07/10/2024
বাদামী গাছফড়িং (ইংরেজি: Brown Planthopper or BPH) Delphacidae গোত্রের Nilaparvata lugens প্রজাতির সাধারণ নাম। সবুজ ধানের অন্যতম শত্রু বাদামী গাছফড়িং। এটি কারেন্ট পোকা নামেও পরিচিত। এরা খুব তাড়াতাড়ি বংশ বৃদ্ধি করে, ফলে এ পোকার সংখ্যা এত বেড়ে যায় যে, আক্রান্ত ক্ষেতে বাজ পড়ার মত হপারবার্ণ (Hopper Burn)- এর সৃষ্টি হয়।
সাধারন বিবরনঃ
১. এগুলোর গায়ের রঙ বাদামি বা গাঢ় বাদামী।
২. পূর্নবয়স্ক পোকা লম্বা ও খাটো দু’ধরনের হয়ে থাকে।
৩. এগুলোর দেহ খুবই নরম এবং স্ত্রী পোকার পেট পুরুষ অপেক্ষা বেশ বড়।
৪. পূর্নবয়স্ক পোকা ৩.৫-৫.০ মি.মি. লম্বা। স্ত্রী পোকা পুরুষ অপেক্ষা বড়।
এরা পাতার খোলে এবং পাতার মধ্য শিরায় ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা (নিম্ফ) বের হতে ৭-৯ দিন সময় লাগে। বাচ্চাগুলো ৫ বার খোলস বদলায় এবং পূর্ণবয়স্ক ফড়িং এ পরিণত হতে ১৩-১৫ দিন সময় নেয়। প্রথম পর্যায়ের (ইনস্টার) বাচ্চাগুলোর রং সাদা এবং পরের পর্যায়ের বাচ্চাগুলো বাদামী। বাচ্চা থেকে পূর্ণবয়স্ক বাদামী গাছফড়িং ছোট পাখা এবং লম্বা পাখা বিশিষ্ট হতে পারে।
ধানে শীষ আসার সময় ছোট পাখা বিশিষ্ট ফড়িং এর সংখ্যাই বেশি থাকে এবং স্ত্রী পোকাগুলো সাধারণত গাছের গোড়ার দিকে বেশি থাকে। গাছের বয়স বাড়ার সাথে সাথে লম্বা পাখা বিশিষ্ট ফড়িং এর সংখ্যাও বাড়তে থাকে, যারা এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় উড়ে যেতে পারে।
ক্ষতির প্রকৃতিঃ
বাদামী গাছফড়িং খুব তাড়াতাড়ি বংশ বৃদ্ধি করে সংখ্যা এত বেড়ে গিয়ে আক্রান্ত জমিতে হপারবার্ণ এর সৃষ্টি হয়। আক্রান্ত গাছগুলো প্রথমে হলদে হয় এবং পরে শুকিয়ে মারা যায়। লম্বা পাখাবিশিষ্ট পূর্ণবয়স্ক বাদামী ফড়িংগুলো প্রথমে ধান ক্ষেতে আক্রমণ করে। কখনও কখনও বাচ্চা ও পূর্নবয়স্ক উভয় অবস্থায় এ পোকা ধান গাছের গোড়ায় বসে রস শুষে খায়। এর আক্রমনে গাছ প্রথমে হলুদ হয়ে যায় ও পরে শুকিয়ে মারা যায়।বাদামী গাছফড়িং গ্রাসি স্টান্ট, র্যাগেট স্টান্ট ও উইল্টেড স্টান্ট নামক ভাইরাস রোগ ছড়ায়।
আক্রমনের অনুকুল পরিবেশঃ
১. গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া।
২. ছায়াযুক্ত স্থানে এরা দ্রুত বংশবিস্তার করে। জমির আইল বা জমির মাঝে কোনো গাছ থাকলে সেই গাছের দ্বারা সৃষ্ঠ ছায়াযুক্ত স্থানে এরা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।
৩. জমি স্যাঁতসেঁতে হলে ও জমিতে দাড়ানো পানি থাকলে।
৪. চারা ঘন করে রোপন করলে।
৫. অধিক মাত্রায় ইউরিয়া সার ব্যবহার করলে।
দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০-২৫ ডিগ্রী সেঃ হলে।
দমন ব্যবস্থাঃ
১. সারিবদ্ধ ভাবে ধান রোপন করতে হবে।
২. পোকা আক্রান্ত জমির পানি সরিয়ে দিয়ে ৭-৮ দিন পানি শুকনা রাখতে হবে।
৩. আক্রান্ত জমিতে ২-৩ হাত দুরে দুরে বিলিকেটে সুর্যের আলো ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. আক্রমন দেখা যাওয়া মাত্র ইনটেক ক্রপ কেয়ার লিঃ কর্তৃক বাজারজাকৃত উন্নত মানসম্পন্ন ফিপ্রোনিল + ডিনোটিফুরান গ্রুপের কীটনাশক ফিরোডান ৮০ ডব্লিউ ডি জি (FIRODAN 80 WDG) প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ গ্রাম দিয়ে গাছের গোড়া ভালো ভাবে স্প্রে দিতে হবে।