05/10/2025
# #কেমিক্যাল এডমিক্সচারের কারণে ভবনের প্লাস্টার, ঢালাই খসে পরার সম্ভাবনা আছে কী? # #
এই প্রশ্নটির উত্তরটি বুঝতে হলে আগেই আমাদের জানতে হবে কেমিক্যাল এডমিক্সচারের আসলে কাজটা কি,
কেমিক্যাল বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সিমেন্টের সাথে সম্পৃক্ত, সিমেন্টের কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্যই মূলত কেমিক্যাল এডমিক্সচার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, ঠিক দুধের সাথে যে কারণে হরলিক্স মিশাই, এখন আপনি যে সিমেন্ট টি ব্যবহার করছেন সেটির ই যদি কার্যকারিতায় সমস্যা থাকে তাহলে কেমিক্যাল এডমিক্সচার এখানে কোন কাজেই আসবে না, কারণ নির্মাণ ক্ষেত্রে একমাত্র সিমেন্টই হল প্রধান বাইন্ডিং মেটেরিয়ালস, যেটা অন্যান্য সকল উপাদান কে একত্রিত করে শক্ত হতে সাহায্য করে। কেমিক্যাল এর কাজ কিন্তু এটি নয়, কেমিক্যাল এর কাজ হচ্ছে সিমেন্টের সহযোগী হিসেবে সকল উপাদানের শক্ত হওয়াকে ত্বরান্বিত করা, সিমেন্ট যদি ৮০ শতাংশ কাজটি করে তখন কেমিক্যাল বাকি ২০ শতাংশ তার কার্যকারিতায় এগিয়ে নিতে পারে, যদি ৮০ শতাংশেই সমস্যা থাকে তাহলে বাকি ২০ শতাংশের কোন মূল্য নেই, অর্থাৎ যার মাধ্যমে এই কাজটি হবে সেই যদি অপেক্ষাকৃত দুর্বল হয় সে ক্ষেত্রে সহযোগী উপাদান কখনো এটিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে সক্ষম হবে না।
আমরা অনেকেই জেনে থাকি যে কেমিক্যাল এড মিক্সচার শুধুমাত্র এক রকমেরই হয়ে থাকে, বাস্তবে এর ভিন্ন ভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে, ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল এডমিক্সার ব্যবহার করা হয়, ঢালাই এর কাজে আপনি যে কেমিক্যাল এডমিক্সচার ব্যবহার করবেন প্লাস্টারে সেটি ব্যবহার করার সুযোগ নেই, প্লাস্টারের জন্য আলাদা টাইপের কেমিক্যাল এডমিক্সচার রয়েছে, ঢালাইয়ের কাজে আপনাকে ওয়াটার রিডিউসিং টাইপের কেমিক্যাল ব্যবহার করতে হবে, প্লাস্টারের ক্ষেত্রে সেটা ওয়াটার প্রুফিং টাইপের কেমিক্যাল, ভিন্ন ভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে সঠিক টাইপের কেমিক্যাল সঠিক নিয়ম ব্যবহার করলেই কেবলমাত্র কেমিক্যাল এর পুরাপুরি সুবিধা পাওয়া যাবে।
উল্লেখিত প্রকাশিত ভিডিওটিতে আপাতদৃষ্টিতে যতটুকু দেখা যাচ্ছে এ সমস্যা বেশ কয়েকটি কারণে হতে পারে,
যেমন:
১. প্লাস্টারে যে বালু ব্যবহার করা হয়েছে সেটি যদি অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম দানার হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, প্লাস্টারের ন্যূনতম ১.২ এফ এম সাইজের বালি ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে, এখন এর থেকে কম সাইজের বালি দিয়ে মসলা তৈরি করা হলে সেই বালির সাথে সিমেন্ট সঠিকভাবে বিক্রিয়া করতে সক্ষম হয় না, যে কারণে মসলা অপেক্ষাকৃত দুর্বল হতে পারে।
২. সিমেন্ট বালুর মিশ্রণ সঠিক না হলে, অর্থাৎ সিমেন্টের সাথে বালু সঠিকভাবে মিশানো না হলে, অনেক সময় দেখা যায় সিমেন্ট বালু সঠিকভাবে মিশ্রণ না হলে অনেক স্থানে সিমেন্ট না পৌঁছানোর কারণে ওই জায়গাটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং ঝুরঝুর হতে পারে, যেখানে হাতের আঙ্গুল দিয়ে ঘষা দিলে সহজেই প্লাস্টার উঠে যেতে পারে।
৩. প্লাস্টারে ভুড়া ব্যবহার করা হলে, আমাদের দেশে সাধারণত যারা কাজ করে থাকেন তাদের দ্রুত কাজ করার সুবিধার্থে অনেক সময় ভিজা প্লাস্টারে ভুড়া( শুকনা বালি সিমেন্টের মিশ্রণ) ব্যবহার করে প্লাস্টার শুকিয়ে দ্রুত কাজ করে থাকেন, যে কারণে অনেক স্থানে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।
৪. সঠিকভাবে এবং সঠিক নিয়মে কিউরিং কার্য সম্পাদন না হলে : সবকিছু যদি আমরা সঠিক নিয়মে সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করেও থাকি, তথাপিও সঠিকভাবে নির্দিষ্ট সময়ব্যপি কিউরিং(ঢালাই বা মসলা শীতল রাখার পদ্ধতি) করা না হলে ঢালাই বা প্লাস্টার পরিপূর্ণ শক্তি অর্জন করতে সক্ষম হয় না, যে কারণেও এ ধরনের সমস্যাটি তৈরি হতে পারে।
৫. বালিতে ইনঅর্গানিক পাটিকেল থাকলে : বালিতে অনেক সময় কাদামাটি, খরকুটা, কয়লার টুকরা এ জাতীয় বিভিন্ন উপাদান লক্ষ্য করা যায়, এ ধরনের উপাদানের উপস্থিতির কারণেও এই সমস্যা তৈরি হতে পারে, কারণ কাদামাটির সাথে তো আর সিমেন্ট বিক্রিয়া করবে না, যে সকল স্থানে কাদামাটির ওই অংশগুলো পড়বে ওই সকল স্থানে এই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়ে থাকে।
আর কেমিক্যালের কারণে যে সমস্যাটি হতে পারে সেটি হচ্ছে কেমিক্যালের ডোজিং যদি বেশি হয়, বেশি পরিমাণ যদি ব্যবহার করা হয় সেক্ষেত্রে ইনিশিয়াল সেটিং টাইম কিছুটা ডিলে হতে পারে, মানে ঢালাই জমতে কিছুটা বেশি সময় নিবে, কিন্তু এক বছর পরে এসে এই ধরনের সমস্যা ক্যামিকেল এর জন্য হয়েছে এটি আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অবান্তর এবং ভিক্তিহীন মনে হয়।
যোগাযোগঃ ০১৭৫০-৮৬০২৯৭