Eastern Refinery PLC.

Eastern Refinery PLC. Eastern Refinery Limited, a subsidiary of Bangladesh Petroleum Corporation(BPC) The Managing Director is the Chief Executive Officer (CEO) of ERL.

Eastern Refinery Limited, a subsidiary of Bangladesh Petroleum Corporation was incorporated under Companies’ Act 1913(amended in 1994) as a Public Limited Company in 1963 with 35% EPIDC’s( East Pakistan Industrial Development Corporation) shares, 30% shares held by Burmah Oil Company (BOC) and the rest 35% by private entrepreneurs. From November, 1985, Bangladesh Petroleum Corporation (BPC) becam

e the 100% share holder of the company. ERL plays a vital role in supplying around 40% of the country’s current petroleum products’ demand and thus maintains stability in the POL Products’ market of the country. ERL sometimes becomes the only fall back system available, to avoid products crisis in the face of disruption of products’ import. A Board of Directors appointed by the Government, (of which Managing Director of ERL is one of the Directors) manages the company. ERL as a profitable company in the Public Sector contributes substantially to the national exchequer in the form of dividend, taxes, VAT etc.

ছোট্ট এই জীবনে অনেক অভিজ্ঞতা পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। এই যে আমি এত এত জ্বালানী বা বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলি - পড়ার সাথে নিজের অভ...
15/04/2026

ছোট্ট এই জীবনে অনেক অভিজ্ঞতা পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। এই যে আমি এত এত জ্বালানী বা বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলি - পড়ার সাথে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়েই বলি।
এখন সব থেকে বেশি ঝগড়া চলছে রিফাইনারি নিয়ে। ২০১৫ সালে আমি ভারতের রিলায়েন্সের জ্যাম নগরে সারেন্স থেকে ট্রেইনিং পাই। রিলায়েন্সের রিফাইনারি এত এত বড় যে শুধু রাস্তায় ছিলো ১২০ কিমি +৷ এদের কোয়ালিটি নিয়ে কোন প্রশ্ন নাই। ভারতে দুইটা কোম্পানীর কোয়ালিটি নিয়ে প্রশ্ন করার কিছু নাই - টাটা এবং রিলায়েন্স। সম্ভবত তখন পর্যন্ত প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে আমি সেই রিফাইনারিতে গেছিলাম।
কিন্তু এই জ্যাম নগরেই আর একটা রিফাইনারি আছে - নায়ারা (তখন নাম ছিলো এসার) রিফাইনারি। এটার কোয়ালিটি এবং কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন আছে। জ্যাম নগরের কোন রিফাইনারিতে রিফাইন করবে - তা জানার অপেক্ষায় থাকলাম। নায়ারাতে করানোর থেকে আসলেই মালয়শিয়া বা সিংগাপুরে করানো ভালো। আর রিলায়েন্স এত প্যাকড থাকে বাংলাদেশের কাজ করার টাইম স্লট পাওয়া কঠিন।
এখন ২০১৬ এর দিকে বাংলাদেশ টেকনিপ ফ্রান্সকে আমাদের ইস্টার্ন রিফাইনারি ফেজ ২ এর ডিজাইন করার দ্বায়িত্ব দেয়। তার মুল কারন ছিলো ই আর এল -১ করেছিলো তারাই। টেকনিপের সাথে আমার সারেন্সে থাকা অবস্থায় যোগাযোগ ছিলো। কিন্তু প্যাচ খায় অন্য জায়গায়। ওই টাইমে একদিন চট্টগ্রামে অফিসের কাজে ফ্লাইট থেকে নেমে আটকে ছিলাম। সামনে দিয়ে ইন্ডিয়ার মন্ত্রীর গাড়ি চলে গেলো। ইআইএল ইন্ডিয়াকে কনসালটেন্ট হিসেবে দেয়ার চুক্তি ওই দিন স্বাক্ষর হয়। পরে একদিন ইস্টার্ন রিফাইনারিতেও যাওয়া হয়। আমাদের ভাই ব্রাদাররা সীমিত পুরাতন জিনিস পত্র দিয়ে দারুন কাজ করছিলো।
যাই হোক, টেকনিপ প্রায় ডবল ক্যাপাসিটির এক্সপানশন ডিজাইন করে। টেকনিপের সম্ভবত ইচ্ছা ছিলো নিজেরাই করবে। কিন্তু ইন্ডিয়ানরা করতে দিবে না - এই টাইপের এক গ্যাঞ্জামে পুরা প্রজেক্ট ঝুলে যায়। কিন্তু ডিজাইন রেডি আছে।
পরে বেশ কিছু বিদেশি কোম্পানী পিপিপির মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে চাইলেও হাসিনা তা করতে দেয় নাই। তারা চলে যায়। বরং তারা এস আলমকে করতে দেয়। তখনি প্রশ্ন তুলেছিলাম কিভাবে তারা এই সুযোগ পায়। এই বিশাল কাজ বোঝার মত ক্ষমতা বাংলাদেশের কারোই নাই।।
ইউনুস সরকার গত বছর ডিসেম্বরে এই বাবদ ৩৫০০০ কোটি টাকার বাজেট একনেকে পাশ করে গেছে। অন্তত এই সরকারের জন্য কাজ কিছু হলেও তারা এগিয়ে রেখে গেছে। এখন বাংলাদেশ সরকার কি নিজের টাকায় করবে নাকি পিপিপিতে যাবে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হবে। কারন এখনো বেশ কিছু কোম্পানি পিপিপিতে করতে ইচ্ছুক, একটা কোম্পানির নাম আমিও জানি।আর এখনকার অবস্থায় তারা অন্য দেশে বিনিয়োগ করতে আর ও বেশি উদগ্রীব থাকবে। আর দেশের এত বিনিয়োগ করার সামর্থ নাই।
বাংলাদেশে ইস্টার্ন রিফাইনারি ২ করলেই শুধু হবে না, ইস্টার্ন রিফাইনারি ১ কেও রেনোভেট করতে হবে। সেই সাথে আর ও অন্তত ১ টা নতুন রিফাইনারি লাগবে- যা হতে পারে মাতারবাড়ি। কারন ইস্টার্ন রিফাইনারি ২টা ইউনিট ও যদি চালু হয় তারপর ও তা আমাদের মুল চাহিদার ৬০ শতাংশের বেশি দিতে পারবে না। আর ২০৩০ এ আমাদের এখনকার চাহিদার অন্তত দ্বিগুন হয়ে যাবে বলে ফোরকাস্ট আছে। তাই প্ল্যান এবং বাজেট এখনি করা উচিত।
আর জ্বালানি স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নিজেদের অন্তত ফুল চাহিদার রিফাইন করার মতো ক্ষমতা আমাদের থাকতে হবেই।
পুনশ্চ: জ্যামনগরে একজন আমাকে দুয়া করে বলেছিলো, দুয়া করো আমার ছেলে ও যেন তোমার মতো হয়। (আমার মতো পাগল হইলে হইছেই) ওদের আমি জানিয়েছিলাম - আমরা বাংলাদেশ, উর্দু জানি না। বাংলা আমাদের গর্ব। স্মৃতি হিসেবে ২ টাকা/৫ টাকার নোট দিয়েছিলাম - দেশের চিহ্ন। এরকম কিছু মানুষের ভালোবাসাতেই চলছি।
-Mohammad Subail Bin Alam

Govt initiates Tk 35,465.14cr big move to modernize ERLDHAKA, Dec 23, 2025 (BSS) - The government has initiated a big mo...
30/12/2025

Govt initiates Tk 35,465.14cr big move to modernize ERL

DHAKA, Dec 23, 2025 (BSS) - The government has initiated a big move to modernise and expand Eastern Refinery Limited (ERL) with a view to strengthening the country's energy security, producing more environment-friendly fuels and significantly reducing dependence on imported refined petroleum products.

In this regard, a project titled "Modernisation and Expansion of Eastern Refinery Limited (ERL)" has been undertaken by the Energy and Mineral Resources Division, while Eastern Refinery Limited will implement it on behalf of Bangladesh Petroleum Corporation (BPC).

The Executive Committee of the National Economic Council (ECNEC) gave approval to the project in its meeting today with Chief Adviser Professor Dr Muhammad Yunus in the chair held at NEC Conference Room in the city's Sher-e-Bangla Nagar area.

The project falls under the power and energy sector and will be implemented in Patenga area under Chattogram City Corporation in Chattogram district.

The estimated cost of the project is Tk 35,465.15 crore, of which Tk 21,277.59 crore will come as government loan, while Tk 14,187.56 crore will be financed from ERL's own resources. The implementation period has been set from December 2025 to November 2030.

Planning Commission officials said the key objectives of the project are to further reinforce national energy security, produce cleaner and more environment-friendly petroleum products and reduce the country's heavy reliance on imported finished petroleum products.
Under the project, a wide range of activities will be carried out, including site preparation, detailed engineering, procurement and construction involving both civil and mechanical works.

A total of 20 processing units and 18 utility and off-site units will be installed as part of the expansion.

In addition, electrical line connections will be taken from the Power Development Board (PDB), gas line connections from Karnaphuli Gas Distribution Company Limited (KGDCL), drainage infrastructure will be constructed, and computers, office equipment and other ancillary items will be procured.

Eastern Refinery Limited, established in 1968, currently has a crude oil processing capacity of 1.5 million metric tonnes per year. At present, ERL meets only about 20 per cent of the country's total demand for petroleum products, with the remaining requirement being fulfilled through imports.

This results in a substantial outflow of foreign currency for importing refined fuels.

Planning Commission officials noted that the introduction of Euro-5 fuel standards has made petroleum product specifications much more stringent. The proposed modernised refinery will produce Euro-5 standard environment-friendly gasoline and diesel, while upgrading existing diesel, motor spirit and octane produced at ERL to Euro-5 standards.

In the meantime, BPC has already implemented the "Installation of Single Point Mooring (SPM) with Double Pipeline" project, which will enable transportation of up to 4.5 million metric tonnes of crude oil annually. This development has created favourable conditions for handling larger volumes of crude oil required for the expanded refinery.

In this context, BPC has proposed the modernisation and expansion project with a refining capacity of 3.0 million metric tonnes per year to meet the country's growing demand for petroleum products, reduce dependence on imported refined fuels, ensure greater energy security and produce refined petroleum products at comparatively lower cost by processing crude oil domestically.

The Planning Commission, in its recommendation, said that once implemented, the project would enable the country to refine 3 million metric tonnes of crude oil annually and meet around 45 to 50 per cent of national demand for petroleum products.

This is expected to enhance fuel storage capacity, save a significant amount of foreign

-BSS News

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সক্ষমতার চেয়ে ৩৫ হাজার টন বেশি তেল পরিশোধনদেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রি...
01/07/2025

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সক্ষমতার চেয়ে ৩৫ হাজার টন বেশি তেল পরিশোধন

দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। এই পরিশোধনাগারে জ্বালানি তেল শোধনের সক্ষমতা বছরে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টন। তবে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সক্ষমতার চেয়ে ৩৫ হাজার টন বেশি তেল শোধন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগের ১০ বছরে কোম্পানিটি মাত্র একবার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছিল।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগরের পতেঙ্গায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইআরএলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান, ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৫ লাখ ৩৫ হাজার টন তেল শোধন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে এত বেশি তেল পরিশোধন করা সম্ভব হলো।

কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ লাখ ৭৯ হাজার টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৪ লাখ ৪৩ হাজার টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৫ লাখ ১৩ হাজার টন ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০ লাখ ৭৯ হাজার টন তেল পরিশোধন করা হয়েছে।

ইআরএলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান নাসিমুল গনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সব পক্ষের প্রচেষ্টায় ও তেল সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে তেল সরবরাহ করা গেছে। ৫৭ বছরের পুরোনো এ পরিশোধনাগারে সফলতার সঙ্গে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলো।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিপিসির চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান বলেন, ইআরএল দ্বিতীয় ইউনিট বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। গতকাল প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে খুব দ্রুত ইআরএল দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে।

মহেশখালীতে পরিশোধনাগার নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান বিপিসির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, মহেশখালীতে ১০ লাখ টন পরিশোধন ক্ষমতার একটা শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ জন্য সেখানে জায়গা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পায়রা বন্দরেও একটি শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি তেল পরিশোধনাগার ইআরএল তৈরি করা হয় ১৯৬৮ সালে। বিপিসির মাধ্যমে আনা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল তারা শোধন করে। এলপিজি, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল, ফার্নেসসহ ১৪ রকমের তেল উৎপাদন করে ইআরএল। ইআরএলের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ করা গেলে পরিশোধনের ক্ষমতা আরও ৩০ লাখ টন বাড়বে।

তবে জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা না বাড়ায় বেশি পরিমাণে ডিজেল আমদানি করতে হয়। এতে প্রতিবছর বাড়তি ডলার খরচ করতে হচ্ছে সরকারকে। অথচ দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৪ বছরেও তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়েনি। এর মধ্যে সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নেওয়া প্রকল্পটি ১৩ বছরেও অনুমোদিত হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ২৪ কোটি ডলার সাশ্রয় হতো। এখন বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেই দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইআরএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত বলেন, অনেক ধাপ পেরিয়ে তেল পরিশোধন করতে হয়। গত অর্থবছরে সব কটি ধাপ ঠিকভাবে পার করে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা গেছে।

-প্রথম আলো

পাঁচ দশক পরও তৈরি হয়নি ইস্টার্ন রিফাইনারির ২য় ইউনিট, বাস্তবায়ন ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩ গুণবিপিসি আমদানি নির্ভরতা কমাতে ইস্টার্...
31/05/2025

পাঁচ দশক পরও তৈরি হয়নি ইস্টার্ন রিফাইনারির ২য় ইউনিট, বাস্তবায়ন ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩ গুণ

বিপিসি আমদানি নির্ভরতা কমাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন সক্ষমতা ১.৫ মিলিয়ন টন থেকে ৪.৫ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে ব্যয়বহুল পরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা যেমন কমত, তেমনি প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ডলার সাশ্রয় হতে পারত। কিন্তু দেশের প্রথম ও একমাত্র শোধনাগারটি চালুর পাঁচ দশক পরও কেন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি, সে প্রশ্ন এখনো থেকেই গেছে।

২০১০ সালে ইআরএল-২ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয় এবং ২০১৩ সালে সরকার প্রকল্পের জন্য ১৩ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন করে। কিন্তু প্রকল্পটি কোনো অগ্রগতি পায়নি। ২০২২ সালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) স্ব-অর্থায়নে নতুনভাবে উদ্যোগ নিলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ হাজার কোটি টাকা, তবু কাজ শুরু হয়নি।

২০২৪ সালের শুরুতে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইআরএল-২ নির্মাণের আগ্রহ দেখালে ৯ জুলাই জ্বালানি বিভাগ প্রস্তাবটি অনুমোদন করে। কিন্তু আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটায় প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিপিসি নতুন করে প্রকল্পটি সচল করার উদ্যোগ নেয়, তবে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ হাজার ৪১০ কোটি টাকা।

বিপিসির তৈরি প্রাথমিক প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ইআরএল-২ বাস্তবায়িত হলে অপরিশোধিত তেল আমদানি খরচ কমার পাশাপাশি বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।

আমদানিতে আগ্রহ বেশি
বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, ১৯৬৮ সালে প্রথম ইউনিট চালু হওয়ার পরও বাংলাদেশ কেন দ্বিতীয় শোধনাগার নির্মাণ করতে পারেনি।

স্বাধীনতার আগেই নির্মিত এই শোধনাগার বছরে মাত্র ১.৫ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে পারে। অথচ দেশের বার্ষিক চাহিদা এখন ৭.৫ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। ফলে বাংলাদেশকে ব্যয়বহুল পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, যা তুলনামূলকভাবে সস্তা অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের বিকল্পের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সাবেক অধ্যাপক ড. মুইনুল ইসলাম বলেন, 'পরিশোধিত তেল আমদানির কারণে বাংলাদেশ প্রতিবছর ১০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করছে, অথচ সরকার কখনো ইআরএল-২ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেয়নি।'

তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'বাংলাদেশ প্রতিবছর ৭.৫ মিলিয়ন টন পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করছে, যেখানে ইস্টার্ন রিফাইনারি মাত্র ১.৫ মিলিয়ন টন পরিশোধন করতে পারে। আমাদের অন্তত ৬ মিলিয়ন টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন শোধনাগার দরকার ছিল। কিন্তু ৬০ বছর পার হলেও আমরা তা করতে পারিনি। এটি মূলত রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবের প্রতিফলন।'

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভূরাজনীতি
ড. ইসলাম মনে করেন, ভূরাজনৈতিক কারণেও ইআরএল-২ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রথম ইউনিট নির্মাণকারী ফরাসি কোম্পানিকে দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয় ভারতীয় পরামর্শক সংস্থার সুপারিশের ভিত্তিতে।

তিনি বলেন, 'এখানে অনেক রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে, যার ফলে আমরা কখনো দ্বিতীয় ইউনিট পাইনি। এখন নতুন সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে কি না সেটাই প্রশ্ন।'

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম মনে করেন, অনেক আগেই বাংলাদেশে ইআরএল-২ নির্মাণের যথেষ্ট সুযোগ ছিল, যা বাস্তবায়িত হলে কম খরচে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেত।

'ইআরএল-২ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেশের অর্থনীতিতে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি করেছে। এই ক্ষতি পূরণে দায়ীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা উচিত,' বলেন এ বিশেষজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে যারা বাধা সৃষ্টি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। 'দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনাই একমাত্র উপায়।'

বিপিসির নতুন পরিকল্পনায় চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন?
ইআরএল-২ নির্মাণে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ হাজার ৪১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারের কাছ থেকে ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে, বাকিটা বহন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

বৈদেশিক অর্থায়ন সহজ করতে পরিকল্পনা কমিশনের নীতিগত অনুমোদনের পর বিপিসি নতুন প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) জমা দিয়েছে।

প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে 'ইআরএল ইউনিট-২ ইনস্টলেশন' থেকে 'ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ (ইআরএল)' করা হয়েছে।

বিপিসির চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান জানুয়ারিতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, পরিশোধন খাতে বিনিয়োগকারী দেশ, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছ থেকে ঋণ বা ইকুইটি (মূলধন) সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, 'আমরা ঋণ নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। যদি ঋণ না পাই, তাহলে ইকুইটি বিনিয়োগের বিকল্প বিবেচনা করব। তবে নিশ্চিত করব যে বাংলাদেশের মালিকানা ৫১ শতাংশ বজায় থাকে।'

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন ইআরডি কর্মকর্তা জানান, সৌদি জ্বালানি কোম্পানি আরামকো ইআরএল-২ নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করলেও বাংলাদেশ এখনো এ বিষয়ে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেনি।

সরকার বর্তমানে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ ও সংস্থার সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর এই আলোচনা আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সম্প্রসারণ পরিকল্পনা
বিপিসি আমদানি নির্ভরতা কমাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন সক্ষমতা ১.৫ মিলিয়ন টন থেকে ৪.৫ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

ইআরএল-২ নির্মাণের মূল লক্ষ্য ব্যয়বহুল পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, এটি 'ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন' প্রকল্পের ফরওয়ার্ড লিঙ্কেজ হিসেবে কাজ করবে।

এছাড়া, প্রকল্পটি ইউরো-৫ স্ট্যান্ডার্ড জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করবে, যা নির্গমন হ্রাস করে পরিবেশগত স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি দক্ষতা বাড়াবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর ফলে পরিবহন খরচ কমবে, পণ্যের দাম হ্রাস পাবে এবং বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য জ্বালানি আরও সাশ্রয়ী হবে।

চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি ১৯৬৮ সালে ফরাসি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান টেকনিপ-এর সহায়তায় নির্মিত হয়।

বর্তমানে, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড বিপিসির একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।

-The Business Standard (23rd February,2025)

Address

North Patenga
Chittagong
CHITTAGONG-4208

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Telephone

+880-31-2501260

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Eastern Refinery PLC. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Eastern Refinery PLC.:

Share