12/07/2024
এতোদিন বিসিএস ক্যানাডিডেটদের নিয়ে আমি যত মজা করছি, ব্যঙ্গ করছি, সবকিছু আমি ফিরাইয়া নিলাম।
নিজের চোখে কুকুরের মতো দিন রাত এক করে পড়েও চান্স না পাওয়া যে ভাইটাকে ডাম্ব ভাবতাম মনে মনে, আমি তার এবং তাদের কাছেও ক্ষমা চাই।
বহু ভাই ব্রাদার চিনি যারা ইভেন এই ঈদে হল থেকে বাসায় যায় নাই ৪৬ এর পড়া পড়ার জন্য।
একটা সময় বিসিএস যারা দেয়, তাদের ব্যাপারে আমার নেতিবাচক ধারণাই ছিলো।
বাট এখন জানি, বিসিএস সবার স্বপ্ন থাকে না বিসিএস বরং কারো কারো কাছে তীব্র নেসেসিটির নাম।
ঘরে অসুস্থ বাপ মা, বিয়ের বয়সী বোন, কলেজ পড়ুয়া ভাই আর মাথায় ১০ টা টিউশনির বোঝা নিয়ে আইয়েল্টস এফোর্ড করা যায় না, রিসার্চও এফোর্ড করা যায় না।
তাই হাজার হাজার ছেলেমেয়ের কাছে বিসিএস ছাড়া আসলে আর কোন অপশন থাকেই না।
তারউপর যারা STEM এর বাইরের পোলাপাইন, আর্টসের সাবজেক্টে পড়তেছে, তারাই বা বাইরে পড়ার ফান্ড কোথায় পাবে? সায়েন্স এর পোলাপাইনের তাও একটা অপশন আছে, আর্টসের ছেলে মেয়েগুলো কই যাবে?
একদিকে তাড়া করতে থাকা অভাবের সংসার, আরেকদিকে বাপের জমি বিক্রি করা বা মায়ের গয়না বিক্রি করে চলতে থাকা জীবন, ওদিকে বাবার বুড়ো হয়ে যাওয়া, ছোট ভাই বোনের পড়াশোনার খরচ আর মায়ের চিকিৎসা না করা অসুখ।
এসবের তাড়া খেয়ে হাজার হাজার ছেলে মেয়ে আশ্রয় নিয়েছিলো বিসিএস নামের এই অমানবিক, পাশবিক ১৮ ঘন্টার লেখাপড়াময় এক জার্নিতে।
অথচ আজ চ্যানেল ২৪ জানালো, সেই আশ্রয় বহু আগেই চুরি করা হয়েছে, লুট করা হয়েছে, ধর্ষণ করা হয়েছে হাজারো চাকরি প্রার্থীর ঘামে রক্তে মেশানো পরিশ্রমকে।
এই আশ্রয়হীন ছেলে মেয়েগুলা এখন কোথায় যাবে? কী করবে? আমি জানি না।
শুধু জানি, একটা স্বপ্নকে আকড়ে ধরে জানোয়ারের মতো পরিশ্রম করতে থাকা হাজার হাজার ছেলেমেয়েদের স্বপ্ন, পরিশ্রম আজ ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া হলো।
আথ স্বপ্নই যদি কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে মানুষের জীবন আর মানুষের থাকে না, ওটা জানোয়ারের জীবন হয়ে যায় না?