18/04/2024
আপনার বিপদ ঝামেলা মুসিবত যত বড়, তার অর্থ- আল্লাহর দয়ায় আপনি ওই পরিমাণ মুসিবত সামাল দেওয়ার মত যোগ্যতা শক্তি উপযুক্ততা অর্জন করে নিয়েছেন। সেই ক্ষমতা রব আপনার মাঝে দিয়েছেন। আর সেই মুসিবতের সফলতার দরজা খুলে, অন্তর থেকে ধৈর্য, সহ্য, স্থিরতা ও শুকরিয়া আদায়ের মধ্য দিয়ে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:---আল্লাহ তায়ালা কারো উপর এমন কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না, যা তার সাধ্যের বাহিরে। - সূরা বাকারা ২৮৬
আর আমাদের জীবনের বেশীর ভাগ দুঃখ কষ্ট ঝামেলার জন্য মূলত আমরা নিজেরাই দায়ী। নিজেদের কর্ম দিয়ে নিজেরাই বিপদ ডেকে আনি।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:-
নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনো জুলুম করেন না, বরং মানুষই নিজেদের কর্ম দিয়ে নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করে থাকে। (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৪৪)
বরং আল্লাহ তায়ালা, আমাদেরকে উল্টো দয়া করে,
দুঃখ বিপদ কষ্ট মুসিবতের সাথে মোকাবিলা করতে দিয়ে যেমন দুনিয়ায় ঠিকে থাকার জন্য আরো উপযুক্ত শক্তিশালী করে দিচ্ছেন, পক্ষান্তরে বিপদে কষ্টে রবের প্রতি সন্তুষ্টির সাথে ধৈর্য ধারণ করার বদৌলতে জাহান্নামের ভয়াবহ কঠিন শাস্তি থেকে বাচানোর ব্যবস্থা করে গুনাহ ক্ষমার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন।
আল্লাহর হাবীব নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:-
মুমিন বান্দা যে ধরনের কষ্ট মুসিবত বিপদেই আক্রান্ত হোক না কেন, এমনকি কাঁটা ফুটলেও এর বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা একটি নেকি দেন এবং একটি গোনাহ মাফ করে দেন। ( মুসনাদে আহমাদ)
আমরা যতই অস্থির হয়ে যায়, ততই ভেঙে পড়ি। নিরাশ হয় ভরসা হারিয়ে ফেলি, ভয় পেয়ে যাই, জীবন শেষ ভাবতে থাকি। ফলে জীবন অশান্তি হতে থাকে। আর এই অস্থিরতা নিরাশা আসে শয়তানের পক্ষ থেকেই। কারন সে চায় না কোন বান্দা ধৈর্যের পরীক্ষায় সফল হয়ে রবের প্রিয় হোক।
দুই জগতের আসল সফলতা সে সৌভাগ্যবানের জন্যই,
যার পক্ষে থাকবে রবের সন্তুষ্টি। আর রবের সন্তুষ্টি পাওয়ার অন্যতম এক মাধ্যম ধৈর্য। আর ধৈর্য ধারণকারীর সাফল্য সুনিশ্চিত।
আল্লাহ তাআলা বলেন:-
নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।
(বাকারা, আয়াত: ১৫৩)।
যে কোন পরিস্থিতিতে,
চুপ করে হাসি মুখে রবের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আপনি পারবেন অবশ্যই পারবেন, কারণ আপনার সাথে আপনার রবের রহমত আছে।
জীবন যতদিন আছে, ভিন্ন-ভিন্ন সমস্যা থাকবেই।
কারণ এইটা দুনিয়া, জান্নাত নয়।
মহসীন ভাই এর ওয়াল থেকে-