10/08/2025
**রাজশাহী রেশম: হারানো সোনালি সূত্রের পুনর্জাগরণ**
এক সময় বাংলার মাটিতে রেশমের সোনালি আভা ছড়িয়ে দিত রাজশাহী। মুঘল আমলের রাজকীয় পোশাক থেকে ব্রিটিশ বাণিজ্যের স্বর্ণযুগ—সবখানেই জড়িয়ে ছিল এই রেশমের নাম। কিন্তু আজ? সস্তা চীনা সুতা আর নকল পণ্যের সুনামিতে প্রায় বিলুপ্তির পথে সেই ঐতিহ্য। দেশের মোট চাহিদার মাত্র ১০% এখন পূরণ হয় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত রেশমে। প্রশ্নটা তাই স্বাভাবিক—**ফিরবে কি রাজশাহী রেশমের হারানো গৌরব?**
# # # **ইতিহাসের আয়নায় রাজশাহী রেশম**
রাজশাহী রেশমের গল্প শোনার মতোই রোমাঞ্চকর। একসময় এখানে ৭৬টি রেশম কারখানা গর্জে উঠত, হাজারো তাঁতি ও কৃষকের হাতে তৈরি হতো বিশ্বস্তরের পণ্য। কিন্তু ১৯৯১ সালে আমদানি শুল্ক হ্রাসের ধাক্কায় ধ্বস নামে এই শিল্পে। ২০০০-এর দশকের শুরুতেই ৫৮টি কারখানা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। ২০০২ সালে বন্ধ হয় সরকারি **রাজশাহী রেশম কারখানা**—যেন এক যুগের সমাপ্তি।
# # # **জিআই স্বীকৃতি ও নতুন আশার আলো**
২০১৭ সালে **ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই)** স্বীকৃতি পায় রাজশাহী রেশম। এরপরই যেন মৃতপ্রায় এই শিল্পে ফিরে আসে প্রাণের স্পন্দন। বর্তমানে **৩৩ জেলার ৫৪ উপজেলায়** ৪৪.৭ কোটি টাকার প্রকল্প চলছে, যার অর্ধেকের বেশি কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ সেরিকালচার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের তত্ত্বাবধানে রাজশাহীর একমাত্র সরকারি কারখানায় এখনও হাতবোনা রেশম উৎপাদন হয়, যদিও শ্রমিকদের **দিনমজুরি মাত্র ৩০০ টাকা**—এ নিয়ে রয়েছে তীব্র অসন্তোষ।
# # # **চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা**
- **সস্তা আমদানির বিরুদ্ধে লড়াই:** চীনা ও ভারতীয় রেশমের চেয়ে স্থানীয় পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় বাজার দখল কঠিন।
- **আধুনিকায়নের প্রয়োজন:** পুরনো পদ্ধতির বদলে প্রযুক্তি ও নকশায় নতুনত্ব আনতে হবে।
- **বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং:** জিআই স্বীকৃতিকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ছড়িয়ে দিতে হবে রাজশাহী রেশমের নাম।
# # # **শেষ কথা: ফিরবে কি সেই সোনালি দিন?**
রাজশাহী রেশম শুধু কাপড় নয়, এটা বাংলার সংস্কৃতি ও গর্বের প্রতীক। সরকারি উদ্যোগ, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ একসঙ্গে হলে হয়তো আবারও ফিরে আসবে সেই স্বর্ণযুগ। কিন্তু সময় কম—**অন্তত এখনই তো শুরু করা যায়!**