14/05/2026
মেশিনের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ডান হাতের আঙুলগুলো পুরোপুরি পিষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সাথে ছিল মারাত্মক ফোর্থ-ডিগ্রি বার্ন । অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, আঙুলগুলো পুরোপুরি কেটে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। কিন্তু রেহোভোট শহরের কাপলান হাসপাতালের সার্জনরা একটি সিদ্ধান্ত নিলেন।
আঙুলগুলো কেটে না ফেলে, চিকিৎসকরা ছেলেটির পেটের অংশে একটি 'পকেট' বা থলির মতো তৈরি করেন। এরপর সেই পিষ্ট হয়ে যাওয়া মৃতপ্রায় আঙুলগুলো পেটের ভেতর ঢুকিয়ে সেলাই করে দেওয়া হয়।
যখন শরীরের কোনো অঙ্গ মারাত্মকভাবে থেঁতলে যায়, তখন সেখানে রক্ত চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে টিস্যুগুলো পচতে শুরু করে। পেটের চামড়ার নিচে প্রচুর সুস্থ রক্তনালী থাকে। আঙুলগুলোকে পেটের ভেতর আটকে রাখলে, পেটের সুস্থ টিস্যু থেকে নতুন রক্তনালী তৈরি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আঙুলে প্রবেশ করে। একে বলা হয় 'ব্লাড সাপ্লাই' বা রক্তপ্রবাহ সচল রাখা। এর ফলে মৃতপ্রায় আঙুলগুলো পুষ্টি ও অক্সিজেন পেয়ে আবার বেঁচে ওঠে এবং বাইরের ইনফেকশনের হাত থেকেও রক্ষা পায়।
এভাবে পুরো এক মাস আঙুলগুলো তার পেটের সাথে যুক্ত ছিল!
টিস্যুগুলো যখন নিজেরা বাঁচার মতো যথেষ্ট সুস্থ হয়ে ওঠে, তখন আরেকটি ফলো-আপ সার্জারির মাধ্যমে সেগুলোকে পেট থেকে আলাদা করা হয়। এই সার্জারির পর যুবকটি তার ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি আঙুলের প্রায় সম্পূর্ণ নড়াচড়া ফিরে পেয়েছেন!
যেখানে আঙুলগুলো চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে চিকিৎসকদের বুদ্ধি আর বিজ্ঞানের বদৌলতে ছেলেটি ফিরে পেয়েছিলেন তার হাত।