12/04/2025
আমরা যারা বাংলাদেশি তারা মনে হয় 'না' বলতে খুব বেশি অভ্যস্ত নই। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে প্রফেশনাল লাইফে যথাসময়ে না বলতে পারাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমি একটা বই পড়েছিলাম ‘The Art of Saying No’. না বলতে আমরা অনেক বেশি আনকম্ফোর্টেবল ফিল করি এমনকি যখন আমাদের না বলা প্রয়োজন। বইটি থেকে আমি বেশ কিছু পলিসি বা সারমর্ম তুলে ধরতে পারি যেটা অনেকের কাজে আসবে।
কয়েকটা উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করি যাতে বুঝতে সুবিধা হয়। আরেকজন কি ভাববে এটা নিয়ে আমরা অনেক সময় দুশ্চিন্তা বোধ করি যার জন্য সবকিছুতে হ্যা বলতে শুরু করি। উদাহরণস্বরূপ আমি যখন পিএইচডি করতাম তখন এক ল্যাবমেট বিকাল ৪টা - ৫টার দিকে গল্প করতে আসত। গল্প করতে আসলেও গল্প শেষ করার ব্যপারে কোন আগ্রহ থাকত না। মানে তাকে একটু তাল দিলে সে অনায়াসে দুই ঘন্টাও নিজের প্রিয় গল্পগুলো করত। কিন্তু এই সময়টা আমার জন্য খুব ভাইটাল ছিল। সারাদিন ফাকিবাজি করলেও দিনের এই শেষ সময়ে আমি কিছু কাজ গুছিয়ে নিতে চাইতাম। সেটা আর হয়ে উঠছিল না। অপরপক্ষে আমার এই ল্যাবমেট এর কাছে দুপুরে লাঞ্চের পর যখন আমি রিলাক্স করার জন্য গল্প করতে চাইতাম তখন সে সুন্দরমত মুখের উপর ব্যস্ত আছি বলে দিত প্রায়ই যেটা আমার বেশ 'Rude' মনে হত। কিন্তু এই বইটা পড়ার পর আমি বুঝতে পারি যে সরাসরি না বলা ‘Not necessarily rude’। আরেকজনকে না বলা মানে কিন্তু নিজেকে হ্যা বলা। তাই যদি প্রয়োজন পড়ে তবে নিজেকে নির্দ্বিধায় হ্যা বলুন।
অনেকে কিভাবে না বলবেন বা মুখের উপর না বললে অপরপক্ষ মাইন্ড করবে কিনা এটা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা করেন। যাদের সরাসরি না বলতে অদ্ভুত লাগে তারা পরোক্ষভাবে না বলতে পারেন। যেমন আমার ক্ষেত্রে আমি পরবর্তীতে ল্যাবমেটকে বলেছিলাম, 'আমি তো ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ব্যস্ত থাকি নিজের কাজ নিয়ে, আমরা বরং ৬ টায় গল্প করি কেমন!' ব্যপারটি কাজ করেছিল এবং সম্পর্ক খারাপ হয় নি এতে।
প্রফেশনাল লাইফে মানে অফিসে না বলা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের কাজ ডেলিভারির ডেডলাইন ভুলে গিয়ে যদি শুধু যদি আমরা কলিগের হেল্প এ ফোকাস করি তাহলে একটা সময় খুব ভাল কলিগ কিন্তু ম্যানেজার এর কাছে ফাকিবাজ কর্মী হিসেবে নিজের চাকরি হারানোর ভয় থাকবে। উদাহরণস্বরূপ, আমি একটা বিষয়ে বেশ জানার কারণে অফিসে বিভিন্ন টিমের মানুষ সময়ে অসময়ে আমাকে নক দিত ওই বিষয়ে। আমিও শুরুতে না করতাম না, এর ফলাফল ছিল কিছুদিন পর এই নকের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। অনেক মানুষ যারা একটু ডকুমেন্টস পড়লেই ব্যাপারটা নিয়ে জানতে পারে তারা শুধু শর্টকাট হিসেবে আমাকে নক করা শুরু করে। তারপর আমি যথারীতি সরাসরি হেল্প না করে বরং ডকুমেন্টস এর লিংক দিয়ে বলতে শুরু করলাম, 'আমি শিওর যে তুমি এই ডকুমেন্টগুলো পড়ে নিজেকে আনব্লক করতে পারবে'। এতে কাজ হয়েছিল এবং কারো সাথে সম্পর্ক নষ্টও হয় নি।
বইতে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে না বলার টেকনিক বলা আছে। যেমন কিভাবে নিজের সন্তানকে না বলবেন বা সহধর্মীকে না বলবেন। আমি একটা জিনিস দেখেছি যে সন্তানদেরকে কান্নার সাথে সাথে অনেক বাবা মা সবকিছুতে হ্যা বলা শুরু করে। এর ফলাফল হয় সন্তান জেনে যায় তার Wildcard হল কান্নাকাটি করা। মানে যখন আবদারে কাজ হবে না তখন কান্নাকাটি করলে শিওর পাওয়া যাবে। এটার ফলাফল বেশ ভয়ানক। কান্নাকাটি করার পরও প্রয়োজনে না বলতে শেখা ভাল প্যারেন্টিং এর পার্ট। আরোহী এখনো অনেক ছোট তাই তার উপর আমার এটা প্রয়োগ করতে হয় নি কিন্তু আমার দেখামতে অনেক বাবা মা এটার ভুক্তভোগী।
সবশেষে, 'না' বলা মানেই Rude নয়। নিজের প্রয়োজনে নিজেকে হ্যা এবং অন্যকে বলতে শিখুন!