26/07/2026
⚡ বিদ্যুৎ কি সেবা থাকবে, নাকি শুধু লাভের ব্যবসা হয়ে যাবে?
প্রাইভেট কোম্পানির হাতে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব দেওয়ার আগে একবার ভেবে দেখুন—গ্রাহক আসলেই কতটা লাভবান হবেন?
বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুতের গড় বাল্ক (পাইকারি) বিক্রয় হার ৮.৩৯ টাকা প্রতি ইউনিট। অথচ ২০২৬–২৭ অর্থবছরে গড় ক্রয় ও সরবরাহ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩.০৯ টাকা প্রতি ইউনিট। অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে প্রায় ৪.৭০ টাকা ঘাটতি রয়েছে।
এই ঘাটতি শূন্যে নামাতে গেলেই গড়ে ইউনিটপ্রতি প্রায় ৪.৭০ টাকা দাম বাড়াতে হবে। কিন্তু কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তো শুধু খরচ তুলতেই ব্যবসা করে না—তাদের লাভও করতে হবে। যদি ইউনিটপ্রতি ২–৩ টাকা মুনাফা ধরা হয়, তাহলে গড় বিক্রয় মূল্য ১৭–১৮ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।তখন গ্রাহক বেদে এই দাম ১৭-২৫ টাকা পর্যন্ত ভ্যারি করবে।
এরপর বিশ্ববাজারে তেল, কয়লা বা গ্যাসের দাম বাড়লে আবারও "সমন্বয়" হবে। যেমন বারবার পরিবহন ভাড়া সমন্বয় করা হয়, তেমনি বিদ্যুতের দামও বাড়ানোর চাপ আসবে।
আর যখন ব্যবসা লাভজনক হবে না, তখন কি সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত থাকবে? নাকি একসময় বিভিন্ন অজুহাতে চাপ সৃষ্টি করে আরও মূল্যবৃদ্ধির দাবি উঠবে?
বিদ্যুৎ কোনো বিলাসপণ্য নয়; এটি মানুষের মৌলিক প্রয়োজন, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও শিল্পের চালিকাশক্তি। তাই বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু লাভ-লোকসানের হিসাব নয়, সাধারণ মানুষের স্বার্থ, সাশ্রয়ী মূল্য এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
কারণ একবার যদি এই সেবা পুরোপুরি কর্পোরেট স্বার্থের হাতে চলে যায়, তাহলে সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই।
(কপি পোস্ট)