28/04/2023
#সন্ধি :- যেকোনো ভাষার ব্যাকরণের অংশ। আর নয় মুখস্থ।
বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি একটা গুরুত্বপূর্ণ ট্রপিক। এখনকার সরকারি চাকরির পরীক্ষায় এমন কোনো পরীক্ষা নেই যেটাতে সন্ধি থেকে প্রশ্ন আসে না; বিসিএস, ব্যাংকসহ সব পরীক্ষায়। আসলে কিছু কিছু ট্রপিক আছে যেগুলো একটা ট্রপিক না, বরং আরো 3-4 টা ট্রপিক এর সাথে রিলেটেড। তার মধ্যে সন্ধি অন্যতম। কিভাবে? আসুন একটু এনালাইসিস করি :-
সন্ধি শব্দের অর্থ হলো ★মিলন★', এখানে মিলন বলতে একাধিক শব্দের মিলন। যেমন আপনি বলতে চাচ্ছেন 'একটা বিষয়ের অর্থ সঠিক', অর্থাৎ এটি যথা অনুযায়ী অর্থ আছে। এককথায়-- যথা অর্থ। তবে এই 'যথা অর্থ' কথাটা বলতে আমাদের মুখের একটু অতিরিক্ত পরিশ্রম হয়, তাই আমরা আমাদের উচ্চারণের সুবিধার্থে অর্থের 'অ' টা বাদ দিয়ে আমরা এটাকে 'যথার্থ' বলি। যেমন আপনি যথা ও অর্থ কথাটা বলতে গেলে প্রথমে 'আ' তারপরে 'অ' আনতে আপনার অনেকটা মুখে কষ্ট হবে। তেমনিভাবে, একবার আ বলে আবার অ বলাটা কষ্টকর; আবার একবার অ বলে আবার আ বলাটাও কষ্টকর। কিন্তু একবারে আ বললে আপনার মুখের কষ্টটা কম হয়। তাই অ এর সাথে আ, অথবা আ এর সাথে অ দুটি যোগ করলে আপনি একসাথে আ উচ্চারণ করেন। ঠিক এমনিভাবে 'রবি ইন্দ্র' থেকে 'রবীন্দ্র'-------------।
আরবীতেও এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। যেমন, আমরা বলি '★বিসমিল্লাহ★', এখানে শব্দটি বেশ কয়েকটি শব্দের সমষ্টি। যথা, বি- দ্বারা, ইস্ম-নাম, আল্লাহ-আল্লাহ। তবে আরবীতে উচ্চারণের সুবিধার জন্য পড়া হয় 'বিসমিল্লাহ'।
সুতরাং বলা যায়, সন্ধির মূল উদ্দেশ্য হলো ★উচ্চারণের সুবিধা★।
এখন এই সন্ধি বা মিলন হয় মূলত প্রথম শব্দের শেষের এবং দ্বিতীয় শব্দের প্রথম অংশের। তাই এখানে এই দুটি শব্দের দুটিই স্বর, অথবা দুটিই ব্যঞ্জন, অথবা একটি স্বর ও একটি ব্যঞ্জন হতে পারে। আবার কিছু শব্দের শেষে বিসর্গ থাকাই প্রথমটির শেষে বিসর্গ এবং দ্বিতীয় টির প্রথমে স্বর বা, ব্যঞ্জন হতে পারে। সেই অনুযায়ী সন্ধি কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা :-
১) স্বরসন্ধি :- স্বর+স্বর। যেমন, হিম+আলয়=হিমালয়।
২) ব্যাঞ্জণসন্ধি:- ক) স্বর+ব্যাঞ্জণ। যেমন, পরি+ছেদ=পরিচ্ছেদ, খ) ব্যাঞ্জণ+স্বর। যেমন, দিক্+অন্ত=দিগন্ত। গ) ব্যাঞ্জণ+ব্যাঞ্জণ। যেমন, বদ্+জাত=বজ্জাত।
৩) বিসর্গ:- ক) বিসর্গ+স্বর। যেমন, ততঃ+অধিক=ততোধিক, খ) বিসর্গ+ব্যাঞ্জণ। যেমন, নিঃ+রব=নীরব।
উক্ত ভাগ গুলোতে বেশ কিছু নিয়ম আছে এই নিয়মটাই হল সন্ধির মূল বিষয়। এই নিয়মের মাধ্যমে আপনি এর মাধ্যমে সৃষ্ট বানানটি ঠিক করতে পারবেন। যেমন রবীন্দ্র শব্দটিতে দীর্ঘ-ই নাকি হ্রস্ব-ই হবে? এক্ষেত্রে নিয়ম হল দুটো ই একসাথে যোগ হলে তা দীর্ঘ-ই হয়। তাই এই নিয়মে অবশ্যই রবীন্দ্র বানানে ঈ হবে।
আর যেসব ক্ষেত্রে উক্ত নিয়মগুলো খাটে না সেসব ক্ষেত্রে সে গুলোকে বলা হয় **নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি** অর্থাৎ নিয়মবহির্ভূত সন্ধি। যেমন, অ/আ+অ/আ=আ হয়, তাই নিয়ম অনুুযায়ী 'কুলটা' শব্দে কুল+অটা=কুলাটা হবার কথা, কিন্ত তা হয়নি। সুতরাং, এটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি।
সুতরাং, নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি মুখস্থ করাটা একদমই বোকামি।
আর একটা উদাহরণ বলি, হিন্দি নায়িকা ★ঐশ্বরিয়া★ কিন্তু বাংলাতে ঐশ্বর্য বলা হয়। তার কারণ হলো বাংলাতে ই/ঈ এর পরে অন্য কোনো স্বর আসলে তা 'য' হয়। যেমন, যদি+অপি=যদ্যপি, এখানে কিন্তু ই পরিবর্তিত হয়ে য হয়েছে।
একইভাবে, ★ইউসুফ থেকে হয় জোসেফ,
★আরিয়া থেকে আর্য,
★ইউভরাজ থেকে যুবরাজ ইত্যাদি।
সুতরাং, প্রতিটা ভাষায় তাদের উচ্চারণের সুবিধার জন্য এই সন্ধি প্রয়োগ করে।
তাই, সন্ধি জানলে বাংলা বানানেরও অনেক অংশ হয়ে যায় পরীক্ষাতে এক্সট্রাভাবে আসে। পরবর্তীতে এবিষয়ে আরো আলোচনা হবে ইনশাল্লাহ। না বুঝলে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন।