় সামাজিক ও পারিবারিক সংহতি। ক্ষতিগ্রস্ত হয় জাতীয় ঐক্য।
অপবাদ ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ক্ষতিকারক জিনিস। অপবাদের মাধ্যমে ব্যক্তি অপরের ক্ষতি করার সাথে সাথে নিজেরও ক্ষতি করে। নিজেকে কবিরা গুনাহে লিপ্ত করে।
অপবাদ ইসলামে যেমন নিষিদ্ধ তেমনিভাবে সামাজিকভাবেও একটি ঘৃণিত অপরাধ। এই অপবাদের কারণে একজন মানুষ আরেকজনের মান-মর্যাদা সব বিনষ্ট করে ফেলে।
বর্তমানে আমাদের সমাজে শুধু অনুমানের ভিত্তিতে অপবাদের ঘটনা হরদম ঘটছে। অপবাদ রীতিমতো মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। গল্প, গুজব, আড্ডা যত যাই হোক। সর্বত্রই অন্যের দোষচর্চা। অন্যের দুর্নাম, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।
অমুক পুলিশের চাকরি করে, তার বাড়ি গাড়ি সব ঘুষের টাকার, অমুক বন বিভাগে চাকরি করে, তার সব ঘুসের টাকার, অমুক ব্যাংকে চাকরি করে, তার সব সুদের টাকার। গল্প গুজবে এসব বলা রীতিমতো আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
অপবাদ কখনো কখনো কুফরি পর্যন্ত নিয়ে যায়। কেউ রাসুলের ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ রটনা করলে সে মুরতাদ হয়ে যাবে।
ইমাম আবু ইউসুফ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন যদি কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেয় অথবা তাকে মিথ্যারূপ করে বা তার ব্যাপারে অপবাদ রটনা করে তাহলে সে মুরতাদ হয়ে যাবে এবং তার স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। (আহকামুল কুরআন ৪ /২৭৫)।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা সচ্চরিত্রবান সরলমনা মুমিন নারীদের ব্যভিচারের অপবাদ দেয় তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য (আখিরাতে) আছে মহা শাস্তি।’ (সূরা: নুর, আয়াত : ২৩)।
অপবাদ একটি জঘন্য অপরাধ। সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে তুলে ধরে। অপবাদ মানুষকে কোন কারণ ছাড়াই অপরাধী হিসেবে তুলে ধরে এবং সম্মান ও ব্যক্তিত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আল্লাহ ব্যভিচারের অপবাদকে গুরুতর অপরাধ বলে সাব্যস্ত করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ব্যাপারটিকে তুচ্ছ মনে করছ; অথচ তা আল্লাহর কাছে খুবই গুরুতর অপরাধ।(সূরা : নুর, আয়াত : ১৫ )।
অপবাদের মাধ্যমে নির্দোষ ব্যক্তির চরিত্রে কালিমা লেপন করা হয়। সচ্চরিত্রবান নারীদের ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়া কঠিন অপরাধ। এজন্য এর শাস্তিও কঠিন ।
মহান আল্লাহ বলেন- যারা সতী-সাব্দি নারীকে অপবাদ দেয়, তারপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না। তাদের আশিটি চাবুক মারবে এবং তাদের সাক্ষ্য কখনও গ্রহণ করবে না। তারা নিজেরাই তো ফাসেক। (আন নূর, আয়াত নং- ৪)
উল্লিখিত এই শাস্তি শুধু এই অপবাদের জন্যই নির্দিষ্ট। অন্য কোন অপরাধের অপবাদ আরোপ করলে বিচারকের বিবেচনা অনুযায়ী প্রত্যেক অপরাধের অপবাদের জন্য দণ্ডমূলক শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। (আহকামুল কুরআন ৫/১১১)।
মিথ্যা অপবাদে মানুষের সম্মানহানি ঘটে। কারো সম্মানহানি করার অধিকার অন্যের নেই । যে অপর ভাইয়ের ইজ্জত খাটো করে তার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান অপর কোনো মুসলমানকে যদি এমন স্থানে লাঞ্ছিত করে যেখানে তার সম্মানহানি হয় আল্লাহ তাকে এমন স্থানে লাঞ্ছিত করবেন, যেখানে তার সাহায্যপ্রাপ্তির আশা ছিল।' (আবু দাউদ ৪৮৮৪)।
অহেতুক একে অপরকে দোষারোপ করা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া যেন এর প্রথম কারণ। একটা বিষয় সত্যায়ন না করে ছড়িয়ে দেওয়া হয় সোস্যাল মিডিয়াতে। এভাবে একটা ভিত্তিহীন কথা ভাইরাল হয়ে যায়। এ ব্যাপারে সবার সচেতন থাকা জরুরি ।
মূলত অজ্ঞতা ও সন্দেহের বশে অপবাদ দেওয়ার ঘটনাই সবচেয়ে বেশি ঘটে। অপবাদ থেকে বাঁচার উত্তম উপায় হলো সন্দেহ বা ধারণার ভিত্তিতে কারো বিরুদ্ধে কোন দোষ চাপিয়ে না দেওয়া।
কারণ মহান আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয়ই কতক ধারণা গুনাহ। (সুরা হুজরাত, ১২)।
অপবাদ বান্দার হক। কারো ব্যাপারে অপবাদ দেওয়া হলে সে ক্ষমা না করলে আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা পাওয়া যাবে না। সুতরাং আমাদের উচিত যাদের অপবাদ দিয়েছি তাদের থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।
মহান আল্লাহ আমাদের সকল প্রকার ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং মিথ্যা অপবাদ থেকে বেঁচে থাকার তওফিক দান করুন! আমীন।