15/04/2026
ছোট্ট এই জীবনে অনেক অভিজ্ঞতা পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। এই যে আমি এত এত জ্বালানী বা বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলি - পড়ার সাথে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়েই বলি।
এখন সব থেকে বেশি ঝগড়া চলছে রিফাইনারি নিয়ে। ২০১৫ সালে আমি ভারতের রিলায়েন্সের জ্যাম নগরে সারেন্স থেকে ট্রেইনিং পাই। রিলায়েন্সের রিফাইনারি এত এত বড় যে শুধু রাস্তায় ছিলো ১২০ কিমি +৷ এদের কোয়ালিটি নিয়ে কোন প্রশ্ন নাই। ভারতে দুইটা কোম্পানীর কোয়ালিটি নিয়ে প্রশ্ন করার কিছু নাই - টাটা এবং রিলায়েন্স। সম্ভবত তখন পর্যন্ত প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আমি সেই রিফাইনারিতে গেছিলাম।
কিন্তু এই জ্যাম নগরেই আর একটা রিফাইনারি আছে - নায়ারা (তখন নাম ছিলো এসার) রিফাইনারি। এটার কোয়ালিটি এবং কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন আছে। জ্যাম নগরের কোন রিফাইনারিতে রিফাইন করবে - তা জানার অপেক্ষায় থাকলাম। নায়ারাতে করানোর থেকে আসলেই মালয়শিয়া বা সিংগাপুরে করানো ভালো। আর রিলায়েন্স এত প্যাকড থাকে বাংলাদেশের কাজ করার টাইম স্লট পাওয়া কঠিন।
এখন ২০১৬ এর দিকে বাংলাদেশ টেকনিপ ফ্রান্সকে আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারি ফেজ ২ এর ডিজাইন করার দ্বায়িত্ব দেয়। তার মুল কারন ছিলো ই আর এল -১ করেছিলো তারাই। টেকনিপের সাথে আমার সারেন্সে থাকা অবস্থায় যোগাযোগ ছিলো। কিন্তু প্যাচ খায় অন্য জায়গায়। ওই টাইমে একদিন চট্টগ্রামে অফিসের কাজে ফ্লাইট থেকে নেমে আটকে ছিলাম। সামনে দিয়ে ইন্ডিয়ার মন্ত্রীর গাড়ি চলে গেলো। ইআইএল ইন্ডিয়াকে কনসালটেন্ট হিসেবে দেয়ার চুক্তি ওই দিন স্বাক্ষর হয়। পরে একদিন ইস্টার্ন রিফাইনারিতেও যাওয়া হয়। আমাদের ভাই ব্রাদাররা সীমিত পুরাতন জিনিস পত্র দিয়ে দারুন কাজ করছিলো।
যাই হোক, টেকনিপ প্রায় ডবল ক্যাপাসিটির এক্সপানশন ডিজাইন করে। টেকনিপের সম্ভবত ইচ্ছা ছিলো নিজেরাই করবে। কিন্তু ইন্ডিয়ানরা করতে দিবে না - এই টাইপের এক গ্যাঞ্জামে পুরা প্রজেক্ট ঝুলে যায়। কিন্তু ডিজাইন রেডি আছে।
পরে বেশ কিছু বিদেশি কোম্পানী পিপিপির মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে চাইলেও হাসিনা তা করতে দেয় নাই। তারা চলে যায়। বরং তারা এস আলমকে করতে দেয়। তখনি প্রশ্ন তুলেছিলাম কিভাবে তারা এই সুযোগ পায়। এই বিশাল কাজ বোঝার মত ক্ষমতা বাংলাদেশের কারোই নাই।।
ইউনুস সরকার গত বছর ডিসেম্বরে এই বাবদ ৩৫০০০ কোটি টাকার বাজেট একনেকে পাশ করে গেছে। অন্তত এই সরকারের জন্য কাজ কিছু হলেও তারা এগিয়ে রেখে গেছে। এখন বাংলাদেশ সরকার কি নিজের টাকায় করবে নাকি পিপিপিতে যাবে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হবে। কারন এখনো বেশ কিছু কোম্পানি পিপিপিতে করতে ইচ্ছুক, একটা কোম্পানির নাম আমিও জানি।আর এখনকার অবস্থায় তারা অন্য দেশে বিনিয়োগ করতে আর ও বেশি উদগ্রীব থাকবে। আর দেশের এত বিনিয়োগ করার সামর্থ নাই।
বাংলাদেশে ইস্টার্ন রিফাইনারি ২ করলেই শুধু হবে না, ইস্টার্ন রিফাইনারি ১ কেও রেনোভেট করতে হবে। সেই সাথে আর ও অন্তত ১ টা নতুন রিফাইনারি লাগবে- যা হতে পারে মাতারবাড়ি। কারন ইস্টার্ন রিফাইনারি ২টা ইউনিট ও যদি চালু হয় তারপর ও তা আমাদের মুল চাহিদার ৬০ শতাংশের বেশি দিতে পারবে না। আর ২০৩০ এ আমাদের এখনকার চাহিদার অন্তত দ্বিগুন হয়ে যাবে বলে ফোরকাস্ট আছে। তাই প্ল্যান এবং বাজেট এখনি করা উচিত।
আর জ্বালানি স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নিজেদের অন্তত ফুল চাহিদার রিফাইন করার মতো ক্ষমতা আমাদের থাকতে হবেই।
পুনশ্চ: জ্যামনগরে একজন আমাকে দুয়া করে বলেছিলো, দুয়া করো আমার ছেলে ও যেন তোমার মতো হয়। (আমার মতো পাগল হইলে হইছেই) ওদের আমি জানিয়েছিলাম - আমরা বাংলাদেশ, উর্দু জানি না। বাংলা আমাদের গর্ব। স্মৃতি হিসেবে ২ টাকা/৫ টাকার নোট দিয়েছিলাম - দেশের চিহ্ন। এরকম কিছু মানুষের ভালোবাসাতেই চলছি।
-Mohammad Subail Bin Alam