বলতে না পারা কিছু কথা

বলতে না পারা কিছু কথা ღღ •___না বলা কিছু কথা যা আজ ও
হয়নি তোমাক?

26/11/2020

পতিতা পল্লী -- শেষ পর্ব

ঈদ বোনাস

আমি বুঝতে পারছি এ শহর থেকে অনেক দূরে চলে যাওয়া দরকার আমার। এ শহর আমাকে তিলে তিলে মেরে খাবে। গাড়ি চলছে অবিরাম গতিতে। যতক্ষন না ব্রেকে পা পড়ছে ততক্ষন চলতেই থাকবে। ছোট বেলায় শহর দেখার স্বপ্ন দেখতাম। যে শহরে রাতেও বাতি জ্বলে। যে শহরে গভীর রাতেও অনেক গাড়ি চলে। কিন্তু সেদিন বুঝিনি এ শহরে অনেক মানুষ রাস্তার পাশে শুয়ে রাত কাটিয়ে দেয়। যে শহরের প্রত্যেকটা ইট স্বার্থপরের মাটি দিয়ে তৈরী।
যে সময় একবেলা ভাত খেয়ে সারাটি দিন কাটিয়ে দিতাম তখন এতটা কষ্ট হয়নি। শুধু একটি নারী দেহ চলে যাওয়াতে যতটা কষ্ট হচ্ছে। কি রকম এক অদ্ভুদ কষ্ট কাউকে বুঝানো যায়না। বলাও যায়না। শুধু সেই ই বুঝে যার হারায়। মুনতাসির আর হাবিব বলেছিল আজকে দেখা করবে আমার সাথে। তাই ওদের কল করে নদীর পাড়ে আসতে বললাম। যে নদী আমার মন খারাপের সাক্ষী। আবার সেই গান। সেই সুর ;সেই পরিবেশ।
মুনতাসিরের ব্রেকাপের পর ও যখন চরমভাবে পাগলামি করেছিল সেদিন মনে করেছিলাম কোন ছেলেমানুষী করছে। কত বকা ঝকা করেছি। কত শান্তনা বাক্য শুনিয়েছি। পাগলামীর মাত্রা যখন চরম পর্যায়ে চলে যাচ্ছিল অনেকবার গায়ে হাত ও তুলেছি। তখন মুনতাসিরকে শান্তনা দিয়ে একটি কথা বার বার বলতাম-;"যে মেয়ে নিজে থেকে চলে যায় তাকে ভেবে মিথ্যে মন খারাপ করে কি লাভ? যে চলে গেছে সে যাকনা। এরকম একটা গেলে কতটা আসবে।"
কিন্তু সেদিন কি আর বুঝেছিলাম? মুনতাসির তো হাজারটার আশা কোনদিন করেনি। ও তো একজনকে ঘিরেই সমস্ত স্বপ্ন দেখেছিল। কেন জানি মুনতাসিররা অদিতির মত হতে পারে না। ওরা চাইলেই বলতে পারে না। এরকম একটা মেয়ে গেলে হাজারটা আসবে।
মুনতাসির এখন আমার পাশে বসে আছে। আমিও ওর পাশে বসে আছি। কেউ কারো সাথে কোন কথা বলছি না। কিছুক্ষন হল ও এসেছে। আসার পর আমি যখন ওকে দেখে উঠে দাড়ালাম তখন শুধু কাধে হাত রেখে বলেছে কিছু চিন্তা করিসনা; সব ঠিক হয়ে যাবে দোস্ত। আমি কিছু বলিনি। এরপর থেকেই কোন কথা ছাড়া দুজনেই সিগারেট খেয়েই যাচ্ছি। হাবিব ও এসেছে মাত্র। মুনতাসির আর হাবিব ওরা দুজনে এখন আমার সব অতীত জানে। এই নিষ্ঠুর অতীতগুলোকে আকড়ে ধরে একা বেচে থাকতে পারছিলাম না। তাই সকল ভয় সংকোচ দূরে ফেলে মনের কথাগুলো ওদের বলেই দিলাম। তিন দিক থেকে হেরে যাওয়া তিন জন মানুষ বসে আছি। আজকেও চারদিক চাঁদের আলোয় আলোকিত। সেই সুবাদে নদীতে আপন মনে যে নৌকা গুলো চলছে তা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। আচ্ছা যে নদীর বুকে এত মানুষ গান ধরে তাদের মনের জ্বালা মেঠায়। সে নদীর কি কোন দুঃখ আছে? সে দুঃখের কি কোন শেষ আছে?
হাবিব আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল-"কি সিদ্ধান্ত নিলি?"
"কিসের সিদ্ধান্ত? আমি জিজ্ঞেস করলাম।
"ভাবীর তো নাহ সরি অদিতির তো বিয়ে হয়ে গেল। এতক্ষন এ হয়তো শ্বশুর বাড়িতেও পৌছে গেছে। ওকে নিয়ে নানা মাতামাতি শুরু হয়েছে। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ বৌ দেখতে আসবে। আর তারপরেই চার দেয়ালের লাইট বন্ধ ঘরে বন্দী হয়ে যাবে। অন্য জনের কাধে ভর করেই স্বপ্ন দেখা শুরু করবে"।
আমি হাবিবের দিকে তাকিয়ে আছি। নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে আসছিল। অন্য সময় চোখের জল লুকানোর চেষ্টা করতাম কিন্তু আজ তা করবনা। আজ তা সবার সামনে প্রকাশ পাক। থেমে থেমে কান্না আসছে। ভেতরের কান্নার জন্য মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছেনা। মিনিট তিনেক পরে বললাম,
-"আচ্ছা হাবিব চলনা। আজ রাতে দূরে কোথাও ঘুরতে যায়।"
-"পাগল হয়ে গেলি নাকি? আজ রাতে? হঠাৎ করে? তাও আবার এভাবে?"
মুনতাসির হাত থেকে সিগারেট একেবারে নদীর জলে ফেলে দিল। সেটি ভেসে যাচ্ছে আর হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ দূরে। আর বলল-"চলনা হাবিব। আমারো কেন জানি দূরে কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে। আর এতে হয়তো অভির ও মনটা একটু হাল্কা হতে পারে। হারানোর যন্ত্রনা আমি তো বুঝি রে দোস্ত।"
হাবিব আমার কাধে হাত রেখে বলল-"আচ্ছা ঠিক আছে। আজ রাতেই আমরা দূরে কোথাও যাচ্ছি। তবে একটা কথা শুনে রাখ অভি।"
-হুম বল।
-"আমরা কিন্তু যাচ্ছি শুধুই তোর জন্য। তুই কিন্তু মন খারাপ করে জার্নিটা ভেস্তে দিতে পারবিনা।"
হাবিবের কথা শুনে আমি হাসি দিলাম। হাবিব আর মুনতাসির ও আমার সাথে হাসছে। একেবারে বন্ধুত্বের হাসি। যে হাসিতে কোন স্বার্থপরতার ছাপ নেই। নেই কোন যান্ত্রিকতা।
দূরে কোথাও বেড়াতে যেতে হলে বাসা থেকে প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে। হাবিব ওর গাড়ি নিয়ে এসেছে। মুনতাসির ও সাথে গাড়ি নিয়ে এসেছে আর আমার টা তো আছেই।
_গাড়িটা কি তিনটা নিয়ে যাবি নাকি? মুনতাসির জিজ্ঞেস করল।
আমি বলে উঠলাম-"না না।আমার টা নিয়েই যাব। অফিস থেকে নতুন গাড়ি পেয়েছি তো"
সাথে সাথে হাবিব বলে উঠল-"সাব্বাস বস।"
আমি হাবিবের দিকে তাকিয়ে আবার হাসি দিলাম। হাবিব হাসছে সাথে মুনিতাসির ও হাসছে। এ হাসিতে কোন আওয়াজ নেই তবে একেবারে মমতায় ঘেরা। একারনেই মনে হয় বিখ্যাত মানুষরা বন্ধুদের সব সময় উচুতেই রাখেন। যেখানে আর কারো যাওয়ার সাধ্য নেই। সেখানে কেউ পৌছাতে পারেনা।
নদীর পাড়টা আজ কেন জানি অন্যরকম ভাবে সেজেছে। এতক্ষন চাঁদ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। তবে এখন দেখা যাচ্ছেনা। আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছে। তাই কেন জানি এখান থেকে উঠতেই ইচ্ছে করছেনা।
-অদিতির স্বামী কি করে রে? জানিস কিছু? মুনতাসির আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল।
-"জানিনা। তবে মনে হয় বিরাট বড়লোক বাপের ছেলে। আজকে দেখে যা মনে হল।"
-সেকী! তুই আজকে বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলি নাকি? হাবিব জিজ্ঞেস করল।
-"অদিতিকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছিল"এই বলে শত চেষ্টা শেষেও আর নিজেকে থামাতে পারলাম না। কোন কোন চোখের জল না চায়তেই চলে আসে। এখানে কারো হাত থাকে না।
-"আচ্ছা হাবিব রাখনা এসব কথা। এখন উঠবি চল"এই বলে হাবিব আর মুনতাসির আমাকে ধরে তুলল।তিনজন হাটছি সামনে দিকে। গাড়ি আছে পার্কিং জোনে পার্ক করা অবস্থায়। দূর থেকে ভেসে আসে এক অদ্ভুদ সুর সেই সাথে নৌকার দাড় টানার শব্দ।কেউ একজন মুক্ত গলায় গাইছে মন মাঝি তোর বৈঠানেরে আমি আর বাইতে পারলাম না। আমি আবার দাঁড়িয়ে গেলাম। হাবিব আর মুনিতাসির একসাথে জিজ্ঞেস করল "দাঁড়িয়ে গেলি কেন?"
দোস্ত গানটা শুনে তারপর যাই?
ওরা আবার আমার দিকে তাকিয়ে আছে। হাবিব বলল-"অদিতিকে একটিবার সব সত্য বলে দেখতে পারতি। এতই যখন কষ্ট পাচ্ছিস"
হাবিব এর হাত দেখি চোখের কোনার দিকে। চোখের কোনা থেকে কি একটা মুচছে। মুখে লাইট পড়তেই দেখি চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে। জল গড়ানোর ধরন দেখে মনে হচ্ছে সে অনেক্ষন ধরে কান্না করছে।
হাবিব আর মুনতাসির যে যার গাড়ি বাসায় রেখে এসেছে আর বাসায় বলেও এসেছে আজ রাতে ফিরবেনা। একথা শুনে নাকি হাবিবের বাসায় একটু ঝামেলা হয়েছিল তবে হাবিব সেটি অগ্রাহ্য করে চলে এসেছে। তিনজন এখন এক গাড়িতে। আমার গাড়িতে। গাড়ি চালাচ্ছে হাবিব। অবশ্য আমিই চালাতে চেয়েছিলাম কিন্তু হাবিব সেটা করতে দিলনা। চাবিটা ও নিজেই নিয়ে নিল। গাড়ি চলছে হাইওয়ের উপর দিয়ে অবিরাম গতিতে।
গাড়ির দরজার কাচ নামানো। আমি হাবিবের পাশের সিটে আর মুনতাসির বসেছে পেছনে। শহরের একেবারে শেষপ্রান্তে। একটু পরেই এই শহরকে পেছনে ফেলে যাব।
-"অভি তোর গাড়িটা কিন্তু জোশ" হাবিব বলল।
"মাত্র পরশুদিন ই তো বের করলাম। জোশ তো একটু হবেই"-আমি বললাম।
-"অভি তুই কিন্তু স্কুলে থাকতে সব সময় বলতি বড় হলে গাড়ি কিনবি। আর সেটা শুনে আমরা সবাই হাসতাম।"মুনতাসির বলল।
-"এটা কিন্তু আমি কিনি নি দোস্ত। অফিস থেকে দিয়েছে"
-তুই নিজেই তো সবসময় বলিস আজকাল মানুষ তেলে মাথায় তেল দেয়। অফিস কোম্পানী মানুষ কোনটি তার ব্যতিক্রম না। তোর মাথার তেল দেখে ওরা গাড়ি নামক তেলটা তুকে দিয়েছে। সব ই তোর দোস্ত। তোর ঘর। তোর মা। তোর চাকরী; মুনতাসির বলল।
"আগের সব পিছুটান ভুলে আবার নতুন করে শুরু কর সব। আরেকটা বিয়ে কর। দেখবি সব ঠিক হয়ে গেছে।"হাবিব বলল।
"জীবনটাতো কলমে লিখা কোন লাইন না দোস্ত। ভুল হলেই কেটে আবার ঠিক করে দিব।"-আমি বললাম।
-"তবে জীবনটা যে পাওয়া না পাওয়ার এক নোংরা খেলা। যার একটা অংশ সব সময় পেতে চায় আরেকটি বেচে থাকে হারানোর যন্ত্রনা নিয়ে"-হাবিব বলল।
-আচ্ছা হাবিব আসার সময় তুই নিজেই বললি এসব কথা না তুলতে। তাহলে? আমি বললাম।
হাবিব আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। আমি আবার বললাম-"ঠিক মত গাড়ি চালা ভাই।নতুন গাড়ি আমার। খালে বিলে নামিয়ে দিস না"
হাবিব আর মুনতাসির অন্য মাত্রায় হাসছে। আমিও হাসছি ওদের সাথে। এত হাসির মধ্যেও অদিতির কথাটি কেন জানি মাথা থেকে যাচ্ছেই না। আচ্ছা অদিতি কি এখন ঘুমিয়ে পড়েছে? নাকি নতুন স্বামীর সাথে বসে গল্প করছে। জীবনের সব গল্প। এমন সব গল্প যা অদিতি আমার সাথেও করে নি।
কুমিল্লা পাস করেছি বেশ কিছুক্ষন হল। গাড়ি এখন কুমিল্লা টার্ন করে সিলেট যাওয়ার হাইওয়েতে।নিজেদের গাড়ি থাকার একটা সুবিধা হল ইচ্ছেমত যেখানে ইচ্ছে সেখানে থামানো যায়। প্রকৃতি দেখা যায়। আর হাবিব সেই সুবিধাটি কড়ায় গন্ডায় নিচ্ছে। ইচ্ছেমত গাড়ি থামাচ্ছে। মাঝে মাঝে প্রয়োজনীয় কাজে আবার মাঝে মাঝে অপ্রয়োজনীয় কাজেও। গাড়ীতে সেই তখন থেকেই গান বাজছে।
সিলেট যাওয়ার পথে কুমিল্লা পর্যন্ত রাস্তা বেশ চওড়া। সে পর্যন্ত ইচ্ছেমত গাড়ি চালানো যায়। সহজেই ওভারটেক করা যায়। কিন্তু কুমিল্লা টার্ন করার পর রাস্তাটি একেবারে সরু হয়ে গেছে। ওভারটেক তো সম্ভব ই হয়না মাঝে মাঝে করতে চাইলেও তা রঙ সাইডে গিয়ে করতে হয়। তার উপর বড় বড় দানবেত বাসগুলো এমন গতিতে চলে মনে হয় যুদ্ধে যাচ্ছে। অবশ্য এত লম্বা পথ জোরে না গিয়েও উপায় কি?
আর ট্রাকগুলোকে দেখে বড্ড অসহায় লাগছে। এত বোঝা বহন করেছে যে চলতেই পারেনা।
-"আচ্ছা অভি। যদি বাসায় ফিরে কলিং বেল দিতেই দেখিস অদিতি দরজা খুলে দিল। তাহলে খুব অবাক হবি?" মুনতাসির বলল।
আমি জানি মুনতাসির নেহাৎ মজা করার জন্য কথাটি বলেছে।
-"নাহ অবাক হব কেন? অবাক হওয়ার কি আছে? তবে এসব রুপকথার গল্প আমাকে শুনাতে আসিস না।"
-হতেও তো পারে। যদি জানতে পারিস আমি আর মুনতাসির প্ল্যান করে এসব কান্ড কারখানা করেছি। তুই অদিতিকে কতটা ভালবাসিস সেটা দেখার জন্য অদিতিকে দূরে সরিয়ে রেখেছি। আর অদিতিও তোকে অবাক করে দেওয়ার জন্য এ মিথ্যে খেলাটা খেলেছে। তখন কি করবি?" হাবিব বলল।
-"জীবনটাই তো সত্য মিথ্যের খেলা। কিন্তু এখন কোনটা মিথ্যে আর কোনটা সত্য সেটি বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি রে দোস্ত। সব কিছু তো মানুষ ই করে। কেউ মিথ্যে বলে আর কেউ মিথ্যে মেনে নেয়। আর অনেকে সে মিথ্যেকে আগলে ধরে বেচে থাকে। এক সময় সত্যিটা সামনে আসে।তবে এখন আমার জীবনে আর কোন কিছুই মিথ্যে নেই। আমার মা,খালা,আশরাফ,নুরজাহান আমার চাকরি এক একটা এক এক সত্যি। আমি একটি দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললাম।
পেছন থেকে মুনতাসির বলল-"সত্য! মিথ্যে! আর দীর্ঘদিন ধরে তৈরী হওয়া সম্পর্কের বাধন। আবার সে বাধন ছেড়েই একসময় হারিয়ে যাওয়া। এটিই জীবন। আর সে জীবনকে বাচিয়ে রাখার যুদ্ধ। মানুষ তারপরেও কেন যে এই জীবনকে ভালবাসে একমাত্র সৃষ্টিকর্তায় জানে।"
এরপর আমি আর কিছুই বলিনি। হাবিব নিজের মত করেই গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। আর সিগারেট ধরিয়ে যাচ্ছে। গাড়িটি নিজের তাই সিগারেট গাড়ির ভেতর খেতে পারছি। অন্যের গাড়ির ভেতর সিগারেট খাওয়া যায় না। তাতে গাড়ি গন্ধ হয়ে যায়।
হাবিব অনেক্ষন ধরেই একটি ট্রাকের পেছনে পেছনে যাচ্ছে। মাল ভর্তি ট্রাক তাই তেমন জোরে চলতে পারছেনা। ট্রাকটিকে অভারটেক করে সামনের দিকে যেতেই দেখা যায় ওপাশ থেকে একটি বাস খুব জোরে ধেয়ে আসছে একেবারে দানবের মত বাসটি হঠাৎ আমাদের সামনে এসে যায়। মুনতাসির হাবিব বলে প্রচন্ড জোরে ডাক দেয়। আমি চারদিকে অন্ধকার দেখছি তাই কিছু বুঝে উঠতে না পেরেই চোখ বন্ধ করে ফেলি। প্রচন্ড এক বিকট শব্দ। সেই সাথে বাসটি ধেয়ে যাচ্ছে আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরে। হয়তোবা বাচার চেষ্টায় হয়তোবা পালানোর চেষ্টায়।
রাস্তার পাশে পড়ে আছে তিনটি নিথর দেহ। তার একটু দূরেই পড়ে আছে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া একটি গাড়ি। সেই সাথে নিভে গেছে মুনতাসির অভি আর হাবিব হাবিব নামের তিনটি মানুষের প্রানের স্পন্দন; তাদের বড় হওয়ার স্বপ্ন তাদের বেচে থাকার স্বপ্ন। তিনটি দেহের প্রানের প্রদীপ নিভে গেছে ঠিকই কিন্তু চোখগুলো কেন জানি এখনো খুলে আছে। চোখগুলো এক সময় স্বপ্ন দেখেছিল আকাশ দেখবে বলে। এই স্বার্থপর বিশ্বসংসারের বিশাল কোন আকাশ। সবচেয়ে প্রিয় মানুষকে আকড়ে ধরে বেচে থাকবে বলে। গভীর রাত। আকাশে জমে থাকা মেঘ সরে গেছে তাই জোছনার আলো আবার নেমে এসেছে পৃথিবীতে। হাইওয়ে ধরে চলে যাচ্ছে একের পর এক গাড়ি।
আস্তে আস্তে চারদিকে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করে। দূর থেকে ভেসে আসে এম্বুলেন্সের করুন সুর। সেই সাথে কয়েকগাড়ি পুলিশ। আমার দেহের প্রানের স্পন্দন নিভে গেছে অনেক আগে। তারপরেও কেন জানি সব দেখতে পাচ্ছি।
খাকি পোষাকধারী পুলিশ আসল। আই ডি কার্ড আর মোবাইল দিয়ে পরিচয় সনাক্ত করা হল। লাশ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ময়না তদন্তে। ময়না তদন্তের পর ডেডবডি পাঠিয়ে দেওয়া হল যার যার ঠিকানায়। সে পথ দিয়েই ডেডবডি নিয়ে এম্বুলেন্স যাচ্ছে যে পথে কাল অনেক স্বপ্ন নিয়ে যাচ্ছিল তিন জন মানুষ। আর এম্বুলেন্সের করুন সুর তো বেজেই চলছে। দুমড়ে যাওয়া গাড়িটি নিয়ে যাওয়া হল হবিগঞ্জ থানায়।
হাবিবের লাশ গ্রহন করেছে ওর বাবা। মুনতাসিরের বাবা নেই তাই ওর মা গ্রহন করেছে। আর আমার লাশ গ্রহন করার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছে আমার মা, আশরাফ আর নুরজাহান। চারদিকে কান্নার আহাজারি।
এম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে আছে বাসার সামনে। আমার ডেডবডি এখনো বের করা হয়নি। আশরাফ,মা আর নুরজাহান থেমে থেমে কান্না করছে। মা মাঝে মাঝে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে। নুরজাহান দায়িত্ব নিয়ে মায়ের জ্ঞান ফিরাচ্ছে।
আজ এখন মনে হচ্ছে জীবনে একেবারে হেরে গেলাম। আর সবাইকে হারিয়ে দিলাম আমার মাকেও।হঠাৎ নুরজাহানের কোলের বাচ্চা কেদে উঠে। অন্যদিনের সাথে আজকের কান্নার কেমন জানি আকাশ পাতাল পার্থক্য। নুরজাহান বলে উঠে-"কান্না করিস না অভি। তোকে তো অনেক কিছুই সহ্য করতে হবে। বড় হতে হবে।"অভি নামটি শুনতেই মা ওর দিকে একনজরে তাকিয়ে থাকে।
আর নুরজাহান মায়ের দিকে তাকিয়ে কান্না করতে করতে বলে-"হ খালা। আমি আমার পোলার নাম অভি ই রাখব। ওকে আজ থেকে অভি বলেই ডাকব। তোমার হারিয়ে যাওয়া অভির মতই আমার অভি বড় হবে।"
চারদিকে কান্না আর কান্না। চিতকার করে কান্না। থেমে থেমে কান্না। আবার নীরবে কান্না। এত কান্না কোনদিন শুনিনি। সবাই আমার জন্যই কাদছে। একটি জারজ সন্তানের জন্য।
মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অফিসের অনেক কলিগ এসেছে। সবার চোখে জল। কেউ কেউ আবার মাকে দেখে অবাক হচ্ছেন আবার সেটা নিয়ে হাসাহাসিও করছেন। মানুষ ই তো সব করে।
লাশ দাফন করে সবাই যে যার মত চলে গেল। বাড়িটা অফিস থেকে দিয়েছিল তাই অফিস নুরজাহান আর মাকে বাড়ি ছাড়ার চিঠি দিয়ে গেল।
সবার কান্না থেমে গেলেও মার আর নুরজাহানের কান্না এখনো আছে। বাড়ি ছাড়ার জন্য কাপড় চোপড় গুছানোর সময় কান্না। মাঝে মাঝে জানালা ধরে কান্না।
হাবিব আর মুনতাসিরের বাড়িতেও বইছে ভারী বাতাস। আর্তনাদ আর চারদিকে কান্নার সুর।
পরের দিন পত্রিকার হেডলাইন।
"সড়ক দূর্ঘটনায় তিনজনের প্রানহানি।"
অদিতির শ্বশুর বাড়িতে এখনো আছে বিয়ের আমেজ। সেই আমেজের মাঝেও অদিতির পত্রিকায় চোখ বুলাতে ভুল হয়নি। পত্রিকায় আমার ছবি দেখতেই মেয়েটির নজর যায় সেদিকে। পরক্ষনেই পত্রিকার স্পষ্ট জলের ছাপ কিছু লেখাকে একেবারে ভিজিয়ে দেয়। পত্রিকা রেখে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে ও। দূর দূরান্ত থেকে অনেক বড় বড় মানুষ এসেছে অদিকিকে দেখতে। সেদিকে কেন জানি মন দিতে পারছে না ও। কি যেন ভাবছে জানালা ধরে। একেবারে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে মেয়েটি। অন্যসময় জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ও আকাশ দেখে। কিন্তু আজ তা করছেনা।

আশরাফ এসেছে মা আর নুরজাহানকে নিয়ে যেতে। মানুষগুলোর ঠাই হলনা কোথাও। ঐ পতিতা পল্লী ছাড়া। এ সমাজ ওদের ঠাই দিলনা। নুরজাহান আমার ডায়েরিটা নিতে একটু ও ভুল করে নি।
বেশ কয়েকদিন পর।
সবাই সব কিছু ভুলে গেছে। আশরাফ নিয়মিত অফিস করছে। বড় হচ্ছে নুরজাহানের ছেলে।নুরজাহান ওর নাম রেখেছে অভি। শুধু মা মনে হয় এখনো কিছু ভুলতে পারেনি। সবসময় জানালা ধরে কি যেন ভাবে। আর নীরবে কান্না করে। আবার মাঝে মাঝে চিৎকার করে কান্না করে। নুরজাহান প্রতিদিন একবার করে ডায়েরিটা বের করে আর পড়ে। আশরাফ মাঝে মাঝে চায় অদিতিকে গিয়ে সব সত্যি বলে দিতে। কিন্তু সেটি আর করে না।
অদিতি শ্বশুর বাড়িতে স্বামী নিয়ে সুখেই আছে। তবে এখন আর স্বামীর সাথে রাত জেগে জোছনা দেখে না।
কেমন জানি হয়ে গেছে মেয়েটি।
কার্টেসি salman jico
ধন্যবাদ সবাই কে।

15/06/2017

পতিতা পল্লী
পর্ব ১৯

ঘুমানোর অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তু কোন লাভ হল না। ঘুমানোর চেষ্টাটা বৃথা চেষ্টা ছাড়া কিছুই না। অবশ্য কিছুক্ষণ পর পর নিজের অজান্তেই চোখ লেগে আসছিল। কিন্ত ঘুম আসতেই হঠাৎ অদিতির কথা, হঠাৎ অদিতি বলে চমকে উঠা। কিছুতেই ঘুম হলো না আর। আশরাফ, নুরজাহান, মা সবই ঘুমাচ্ছে। দুনিয়ার সমস্ত প্যাচ থেকে অনেক অনেক দুরে এই মানুষগুলো।
আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে অনেক আগেই। জানালা দিয়ে সূর্যের আলো রুমে ঢুকেছে। দরজা বন্ধ করা ছিল। মোবাইলটা চার্জে আর ঘড়িটা ও নষ্ট। তাই ঠিক কটা বাজছে সেটা বলতে পারছি না। কেউ একজন দরজায় হাত রেখেছে। দরজা খুলার সাথে সাথে বুঝতে বাকি রইল না মা রুমে ঢুকেছেন। আমি ঘুমানোর অভিনয় করে শুয়ে আছি। আজকাল চারপাশের মানুষগুলোর সাথে অভিনয় করে বেশ মজা পাই। কোন কিছু দেখেও না দেখার অভিনয়, শুনেও না শুনার অভিনয়,সবার সাথে ভাল থাকার অভিনয়। মা আমার পাশে এসে বসেছে। ছোটবেলা থেকেই আমার বালিশে শুয়ে ঘুমানোর অভ্যাসটা কম ছিল। নিজের অজান্তেই হাতগুলো মাথার নিচে চলে যেত। আর বালিশটা পড়ে থাকত পাশে। কি কারণে জানি না আজ নিজের সাথে আবার সেই পুরনো অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে গেল। মা আমার মাথার নিচ থেকে হাত দুটি সরিয়ে দিলেন। নিজের কোলেই তুলে নিলেন আমার মাথা। এভাবে এর আগে এত আদর কেউ করেনি। পৃথিবীর সমস্ত মায়েরা তাহলে তার সন্তানকে এভাবেই আদর করে এভাবেই আগলে রাখে। আমি সবকিছু স্পষ্ট বুঝতে পারছি এ ছোয়া অন্য কারো নয় এ আমার মায়ের হাতের ছোয়া। নাহ এখন আর চোখ খুলব না। কারো হাতের এরকম পবিত্র কোমল ছায়া পাবার সৌভাগ্য কোনদিন হয়নি। এখন চোখ খুললেই সব নষ্ট হয়ে যাবে। এতদিন মা আমার কষ্টের কথা বুঝতে পারলে ও কিছু বলেনি আমাকে। অবশ্য আমিও কিছু বলার সুযোগ দিইনি।
মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। মনে হচ্ছে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী মানুষটা আমিই। আমার মুখে পানির ফোটা পরতেই চমকে উঠলাম। সে কি? পানি আসলো কোথা থেকে? আবারো সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ফোটায় ফোটায় অবিরাম গতিতে পরছে পানি। পানি তো পরছেই। পানিগুলো আমার মুখের উপর গড়িয়ে আবার পড়ছে মায়ের কোলে।সেই সাথে মুছে যাচ্ছে অদিতি নামক সুযোগসন্ধানী মেয়েটিকে নিয়ে জমে থাকা সকল পিছুটান। এক কঠিন মূহূর্তের সাক্ষী হচ্ছি আমি।আমার খুব বেশি ইচ্ছে করছে মাকে উঠে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে নিমিষেই দুর করে দি সব ক্ষোভ,মান,অভিমান। কিন্তু না আজকে সবকিছু দেখেই যাব।
বাসার সবাই অদিতির বিয়ের খবরটা জানে। সবাই কমবেশি বলছে যেন সব সত্য বলে ওকে নিয়ে আসি। মা ও অনেকবার বলেছে। কিন্তু জোর দিয়ে বলার সাহস পায় না।কিছুক্ষন কান্না করে মা নিজের মত চলে গেল। একটু পর ডাক এল নাস্তা করার জন্য। নাস্তা করেই আশরাফ চলে গেল অফিসে। আমি অফিস থেকে ছুটি নিয়েছি তাই আমি যাইনি। দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নেমে এল। আশরাফকে বলেছিলাম অফিস থেকে যেন তাড়াতাড়ি আমাদের বাসায় চলে আসে। বাসায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। কেউ কারো সাথে কথা বলছে না। শুধু মাঝে মাঝে কিছুক্ষণ পর পর নুরজাহানের ছেলেটি কান্না করে উঠছে। নুরজাহান আমার কাছে একটা বায়না ধরছে। আমি যেন আমার পারসোনাল ডায়রিটা ওকে রাখতে দিই। তবে নুরজাহান একটা ব্যাপারে নিশ্চিত করেছে সে নাকি ডায়রিটা খুব যত্নে রাখবে। মেয়েটি এমনভাবে বায়না ধরেছিল কিছুতেই না বলতে পারলাম না।ডায়রিতে তেমন কিছুই লেখা ছিল না। শুধুই আমার আর অদিতির ভালবাসার গল্প আর আমাকে ভুল বুঝে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার গল্প। সুতরাং এত দিনের যত্ন করে লেখা ডায়রিটা মালিকানা চলে গেল অন্যের হাতে। নুরজাহানের হাতে। মেয়েটি লেখাপড়াও অনেকদূর করেছে। কিন্তু সময় মানুষকে কখন কোথায় নিয়ে যায় সেটা একমাত্র বিধাতা জানে।
শীতটা এখনো পুরোপুরি যাই নি। সকাল এবং সন্ধ্যে বেলায় এখনো আবছা কুয়াশা দেখা যাই। আমার মনে হয় শীতের সকাল ও সন্ধ্যেটা এসেছে শুধুমাত্র চায়ের সাথে সিগারেট খাওয়ার জন্য। এখন সেটারই প্রতিফলন ঘটাতে হবে। হাবিব আর মুনতাসির আমার স্কুল আর কলেজ জীবনের বেষ্ট ফ্রেন্ড হলে ও ব্যস্ততার কারণে অনেকদিন তাদের খবর নেয়া হয়নি। তাই হাবিব আর মুনতাসিরকে কল দিলাম বের হওয়ার জন্য। দুজনই বের হবে বলেছে তবে ওদের নাকি কাজ সেরে আসতে একটু দেরি হবে। সেই সকাল থেকে একা একা বসে আছি। একঘেয়েমি কাটানোর জন্য হলে ও একটি বারের জন্য বের হওয়া দরকার। গাড়ি নিয়েই বের হয়েছি। বের হওয়ার সময় মাকে জিগাসা করেছিলাম কিছু লাগবে কি না। মা হেসে হেসে বলেছিল বৌমা লাগবে। নুরজাহান ঘুমাচ্ছিল এতক্ষণ ধরে। মায়ের সাথে কথা বলতে শুনেই ও জেগে গেল। বের হওয়ার সময় শুধু নুরজাহানকে একটি কথায় বলেছিলাম" আমার ডায়রিটা যত্নে রেখো"। তখন ও বলেছিল"যত্নে রাখবো ভাই,খুব যত্নে রাখবো।" আর নুরজাহানের বাচ্চাটি তখন ও ঘুমাচ্ছিল। ঘুমের মধ্যেই একটিবারের মত দেখে চলে গেলাম।
রাস্তার পাড়ে একটি টং এর দোকান দেখে গাড়ি ব্রেক করলাম। একসময় ভার্সিটিতে পড়াকালে এই টং এর দোকানই আমাদের ধনী,গরিব আর মধ্যবিত্তদের পার্থক্য বুঝিয়ে দিত। অনেক বড়লোক ঘরের সন্তান আমাদের সাথে পড়ত। আমরা যখন রাতে আড্ডা দেওয়ার জন্য বের হতাম তখন ওরা আমাদের সাথে টং এ চা খেতে রাজি হত না। বর্ষাকালে যখন ঝুমঝুম বৃষ্টি হত তখন বৃষ্টিতে ভেজার জন্য মাঠে মাঠে দৌড়ে বেড়াতাম। কিন্তু ঔ বড়লোকের ছেলেগুলো বলতো এসব নাকি ওদের চিফ চিফ লাগে। সেদিনইতো ও বড়লোক স্বামী পাওয়ার আশায় অদিতি আমার সাথে টং এ চা খেতে চাইনি কিন্তু ও যখনই এক মধ্যবিও শিক্ষকের মেয়ে ছিল তখন অনায়াসেই আমার সাথে বসে টং এ চা খেত।এটি তো একসময় বলতে দুজনের নেশা হয়ে যায়। এখন অবশ্য সব অতীত। এখন অদিতি বড়লোক স্বামির স্ত্রী হতে যাচ্ছে। সেই শৈশব থেকে আজ পর্যন্ত অনেক বড়লোক দেখা হয়ে গেছে আমার। এক এক জন ধনী হয় এক এক উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউ কেউ ধনী হয় গরীবদের শোষণ করার জন্য আবার কেউ কেউ ধনী হয় গরীবদের অপমান করার জন্য আর ব্যবহার করার জন্য। আর কেউ ধনী হয় গরিবদের সাহায্য করার জন্য। একের পর এক চা খাচ্ছি। চায়ের চুমুখের সাথে মাঝেমাঝে সিগারেটের টান। সবকিছু মিলেমিশে একাকার। এক সময় মনে হত এই দুটি একসাথে থাকলে জগতের সব মন খারাপকে ইচ্ছেমত জয় করা যায়। কিন্তু আজকে মনে যে কষ্ট সেটা যেন কোনভাবেই জয় করা যাচ্ছে না। মনের অজান্তেই মনের মধ্যে প্রবল এক ইচ্ছারোধের জন্ম নিল। আমার খুব বেশি ইচ্ছা করছে অদিতিকে একটিবারের মত দেখতে। ও আমাকে যতই অপমান করুক না কেন আজকে আমি ওর বিয়েতে যাবই। কোন কিছু না ভেবে গাড়ি নিয়ে সত্যি সত্যি চলে গেলাম অদিতির বিয়ের উৎসবে। আমার মন কোনভাবেই বিশ্বাস করতে চাইছিল না অদিতি সত্যি সত্যি আজ রাতে হয়ে যাবে অন্য কারো। মনে হচ্ছে সব মিথ্যে। একদম সব।
আমি জানি আমার জন্য ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে। কিন্তু অদিতি আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে এর চেয়ে ভয়ংকর কিছু হতে পারে নাকি? নানা রকম আলোয় সজ্জিত চারিদিক। কতশত নিয়ন আলো একেকবার একেকরকম আলোতে জ্বলছে। শহরের খুব নামকরা ম্যারেজ হলে অদিতি বউ সেজে বসে আছে। আমার সব মিথ্যে ভাবনার ইতি টানা হলো যখন দেখি অদিতি বউ সেজে আছে। আমি ওর দিকে এক নজরে তাকিয়ে আছি। দূর থেকে অনেক দূর। যতদূরে থাকলে অদিতি আমার উপস্থিতি বুঝতে পারবে না। আজ সম্পূর্ণ নতুনরূপে সেজেছে ও। অন্যদিনের সাথে কোন মিল নেই। হয়তো ওর নতুন স্বামীর ইচ্ছেনুযায়ী সেজেছে।
মিশু, নেত্র ওদের তো ব্যস্ততার শেষ নেই। ওরা নিজেদের ব্যস্ততাটা খুব বেশি উপভোগ করছে। চারিদিক থেকে অনেক মানুষ,অনেক গাড়ি আসছে। আবার বিয়ে উপভোগ করে চলে ও যাচ্ছে।শহরের যে মানুষগুলো উচ্চাভিলাষী জীবনযাপন করে শুধু তাদের ঠাই হল এখানে। শুধু আমি মানুষটা অদিতির দিকে তাকিয়ে আছি। দূর থেকে অনেক দূর থেকে। আর আমার গাড়িটাও পড়ে আছে নোংরা কোন ডাষ্টবিনের পাশে। আমি জানি সেই গাড়িটা জায়গা পাবে না ঐ ম্যারেজ হলের ভেতরে। অদিতি সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলছে। যখন সবার সাথে থাকে তখন ওর চেহারা দেখে বোঝার সাধ্য নেই ওর মনের মধ্যে কি চলছে। তার মাঝেমাঝে মনে হচ্ছে ও খুব বেশি মন খারাপ করছে। আশেপাশে তাকাচ্ছে। হয়ত মেয়েটা ও মনে মনে ভাবছে আমি অন্তত একটিবারের জন্য হলে ও ওকে দেখতে আসব।
আচ্ছা এমন ও তো হতে পারে অদিতি ভেবেছিল আমি সব সত্য বলে ওকে আমার কাছে নিয়ে আসব।হয়তো মেয়েটা প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ভাবত আমি ওকে আনতে যাব। হয়তো প্রতিদিন এভাবে মিথ্যে স্বপ্ন নিয়ে ব্যর্থ দিন কাটাতে কাটাতে ওর মনে জমে থাকা অভিমানগুলো আজ বিশাল কোন তান্ডবে রুপ নিয়েছে। ওর জায়গা থেকে তো ওকে একদমই দোষ দেয়া যায় না। আমিই তো রোজ ঐ পতিতা পল্লীতে যাই। দুদিক থেকে জমারো দুধরনের অভিমান। দুপাশ থেকে সৃষ্টি হওয়া দুটি উপন্যাস।আমার উপন্যাসের গল্পে আমিই ঠিক। আর অদিতির উপন্যাসের কাহিনীতে ওই ঠিক। উফফ জীবন।এভাবেই ভেঙ্গে যায় অনেক স্বপ্ন। মুছে যায় অনেক স্মৃতি। সে সময়ের ভালবাসা। রিস্কার হুড লাগিয়ে সারা শহর ঘুরে বেড়ানোর গল্পগুলো এভাবেই শেষ হয়ে যায়।
চারিদিকে ব্যান্ডদলের আওয়াজ। এতক্ষণে হাসিখুসি থাকা মানুষগুলো হঠাত ব্যস্ত হয়ে পড়ে।মানুষগুলোর মাঝে ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। হুম বর চলে এসেছে। মিশু,নেত্র আর ওদের বান্ধবীরা ব্যস্ত বরকে বরণ করে নেওয়ার কাজে। রুমটা প্রায় জনশূন্য বলতে গেলে তেমন কেউ নেই। আমি এখনো দুর থেকে দাড়িয়ে আছি আর অদিতিকে দেখছি। হঠাত করেই মেয়েটার মুখটি কেন জানি ফ্যাকাশে হয়ে যায়। আবারো তাকাচ্ছে চারিদিক। লক্ষ্য করলাম চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। মনে হয় মেয়েটি কান্না করছে। একটু পরেই কান্নার আওয়াজটা স্পট কানে লাগে। আশেপাশে কেউ নেই সেই আওয়াজে বাধা দেওয়ার মত। হয়তো এ কারণেই কান্নার আওয়াজ আসছে আমার কানে। আমি নিশ্চিত এখানে কিছু একটা মিথ্যে। হয়তো অদিতির কান্নাটা মিথ্যে অথবা সবার সামনে ধরে রাখা মুচকি হাসিটা মিথ্যে।
কান্নার আওয়াজ ক্রমশই বড় থেকে বড় হয়। আর বাড়তে থাকে আমার বুকের যন্ত্রনা। থেমে থেমে কান্না আসছে। আশেপাশে থাকা কয়েকটি মানুষ অদিতিকে সান্তনা দিতে আসে। হয়তো কোন মিথ্যে সান্তনা। আমি আর একটি মূহূর্তও দাড়াতে পারছি না এখানে। বুকের ভিতর বিশাল একটা চাপ। নিজের অজান্তেই সৃষ্টি হওয়া ছটফট যন্ত্রণা আমাকে মেরে ফেলবে। আমি বাচঁতে চাই। অনেকদিন বেচেঁ থাকতে চাই। তাই আমার এক্ষুণি এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত।
#কার্টেসি salman jico

14/06/2017

পতিতা পল্লী
পর্ব১৮

ডাক্তাররা বলেছে আজকেই নুরজাহানকে বাসায় নিয়ে যাওয়া যাবে। ও এতক্ষণ মাকে বুঝাল ওর পতিতা পল্লী থেকে বের হয়ে আসার গল্প। ও মাকে এটাও জানালএক বার যখন বের হয়ে আসতে পেরেছে ঐ পতিতা পল্লী থেকে ও আর সেখানে ফিরে যাবে না। মা বার বার ইশারা ইঙ্গিতে বলতে চাইছে নুরজাহান কে আমাদের সাথে নিয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু আমার মত ছাড়া কেন জানি না সেটাখোলা-খুলি ভাবে বলতে সাহস পাচ্ছে না।অবশেষে আশরাফ আর নুরজাহানকে রুমে রেখে মা আমাকে বাইরে ডেকে নুরজাহানকে আমাদের সাথে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেন।

নুরজাহানকে আমাদের বাসায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা আমার কাছে ডাবল ধামাকা।

আমি এত দিন মনে মনে মাকে দেখাশুনা করার জন্য এমনকাউকে খুজছিলাম। কিন্তু হঠাৎ এভাবে আমার এত কাছের কাউকে পেয়ে যাব সেটা আশা করিনি। আমি ও এটা চাই নুরজাহানের বাচ্চাটি কোন পরিচয় নিয়ে বড় হউক। আমি চাই না তার কাধেঁ ও সেই চির ঘৃণিত জারজ সন্তানের ট্যাগলেগে যাক। নুরজাহান আমাদের সাথে থাকলে অন্তত সমাজ থেকে একটা জারজ সন্তান কমে যাবে।

হাসপাতালের বিল মিটিয়ে নুরজাহান আর মাকে বাসায় রেখে আমি আর আশরাফ চলে গেলাম অফিসে।আশরাফ এখনো আমাকে স্যার বলে সম্বোধন করে। অবশ্য আমি তাতে ওকে কিছু মানা করি না। লাঞ্চ করলাম মাত্র কিছুক্ষণ হল।অফিসেই বসে আছি। অফিস তো অফিসের নিয়মেইচলছে। ফিক্সড করা টার্গেট প্রতি মাসেই ফিলাপ হয়ে যাচ্ছে।আর এখন আমার কাছে প্রতি মাসের টার্গেট ফিলাপ হওয়ামানে এভারেষ্ট জয়ের চেয়ে বেশি কিছু। বড় কোন পোষ্টে চাকরি করলে এই এক সমস্যা। দুর থেকে সবাই মনে করে অফিসে শুধু ঠান্ডা একটা রুমে বসিয়ে রেখে মাসে মাসেটাকা দেয় কিন্তু যে এই পোষ্টে আছে একমাত্র সেই বোঝে কতটা জ্বালা সহ্য করতে হয়। আমার আগে যারা এই ব্রাঞ্চের সি ই ও এর দায়িত্বে ছিলেন তাদেরকে অনেক সময় দিনের ডিউটি শেষ করে রাতের পর রাত অফিসে ডিউটি করতে দেখেছি। শুধুমাত্র টার্গেট ফিলাপ নামক বিভীষিকাটি অর্জনের জন্য।

অবশ্য আমার এখনো তেমন কোন পরিস্থিতির মোকাবেলাকরতে হয়নি।শুধুমাত্র মাঝেমাঝে দুই একটা ঝামেলারর সৃষ্টিহয় আর সেটার সমাধান নিমিষেই হয়ে যায়।

আশরাফকে ডেকে বললাম যেন আমার জন্য এক কাপ গরম চা করে নিয়ে আসে।বেশ কয়েকদিন ধরে মাথা ঝিম ধরে আছে।ডাক্তার দেখাব দেখাব করে আর দেখানো হয়নি।আশরাফ একটু পর চা হাতে ফিরে এল।আশরাফ আমাকে চা দিয়ে দাড়িয়ে রইল।আমি আশরাফকে বসতে বললাম।আশরাফ আমার সামনের চেয়ারটিতে বসে পড়েছে।

আশরাফ কিছুই বলছে না।আমি পত্রিকায় চোখ বুলাচ্ছিআর মাঝে মাঝে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছি। এভাবে কোনকিছু পড়তে পড়তে চায়ের কাপে চুমুক দেয়ার সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল মনযোগ কোনদিকে বেশি সেটি পরীক্ষাকরা যায়।মনযোগ যদি চায়ের কাপের দিকে বেশি থাকে তাহলে পত্রিকাটি নিজের অজান্তেই কয়েকবার পড়া হয়ে গেলেও পড়া শেষে আশেপাশের কোন খবরই জানা হয় না।আর যদি মনযোগটা পত্রিকা পড়ার দিকে বেশি থাকে তাহলে কাপের সমস্ত চা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও মনেরঅজান্তেই খালি কাপে আবার চুমুক দেয়া হয়ে যায়।যখন মুখে কিছুই ঢুকে না ঠিক তখনই হুশটা ফিরে আসে।

আশরাফের মুখ দেখে মনে হচ্ছে ও কিছু একটা বলতে চাচ্ছে আমাকে। কিন্তু আমি ওকে সে সুযোগটা দিচ্ছি না।

" স্যার কাল কিন্তু সত্যি সত্যিই অদিতি ম্যাডামের বিয়া"-আশরাফ বলল।

আশরাফ বলার আগে ও আমার মাথায় বার বার ঘুরপাক খাচ্ছিল অদিতির বিয়ের ব্যাপারটা। মনে হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে দামী জিনিসটা হারাতে যাচ্ছি কাল।আগামীকাল কের পরেই অদিতি হবে অন্য কারো।সাজাবে অন্য কারো সংসার।স্বপ্ন দেখবে অন্য কাউকে নিয়ে।অন্যকারো বুকে মাথা রেখেই অদিতি ওর সাথে ভাগ করে নিবে সকল দুঃখের কথা।কোন ছোট কিছুর বাহানা ধরেই অদিতি অন্য কারো সাথে সাজাবে সকল মান অভিমানের গল্প।

এক সময় তো এই অদিতি আমার ছিল।আমার সাথে সাজাত ওর জীবনের সকল গল্প।ভার্সিটিতে যখন অদিতির সাথে আমার রিলেশন। চলছিল তখন ও তো সবসময় আমাকে হারানোর ভয় পেত।ও আমাকে বলত "বাবা যদিআমাদের সম্পর্ক মেনে না নেয় তাহলে দুজন পালিয়ে দুরে কোথাও চলে যাব।যেখানে তুমি আর আমি ছাড়া কেউ থাকবে না"।

তখন আমি ওকে নানা রকমের সান্তনা দিতাম। আর এখন সে অদিতি সাজবে অন্যকারোর জন্য।

আশরাফ আবার বলল "স্যার সবকিছু কি এইভাবে শেষ হইয়া যাবে?"

আমি আশরাফের কোন কথার উত্তর দিলাম না। আবার বলে উঠল " স্যার আপনি যদি না পারেন তাইলে আমি গিয়াম্যাডামরে সব সইত্য বলে দিতাছি। "

আশরাফের কথা শুনে বাকি রইল না ও বিরাট একটা মিথ্যে আশ্বাস নিয়ে এখনো বসে আছে। অদিতি আমার কাছেফিরে আসার মিথ্যে গল্পটা ও এখনো মনেপ্রাণে বিশ্বাসকরতে চায়। ওর এ মিথ্যে আশ্বাসটা ভাঙানো দরকার। আমি বললাম " আশরাফ আমি তো তোমার ম্যাডাম কে ভালো দেখে বিয়ে করিনি, আমি তো ওকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। ভালবাসার পূর্ণতার জন্য বিশ্বাস নামক বস্তুটার খুব বেশি দরকার হয়। কিন্তু অদিতি তো আমাকে বিন্দু পরিমাণ ও বিশ্বাস করল না। এখন আমি যদি ওকে কিছুবলতে চাই ও শুনতে চাইবে না। কষ্ট করে শুনলে ও সেটা বিশ্বাস করতে চাইবে না। আর সবকিছু বিশ্বাস করলেওআমি জারজ সন্তান সেটি লুকানোর দায়ে উল্টো দু চারটিবিশ্রী কথা শুনিয়ে দিবে।"

হয়তো আমার কাছে অদিতি ভাল ছিল না। হয়তো বা ওর প্রাপ্তির কিছুটা কম ছিল। আশরাফ আমি চাই তুমি আরকোনদিন এই বিষয়ে কথা বলবে না।"

আশরাফ কোন কিছু না বলে এখনো সেই চেয়ারে বসে আছে।

আচ্ছা এমন ও তো হতে পারে যে অদিতিকে সব সত্য বলেদেওয়ার পর ও আবার সবকিছু ভুলে আমার কাছে ফিরেআসবে। আচ্ছা ও কি চাইলে ও পারত না আমার সত্য জেনে নিতে? ঠিক যেভাবে আমারর পতিতা পল্লীতে যাওয়ার বিষয়টা ও জেনেছে ঠিক সেভাবে ও কি পারত না আমারযাওয়ার কারণটা বের করতে? একটা জটিল গোলক ধাধার মধ্যে আছি। সে ধাধার সমাধান একমাত্র সময়ের কাছেই। সময়ই কোন এক সময় সব ধাধার উত্তর ঠিক করে নিবে নিজের মত। রাতের খাবার খেয়ে টিভি দেখছি আমি আর আশরাফ। নুরজাহান এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ হয়নি তাই ওপাশের রুমে শুয়ে আছে। দুপুরের দিকে নাকি সীমা খালা মানে আশরাফের মা এসেছিলেন এখানে।আছরের পর চলে গেছেন।অফিস থেকে ফেরার পথে আশরাফকে আমার সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। ওর সাথে গল্প করতে করতে অন্তত রাতটা পার করে দেয়া যাবে। আজকাল রাতগুলোকে খুবভয় হয়। বড্ড বেশি হয়।রাত মানেই তো অদিতিকে ঘিরে পিছুটান গুলো বার বার মনে পড়া।

মা নুরজাহানের সাথে গল্প করছে। একটু পর আমি আর আশরাফ ও গেলাম সেই গল্পে সামিল হতে।

আমরা ৩ জন দর্শক আর নুরজাহান বক্তা। ও বিভিন্ন রকমের গল্প করছে। ওর বেড়ে উঠার গল্প। ও হেরে যাওয়ার গল্প। এস.এস.সি পাশ করার পর একটা বখাটে ছেলের সাথেওর রিলেশনে যাওয়ার গল্প। ছেলেটি নাকি বার বার নুরজাহানকে জোর করত শারিরীক সম্পর্কের জন্য সেসব বলতেই নুরজাহান লজ্জায় একেবারে লাল হয়ে যায়। পতিতারাও লজ্জ্বা পায় তাহলে। মেয়েটি অদ্ভুত ভঙিতে সব কথা বলছে। কথা বলার সময় মাঝে মাঝে হেসে হেসে সারাবাড়ি মাথায় নিচ্ছে আবার মাঝেমাঝে দু এক ফোটা চোখের জলও ফেলছে। রাতটা ক্রমশ গভীর হতে থাকে। একসময় নুরজাহান তার গল্প বলা শেষ করে। নিজের গল্প বলা শেষহলে নুরজাহানের গল্পের বাক নেয় আমার দিকে।

নুরজাহান বলে, অভি ভাই আপনার অদিতির তো বিয়া হয় যাইতেছে। আপনি ওরে ফিরাইবেন না?

কথাটা শুনার সাথে সাথেই চমকে উঠলাম। নুরজাহান এসবজানল কি করে? মা নিশ্চয়ই ওকে কিছু বলবে না। আমার যতদুর মনে হয় আশরাফ ও বলবে না। তাহলে ও জানল কিকরে?

"কী ভাবতেছেন ভাই? আমি এসব জানলাম কি করে? "নুরজাহান জিজ্ঞেস করল। হুম,সেটাই তো তুমি এসব কিকরে জানলে? আমি বললাম।

নুরজাহান ঠিক তখনই বিছানার বেডের নিচ থেকে একটাডায়রি বের করে আমাকে দেখিয়ে বলল,"সেই তখন থেকেবইস্যা বইস্যা এইডা পরতেছিলাম।

"আরে এটা তো আমার পারসোনাল ডায়রি। তুমি কোথায়পেলে?"

"ভাই বেডের নিচেই পাইলাম"।

"কিন্তু অনুমতি ছাড়া কারো পারসোনাল ডায়রি পড়া তোঠিক না। সেটা নিশ্চয়ই জানো"।

-"কিন্তু অনুমতি নিতে গেলে তো এটা পড়া হতো না।"

যখন নুরজাহানের সাথে এসব কথা বলছিলাম তখন নিজেরঅজান্তেই চোখটা মায়ের মুখের দিকে যায়।মায়ের মুখটা ভীষণ রকমের ফ্যাকাশে হয়ে আছে। তাই কথার মোড় ঘুরানোর আশরাফকে রান্না ঘরে পাঠালাম সবার জন্য চাকরে নিয়ে আসার জন্য। কিছুক্ষন চুপচাপ থেকে নুরজাহান আবার বলছে "ভাই আপনে না থাকলে আমার পোলাডার পৃথিবীর আলো দেখা হইত না। তাই আমার ইচ্ছা আমার পোলার নাম আপনেই ঠিক করবেন"।

আরে এসব কথা কেন বলছ। তোমার একজন ভাই হিসেবেএটা আমার কর্তব্য ছিল। আর তুমিও তো মায়ের জন্য কম করনি।

আগে সুস্থ্য হয়ে উঠ। তারপর সবকিছু হবে। আশরাফ একটু পরেই চা নিয়ে হাজির। আশরাফ অফিসের তুলনায়বাড়িতেই ভাল চা করে আমার যতদূর মনে হয়। আজকে ঘুমানোর কোন তাড়া নেই। অফিস থেকে চারদিনের ছুটিনিয়েছি আশরাফেরও তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোন কাজ নেই। তাই আজ রাতটা আড্ডা দিয়েই পার করা যায়।

প্রায়ই ভোরের দিকে যখন সমস্ত গল্প শেষ তখনই ঘুমাতেচলে আসলাম। মা নুরজাহানের সাথে শুয়েছে।আশরাফ আমার সাথে রুমে আমার সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়েছে।ভোরের আলো এখনো চারিদিকে ভাল করে ফুটেনি। আমার রুমের জানালাটা হালকা করে খুলে দেয়া আছে। চারিদিক নিস্তব্দ। সারা শহরের মানুষ গুলো ঘুমের নেশায় ব্যস্ত। তাহলে আমি কেন ঘুমাতে পারছি না। আমিও তো এই শহরের বাইরের কেউ নই। আমি কি অদিতিকে এখনো অনেক বেশি ভালবাসি? না না তা কেন হবে ও তে অনেক আগেই পর. হয়েগেছে।

তাহলে কাকে ভেবে সারাটি
রাত পার করে দিলাম?

অদিতি নাকি অন্য কেউ?

to be continued.......
#কার্টেসি salman jico

12/06/2017

পতিতা পল্লী
পর্ব ১৭

হাসপাতালের রিসেপশনে গিয়ে সব রকমের ফরমালিটিজশেষ করলাম বেশ কিছুক্ষন হলো। একটু পরেই মাকে নিয়েযাবো বাসায়। ওরা সবকিছু ঠিকটাক করেদিয়েছেন,আশরাফও আছে আমার সাথে। আজকে মাআমার সাথে বাসায় যাবে সেটি ভেবেই আনন্দে দিশেহারাহয়ে যাচ্ছি। আজকের পর থেকে মা'ই তো আমার সাথেথাকবে সারাজীবনের মতো।

মা এতদিন হাসপাতালে ছিলো বলতে গেলে ভীষন রকমেরঅসুস্থ। অথচ সেই পতিতাপল্লী থেকে মাকে দেখতে কেউআসলোনা,মায়ের খবর কেউ নিলনা, এখানে অবাক করারমতো কিছু নেই।মানুষ ততদিনেই সবকিছু মনে রাখে যতদিনকাজে লাগে।

পতিতাপল্লীর সবাই এখন জেনে গেছে মা আর ওদের কোনকাজে আসবেনা, তাই এই সময় মায়ের খবর নেয়া মানে তোঅরণ্যে রোদন।

তবে একটা ব্যাপার নিয়ে খুব বেশি ভাবাচ্ছে। এতদিন সবাইজানতো আমি এতিম, কিন্তু পর আমার মা আবার ফিরেএসেছে। ব্যাপারটা যখন সবাই জানবে তখন সবাই হয়তোএকইভাবে নিবেনা। অবশ্য আপন বলতে তেমন আর আছেকি? অফিস থেকে যে বাড়িটা দিয়েছে সেটা আমার জন্যনতুন কোনো পরিবেশ, সেখানকার সবাই নতুন মানুষ। সেখানে বলার মত তো আর তেমন কিছু নেই। আর সবচেয়েবড় কথা সব সত্য তো আমি জানি। কে কি বললো তাতেআমার কিছু যায় আসেনা। খুব বেশি নিকটাত্মীয় না থাকারএকটা সুবিধা হলো নতুন কোনো পরিবেশের সাথেইচ্ছেমতো খাপ খাইয়ে নেয়া যায়।

অদিতির সাথে বিয়ের পর যে এলাকায় থাকতাম সেএলাকায় হযতো খবরটা মুখে মুখে হয়ে গেছে আমারপতিতাপল্লীতে যাওয়ার কথা। কেউ কেউ হয়তো বলেবেড়াবে আমি নিজেই অদিতিকে মেরে তাড়িয়ে দিয়েছি।অদিতিকে তাড়িয়ে দিয়ে আমি পতিতা কে বিয়ে করে নতুনসংসার সাজিয়েছি। কিন্তু সেসব নিয়ে এখন আমার আরভাবার সময় নেই বললেই চলে।

মাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম মাত্র।আমার নতুনগাড়িটিও আজকে পেলাম আর সে আজকেই মাকে আমারনিজের মতো করে পেলাম। আমার গাড়ি করেই মাকে নিয়েবাসায় আসলাম। নতুন গাড়ি পেয়েছি খবর শুনে মা খুশিতেআত্মহারা হয়ে যাবে ভেবেছিলাম কিন্তু আজকে কেন জানিমা সেরকম খুশি দেখালোনা। কেন জানি মন খারাপ করেআছে। হয়তো তার নিজের ছেলের কাছে পণ্য হয়ে যাওয়ারঅপরাধবোধ। হয়তোবা পতিতা পরিচয়ে এতদিন পরিচিতহওয়ার অপরাধের অপরাধবোধ।

আজকাল সবকিছুতেই অপরাধবোধ। মাকে বাসায় রেখেআশরাফকে নিয়ে যাচ্ছি অফিসে। সাথে আমার প্রিয় শখেরগাড়ি।নিজের গাড়ি থাকার বড় সুবিধা হলো চলার সময়আশেপাশের সবকিছু দেখা যায়।কোনো কিছু ভালো লাগলেসেদিক দিয়ে স্লো গতিতে গেলেই ব্যাপারটা অনেক সময় ধরেউপভোগ করা যায়। কোনো লোকাল বাস বা অন্য কোনোগাড়িতে সেই সুবিধা পাইনি কোনোদিন। লোকাল বাসে শুধুযাত্রীদের কদর থাকে সেখানে কারো ইচ্ছে অনিচ্ছের কদরথাকেনা।

আজকে বিভিন্ন কারনে মনটা হালকা লাগছে। তাই সোজাপথে অফিস যেতে ইচ্ছে করছেনা। ভেবেই নিলাম সারা শহরঘুরে ঘুরে অফিস যাব। তার উপর আবার নতুন গাড়ি। আশরাফ আমার পাশে বসে আছে আর মনোযোগ দিয়েগান শুনছে কথা বলছেনা তেমন।

গাড়ি চলছে তার নিজের মত করে। আমি কাচের ভেতরদিয়ে দেখছি চারপাশ।

-স্যার থামেন! নুরজাহান!

আমি সাথে সাথে গাড়ি ব্রেক করি আর আশরাশকে জিজ্ঞেসকরি "কি হয়েছে আশরাফ? কোন নূরজাহানের কথা বলছ?"

-স্যার চিনেন নাই? ঐ যে পতিতা পল্লীতে থাকে? স্যার চলেনআগে গিয়া দেখি আমার অনুমান ঠিক আছে কিনা।"

একটি মেয়েকে ঘিরে একটি ছোটখাট জটলা পাকিয়েআছে। আমি আশরাফ এগিয়ে গেলাম সেদিকে।গিয়ে দেখিএকটি মেয়ে বসে আছে। তাকে ঘিরে কয়েকজন দাঁড়িয়েআছে। মেয়েটির চেহারা দেখে যতদূর মনে হচ্ছে এর আগেওকোথাও দেখেছি।একটু মনে করার চেষ্টা করতেই মনে পড়েগেল সব।

এই মেয়েটিই সেই মেয়ে যে সেদিন ভীষন অসুস্থ্য অবস্থায়মায়ের সেবাযত্ম করেছিল। মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলসারাক্ষন। তখন মেয়েটির নাম জানা হয়নি। তবে আমি নাজানলে কি হবে। আশরাফ দেখি সব ই জানে।পতিতা পল্লীরঅলি গলি সব জানে। মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছে খুবঅসুস্থ্য। পেটের নিচের অংশটি শরীরের অন্যান্য অঙ্গেরতুলনায় বেশ বড়। হয়তো মেয়েটি সন্তান সম্ভবা।

আশরাফ মেয়েটির পাশে গিয়ে ওর হাত ধরে তুলে একপাশেনিয়ে গেল। একটু পর কথাবার্তা শেষ করে মেয়েটিকে সেজায়গাটিতে রেখে আবার আমার কাছে আসে। নুরজাহানকে নাকি পল্লী থেকে বের করে দিয়েছে বেশ কিছুঝামেলার কারনে। অবশ্য ও নাকি ইচ্ছে করে এসব কান্ডবাধিয়েছে যেন বের হয়ে আসতে পারে। এটাও জানালকয়েকদিনের মধ্যেই নাকি ওর বাচ্চা হতে পারে। নুরজাহাননাকি একটি সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়েছিল। কিন্তু হাতেকোন প্রকড় টাকা পয়সা না থাকায় ওরা চিকিৎসা করতেরাজি হননি।আমি আশরাফকে বললাম যেন নূরজাহানকেনিয়ে গাড়িতে উঠে।

একথা শুনে আশরাফ বলে

-স্যার ও আপনেরে বড্ড লজ্জ্বা পাইতেসে।

-আমাকে কেন লজ্জ্বা পাবে? আশ্চর্য তো।

- স্যার সেটা জানিনা। তই আপনেরে লজ্জ্বা পাইতেসে এটাজানাইল।

-আচ্ছা তাহলে লজ্জা পেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে বল।

-স্যার দাড়ান দাড়ান। আমি ওরে নিয়া আসতাসি।

আমি গাড়িতে উঠে বসলাম। আশরাফ নূরজাহানকে পেছনেবসিয়ে দিয়ে ও আমার পাশে বসল। নূরজাহানের প্রতিকিছুটা ঋণ আমার থেকেই যায়। সেদিন ও এভাবে মাকেসেবা না করলে মায়ের হয়তো বড় কোন বিপদ হতে পারত। তার ওর জন্য কিছু করতে পারা মানে নিজের ভাল লাগা। সৃষ্টিকর্তা হয়তো সে সুযোগ নিজের হাতে করে দিয়েছেনআমায়।।

গাড়ি থামালাম সেই হাসপাতালের সামনে যেখান থেকেআজকেই মাকে নিয়ে গেলাম। আমি আশরাফ আররনূরজাহান হাসপাতালে ঢুকছি। এমন সময় দেখি অদিতিহাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসছে। অদিতির সাথে আছেমিশু আর নেত্র। আমাদের দেখার সাথে সাথে অদিতি আরমিশু অবজ্ঞাসূচক হাসি দিল। যে হাসির কোন অর্থ নেই। এরঅর্থ শুধু তারাই জানে যারা এ হাসি দেয়। যাওয়ার সময়অদিতি আশরাফের উদ্দেশ্যে বলে-"তো আশরাফ আজকালনতুন ব্যবসা শুরু করেছ নাকি?"

অবশ্য আশরাফ ও ছেড়ে কথা বলেনি। ও বলেছে

-"জি আপা। বেশি টাকার দরকার।আইজকাইল মানুষ তোযেইদিকে টাকা দেখে সেইদিকেই দৌড়ায়"

এরপর অদিতি কিছু না বলে চলে গেল।নেত্র পিছনে ফিরেবার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে। অদিকি এই হাসপাতালেকরে টা কি? সেদিন ও গেইটের বাইরে ওকে দেখলাম। আজকেও দেখলাম। ও কি আমার ব্যাপারে কোন খবরনিচ্ছে? না না কি ভাবছি এসব?

নুরজাহানকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিলাম। দুজন নার্সএক্সট্রা নিয়োগ দিলাম যেন সারাক্ষন ওর দেখাশুনা করেআর এটিও বলে দিলাম যেন বিশেষ প্রয়োজনে আমাকেকল করে।

চলে গেলাম অফিসে।

অফিস থেকে বাসায় ফিরতে এমটু দেরী হল। রাতের খাবারমা নিজের হাতে রান্না করেছে। একেবারে অন্য রমমের স্বাদ। কারো সাথে তুলনা করা যায়না। অদিতি চলে যাওয়ার পরথেকে এভাবে আর খাওয়া হয়নি।অনেক সময় না খেয়েকাটিয়ে দিতে হয়েছে।

ফোনটা বেজে উঠেছে।রিসিভ করতেই বুঝতে বাকি রইলনাআশরাফ কল করেছে। অবশ্য খুশির সংবাদ জানানোরজন্য কল করেছে ও। নূরজাহানের ছেলে সন্তান হয়েছে। অফিসের ব্যস্ততার কারনে নূরজাহানের কথাটি মাকে বলাইহয়নি। মা এখনো ঘুমাইনি। এখন সব খুলে বলা যাবে। খবরটি শুনে মা নিশ্চয় খুশি হবে।একটু বেশিই খুশি হবে।

অবশেষে মাকে সব খুলে বললাম। প্রথমে নুরজাহান এরকমবিপদে পড়েছে শুনে চমকে উঠেছিল। পরে সব আমি আররআশরাফ করেছি শুনে হাফ ছেড়ে বাচল।

অবশ্য মা আমার কাছে একটি আবদার করে বসেছে। আমিযেন মাকে একটিবারের জন্য হলেও নূরজাহানের কাছেনিয়ে যায়। আর আমি মাকে সকালে রেডি হয়ে থাকলে নিয়েযাওয়ার আশ্বাস দিলাম।

মাকে নিয়ে যাচ্ছি হাসপাতালে। আজকে কেন জানি মাকেএকটু বেশি খুশি দেখাচ্ছে। মায়ের আজকেই হুশ হল আমিপেয়েছি সেটি।মা গাড়ির চারদিকে হাত বুলিয়ে বুলিয়েদেখছে। আমি গাড়িতে এসি অন করতে চাওয়ার সাথে সাথেমায়ের আপত্তি শুরু হল। এসিতে নাকি মায়ের দম বন্ধ হয়েযায়। মা আমাকে বলল যেন নূরজাহানের বাচ্চার জন্য কিছুনিই। আমি বাচ্চার জন্য কাপড় আর কিছু লোশন টাইপসজিনিস নিলাম।নূরজাহানের জন্য কিছু ফুল নিলাম, মেয়েটিমা হয়েছে বলে কথা। অভিনন্দন তো ওর প্রাপ্যই।

হাসপাতালে ঢুকতে মায়ের চিনতে বাকি রইলনা এটিই সেহাসপাতাল যেখানে মাকে ভর্তি করানো হয়েছিল।আমিমাকে নিয়ে গেলাম নুরজাহানের রুমে। আশরাফ সেখানেআগে থেকেই ছিল। নূরজাহান মাকে দেখার সাথে সাথে সাকী খুশি। এই খুশির মানেই যে অন্যরকম। পতিতাপল্লীরবাইরে একসাথে দেখা হওয়া। এখানে কেউ নিশ্চয় ওদেরপতিতা বলবেনা। একটু পরেই নূরজাহান আবার কান্নায়ভেঙ্গে পড়ে। একেবারে থেমে থেমে কান্না। তবে এ কান্না খুববেশি কষ্টের নয়। মা ওকে নানা রকমের শান্তনা দিয়েথামানোর চেষ্টা করছে।

নূরজাহানের বাচ্চাটির দিকে চোখ যায় আমার। বাচ্চাটিকেদেখতেই আমার মুখের কোণে অজান্তেই হাসি জমে যায়। কি! সুন্দর ফুটফুটে বাচ্চা। একেবারে মায়ের মত হয়েছে। হাত পা নাড়ানোর সামর্থ্য এখনো হয়নি তবে নাড়ানোর চেষ্টাকরছেনা তা কিন্তু নয়। একেবারে দুনিয়ার সমস্ত জটিলতারবাইরে ও। একেবারে পবিত্র মুখ। কিন্তু বাচ্চাটি তো এখনোবুঝতেই পারেনি কি ভয়াবহ জটিলতা অপেক্ষা করছে ওরজন্য। নূরজাহানের মধ্য দিয়েই এই সমাজে যোগ হলআরেকটি জারজ সন্তান। যার শুরু থেকে শেষ আজীবনকেটে যাবে করুনা পেতে পেতে। কখনো এন জি ও এরকরুনা। আবার কখনো মানুষের করুনা। না না! আমি বেচেথাকতে তা হতে দিবনা। জারজ সন্তানের ট্যাগ লাগতে দিবনা বাচ্চাটির গায়ে।

মা আর নূরজাহান একে অন্যের সাথে কথা বলছে। জমানোকোন কথা যেখানে মিশে আছে বহু বছরের পুরনো আবেগ। প্রতিটি বাক্যে মিশে আছে বহু বছরের পুরনো আবেগ। যেআবেগের মূল্য শুধু পতিতাদের কাছেই আছে। আশরাফদাঁড়িয়ে আছে রুমের এক কোণে। আমার চোখ এখন ওসেই ফুটফুটে বাচ্চাটির দিকে। যে বাচ্চা মুহুর্তেই মৃদু হেসেমুখ ভরাচ্ছে আবার মুহুর্তেই কান্নায় চোখ ভাসাচ্ছে। তারখেলা চলছেই। যেন দুনিয়ার কোন। কিছুকে পরোয়া করেনাসে। কিন্তু তার জন্য তো অনেক কিছুই অপেক্ষা করছে।

ধ্যত!আবার কি সব যা তা ভাবছি। ছেলেটি খুব আনন্দেথাকুক অন্তত আমি যতদিন বেচে আছি ।
to be continued.....

#কার্টেসি salman jico vi

Address

Jalalabad
Jalalabad
4214

Telephone

+8801888223553

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বলতে না পারা কিছু কথা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share