Chittagong University Scientific Society

Chittagong University Scientific Society Chittagong University Scientific Society is a non-profit multidisciplinary scientific organization.

Chittagong University Scientific Society (CUSS) is a non-profit multidisciplinary scientific organization. It’s a registered organization of National Museum of Science & Technology (NMST), registration no: GA-245/2022. It’s established with the cooperation of the students of various science related departments in order to exchange information and coordinate activities related to science and societ

y for the betterment of every individual. We started our official journey on 22th April, 2018 with the celebration of “World Earth Day”, where our members and volunteers gathered to clean plastic wastes from the CU campus. We are financially and politically independent but we are interested to work in collaboration with other organizations that share our aims and interests.

26/05/2026

🌿চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আনাচে-কানাচে ফুটে থাকা হলুদ গালিচা: এটি কি আসলেই ভৃঙ্গরাজ?🌼

🌟আমাদের প্রিয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাসের পাহাড়ি ঢাল, রাস্তার ধার কিংবা ফ্যাকাল্টির সামনে চোখ রাখলেই কার্পেটের মতো বিছিয়ে থাকা এক ধরণের ছোট ছোট হলুদ ফুলের দেখা মেলে। বাহ্যিক মিলের কারণে অনেকেই একে 'ভৃঙ্গরাজ' বা 'ভীমরাজ' বলে থাকেন।

🧬তবে উদ্ভিদবিজ্ঞান ও পরিবেশ বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এর একটি দারুণ বৈজ্ঞানিক পরিচয় আছে। ক্যাম্পাসে বহুল দৃশ্যমান এই হলুদ ফুলটি মূলত "সিঙ্গাপুর ডেইজি" বা "বুনো ডেইজি" (Scientific Name: "Sphagneticola trilobata")। এটি সূর্যমুখী (Asteraceae) পরিবারের একটি উদ্ভিদ, যা দেখতে হুবহু আমাদের দেশীয় হলুদ ভৃঙ্গরাজের ("Sphagneticola calendulacea") মতোই আকর্ষণীয়।

🍀আমাদের দেশের আবহাওয়ায় এটি দারুণভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে চবি ক্যাম্পাসের মাটি ও পাহাড়ের ঢাল কামড়ে ধরে রাখতে এবং ভূমিক্ষয় রোধে এটি সাহায্য করে। তবে এটি একটি 'ইনভেসিভ' বা 'আগ্রাসী' প্রজাতি হওয়ায় খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারপাশের প্রকৃতিকে একাই হলুদ রঙে রাঙিয়ে তোলে। ওষধি গুণাগুণের দিক থেকেও এর পাতার রস বিভিন্ন ট্রেডিশনাল মেডিসিনে ব্যবহার করা হয়।

✨প্রকৃতির এমন আরও চমৎকার সব বৈজ্ঞানিক তথ্য জানতে চোখ রাখুন আমাদের পেজে।

📝Content Credit:

‎🎥Video Credit:

Sidratul Muntaha
Assistant Media and Publicity Management Secretary, CUSS
Department of Geography and Environmental Studies
Session: 2021-2022

Sabiha Jannat Dipa
Media and Publicity Management Secretary
Department of Geography and Environmental Studies
Session: 2021-2022

🖋Written By:

Sabiha Jannat Dipa
Media and Publicity Management Secretary
Department of Geography and Environmental Studies
Session: 2021-2022



 ✨“When a [mercury] thermometer was made, the result answered to my prayer; and with great pleasure of mind I observed t...
24/05/2026



✨“When a [mercury] thermometer was made, the result answered to my prayer; and with great pleasure of mind I observed the truth that water boils at a fixed degree of heat.”
-Gabriel Fahrenheit✨

🪄একসময় গরম আর ঠান্ডা বোঝা যেত শুধু অনুভব দিয়ে, কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপ ছিল না। হঠাৎ একজন ভাবল, এই অনুভূতিকে কি সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ যায় না? কাঁচের নলের ভেতর পারদ নড়ল, আর জন্ম নিল তাপমাত্রার নতুন ভাষা। সেই ভাষা বদলে দিল চিকিৎসা, বিজ্ঞান আর দৈনন্দিন জীবনের হিসাব-নিকাশ। এই পরিবর্তনের পেছনে ছিল একজন জার্মান পদার্থবিদ, যিনি তাপমাত্রাকে সংখ্যার ভাষায় রূপ দিয়েছিলেন।

2️⃣4️⃣আজ ২৪শে মে, ২০২৬ ইং; রোজ রবিবার। আধুনিক থার্মোমেট্রির ইতিহাসে বিপ্লবী Gabriel Fahrenheit-এর ৩৪০তম জন্মবার্ষিকী।

💠১৬৮৬ সালের এই দিনে পোল্যান্ডের ড্যানজিগ শহরে জন্ম নেওয়া এই বিজ্ঞানীর জীবন মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই হারান বাবা-মাকে। কিন্তু জীবন তাঁকে থামাতে পারেনি। বরং দুঃখ, সংগ্রাম আর অদম্য কৌতূহলই তাঁকে ঠেলে দেয় বিজ্ঞানের গভীরে। অন্যরা যেখানে পৃথিবীকে শুধু অনুভব করত, সেখানে ফারেনহাইট চেষ্টা করেছিলেন পৃথিবীকে “নির্ভুলভাবে মাপতে”। তাঁর সবচেয়ে বড় কৌতূহল ছিল "তাপমাত্রা"। কীভাবে বুঝব কোন বস্তু কতটা গরম বা ঠান্ডা? কীভাবে সেটিকে একই মানদণ্ডে প্রকাশ করা সম্ভব?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তিনি তৈরি করেন নির্ভরযোগ্য পারদভিত্তিক থার্মোমিটার এবং পরবর্তীতে প্রবর্তন করেন বিখ্যাত Fahrenheit Scale যা আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।

👨‍🔬ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে তিনি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করেন। দীর্ঘ গবেষণা ও অসংখ্য পরীক্ষার পর ১৭১৪ সালে তৈরি করেন প্রথম কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য পারদভিত্তিক থার্মোমিটার। এর আগে ব্যবহৃত অ্যালকোহল থার্মোমিটারগুলো এতটা স্থিতিশীল ছিল না।
পারদের দ্রুত প্রতিক্রিয়া, স্থায়িত্ব এবং সূক্ষ্মতা বিজ্ঞানের জগতে এক নতুন বিপ্লব নিয়ে আসে।

🌡এরপর তিনি প্রবর্তন করেন বিখ্যাত “Fahrenheit Temperature Scale”,
🔹পানির হিমাঙ্ক = ৩২°F
🔹পানির স্ফুটনাঙ্ক = ২১২°F
আজও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই স্কেল বহুল ব্যবহৃত। চিকিৎসাবিজ্ঞান, আবহাওয়াবিজ্ঞান, শিল্পকারখানা ও গবেষণাগারে তাঁর অবদান প্রতিনিয়ত অনুভূত হয়।

🔷তাঁর অবদানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য,

🔸নির্ভুল পারদ থার্মোমিটার উদ্ভাবন।
🔸আধুনিক তাপমাত্রা পরিমাপ ব্যবস্থার উন্নয়ন।
🔸বৈজ্ঞানিক যন্ত্র তৈরিতে নতুন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা।
🔸পদার্থবিজ্ঞান ও আবহাওয়াবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
ফারেনহাইট বুঝেছিলেন,
“বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু আবিষ্কারে নয়, বরং সঠিকভাবে মাপতে পারার ক্ষমতায়।”

✳️Gabriel Fahrenheit-এর এই আবিষ্কার ছাড়া আজ তাপমাত্রা শুধু একটি অস্পষ্ট অনুভূতি হয়েই থাকত, কোনো নির্ভরযোগ্য সংখ্যায় রূপ পেত না। ফলে একদিকে চিকিৎসা জগতে জ্বর ও রোগ নির্ণয় হতো অনিশ্চিত, অন্যদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস হারাত তার বিশ্বাসযোগ্যতা। শিল্প ও গবেষণার প্রতিটি ধাপে তাপ নিয়ন্ত্রণ হয়ে যেত অনুমাননির্ভর, যেখানে ছোট ভুলও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারত। আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি আর দৈনন্দিন জীবনের অনেক অগ্রগতি থমকে দাঁড়াত সেই অনিশ্চয়তার মাঝেই।

🪦১৭৩৬ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে মৃত্যুবরণ করেন এই মহান বিজ্ঞানী। কিন্তু তাঁর সৃষ্টি আজও জীবন্ত হাসপাতালের থার্মোমিটারে, গবেষণাগারের পরীক্ষায়, এমনকি প্রতিদিনের আবহাওয়ার খবরে।

🍂কিছু মানুষ পৃথিবী বদলায় শব্দ দিয়ে, কিছু মানুষ বদলায় চিন্তা দিয়ে। আর গ্যাব্রিয়েল ফারেনহাইট বদলে দিয়েছিলেন “নির্ভুলতা”র ধারণাকেই। তাঁর জন্মবার্ষিকীতে চিটাগং ইউনিভার্সিটি সায়েন্টিফিক সোসাইটি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে বিজ্ঞানের ইতিহাসের এই নীরব বিপ্লবীকে।

📝Content Credit:

🖋Written By:

Lipy Barua
Publication Executive, CUSS
Department of Electrical & Electronic Engineering
Session: 2023-2024

‎🖼️Poster Credit:

Md. Salahuddin Nasim
Organizing Executive, CUSS
Department of Statistics
Session : 2021-2022

✨"Take a walk with a turtle. And behold the world in pause."                  —Bruce Feiler✨2️⃣3️⃣আজ ২৩শে মে ২০২৬ ইং; রো...
23/05/2026

✨"Take a walk with a turtle. And behold the world in pause."
—Bruce Feiler✨

2️⃣3️⃣আজ ২৩শে মে ২০২৬ ইং; রোজ শনিবার। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর ও বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে "World Turtle Day"।

⁉️২০০০ সালে American Tortoise Rescue দ্বারা পরিচালিত ও পৃষ্ঠপোষকৃত এই দিনটি চালু করার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে কচ্ছপ (turtle) ও স্থলকচ্ছপ (tortoise) সম্পর্কে সচেতন করা এবং তাদের বিলুপ্তপ্রায় আবাসস্থল রক্ষা করা। এদের “keystone species” হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যার অর্থ তারা তাদের পরিবেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তাদের আশেপাশের অন্যান্য প্রজাতির ওপর প্রভাব ফেলে।

🕰️Sea turtles পৃথিবীতে প্রায় ১১০ মিলিয়ন বছর ধরে বেঁচে আছে। তারা উষ্ণ, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পানি থেকে শুরু করে আর্কটিকের অত্যন্ত ঠান্ডা পানিসহ পৃথিবীর সব মহাসাগরে বাস করে। সামুদ্রিক কচ্ছপের মোট সাতটি প্রজাতি রয়েছে এবং সবগুলোই আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (IUCN)-এর বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় (Red List of Threatened Species) অন্তর্ভুক্ত।

📜Turtle এবং Tortoise:

Turtle এবং Tortoise একই গোষ্ঠীর সরীসৃপ হলেও তাদের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কচ্ছপ (turtle) সাধারণত নদী, সমুদ্র বা হ্রদে বসবাস করে এবং তারা ভালো সাঁতার কাটতে পারে। তাদের পা ফিনের মতো বা জালযুক্ত হয়, যা পানিতে চলাচলের জন্য উপযোগী। অন্যদিকে, Tortoise সম্পূর্ণভাবে স্থলে বসবাস করে এবং তাদের পা মোটা ও শক্ত হয়, যা হাঁটার জন্য উপযুক্ত।

💠পৃথিবীর সকল মহাসাগরে সাত প্রজাতির কচ্ছপ পাওয়া যায়:
🔹Leatherback
🔹Green Turtle
🔹Hawksbill
🔹Loggerhead
🔹Olive Ridley
🔹Kemp's Ridley
🔹Flatback

🪄কচ্ছপ সম্পর্কে ৭টি তথ্য:

🔸সব স্থলকচ্ছপ (tortoise) কচ্ছপ, কিন্তু সব কচ্ছপ স্থলকচ্ছপ নয়।
🔸কচ্ছপ পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে দিক নির্ণয় করে।
🔸কচ্ছপ গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান পরিবহন করে, যা বাস্তুতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করে।
🔸কচ্ছপের খোলস ৫০টি ভিন্ন হাড় একত্রে যুক্ত হয়ে তৈরি হয়।
🔸সামুদ্রিক কচ্ছপের ৭টি প্রজাতি রয়েছে।
🔸কচ্ছপ খুব সামাজিক প্রাণী এবং বড় দলে বিশাল এলাকা জুড়ে ভ্রমণ করে।
🔸অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য, ঐতিহ্যবাহী ওষুধে ব্যবহার এবং by-catch বর্তমানে কচ্ছপের প্রধান হুমকি।

🍂পরিবেশ ও অর্থনীতিতে কচ্ছপের ভুমিকা:

🔷Green turtle প্রধানত seagrass খায়। Seagrass কে অতিরিক্ত বড় হতে বাধা দেয় এবং বাস্তুতন্ত্রকে স্বাস্থ্যকর রাখে।
🔷Hawksbill turtles স্পঞ্জ খেয়ে প্রবাল প্রাচীরকে রক্ষা করে ।
🔷Leatherbacks জেলিফিশ খেয়ে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে, যা মাছের ডিম ও লার্ভা রক্ষা করে।
🔷Sea turtles গত ৭,০০০ বছর ধরে ডিম, মাংস, খোলস, তেল, চামড়া এবং অন্যান্য পণ্যের জন্য ব্যবহার করা হয়ে আসছে।
আধুনিক যুগে এই প্রজাতিগুলো থেকে লাভ করার আরেকটি উপায় যুক্ত হয়েছে—পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে ব্যবহার করে অর্থনৈতিক আয় অর্জন করা।

✅আমাদের উচিত কচ্ছপ সংরক্ষণ ও রক্ষা করতে সহায়তা করা, পাশাপাশি টেকসই পর্যটনকে উৎসাহিত করা। এর মধ্যে রয়েছে কচ্ছপ শিকার ও অবৈধ বাণিজ্য এড়িয়ে চলা, ডিম পাড়ার সৈকতগুলো সুরক্ষিত রাখা, সমুদ্রে দূষণ কমানো, সংরক্ষণ কর্মসূচিকে সমর্থন করা এবং বাস্তুতন্ত্রে কচ্ছপ এর গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

📝Content Credit:

🖋️Written by:

Sidratul Muntaha
General Member, CUSS
Team: Iron Horn Legend
Institute of Marine Sciences
Session: 2021-2022

‎🖼️ Poster Credit:
Bibhas Kanti Dey
IT Executive, CUSS
Department of Physics
Session: 2021-2022

 ✨"জীববৈচিত্র্যের প্রতিটি স্পন্দনই যেন পৃথিবীর হৃৎস্পন্দন”, জীববৈচিত্র্য রক্ষাই হোক টেকসই ভবিষ্যতের মূল ভিত্তি। ✨🪄কখনও ক...
22/05/2026



✨"জীববৈচিত্র্যের প্রতিটি স্পন্দনই যেন পৃথিবীর হৃৎস্পন্দন”, জীববৈচিত্র্য রক্ষাই হোক টেকসই ভবিষ্যতের মূল ভিত্তি। ✨

🪄কখনও কি ভেবে দেখেছেন, একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি পাখির ডাক না শোনা যায়? যদি চারপাশে সবুজ গাছপালা, রঙিন প্রজাপতি কিংবা ছোট ছোট প্রাণীগুলো হঠাৎ হারিয়ে যায়? পৃথিবী তখন কেমন হবে? প্রকৃতির এই অসংখ্য প্রাণী, উদ্ভিদ ও জীবের মিলেই গড়ে উঠেছে জীববৈচিত্র্য। আর এই জীববৈচিত্র্যই আমাদের পৃথিবীকে করেছে সুন্দর, প্রাণবন্ত ও বাসযোগ্য।

2️⃣2️⃣আজ ২২শে মে, ২০২৬ ইং; রোজ শুক্রবার। বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে “আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস (International Day For Biological Diversity)"।

🌿জীববৈচিত্র্য কী?

পৃথিবীর সমস্ত প্রাণ, উদ্ভিদ এবং অণুজীবের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও তাদের বৈচিত্র্যই হলো জীববৈচিত্র্য।
প্রকৃতির বৈচিত্র্য এবং জীবের বৈচিত্র্য একে অপরের পরিপূরক। তাই জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষা কেবল বন্যপ্রাণী কিংবা গাছপালার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং মানবজাতির টিকে থাকারও পূর্বশর্ত।

⁉️দিবসটি কি বা কেন পালন করা হয়?

আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস হলো পৃথিবীর উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের বৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধির একটি জাতিসংঘ-ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবস।
জীবের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য ও জীবনধারণ, জীবজগৎ ও পরিবেশ সংরক্ষণে বৈশ্বিক চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ দিবস পালন করা হয়।

📜দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য:

২০২৬ সালের "আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস" সম্পর্কে জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত প্রতিপাদ্য হলো-
"Acting locally for global impact."
"বৈশ্বিক প্রভাবের জন্য স্থানীয় পদক্ষেপ।”

🕰️দিবসের ইতিহাস ও পটভূমি:

সূচনাকালে, ১৯৯২ সালের ২২শে মে কেনিয়ার নাইরোবিতে ‘Convention on Biological Diversity’ বা জৈবিক বৈচিত্র্য বিষয়ক প্রথম কনভেনশনটি গৃহীত হয়।
পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালের ২৯শে ডিসেম্বর থেকে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন শুরু হয়। প্রথম দিকে ২৯শে ডিসেম্বর উদ্‌যাপিত হলেও পরবর্তীকালে তারিখ পরিবর্তন করা হয়।
২০০০ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভায় তারিখ পরিবর্তন করে ২২শে মে "আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস" নির্ধারণ করা হয়, যাতে ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক চুক্তিটিকে সম্মান জানানো যায়।

✴️জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে বাংলাদেশের অবদান:

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৭টি জাতীয় উদ্যান ও ২১টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যসহ মোট ৩৮টি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে, যা দেশের মোট আয়তনের উল্লেখযোগ্য অংশকে সুরক্ষিত করে।
পাশাপাশি ২০১২ সালে "বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন" প্রণয়ন করা হয়, যা বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী ও তাদের আবাসস্থল রক্ষায় একটি যুগান্তকারী আইনি পদক্ষেপ।
এছাড়াও টাঙ্গুয়ার হাওর (Ramsar site), সুন্দরবন এবং সোনাদিয়া দ্বীপের মতো বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত।

🏆জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশের কিছু অর্জিত সম্মানজনক পুরস্কার:

🔹পরিবেশ সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে।
🔹পরিবেশ শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অরণ্যক ফাউন্ডেশন (Arannayk Foundation) জাতীয় পরিবেশ পদক অর্জন করেছে।

🔰আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবসের গুরুত্ব:

জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে, বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিকল্প নেই। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা কেবল কিছু পশুপাখি বা গাছপালাকে বাঁচিয়ে রাখা নয়; বরং এটি আমাদের নিজেদের অস্তিত্ব, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টিকিয়ে রাখার এক অনিবার্য লড়াই।
বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

🟢জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আমাদের করণীয়:

🔺জীববৈচিত্র্যের ৮০% বনাঞ্চলে রয়েছে। তাই প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষরোপণ করা ও নির্বিচারে বৃক্ষনিধন বন্ধ করা।
🔺জলাশয় দুষণমুক্ত রাখা এবং জলজ প্রাণীদের আবাসস্থল সংরক্ষণ।
🔺প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাস এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (Single-use plastic) বর্জন করা।
🔺বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সিবিডি (CBD), রামসার কনভেনশন, এবং সাইটস (CITES)-এর মতো আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহের লক্ষ্যগুলোকে সমর্থন ও প্রচার করা।

🌿সর্বোপরি মনে রাখতে হবে যে, আমাদের এই সবুজ গ্রহের প্রাণপ্রাচুর্য রক্ষা করা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

🍂আজ ২২শে মে, এই মহান "আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস” উপলক্ষ্যে চিটাগাং ইউনিভার্সিটি সায়েন্টিফিক সোসাইটি সবাইকে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের সাথে দিবসটি উদ্‌যাপনের আহ্বান জানাচ্ছে।

📝Content Credit:

🖋️Written By:

Mahfuzul Hossain Fahad
General Member, CUSS
Team: Silent Sonars
Department of Fisheries
Session: 2023-2024


‎🖼️ Poster Credit:

Arpita Paul Arpa
Assistant IT Secretary, CUSS
Department of Geography and Environmental Studies
Session: 2021-2022

 ✨“A man’s duty is to defend humanity, even against the power he once helped create.”✨☢️পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কম বিজ্ঞানীই...
21/05/2026



✨“A man’s duty is to defend humanity, even against the power he once helped create.”✨

☢️পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কম বিজ্ঞানীই আছেন, যারা একইসাথে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র তৈরিতে অবদান রেখেছেন আবার সেই অস্ত্রের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে গিয়েও মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। আন্দ্রেই সাখারভ ছিলেন তেমনই এক বিরল ব্যক্তিত্ব। একসময় যিনি সোভিয়েত হাইড্রোজেন বোমার অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন, পরবর্তীতে তিনিই মানবাধিকার, শান্তি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সবচেয়ে সাহসী কণ্ঠগুলোর একটিতে পরিণত হন।

2️⃣1️⃣আজ ২১শে মে, ২০২৬ ইং; রোজ বৃহস্পতিবার। বিশ্বখ্যাত সোভিয়েত তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী, নোবেলজয়ী শান্তিকর্মী এবং মানবাধিকারের প্রতীক আন্দ্রেই সাখারভের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী।

💠জন্ম ও শৈশব:

১৯২১ সালের ২১শে মে সোভিয়েত ইউনিয়নের মস্কো শহরে তাঁর জন্ম হয়। ছোটোবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি তাঁর আলাদা আগ্রহ ছিল। তাঁর বাবা ছিলেন একজন পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক ও অপেশাদার পিয়ানোবাদক, যিনি ছোটোবেলা থেকেই সাখারভের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শৈশব থেকেই সাখারভ বই পড়তে এবং জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয় নিয়ে ভাবতে ভালোবাসতেন।

👨‍🏫শিক্ষাজীবন:

তিনি Moscow State University থেকে পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দেশজুড়ে অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিজের পড়াশোনা ও গবেষণা চালিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাঁর অসাধারণ বিশ্লেষণী ক্ষমতা শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং খুব অল্প বয়সেই তিনি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন।

👤কর্মজীবন ও গবেষণা:

১৯৪৮ সালে সাখারভ সোভিয়েত তাপ-পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে যোগ দেন। সে সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শীতল যুদ্ধ চলছিল এবং পারমাণবিক শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা তুঙ্গে ছিল। এই কর্মসূচিতে কাজ করতে গিয়েই তিনি প্রথম সোভিয়েত হাইড্রোজেন বোমার নকশা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর উদ্ভাবিত “Layer Cake Design” সোভিয়েত পারমাণবিক প্রযুক্তিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয় এবং পরবর্তীতে তাঁকে “Father of the Soviet Hydrogen Bomb” হিসেবেও পরিচিতি এনে দেয়।

💥তবে সময়ের সাথে সাথে পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহ ধ্বংসক্ষমতা এবং তেজস্ক্রিয় বিকিরণের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিতে শুরু করে। বিশেষ করে কার্বন-১৪ এর প্রভাব নিয়ে তাঁর গবেষণা তাঁকে উপলব্ধি করায় যে, এই অস্ত্র মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ হুমকি হতে পারে। এরপর থেকেই তিনি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, শান্তি এবং মানবাধিকারের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলা শুরু করেন।

🌍১৯৬৮ সালে তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ “Reflections on Progress, Peaceful Coexistence, and Intellectual Freedom” প্রকাশিত হয়। এই লেখায় তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তচিন্তা এবং মানবাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রবন্ধটি গোপনে পশ্চিমা বিশ্বে পৌঁছে যায় এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এর পর থেকেই তিনি সোভিয়েত সরকারের কড়া নজরদারির মধ্যে চলে আসেন।

🏆অর্জন ও সম্মাননা:

🏅Nobel Peace Prize (১৯৭৫),

🏅সোভিয়েত বিজ্ঞান একাডেমির সদস্যপদ,

🏅পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও মানবাধিকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি,

মানবাধিকার এবং শান্তির পক্ষে সাহসী ভূমিকার জন্য ১৯৭৫ সালে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তবে সোভিয়েত সরকার তাঁকে অসলোতে গিয়ে সেই পুরস্কার গ্রহণ করতে দেয়নি। পরবর্তীতে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের প্রকাশ্য সমালোচনা করায় তাঁকে গোর্কি শহরে নির্বাসনে পাঠানো হয়। সেখানে বছরের পর বছর তিনি কঠোর নজরদারির মধ্যে ছিলেন, তবুও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

🪦মৃত্যু:

১৯৮৬ সালে মিখাইল গর্বাচেভের আমন্ত্রণে তিনি মস্কোতে ফিরে আসেন এবং সোভিয়েত রাজনৈতিক সংস্কারে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। অবশেষে ১৯৮৯ সালের ১৪ই ডিসেম্বর তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তবে স্বাধীন চিন্তা, মানবতা এবং নৈতিক সাহসের প্রতীক হিসেবে তাঁর উত্তরাধিকার আজও বিশ্বজুড়ে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছে।

🍂আজ এই মহান বিজ্ঞানীর জন্মবার্ষিকীতে চিটাগং ইউনিভার্সিটি সায়েন্টিফিক সোসাইটি তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে।

📝Content Credit:

🖋️Written By:

Antor Hossain
General Member, CUSS
Team: Stripe Dominators
Department of Applied Chemistry and Chemical Engineering
Session: 2024-2025

‎🖼️ Poster Credit:

Tama Bhowmik
Office Executive, CUSS
Department of Botany
Session: 2021-2022

 ✨"The heart of science is measurement"                - Erik Brynjolfsson.✨⏲️"আপনি কি জানেন, পৃথিবীর সবচেয়ে নিখুঁত গোলক...
20/05/2026



✨"The heart of science is measurement"
- Erik Brynjolfsson.✨

⏲️"আপনি কি জানেন, পৃথিবীর সবচেয়ে নিখুঁত গোলকটি (Sphere) তৈরি করা হয়েছে কেবল 'এক কেজির' ওজন কতটা নিখুঁত হতে পারে তা নির্ধারণ করতে? মেট্রোলজি কেবল মাপামাপি নয়, এটি নিখুঁত হওয়ার এক অবিশ্বাস্য উন্মাদনা।

2️⃣0️⃣আজ ২০শে মে,২০২৬ ইং; রোজ বুধবার। বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে "বিশ্ব পরিমাপবিদ্যা দিবস (World Metrology Day)"।

📜দিবসটির এবছরের প্রতিপাদ্য হলো, "পরিমাপবিদ্যা : নীতি নির্ধারণে আস্থা নির্মাণ"।
পরিমাপ সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি। বাণিজ্য ও উদ্ভাবন থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্য ও উদীয়মান প্রযুক্তি পর্যন্ত, নির্ভরযোগ্য পরিমাপ সেই প্রমাণ-ভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করে যার ওপর সুচিন্তিত নীতি এবং জনআস্থা নির্ভর করে।

📐পরিমাপবিজ্ঞান হলো পরিমাপের বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন। এর মাধ্যমে আমরা একক এবং পরিমাপ যন্ত্রের জন্য সাধারণ মান নির্ধারণ করতে পারি। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বৈজ্ঞানিক প্রয়োগের জন্য নির্ভুল ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিমাপ অপরিহার্য।

⁉️কেন পালন করা হয় এই দিবস?

বিশ্ব পরিমাপবিদ্যা দিবস আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পরিমাপ বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে। জিপিএস নেভিগেশন থেকে শুরু করে চিকিৎসাগত ডোজ এবং নির্মাণ নিরাপত্তা পর্যন্ত, পরিমাপবিদ্যা বিশ্বজুড়ে সামঞ্জস্য ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে। মেট্রিক পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী সহযোগিতাকে সম্ভব করে তোলে। সুদানের একজন স্থপতি একই মান ব্যবহার করে মেক্সিকোর জন্য নকশা করতে পারেন।
এই দিবসটি জীবনযাত্রার মান এবং পরিবেশ সংরক্ষণে পরিমাপবিদ্যার প্রভাবকে তুলে ধরে, যা একটি উন্নততর বিশ্বের জন্য বিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধনে ইউনেস্কোর লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

🕰️দিবসটির ইতিহাস:

বিশ্ব পরিমাপবিদ্যা দিবস ১৮৭৫ সালের ২০শে মে সতেরোটি দেশের প্রতিনিধিদের দ্বারা মিটার কনভেনশনে স্বাক্ষরকে স্মরণ করে। এই কনভেনশনটি দ্বিতীয় প্রাচীনতম আন্তঃসরকারি চুক্তি ব্যবস্থা এবং এটি নির্ভুল, সঠিক ও শনাক্তযোগ্য পরিমাপের জন্য একটি বৈশ্বিক পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠায় ১৩০ বছরের অর্জন ও সাফল্যের ভিত্তি স্থাপন করেছে। মিটার কনভেনশনের মূল লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী পরিমাপের অভিন্নতা ১৮৭৫ সালের মতোই আজও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই কনভেনশনের কাজ এখন আরও অনেক আন্তর্জাতিক পরিমাপ মান পর্যন্ত বিস্তৃত, এবং জৈবিক মান ও ন্যানোপ্রযুক্তির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর প্রভাব অনুভূত হচ্ছে। মিটার কনভেনশনের অবদানের সম্মানে, ১৯৯৯ সালের অক্টোবরে ২১তম সিজিপিএম ২০শে মে-কে "বিশ্ব পরিমাপবিদ্যা দিবস" হিসেবে ঘোষণা করে, যা তখন থেকে প্রতি বছর উদ্‌যাপিত হয়ে আসছে।

🏛২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত ৪২তম সাধারণ সম্মেলনে গৃহীত একটি প্রস্তাব অনুসারে, ইউনেস্কো ২০২৪ সালে প্রথম বিশ্ব পরিমাপবিদ্যা দিবস উদ্‌যাপন করে। প্রতিবছর ৫০টিরও বেশি দেশে জাতীয় পরিমাপবিদ্যা প্রতিষ্ঠান, আইনি পরিমাপবিদ্যা সংস্থা, আঞ্চলিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই দিবসটি উদ্‌যাপন করে।

🌍বিশ্বব্যাপী উদ্‌যাপন:

বিশ্ব পরিমাপবিদ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে, ইউনেস্কো, বিআইপিএম-এর সহযোগিতায়, ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক দশক’-এর কাঠামোর অধীনে ২০ মে ২০২৬ তারিখে দুপুর ১ : ০০টা থেকে দুপুর ২ : ৩০টা (প্যারিস সময়) পর্যন্ত একটি ভার্চুয়াল ওয়েবিনারের আয়োজন করছে। ২০২৬ সালের ২১ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ইতালির নেপলসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বিশ্বজুড়ে পরিমাপবিদ্যা পেশাজীবী, গবেষক এবং শিল্পপতিরা আলোচনায় অংশ নিতে, কর্মশালায় যোগ দিতে এবং পরিমাপ বিজ্ঞানের সর্বশেষ উদ্ভাবনগুলো সম্পর্কে জানতে একত্রিত হচ্ছেন।

🧩বাংলাদেশে দিবসটি উদ্‌যাপন:

দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় মান সংস্থা, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), ওজন ও পরিমাপের নির্ভুলতা নিশ্চিতকরণ, মেট্রিক পদ্ধতি বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতির (এসআই) প্রসার এবং দেশজুড়ে আইনি পরিমাপবিদ্যা বিধিমালা প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিএসটিআই-এর জাতীয় পরিমাপবিদ্যা পরীক্ষাগার দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প ও বাণিজ্য খাতকে সহায়তা করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্তযোগ্য ক্রমাঙ্কন পরিষেবা প্রদান করে এবং জাতীয় পরিমাপ মান সংরক্ষণ করে।
সংস্থাটি বলেছে, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের গুণমান নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য মান নির্ধারণ, পরিমাপবিদ্যা, পরীক্ষা এবং স্বীকৃতির ওপর ভিত্তি করে একটি শক্তিশালী জাতীয় গুণমান পরিকাঠামো (এনকিউআই) অপরিহার্য।
দিবসটি উপলক্ষ্যে বিএসটিআই তার সদর দপ্তর, আঞ্চলিক ও জেলা কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে সেমিনার, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং প্রচারমূলক কার্যক্রমসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

⚙️"নির্ভুল পরিমাপ কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, এটি একটি পণ্যের গুণমান এবং আমাদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি। আসুন, বিশ্ব পরিমাপবিদ্যা দিবসে আমরা আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ও নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে একটি উন্নত ও মানসম্মত ভবিষ্যৎ গড়ি।"

📝Content Credit:

🖋️Written by:

Apra Noorain Sowkat
Assistant Publication Secretary, CUSS
Department of Applied Chemistry & Chemical Engineering
Session: 2022-2023

‎🖼️ Poster Credit:

Sumaiya Chowdhury
Research & Development Executive, CUSS
Department of Physics
Session: 2023-2024

🎉আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্টিফিক সোসাইটির সম্মানিত সভাপতি প্রতীক দত্ত-এর জন্মদিন।🎉🌟আপনার দূরদর্শী নেতৃত্ব, অদম্...
19/05/2026

🎉আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্টিফিক সোসাইটির সম্মানিত সভাপতি প্রতীক দত্ত-এর জন্মদিন।🎉

🌟আপনার দূরদর্শী নেতৃত্ব, অদম্য মেধা আর নিরলস শ্রমের মাধ্যমেই সিইউএসএস আজ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। সংগঠনের প্রতি আপনার নিষ্ঠা এবং প্রতিটি কাজে সঠিক দিকনির্দেশনা আমাদের জন্য কেবল অনুপ্রেরণাই নয়, বরং এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।

✨আপনার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় হোক সাফল্যমণ্ডিত, স্বপ্নপূরণের পথে আসুক নতুন সম্ভাবনার আলো।

💐চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্টিফিক সোসাইটির পক্ষ থেকে আপনাকে জানাই জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

🎊শুভ জন্মদিন, প্রিয় সভাপতি।🎊

‎ ‎‎✨একটা ভুল নাম শুধু বিভ্রান্তি নয়, বন্ধ করে দেয় লক্ষ লক্ষ মানুষের সঠিক চিকিৎসার পথ।✨‎🧩একটি রোগ যেখানে অনেক রোগীর ওভার...
18/05/2026



‎✨একটা ভুল নাম শুধু বিভ্রান্তি নয়, বন্ধ করে দেয় লক্ষ লক্ষ মানুষের সঠিক চিকিৎসার পথ।✨

🧩একটি রোগ যেখানে অনেক রোগীর ওভারিতে নেই কোনো 'সিস্ট' কিন্তু রোগের নাম দেওয়া হয়েছে 'পলিসিস্টিক'। বছরের পর বছর এই নামের কারণে তৈরি হয়েছে ভ্রান্ত ধারণা, বহু নারী শিকার হয়েছেন ভুল চিকিৎসা এমনকি সামাজিক কলঙ্কের ও। তাহলে কি বিজ্ঞান এতদিন ঘুমিয়ে ছিল? নাকি এই ভুল নামের পিছনে রয়েছে কোনো গভীর সত্য?

‎🔎২০২৬ সালের মে মাসে বিশ্বের চিকিৎসাবিজ্ঞান জগতে পরিচিত রোগ Polycystic O***y Syndrome বা PCOS-এর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন নাম হয়েছে Polyendocrine Metabolic Ovarian Syndrome বা সংক্ষেপে PMOS। প্রথমে মনে হতে পারে C-এর জায়গায় এসেছে M। কিন্তু এই একটি পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে ১১ বছরের গবেষণা, ২২,০০০ মানুষের মতামত এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশাল দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।

‎🧬PMOS আসলে কি?

‎PCOS নামটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা তৈরি করত যা PMOS (Polyendocrine Metabolic Ovarian Syndrome) সঠিকভাবে তুলে ধরে।
‎Poly + Endocrine- শুধু ওভারি নয়, ইনসুলিন, অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) এবং নিউরোএন্ডোক্রাইন পথ সবগুলো একসাথে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
‎Metabolic- এই রোগে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স একটি কেন্দ্রীয় সমস্যা। শরীর ইনসুলিমের মাত্রা বেড়ে ওভারিকে অতিরিক্ত পুরুষ হরমোন (অ্যান্ড্রোজেন) তৈরি করতে উদ্বুদ্ধ করে, যা ডিম্বস্ফোটনে বাধা দেয় এবং ব্রণ, অতিরিক্ত লোম, ওজন বৃদ্ধিসহ নানা উপসর্গ তৈরি করে।
‎Ovarian - অনিয়মিত মাসিক, ডিম্বস্ফোটনে সমস্যা এবং বন্ধ্যাত্ব এই রোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
‎PMOS হলো শরীরের হরমোনাল বার্তাবাহক ব্যবস্থার একটি জটিল বিশৃঙ্খলা, যা একসাথে মাসিক চক্র, ত্বক, ওজন, বিপাকক্রিয়া, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে।

‎🔬গবেষণামূলক তথ্য:

‎অস্ট্রেলিয়ার Monash University-র অধ্যাপক Helena Teede-এর নেতৃত্বে ৫৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থার একটি The Lancet-এ প্রকাশিত গবেষণায় নিশ্চিত হয়েছে, PMOS আক্রান্তদের প্রায় ৮৫ শতাংশের মধ্যে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বিদ্যমান এমনকি যাদের ওজন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, তাদের মধ্যেও। প্রায় ২৫ টি ভিন্ন জিনগত অবস্থান এর সাথে জড়িত।

‎🛡️এই নামকরণ পরিবর্তনে চিকিৎসকেরা শুধু ওভারি নয়, রোগীর সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দেবেন। আগামী তিন বছরে ১৯৫টি দেশে চিকিৎসাবিধি আপডেট হবে ও লক্ষ লক্ষ নারী পাবেন সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা।

✳️"ওভারির সিস্টের সমস্যা" হিসেবেই পরিচিত থাকলে ওভারিতে যাদের সিস্ট নেই, তারা আজীবন শনাক্তই হতেন না। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ উপেক্ষিত থাকত, আর রোগের মূল কারণ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সম্পর্কে মানুষের অজানা থাকতো।

🌍বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট:

‎PMOS এ বিশ্বে প্রতি ৮ জনে ১ জন নারী আক্রান্ত, মোট সংখ্যা ১৭ কোটিরও বেশি। তবুও WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের প্রায় ৭০ শতাংশ জানেনই না যে তাদের এই রোগ আছে। বাংলাদেশেও সচেতনতার অভাব, সামাজিক লজ্জা ও অপ্রতুল স্ক্রিনিংয়ের কারণে বহু নারী বছরের পর বছর চুপচাপ এই রোগ বহন করে চলেন জানা অজানাতে। সঠিক নামকরম খুলে দিতে পারে সচেনতনার নতুন দরজা।

‎🚨সতর্কতা:

‎PMOS রোগীদের দীর্ঘমেয়াদে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। উপসর্গ দেখা দিলে শুধু গাইনোকোলজিস্ট নয়, এন্ডোক্রিনোলজিস্টের পরামর্শও নেওয়া জরুরি। নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

‎🔰PCOS থেকে PMOS মাত্র একটি অক্ষরের পরিবর্তন হলেও এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী স্বীকারোক্তি। এই নাম ঘোষণা করছে এই রোগটি জটিল, বহুমাত্রিক এবং সামগ্রিক মনোযোগের দাবিদার। বিজ্ঞান নিজের ভুল স্বীকার করে রোগ ও রোগীর প্রতি আমাদের সতর্ক হতে বলছে।

‎📝 Content Credit:

🖋️Written by:

Ainun Nowar
‎Publication Executive, CUSS
‎Department of Physics
‎Session: 2023-2024

‎🖼️ Poster Credit:

Arpita Paul Arpa
Assistant IT Secretary, CUSS
Department of Geography and Environmental Studies
Session: 2021-2022

 ✨“The joy I felt at the prospect before me of being the instrument destined to take away from the world one of its grea...
17/05/2026



✨“The joy I felt at the prospect before me of being the instrument destined to take away from the world one of its greatest calamities... was so excessive that I sometimes found myself in a kind of reverie.”
-Edward Jenner✨

🦠মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ানক ও প্রাণঘাতী শত্রু কোনো যুদ্ধ বা অস্ত্র ছিল না, তা ছিল গুটিবসন্ত বা 'স্মলপক্স' (Smallpox)। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যে মহামারি লাখ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, তার বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এক অদম্য চিকিৎসক। কোনো আধুনিক ল্যাবরেটরি বা উন্নত প্রযুক্তি ছাড়াই, কেবল তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আর অসীম সাহস পুঁজি করে তিনি আবিষ্কার করেছিলেন ইতিহাসের প্রথম সফল প্রতিষেধক। তিনি আর কেউ নন, রোগপ্রতিরোধ বিজ্ঞানের জনক (Father of Immunology) এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের মহিরুহ ড. এডওয়ার্ড জেনার। যাঁর হাত ধরে পৃথিবী প্রথম শিখেছিল কীভাবে ভ্যাকসিনের মাধ্যমে মহামারি জয় করতে হয়।

1️⃣7️⃣আজ ১৭ই মে, ২০২৬ ইং; রোজ রবিবার। ব্রিটিশ চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের প্রাণ রক্ষাকারী ভ্যাকসিন বা টিকার আবিষ্কারক এডওয়ার্ড জেনার-এর ২৭৭তম জন্মদিন।

👶এডওয়ার্ড জেনার ১৭৪৯ সালের ১৭ই মে ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারের বার্কলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সে একজন স্থানীয় সার্জনের অধীনে চিকিৎসাবিদ্যার প্রাথমিক শিক্ষা (Apprenticeship) শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৭৭০ সালে তিনি লন্ডনের সেন্ট জর্জ হাসপাতালে প্রখ্যাত সার্জন জন হান্টারের অধীনে উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা লাভ করেন। হান্টারের একটি বিখ্যাত উপদেশ, "Don't think; try" (শুধু চিন্তা করো না; পরীক্ষা করে দেখো) জেনারের বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

💫১৭৭৩ সালে জেনার তাঁর নিজ গ্রামে ফিরে এসে একজন সফল সাধারণ চিকিৎসক (GP) হিসেবে কাজ শুরু করেন। গ্রামীণ পরিবেশে কাজ করার সময়ই তিনি লক্ষ্য করেন, ডেইরি ফার্মে কাজ করা গোয়ালিনীরা (Milkmaids) প্রায়ই 'কাউপক্স' বা গো বসন্তে আক্রান্ত হতো, কিন্তু তারা কখনোই মারাত্মক গুটিবসন্তে (Smallpox) আক্রান্ত হতো না। গ্রামীণ এই বিশ্বাসকে সাধারণ লোককথা ভেবে উড়িয়ে না দিয়ে, জেনার একে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মুখোমুখি করার সিদ্ধান্ত নেন।

🚀১৭৯৬ সালের ১৪ই মে জেনার এক ঐতিহাসিক ও ঝুঁকিপূর্ণ পরীক্ষা চালান। তিনি সারাহ নেলমস নামের এক গোয়ালিনীর হাতের কাউপক্সের ক্ষত থেকে পুঁজ নিয়ে জেমস ফিপস নামের এক আট বছর বয়সী সুস্থ বালকের শরীরে প্রবেশ করান। বালকটি সামান্য জ্বরে আক্রান্ত হলেও দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। এরপর জুলাই মাসে জেনার সেই বালকের শরীরে সরাসরি মারাত্মক গুটিবসন্তের (Smallpox) জীবাণু প্রবেশ করান। অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ও সফলভাবে বালকটির শরীরে কোনো রোগ লক্ষণ দেখা যায়নি, অর্থাৎ সে গুটিবসন্ত প্রতিরোধী হয়ে উঠেছিল। লাতিন শব্দ 'V***a' (যার অর্থ গাভী) থেকে জেনার এই পদ্ধতির নাম দেন 'Vaccination' বা টিকাদান।

🌠জেনারের এই আবিষ্কার চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে। শুরুর দিকে বিজ্ঞানী সমাজ তাঁর এই তত্ত্বকে কিছুটা সন্দেহের চোখে দেখলেও, দ্রুতই এর কার্যকারিতা বিশ্বজুড়ে প্রমাণিত হয়। তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করেই ১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পৃথিবীকে সম্পূর্ণভাবে 'গুটিবসন্ত মুক্ত' ঘোষণা করতে সক্ষম হয়, যা মানব ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন।

🌌ড. জেনার একজন প্রকৃত মানবতাবাদী ছিলেন। তিনি তাঁর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের কোনো পেটেন্ট (Patent) নেননি বা এটি থেকে কোনো বাণিজ্যিক লাভ করতে চাননি। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর আবিষ্কৃত টিকা যেন পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের মানুষের কাছে বিনামূল্যে পৌঁছায়। এমনকি তিনি তাঁর বাড়ির বাগানে একটি ছোট কুটির তৈরি করেছিলেন, যা 'টেম্পল অফ ভ্যাকসিনিয়া' (Temple of Vaccinia) নামে পরিচিত ছিল, যেখানে তিনি নিজে দরিদ্র গ্রামবাসীদের বিনামূল্যে টিকা দিতেন।

🏅তিনি তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য জীবদ্দশায় এবং মরণোত্তর অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে,
🔹রয়্যাল সোসাইটির ফেলোশিপ (FRS) (১৭৮৯),
🔹আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস-এর ফরেন অনারারি মেম্বার (১৮০২),
🔹রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর ফরেন মেম্বার (১৮০৬)।
এছাড়াও লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার এবং কেনসিংটন গার্ডেন্সে তাঁর ভাস্কর্য স্থাপন করে এই মহান বিজ্ঞানীকে সম্মান জানানো হয়েছে।

🔆এডওয়ার্ড জেনার প্রমাণ করে গেছেন যে, মানবকল্যাণের জন্য কৌতূহল ও পর্যবেক্ষণ কত বড় শক্তি হতে পারে। আজ বিশ্বজুড়ে করোনা, পোলিও বা বিসিজির যে ভ্যাকসিন আমরা ব্যবহার করছি, তার মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তিনিই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর বার্তা স্পষ্ট, প্রকৃতির মাঝেই লুকিয়ে আছে সব সমস্যার সমাধান, প্রয়োজন শুধু তা খুঁজে নেওয়ার সঠিক ও নিঃস্বার্থ প্রয়াস।

📝Content Credit:

🖋️Written by:

Rizia Sultana Rispa
International Affairs Executive, CUSS
Department of Botany
Session: 2021-2022

‎🖼️ Poster Credit:

Shoburna Bhowmik
IT Executive, CUSS
Department of Oceanography
Session: 2022-2023

‎ ‎✨‎"Mathematical Analysis is as extensive as nature herself."       ‎                                                 ...
16/05/2026



✨‎"Mathematical Analysis is as extensive as nature herself."

-Joseph Fourier✨

‎⁉️ কখনও কি ভেবে দেখেছেন বর্তমানে যে আর্টিক্যালটি পড়ছেন, যেকোনো পছন্দের গান শুনছেন বা ছবি তুলছেন তার পিছনের সিগন্যাল গুলো কিভাবে কাজ করে? প্রায় ২০০ বছর আগে বিজ্ঞানী জোসেফ ফুরিয়ার আমাদের কে উপহার দেন বিখ্যাত "ফুরিয়ার সিরিজ" যার মাধ্যমে এই সিগন্যাল সমূহ কাজ করে।

‎1️⃣6️⃣আজ ১৬ই মে, ২০২৬; রোজ শনিবার। মহান ফরাসি গণিতবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী জোসেফ ফুরিয়ার এর ১৯৬তম মৃত্যুবার্ষিকী।

‎💠শৈশব ও জন্ম:
‎১৭৬৮ সালের ২১শে মার্চ ফ্রান্সের অক্সের শহরে এক দর্জির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন জোসেফ ফুরিয়ার। অল্প বয়সেই পিতামাতাকে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়েন। তীব্র জ্ঞানতৃষ্ণার ফলে মোমবাতির গলিত মোম সংগ্রহ করে রাতের আঁধারে গণিতচর্চা করতেন।

‎🏛️কর্মজীবন:
বিপ্লবের সময়ে রাজনীতিতে জড়িয়ে একবার গিলোটিনে মৃত্যুর মুখোমুখি হলেও সৌভাগ্যক্রমে রক্ষা পান। ১৭৯৮ সালে নেপোলিয়নের মিশর অভিযানে বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হন এবং কায়রো ইনস্টিটিউটের সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করেন।

‎🔷 পরীক্ষা-নিরীক্ষার অজানা তথ্য:
‎ফুরিয়ার ছিলেন তাপের প্রতি রীতিমতো বিমুগ্ধ। মিশর সফরে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গরমকালেও তিনি তাঁর ঘর উত্তপ্ত রেখে চলতেন। তাপ পরিবাহিতার যুগান্তকারী গাণিতিক তত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন।

‎✳️তিনিই প্রথম আমাদের ধারণা দেন গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার। এমআরআই স্ক্যান থেকে মোবাইল সংকেত সকল প্রযুক্তিতে রয়েছে তাঁর বিচরণ।

‎📜প্রকাশনা:
‎১৮২২ সালে প্রকাশিত 'Théorie analytique de la chaleur' গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি মাইলফলক।

‎🏆অর্জন:
🔸১৮১২ সালে ফরাসি আকাদেমির গ্র‍্যান্ড প্রাইজ।
🔸১৮২২ সালে ফরাসি আকাদেমির স্থায়ী সম্পাদক পদ লাভ করেন।
‎🔸প্যারিসের আইফেল টাওয়ারে খোদাই করা ৭২ জন বিজ্ঞানীর মধ্যে জোসেফ ফুরিয়ার এর নামও রয়েছে।

‎🪦মৃত্যু:
‎১৮৩০ সালের ৪ঠা মে সিঁড়ি থেকে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হন এবং ১৬ই মে প্যারিসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্যারিসের পের লাশেজ সমাধিক্ষেত্রে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।


‎🍂 আজ ১৬ই মে, এই মহান বিজ্ঞানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে চিটাগং ইউনিভার্সিটি সায়েন্টিফিক সোসাইটি(CUSS) গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।

‎📝 Content Credit:

🖋️Written By:
Ainun Nowar
‎Publication Executive, CUSS
‎Department of Physics
‎Session: 2023-2024

‎🖼️ Poster Credit:
Shoburna Bhowmik
IT Executive, CUSS
Department of Oceanography
Session : 2022-2023

Address

University Of Chittagong
Chittagong
4331

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Chittagong University Scientific Society posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Chittagong University Scientific Society:

Share