13/07/2026
ভাবা যায়?
সাহস আছে আপনার এত বিপদের সম্মুখীন হতে?
১৯৯১ সালের ২৪ মে; ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবা থেকে ই*স*রা*য়ে*লের উদ্দেশে আকাশে ওড়ে এল আলের একটি বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজ। সেই একটি ফ্লাইটে ছিলেন ১,০৮৮ জন যাত্রী!
বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে একসঙ্গে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ বহনের গিনেস স্বীকৃত রেকর্ড এখনও এই ফ্লাইটের দখলে। আর অবিশ্বাস্যভাবে, যাত্রাপথে উড়োজাহাজটির ভেতরেই দুই শিশুর জন্ম হয়েছিল!
এই ঐতিহাসিক ফ্লাইট ছিল গোপন জরুরি উদ্ধার অভিযান ‘অপারেশন সলোমন’-এর অংশ।
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের মধ্যে বিদ্রোহী বাহিনী যখন ইথিওপিয়ার রাজধানীর দিকে এগিয়ে আসছিল, তখন ইথিওপীয় ই/হু/দিদের দ্রুত নিরাপদে সরিয়ে নিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মাত্র ৩৬ ঘণ্টায় একের পর এক কয়েক ডজন ফ্লাইটের মাধ্যমে ১৪,৩০০ জনের বেশি ইথিওপীয় ই/হু/দিকে নিরাপদে ই*স*রা*য়ে*লে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে উড়োজাহাজে জায়গা দিতে খুলে ফেলা হয়েছিল আসন। উদ্ধার হওয়া অনেকের সঙ্গে ছিল খুব সামান্য জিনিসপত্র। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ জীবনে প্রথমবারের মতো উড়োজাহাজে উঠেছিলেন।
প্রাথমিকভাবে পুরো অভিযান শেষ করতে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই সেটি সম্পন্ন হয়।
তবে রেকর্ড গড়া সেই বোয়িং ৭৪৭-এ ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন, তা নিয়ে এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সরকারি নথিতে যাত্রীর সংখ্যা ১,০৮৮ জন উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উড়োজাহাজটির পাইলট পরে স্মৃতিচারণ করে জানান, আবার গণনা করার পর ১,১২২ জনকে পাওয়া গিয়েছিল।
কারণ, কয়েকজন মা নিজেদের পোশাকের নিচে ছোট সন্তানদের লুকিয়ে উড়োজাহাজে উঠেছিলেন বলে পরে জানা যায়।
গিনেসের তথ্য অনুযায়ী, সে সময়ের বিভিন্ন হিসাবে ওই ফ্লাইটে যাত্রীর সংখ্যা ১,০৭৮ থেকে ১,১২২ জনের মধ্যে ছিল।
তবে সরকারি হিসাবে ১,০৮৮ যাত্রী নিয়ে সেই ফ্লাইট এখনও বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ বহনের এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড হয়ে আছে।