19/05/2025
ধ্রুবজিৎ কর্মকার ছিল ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। পরীক্ষার হলে গিয়ে সে দেখল, শিক্ষকরা বিগত ছয় মাসে যা পড়ালেন, প্রশ্নে তার কিছুই নেই। হতাশায়, এবং একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর মতো, তিনি হয়ত পাশের জনের খাতা দেখে একটি বা দুইটি সুত্র টুকে নেন তার প্রস্নপত্রে—যা কোনো পরিকল্পিত নকল নয়, বরং ওই মুহূর্তে তার মনে হয়েছে হয়ত - পাশ তো করতে হবে- তার পরবর্তী অ্যাকশন তার জীবনে এই রেজাল্ট অথবা পরিক্ষার গুরুত্ব তার মানসিক বিচারে কতটুকু ছিল সেটা তো স্পষ্টই ।
Suddenly the honorable teacher has discovered that - this guy is doing something wrong - OK - আমরাও মেনে নিচ্ছি It was wrong. কিন্তু তাই বলে তাঁর খাতা, প্রশ্নপত্র, এমনকি অ্যাডমিট কার্ডও কেড়ে নিলেন। তাঁকে ক্লাসের সামনে অপমান করা হল , বলা হল “দুই বছর পর আবার পরীক্ষা দিতে আসিস।” ধ্রুব প্রকাশ্যে শিক্ষককে অনুরোধ করেন, কান্না করেন, কিন্তু কোনো সহানুভূতি পাননি। এরপর পরীক্ষার সময় শেষ হওয়ার আগেই ধ্রুবকে বের করে দেওয়া হয়।
এখানেই প্রশ্নের শুরু- যে শিক্ষক - (আমি তার নাম জানি না - জানলে আর একটু সহজ করে লেখা যেত। )
পরিক্ষার তদারককারী শিক্ষক - উনি - বলতে পারতেন তুমি আজকে আর পরিক্ষা দিতে পারবে না। এটার সিদ্ধান্ত পরে হবে। তিনি কি এমন কিছু বলতে পারতেন কিনা আমি জানি না। অথবা ওকে প্রিন্সিপাল, বিভাগীয় প্রধানের কাছে হস্তান্তর করতে পারতেন। যার কিছু তিনি করেছেন কিনা আমার জানার ইচ্ছা হচ্ছে খুব ।
রুমে ফিরে ধ্রুব ৩০ মিনিটের মধ্যে আত্মহত্যা করল , রেখে যান একটি হৃদয়বিদারক সুইসাইড নোট, যেখানে তিনি দায় দেন বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে। আমাদের ক্যাম্পাসে রচিত হল - Give Me some Sunshine - Give me Some Rain -- Give me another chance- -- whatever.
এটি একটি আত্মহত্যা নয়, এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত অবহেলা ও নৈতিক ব্যর্থতার ফলাফল। একটি ব্যবস্থা, একটি শিক্ষক, এবং একটি প্রশাসন মিলে এক তরুণ প্রাণকে শেষ করে দিল—শুধু অনুপযুক্ত প্রশ্ন, অবমাননাকর আচরণ, এবং অসহায়তাকে উপেক্ষা করার কারণে।
এটি কোনো “ঘটনা” নয়—এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকাণ্ড।
এখন আসেন আইন কি বলে - একটু খুজে দেখি
ধ্রুবজিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন ও শাস্তি প্রদানের পূর্বে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি, যা প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।- ধরে নিলাম তাকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয় নি। কিন্তু সেটা বলা হল কেন। যদি ভয় দেখাতে বা তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য বলা হয়ে থাকে, তাহলে এটাকে আমরা আত্মহত্যার প্ররোচনা বলতেই পারি। এতে ধ্রুবর শুনানির অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে।
এবং
দণ্ডবিধি ১৮৬০, ধারা ৩০৬: আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা দেওয়া হতে পারে। শিক্ষক কর্তৃক প্রকাশ্যে অপমান ও ভবিষ্যৎ নষ্টের হুমকি আত্মহত্যার প্ররোচনার অন্তর্ভুক্ত হতেই পারে।
আসেন ঐ শিক্ষকের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্বের লঙ্ঘন হয়েছে কিনা সেটা একটু ভেবে দেখি,
শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে "তুই" সম্বোধন করে অপমান করা ও ক্লাসের সামনে হুমকি দেওয়া ইউজিসির শিক্ষক আচরণবিধির পরিপন্থী।
আবার শিক্ষকগণকে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা রক্ষা ও সহানুভূতির সাথে আচরণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা এখানে লঙ্ঘিত হয়েছে।
আর প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা:
কাউন্সেলিং সেবার অভাব: মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা না থাকা একটি গুরুতর অবহেলা।
ইমার্জেন্সি মেডিকেল ব্যবস্থার অভাব: মেডিকেল ফি নেওয়া হলেও জরুরি চিকিৎসা সেবা অনুপস্থিত, ইভেন হাসপাতালে নিতে, ক্যাম্পাসের গাড়িও ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি।
ধ্রুবজিতের মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে চলমান নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়া একটি গুরুতর অপরাধ। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।
ধ্রুবজিৎ We Mourn For You. Sucide can never be a sloution. You could do better. really you could do better.
Copy from Noor H. Sourav bhai.