03/05/2026
প্রতিদিনের ব্যস্ততার ফাঁকে হঠাৎই একদিন হিসেবটা কষে দেখেছিলেন তনুশ্রী ঘোষ। দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুরে থাকেন। বয়স ৩৮, পেশায় একটি বেসরকারি হাসপাতালের প্রশাসনিক আধিকারিক। বিদ্যুৎ বিল, দূষণ, আর ক্রমশ উষ্ণ হয়ে ওঠা শহর—সব মিলিয়ে একটাই প্রশ্ন মাথায় ঘুরছিল, এর বিকল্প কী?
সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই কয়েক মাস আগে নিজের বাড়িতে বসান ইভানার সোলার প্যানেল সিস্টেম। তনুশ্রীর কথায়, ‘আমরা সমস্যার কথা জানি, কিন্তু সমাধানের দিকে এগোই না। আমি অন্তত নিজের জায়গা থেকে শুরু করতে চেয়েছি।’
তিনি জানান, কর্মসূত্রে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যা কাছ থেকে দেখেন। শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, দূষণজনিত নানা জটিলতা—যার সঙ্গে শহরের পরিবেশের সরাসরি যোগ রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে।
একই পথে হাঁটছেন হাওড়ার আন্দুলের বাসিন্দা সৌরভ মিত্র। বয়স ৪৫, পেশায় ছোট ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।
সৌরভ বলছিলেন, ‘ব্যবসা চালাতে বিদ্যুৎ লাগে। কিন্তু খরচ এতটাই বেড়ে যাচ্ছিল যে টেকা মুশকিল হয়ে পড়ছিল। তখনই ভাবলাম, নিজের বিদ্যুৎ নিজেই তৈরি করলে কেমন হয়।’
তাঁর বাড়ির ছাদেও এখন সোলার প্যানেল বসানো। তিনি জানান, খরচের চাপ কমার পাশাপাশি এখন বিদ্যুৎ নিয়ে নির্ভরতার চিন্তাও অনেকটাই কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরাঞ্চলে এই ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যতের শক্তি ব্যবস্থাকে বদলে দিতে পারে। ব্যক্তিগত স্তরের এই পরিবর্তনই ধীরে ধীরে বৃহত্তর প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
ইভানার সোলার প্যানেলে সৌরবিদ্যুৎ তৈরি হয় সূর্যের আলো থেকেই। ফলে পরিবেশধ্বংসকারী তাপবিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভরতাও কমে। পোড়াতে হয় না কয়লা। বাঁধতে হয় না নদী। ধ্বংস করতে হয় না প্রকৃতি ও পরিবেশ।
‘ভবিষ্যতের জন্য, আমাদের গ্রহের জন্য সৌরবিদ্যুৎই একমাত্র সমাধান,’—এমনটাই অনেকেরই দাবি। পাড়ায়, স্কুলে অনেককেই সোলার প্যানেল ইনস্টলেশনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
ইভানার হাত ধরেই নাগরিকদের পরিবেশ সচেতনতার নতুন পাঠ ছড়িয়ে পড়ছে। দূষণমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে সকলে বদ্ধপরিকর।
পরিবেশ না বাঁচলে, এই গ্রহ না বাঁচলে, আমরা কি আদৌ বেঁচে থাকব? সমাধান কিন্তু আমাদের হাতেই।