21/08/2017
নোকিয়া ৮ রিভিউ: ফার্স্ট ইম্প্রেশন
--------------------------------------------------------------------------------
এইচএমডি গ্লোবাল প্রযুক্তি বাজারে সম্প্রতি উন্মোচন করেছে বহুল প্রতীক্ষিত ডিভাইস ‘নোকিয়া ৮’! এইচএমডি গ্লোবালের জন্য স্মার্টফোনটি প্রস্তুত করেছে ফক্সকন এবং স্মার্টফোনটি তৈরিতে মূল প্রতিষ্ঠানটি চুক্তিবদ্ধ হয়েছে জেইস এবং গুগলের সাথেও। এইচএমডি গ্লোবাল নোকিয়ার নতুন পথপ্রদর্শক হিসেবে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে নোকিয়ার সেই হারিয়ে যাওয়া নির্ভরতা ফিরিয়ে আনতে, যেন নোকিয়া নামটির পরপরই পূর্বের মত ক্রমান্বয়ে কোয়ালিটি, সিম্পলিসিটি, ট্রাস্ট এবং রিলায়বিলিটি কথাগুলো চলে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তি বিশ্বকে প্রতিষ্ঠানটির উপহার এই ‘নোকিয়া ৮’ স্মার্ট ডিভাইসটি।
আপনারা যারা অনেক দিন ধরেই একটি ভালো মানের নির্ভরযোগ্য ক্যামেরা ফোন খুঁজে আসছিলেন, সম্ভবত নোকিয়া ৮-স্মার্টফোনটিই আপনাদের এই খোঁজের একটি চমৎকার ফলাফল। ডিভাইসটি জেইসের সাথে রিফর্মড পার্টনারশিপের প্রথম আউটপুট। এছাড়াও বর্তমানে নোকিয়ার রয়েছে নিজস্ব ক্যামেরা ডিভিশন, অজো (OZO), যা মূলত স্মার্টফোনের মাইক্রোফোন এবং ক্যাপচারিং অ্যালগোরিদমের জন্যেই প্রস্তুত করা হয়েছিল।
এইচএমডি প্রতিষ্ঠানের দেয়া বিবৃতির বেশ কিছু অংশ থেকে এটি সহজেই বোঝা যায় যে প্রতিষ্ঠানটি ‘নোকিয়া ৮’ স্মার্টফোনটিকে একটি নির্দিষ্টি লক্ষ্যের ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যেই তৈরি করতে চেষ্টা করেছে। নোকিয়া ৮-এর মূল টার্গেটেড ইউজার হচ্ছে মূলত সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং নিয়ে যারা কাজ করেন তারা, বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যেই ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করছেন বা, ভিডিও কনটেন্ট তৈরিতে আগ্রহী।
ডিভাইসটি ৪কে চলমান চিত্র ধারণে সক্ষম এবং মজার বিষয় হচ্ছে ডিভাইসটি ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই ইউটিউব বা ফেসবুকে ভিডিও স্ট্রিমিং করতে পারবেন। আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, ‘এতে মজার বা, নতুনত্বের কী আছে?’
ডিভাইসটিতে একটি ইউনিক ফিচার ব্যবহার করা হয়েছে যার সাহায্যে আপনি একই সাথে পেছন এবং সামনের ক্যামেরা ব্যবহার করে লাইভ স্ট্রিম করতে পারবেন। পিকচার-ইন-পিকচার নামের এই মোডটি আসলেই ভিডিও কনটেন্ট প্রস্তুতকারকদের বেশ উপকারে আসবে, বিশেষ করে ভ্লগারদের। কেননা এর সাহায্যে আপনি খুব সহজেই একটি গল্পের দুটো পিঠই দেখাতে পারছেন।
নোকিয়া ৮ স্মার্টফোনটি তৈরি করা হয়েছে অ্যালুমিনিয়াম এবং গ্লাসের সমন্বয়ে যা আইপি৫৪ রেজিস্টান্ট সমর্থন করে। এদিক থেকে অনেকেই ডিভাইসটির ড্র-ব্যাক হিসেবে এর ৫.৩ ইঞ্চি আকারের ডিসপ্লে ইউনিটের কথা বলতে পারেন, যেহেতু অন্যান্য স্মার্টফোন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসগুলোর ডিসপ্লের আকার সাধারণত ৫.৫” বা এর থেকে বড় হয়ে থাকে। তবে, যারা হিউজ ডিসপ্লে পছন্দ করেন না, তাদের জন্য নোকিয়া ৮ এর ডিসপ্লে আকারটি আদর্শই বলা চলে।
প্রতিষ্ঠানটি স্মার্টফোনটির চিপ সেট হিসেবে ব্যবহার করেছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগনের ৮৩৫ চিপ সেটটি এবং সফটওয়্যার হিসেবে বেছে নিয়েছে গুগলকে! সত্যিই এবার খেলা জমবে!
এক নজরে ডিভাইসটির স্পেসিফিকেশন দেখে নেয়া যাক
এক নজরে নোকিয়া ৮:
বডি – ৬০০০ সিরিজ অ্যালুমিনিয়াম, আইপি৫৪ স্প্ল্যাশ এবং ডাস্ট রেজিস্টান্ট
স্ক্রিন – ৫.৩ ইঞ্চি আইপিএস এলসিডি, কিউএইচডি রেজ্যুলেশন (৫৫৪ পিপিআই), ৭০০ নিটস ব্রাইটনেস, গরিলা গ্লাস ৫ এবং ‘অলওয়েস অন ডিসপ্লে’ ফিচার
অপারেটিং সিস্টেম – অ্যান্ড্রয়েড ৭.১ (স্টক)
প্ল্যাটফর্ম – স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ চিপসেট, ৪ গিগাবাইট র্যাম, ৬৪ গিগবাইট অন-বোর্ড স্টোরেজ এবং একটি মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট; এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা পলিশড ব্লু মডেলটির ক্ষেত্রে ৬ গিগাবাইটের র্যাম এবং ১২৮ গিগবাইট অন-বোর্ড স্টোরেজ পাবেন
মেইন ক্যামেরা – দুটি রিয়ার ক্যামেরা (কালার+ মনোক্রোম), জেইস লেন্স, অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন সুবিধা (কালার সেন্সরটির ক্ষেত্রে), লেজার এবং ফেজ ডিটেকশন অটোফোকাস, ডুয়েল-এলইডি ফ্ল্যাশ
সেলফি ক্যামেরা – ১৩ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ফেসিং শুট্যার, জেইস লেন্স, ফেজ ডিটেকশন অটোফোকাস
ভিডিও – ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা, ৩৬০ ডিগ্রী সাউন্ড ইউনিট (৩টি মাইক্রোফোন), পিকচার-ইন-পিকচার মোডের সাহায্যে একই সময়ে সামনের এবং পেছনের ক্যামেরা ব্যবহার করে ইউটিউব এবং ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিং সুবিধা
ব্যাটারি – ৩,০৯০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার, কুইক চার্জ ৩.০ প্রযুক্তি
অন্যান্য – ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার, আনলিমিটিটেড গুগল ফটো স্টোরেজ
হার্ডওয়্যার
-----------
নোকিয়া ৮ স্মার্টফোনটি পাওয়া যাবে পলিশড এবং মেট ফিনিশিং-এ। ডিভাইসটির পলিশড ব্লু এবং পলিশড কপার মডেল দুটিকে প্রায় ২০ ঘণ্টা সময় ধরে বেশ কিছু প্রসেসের মাধ্যমে তাদের হাই-গ্লসি মিরর ফিনিশিং লুক দেয়া হয়েছে। এমনকি ডিভাইসটির মেট স্টিল এবং টেম্পার্ড ব্লু ভার্সন দুটিকেও প্রায় ৪০-টি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়েছে ফাইনাল ফিনিশিং এর আগে।
ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬০০০ সিরিজের অ্যালুমিনিয়াম যার কারণে চমৎকার এই ফোনটিকে মাত্র ৭.৯ থিকনেসে আটকে রাখা সম্ভব হয়েছে। যদিও এই সিরিজের অ্যালুমিনিয়ামে পূর্বে ‘বেন্ড হয়ে যাওয়ার ইস্যু’ দেখা গেছে তবে প্রতিষ্ঠানটি এই ডিভাইসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছে রেডিয়াস কার্ভ প্রযুক্তির যা পূর্বের সমস্যাটিকে দূরভিত করবে সহজেই। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, এই বেঁকে যাওয়ার সমস্যা পাশ কাটাতে ইতোমধ্যেই স্যামসাং এবং অ্যাপল তাদের নতুন ডিভাইসগুলোতে ৭০০০ সিরিজের অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করা শুরু করেছে। তবে, এইচএমডি গ্লোবাল প্রতিষ্ঠানটি যখন এই চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়েই ডিভাইসটি প্রস্তুত করেছে, আশা করি তারা অবশ্যই বুঝেই তাদের এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করেছে। অবশ্যই প্রতিষ্ঠানটি এরকমই দাবী করছে; প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে নোকিয়া ৮ স্মার্টফোনটির বিল্ড কোয়ালিটি তাদের নোকিয়া ৬ ডিভাইসটির চাইতেও দ্বিগুণ শক্তিশালী।
নোকিয়া ৮ স্মার্টফোনটি নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার ডিজাইনের ডিভাইস। যদিও বর্তমানে স্মার্টফোন বিশ্বের নতুন ক্রেজ হিসেবে ব্যাজেল লেস স্মার্টফোনের চাহিদা বেড়েই চলছে তবে সেক্ষেত্রে নোকিয়ার নতুন ডিজাইন ল্যাংগুয়েজে ডিভাইসগুলোতে আছে টপ এবং বোটম ব্যাজেল সহ চমৎকার ক্লাসিক লুক যা এখনও বেশীরভাগ ব্যবহারকারীদের কাছে সমাদৃত।
ডিভাইসটির টপ ব্যাজেলে রয়েছে জেইস লেন্স এবং অটো ফোকাস সমৃদ্ধ একটি ১৩ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা। ফ্রন্ট ক্যামেরায় অন্ধকারে সেলফি তোলার জন্য কোন ফ্রন্ট ফেসিং ফ্ল্যাশের ব্যবহার করা হয়নি স্মার্টফোনটিতে তবে এর বেশ উজ্জ্বল স্ক্রিনের কারণে ‘স্ক্রিন ফ্ল্যাশ’ এক্ষেত্রে বেশ কিছুটা সহায়তা করবে।
স্মার্টফোনটির নিচের ব্যাজেলে রয়েছে একটি ফিঙ্গার প্রিন্ট রিডার এবং ক্যাপাসিটিভ টাচ কী। ডিভাইসটির সম্মুখভাগের নিরাপত্তায় অর্থাৎ, ডিসপ্লে নিরাপত্তায় এতে ব্যবহার করা হয়েছে পঞ্চম প্রজন্মের গরিলা গ্লাস প্রযুক্তির।
অনেকেই হয়ত ডিভাইসটিতে ওএলইডি প্যানেলে আশা করেছিলেন তবে এইচএমডি গ্লোবাল এই ডিভাইসটির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেছে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে প্রযুক্তির। নোকিয়া ৮ স্মার্টফোনটিতে রয়েছে একটি ৫.৩ ইঞ্চি আকারের ডিসপ্লে প্যানেল যা নোকিয়া ৬ স্মার্টফোনটির থেকেও আকারে কিঞ্চিৎ ছোট। তবে আকারে ছোট হলেও এটি বেশ শার্প ভিজুয়াল কনটেন্ট ডিসপ্লে করতে সক্ষম; এজন্য অবশ্য ধন্যবাদ পুরোটাই এর কিউএইচডি রেজ্যুলেশনেরই (১,৪৪০x২,৫৬০ পিক্সেল) প্রাপ্য। পাশাপাশি ডিভাইসটির ব্রাইটনেসও বেশ ভালো, প্রায় ৭০০ নিট। মজার কথা হচ্ছে, সনি এবং এইচটিসির মত এইচএমডি ব্যাজেল-লেস ডিজাইন ব্যবহার না করলেও তারা স্মার্টফোনটিতে যুক্ত করেছে অলওয়েজ অন ডিসপ্লে ফিচারটি।
৭.৯ মিলিমিটার থিকনেসের এই ডিভাইসটির দুপাশে রয়েছে মাত্র ৪.৬ মিমি আকারের কার্ভ যা সত্যিকার অর্থেই স্মার্টফোনটিকে করে তুলেছে আকর্ষণীয়। লক্ষ্য করলে ডিভাইসটির পেছনে ক্যামেরা ইউনিটে হালকা বাম্প দেখতে পাবেন যাও খুবই সামান্য, মাত্র ০.৪ মিলিমিটার। যাই হোক, শুধু ডিজাইনেই নয় বরং ১৬০ গ্রাম ওজনের এই ডিভাইসটি হাতে ধরে দৈনন্দিন ব্যবহারে খুবই কমফোর্ট প্রদান করবে।
স্মার্টফোনটির পেছন দিকে, অর্থাৎ রিয়ারে আছে একটি ডুয়েল ক্যামেরা, ডুয়েল টোন ফ্ল্যাশ, জেইসের একটা লোগো। যাই হোক, ক্যামেরা সম্পর্কিত আমরা আলাদা একটা সেকশনই এই রিভিউটির মধ্যে রেখেছি বিঁধায় ক্যামেরা ইউনিট নিয়ে আর কথা বাড়াচ্ছি না। তার চাইতে আরও কিছুটা ইন্টারনাল ডিটেইলসের তথ্য দেয়া যাক আপনাদের।
নোকিয়া ৮ এর অ্যান্টেনা প্লেসমেন্ট করা হয়েছে নোকিয়া ৫ স্মার্টফোনটির মত করেই, একটি একদম উপরে এবং অন্যটি একদম নিচে। ফলে আপনি হাতে ধরে ব্যবহারে যেভাবেই ব্যবহার করেন না কেন, দুটো অ্যান্টেনা একসাথে কখনোই ব্লক করতে পারবেন না। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এরকম অ্যান্টেনা প্লেসমেন্টের ফলে নেটওয়ার্ক রিসিপশনে সমস্যা হবার সম্ভাবনা একদমই থাকেনা এবং ব্যাটারির উপরও কম প্রেশার পরে।
স্মার্টফোনটি তৈরি করার সময় নোকিয়া এবং কোয়ালকম একসাথে কাজ করেছে শুধুমাত্র এটা নিশ্চিত করার জন্য যে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ চিপ সেটটি একই সাথে দুটি ক্যামেরার লাইভ স্ট্রিমিং প্রসেস করার জন্য পর্যাপ্ত প্রসেসিং ক্ষমতা সরবরাহ করতে পারবে কি না। চিপটি ভালো রাখার জন্য এবং তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ডিভাইসটিতে একটি হিট পাইপ এবং গ্রাফাইট শিল্ড ব্যবহার করেছে।
ফ্ল্যাগশিপের ক্ষেত্রে কিছুটা ছোট স্ক্রিনের পর ডিভাইসটির আরও একটি ড্র-ব্যাক হতে পারে এর আইপি৫৪ রেজিস্টান্ট রেটিং! খাতা কলমের হিসেবে এটি শুধুমাত্র ডাস্ট এবং স্প্ল্যাশ রেজিস্টান্ট। অন্যদিকে স্যামসাং, অ্যাপল, সনি, এইচটিসি এবং এলজির যে ডিভাইসগুলো নোকিয়া ৮-এর সাথে কমপিট করতে পারে, সেগুলোর রেজিস্টান্ট রেটিং আইপি৬৭!
হ্যাঁ, ডিভাইসটিতে রয়েছে একটি ৩.৫ মিলিমিটারের হেড ফোন জ্যাক! এছাড়া, এতে রয়েছে একটি ইউএসবি-সি পোর্ট (ফার্স্ট জেনারেশন, ৫ জিবিপিএস) যা ১৮ ওয়াটের পাওয়ার ব্যাটারিতে সরবরাহ করতে সক্ষম! জ্বি, এতে রয়েছে কুইক চার্জার ৩.০ প্রযুক্তি। যদিও স্মার্টফোনটির ব্যাটারি তুলনামূলক ভাবে কম (৩,০৯০ মিলি অ্যাম্পিয়ার) তবে আশা করা যায় ডে-টু-ডে ব্যবহারে বেশ ভালোই ব্যাক-আপ দিতে সক্ষম হবে এটি!
পারফর্মেন্স
নোকিয়া ৮ স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ প্রসেসরটি যা এবছরের অন্যান্য স্মার্টফোন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের দেখা গিয়েছে। ডিভাইসটিতে আছে অ্যান্ড্রয়েড ৭.১.১ এবং অবশ্যই যেহেতু স্মার্টফোনটিতে গুগলের এই অপারেটিং সিস্টেমটি যৎসামান্যই পরিবর্তন করা হয়েছে ফলে অ্যান্ড্রয়েড ও উন্মোচিত হবার পর প্রথম যে স্মার্টফোনগুলো এই আপডেট পাবে তাদের মধ্যে নোকিয়া ৮-ও থাকবে।
নোকিয়া ৮ স্মার্টফোনটিতে ব্যবহার করা হিট পাইপ এবং গ্রাফাইট শিল্ড ডিভাইসটিকে রাখে একেবারেই স্বাভাবিক তাপমাত্রায়। ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী রিভিউয়াররা ডিভাইসটির মাধ্যমে সর্বোচ্চ মাল্টি টাস্ক করে দেখার চেষ্টা করেছেন এবং তাদের দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষমতার মাল্টিটাস্কিং করার ক্ষেত্রেও ডিভাইসটি বলতে গেলে কোন হিটই উৎপন্ন করেনি। এজন্য অবশ্যই এইচএমডি গ্লোবালকে তাদের আর্কিটেকচারের জন্য ধন্যবাদ দেয়াই যায়।
একটি স্মার্টফোনের পারফর্মেন্স বিবেচনায় ‘বেঞ্চমার্ক টুল’গুলোর জুড়ি মেলা ভার। নোকিয়া ৮ স্মার্টফোনটির বেঞ্চমার্কিং স্কোরও চমৎকার, মূল্য বিবেচনায় এর স্কোরগুলো প্রতিযোগিতা করে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসগুলোর সাথে! চলুন, ডিভাইসটির কিছু বেঞ্চমার্কিং স্কোর সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক, সাথে থাকছে প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু স্মার্টফোনের বেঞ্চমার্ক ফলাফলও!
আনটুটু ৬ বেঞ্চমার্ক স্কোর
ওয়ানপ্লাস ৫ – ১৮০৩৩১
মটোরোলা মটো জেড২ ফোর্স – ১৭৮৬৭৪
এইচটিসি ইউ১১ -১৭৭৩৪৩
শাওমি মি৬ – ১৭৭৩২৬
নোকিয়া ৮ – ১৭৫৮৭২
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮+ – ১৭৪০৭০
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮+ (এসডি ৮৩৫) – ১৬৮১৩৩
সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড প্রিমিয়াম – ১৪৪২২৩
এলজি জি৬ – ১৪৩৬৩৯
হুয়াওয়ে পি১০ – ১২৬৬২৯
নোকিয়া ৬ (গ্লোবাল ভার্সন) – ৪৭৪৯৫
বেসমার্ক ওএস ২
শাওমি মি ৬ – ৪৪০২
মটোরোলা মটো জেড ২ ফোর্স – ৪৩৬৩
ওয়ানপ্লাস ৫ – ৪৩০০
নোকিয়া ৮ – ৪২১৫
সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড প্রিমিয়াম – ৪১২৭
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮+ (এসডি ৮৩৫) – ৪০৩৮
এইচটিসি ইউ১১ – ৩৮৭৭
হুয়াওয়ে পি১০ – ৩৩৯৩
এলজি জি৬ – ২২৯১
নোকিয়া ৬ (গ্লোবাল ভার্সন) – ৯৭৮
গিকবেঞ্চ ৪.১ (মাল্টি-কোর)
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮+ – ৬৭৫৪
শাওমি মি ৬ – ৬৭১৯
মটোরোলা মটো জেড২ ফোর্স – ৬৬২৯
ওয়ানপ্লাস ৫ – ৬৬০৪
নোকিয়া ৮ – ৬৫৬৮
এইচটিসি ইউ১১ – ৬৩৯৩
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮+ (এসডি ৮৩৫) – ৬৩০১
সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড প্রিমিয়াম – ৫৪৬০
এলজি জি৬ – ৪১৭৫
নোকিয়া ৬ (গ্লোবাল ভার্সন) – ২৮৪১
গিকবেঞ্চ ৪.১ (সিংগেল-কোর)
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮+ – ১৯৮৬
ওয়ানপ্লাস ৫ – ১৯৩২
শাওমি মি ৬ – ১৯২৯
নোকিয়া ৮ – ১৯২৫
এইচটিসি ইউ১১ – ১৯১৯
মটোরোলা মটো জেড২ ফোর্স – ১৯১৫
সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড প্রিমিয়াম – ১৮৩৬
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮+ (এসডি ৮৩৫) – ১৮৩২
এলজি জি৬ – ১৭৬৭
নোকিয়া ৬ (গ্লোবাল ভার্সন) – ৬৬৫
বেসমার্ক এক্স
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮+ – ৪৩৮৬২
হুয়াওয়ে পি১০ – ৩৯৪৩৩
ওয়ানপ্লাস ৫ – ৩৮৮৪৪
মটোরোলা মটো জেড২ ফোর্স – ৩৮৬১৫
শাওমি মি৬ – ৩৮৫৪১
সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড প্রিমিয়াম – ৩৮৫০৭
এইচটিসি ইউ১১ – ৩৮৩৯৯
নোকিয়া ৮ – ৩৭৫৯৩
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৮+ (এসডি ৮৩৫) – ৩৪৯৫১
এলজি জি৬ – ৩০৫০৭
নোকিয়া ৬ (গ্লোবাল ভার্সন) – ৭৫১৬
ক্যামেরা
-----------
কিছুক্ষণ আগেই লিখেছিলাম যে এইচএমডি গ্লোবাল খুব সামান্যই নোকিয়া ৮ স্মার্টফোনে ব্যবহারিত অ্যান্ড্রয়েড ৭.১.১ অপারেটিং সিস্টেমটিকে পরিবর্তন করেছে, আর এই পরিবর্তনটি মূলত হচ্ছে ডিভাইসটির পরিবর্তিত ক্যামেরা অ্যাপ। হ্যাঁ, প্রতিষ্ঠানটি ডিভাইসটিতে ব্যবহার করেছে নিজস্ব ক্যামেরা অ্যাপলিকেশন।
স্মার্টফোনটিতে রয়েছে দুটি ১৩ মেগাপিক্সেল সেন্সর বিশিষ্ট রিয়ার ক্যামেরা এবং দুটি ক্যামেরাতেই ব্যবহার করা হয়েছে জেইস লেন্স প্রযুক্তি। তবে এই ক্যামেরা দুটির একটিতে রয়েছে মনক্রোম সেন্সর এবং অন্যটিতে রেগুলার আরজিবি বা কালার সেন্সর। উল্লেখ্য, কালার সেন্সর বিশিষ্ট ক্যামেরাটিতে রয়েছে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন সুবিধাও। দ্বিতীয় ক্যামেরাটি জনপ্রিয় ‘বোকেহ’ বা ‘ব্লার’ ইফেক্ট দিতে সক্ষম তবে বাড়তি কোন জুমিং ক্যাপাবিলিটি নেই এর।
স্মার্টফোনটির ফ্রন্ট ক্যামেরাটিও একই ১৩ মেগাপিক্সেল কালার সেন্সরের এবং রিয়ার ক্যামেরার মতই এর অ্যাপারচার এফ/২.০ এবং এতেও ব্যবহার করা হয়েছে কার্ল জেইস লেন্স। সামনে এবং পেছনে প্রায় একই ক্ষমতার ক্যামেরা ব্যবহার করার কারণে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির সময় স্মার্টফোনটির ‘ডুয়েল-সাইট’ ফিচারটি বেশ চমৎকার কাজে আসবে বলেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠানটির। একই সাথে দুটি ক্যামেরা ব্যবহার করে ছবি তোলার ফিচারটিকে এইচএমডি গ্লোবাল ‘Bothie’ নামে আখ্যায়িত করেছে, যদিও এই টার্মটি কিছুটা হাস্যকর!
স্মার্টফোন ক্যামেরা প্রযুক্তিতে কার্ল জেইস একটি বিখ্যাত নাম এবং অবশ্যই চমৎকার একটি পদক্ষেপ তবে এইচএমডি গ্লোবাল শুধু জেইস প্রযুক্তিই নয় বরং ডিভাইসটিতে ব্যবহার করেছে ‘অজো’ নামের তাদের নিজস্ব একটি প্রযুক্তিও। ‘OZO’ মূলত নোকিয়ার একটি নিজস্ব প্রযুক্তি যা তাদের ৩৬০ ডিগ্রী ভিআর ক্যামেরা প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, পাশাপাশি এই টিমটি স্মার্টফোনের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে কাজ করতেও মোটামুটি দক্ষ! ফলাফল স্বরূপ শুধু চমৎকার ক্যামেরাই নয় বরং ডিভাইসটি পেয়েছে চমৎকার ৩৬০ ডিগ্রী সাউন্ডও!
স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ৩টি ডায়নামিক রেঞ্জের মাইক্রোফোন এবং অজো ক্যামেরায় ব্যবহারিত একই অডিও রেকর্ডিং অ্যালগরিদম যার ফলে ব্যবহারকারীরা ডিভাইসটির সাউন্ড এক্সপেরিয়েন্স নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে বলেই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠানটির।
৩টি মাইক্রোফোন থাকার কারণে সাধারণ বা ট্রেডিশনাল স্মার্টফোনগুলোর চাইতে আরও বেশি রিয়েলিস্টিক ভিডিও সাউন্ড পাওয়া যাবে এই ডিভাইসটি থেকে কেননা এটি একই সাথে সামনের, পেছনের এবং পাশ থেকে আসা শব্দ ধারণ করতে সক্ষম!
শেষ কথা
-------------------
চমৎকার এই স্মার্টফোনটির ইতোমধ্যেই বেশ কিছু স্থানে বিক্রির আয়োজন চলছে, আর এই বিক্রি বাট্টা শুরু হবে আগামী মাসের প্রথম দিকেই। আপাতত ডিভাইসটির গ্লোবাল প্রাইস নির্ধারন করা হয়েছে প্রায় ৬০০ ইউরো। মূল্য কিঞ্চিৎ বেশি স্বীকার করছি তবে এরকম একটি পারফর্মেন্স বিস্টের জন্য ধারণকৃত মূল্য যে খুব একটা বেশি তাও কিন্তু নয়!
নোট – ফার্স্ট ইম্প্রেশনটি লেখা হয়েছে আন্তর্জতিক চমৎকার সব রিভিউ সাইটের অংশবিশেষ জোড়া লাগিয়ে। যেহেতু এটি ফার্স্ট ইম্প্রেশন তাই এখানে ব্যাটারি লাইফ, গেমিং পারফর্মেন্স সহ আরও অনেক ডিটেইলই বাদ পড়ে গিয়েছি জানি তবে আমাদের হাতে ডিভাইসটি আসার সাথে সাথেই আমরা ডিভাইসটির হ্যান্ডস-অন-রিভিউ তুলে দিতে চেষ্টা করব আপনাদের সামনে আর সেই রিভিউ-এ বাদ যাবেনা কোন তথ্যই। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন, কণ্ঠস্বরের সাথে থাকুন।