06/09/2026
সরকার সৌরবিদ্যুৎ কেনার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কর্পোরেট শো-রুম ও বিজ্ঞাপনের প্রলোভনময় ব্যানারগুলোতে শো করতেছে একটাই কথা। তা হচ্ছে, বিদ্যুৎ বিল চিরতরে শূন্যে নামিয়ে আনুন, লিথিয়াম ব্যাটারি বসান, জীবনের মতো নিশ্চিন্ত হন, কিংবা অনগ্রিড সোলারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করে মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করুন।
বাহ্যিকভাবে এটি একটি পরিবেশবান্ধব ও যুগান্তকারী সমাধান মনে হতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও কার্বন নিঃসরণের যুগে সৌরশক্তির দিকে ঝুঁকে পড়া যেকোনো সচেতন মানুষের জন্যই যুক্তিযুক্ত।
কিন্তু চকচক করলেই যেমন সোনা হয় না, তেমনি বিজ্ঞাপনের ঝলমলে ভাষার তলে পড়ে থাকা অংকগুলোকে মেলাতে গেলে বেরিয়ে আসে এক চরম ও অপ্রিয় বাস্তবতা।
বাংলাদেশে অনগ্রিড সোলার প্রজেক্ট এবং লিথিয়াম-আয়ন বা লিথিয়াম আইরন ফসফেট (LiFePO4) ব্যাটারির বাজার ঘিরে যে করপোরেট প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে অপতথ্য, অর্ধসত্য এবং বাণিজ্যিক প্রতারণার এক সূক্ষ্ম জাল।
গ্রাহককে বোঝানো হচ্ছে যে এই প্রযুক্তিগুলো স্থাপন করলেই তিনি বিদ্যমান বিদ্যুৎ কাঠামোর থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন হয়ে যাবেন। অথচ মাঠপর্যায়ের প্রকৌশল, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ বোর্ড বা ডেসকোর বাস্তব নীতি এবং ব্যাটারির রাসায়নিক ক্ষয়সীমার হিসাব-নিকাশ ভিন্ন কথা বলছে। এটি কি শুধুই বাজারের অনিয়ম, নাকি নবায়নযোগ্য শক্তির নামে একশ্রেণির ব্যবসায়িক এজেন্টের অসচেতন ও সাধারণ গ্রাহকের পকেট খসানোর চতুর কৌশল?
এই প্রশ্নের গভীর অনুসন্ধান করতে হলে আমাদের প্রযুক্তির কারিগরি সীমা, আর্থিক লাভ-ক্ষতি এবং করপোরেট মধ্যস্বত্বভোগীদের পরিবেশিত রূপকথার ভিতরের অংকগুলো একে একে উন্মোচন করতে হবে।
প্রথমত, অনগ্রিড সোলার সিস্টেমের মূল নীতি অত্যন্ত সহজ। এতে কোনো ব্যাটারি থাকে না। ছাদের সৌর প্যানেল থেকে তৈরি হওয়া ডিসি বিদ্যুৎকে ইনভার্টারের মাধ্যমে এসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে সরাসরি ভবনে ব্যবহার করা হয়। আর দিনে যদি ব্যবহারের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, তবে তা নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে চলে যায়। মাস শেষে জাতীয় গ্রিড থেকে নেওয়া বিদ্যুৎ এবং গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুতের বিয়োগফল হিসাব করে বিদ্যুৎ বিল তৈরি হয়।
বিজ্ঞাপনগুলোতে এই অংশটিকেই সবচেয়ে প্রলোভনময় করে উপস্থাপন করা হয়। দাবি করা হয়, গ্রাহক তার অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরকারে