23/11/2025
ঢাকায় ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান কেন “নারকীয়” হবে?
ফার্স্ট থিং ফার্স্ট, ঢাকার জনঘনত্ব বিশ্বের শীর্ষে— আমাদের পার স্কয়ার কিঃমিঃ তে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাস করে।
সো, একটি ৭.০+ মাত্রার ভূমিকম্প হলেঃ
⛔️প্রতিটি ব্লকে হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়বে।
⛔️সরু গলি ও এলোমেলো সড়ক নেটওয়ার্ক প্লাস রাস্তায় পড়ে থাকা ডেব্রিজ এর কারনে উদ্ধারকারী টিমের মুভমেন্ট হবে অ-নে-ক স্লো।
⛔️সো, মোবিলাইজেশন টাইম (response time) কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ গুণ বাড়বে।
UN এর Urban Search & Rescue স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ইমার্জেন্সি রেস্কিউ টিমের অপারেশনের জন্য একাধিক সমান্তরাল প্রবেশপথ থাকা লাগে। কিন্তু ঢাকায়? অধিকাংশ এলাকায় রাস্তা একটাই, তাও হকার- রিক্সা-সিএনজি-পার্কিংয়ে বেদখল হয়ে আছে।
রেজাল্ট?
উদ্ধার টিম পৌঁছাতে পারবে না এবং আটকা পড়াদের মৃত্যুহার বাড়বে চক্রবৃদ্ধি হারে।
সেকেন্ডলি, অনিয়ন্ত্রিত বিল্ডিং স্ট্রাকচারের কারনে ঢাকা এক বিশাল ‘ডমিনো ট্র্যাপ’। সিটি কর্পোরেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ীঃ
⛔️প্রায় ৭৫% ভবন কোন ভূমিকম্প কোড ফলো করে না
⛔️সস্তা রড-সিমেন্টের ব্যবহার
সো,
বড় ভূমিকম্পে প্যানকেক কলাপ্স নয়, বরং প্রগ্রেসিভ কলাপ্স হবে, স্টেপ-বাই-স্টেপ বিল্ডিং ধ্বসে আরো বেশি ডেব্রি তৈরি করবে আর পাশের বিল্ডিংয়ের ওপর ভর করে দাঁড়ানো অনিরাপদ ভবনগুলো ডমিনোর মতো একে একে পড়ে যাবে। এতে রাস্তাও ডেব্রি দিয়ে বন্ধ হয়ে যাবে, ফলে উদ্ধার দল গাড়ি নিয়ে ঢুকতেই পারবে না।
থার্ডলি, ফায়ার হ্যাজার্ড এর কারনে ভূমিকম্পের পরে আগুনই হবে ‘দ্বিতীয় সুনামি’। রিসার্চ ফাইন্ডিংস মতে, বড় ভূমিকম্পের পর নিহতদের বড় অংশ মারা যান ভবন ধসে নয় বরং আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে।
ঢাকায় বড় ভূমিকম্প কল্পনা করার সময় সাথে ঢাকার বৈধ অবৈধ সংকীর্ণ গ্যাস আর বিদ্যুৎ লাইন, আনসেইফ পেট্রোল/সিনজি/সিলিন্ডার স্টেশন, কেমিক্যাল গুদাম এইসব মাথায় রেখেই কল্পনা করবেন। সো, ভুমিকম্পের পর শত শত জায়গায় একসাথে আগুন লাগবে কিন্তু একসাথে তো এত জায়গায় পৌঁছানো যাবেনা। কারন আগুন নেভানোর জন্যঃ
⛔️ঢাকা সিটির ৪০% এলাকায় বড় ফায়ার সার্ভিস ট্রাক ঢুকতেই পারে না।
⛔️পানির উৎস (hydrant) প্রায় নেই বললেই চলে।
এরপর আছে আমাদের অপরিকল্পিত রাস্তা যা উদ্ধারকারীদের কাছে “Urban Maze of Death” কারন ঢাকার বেশিরভাগ রাস্তাইঃ
⛔️১২ ফুটের চেয়ে সরু
⛔️এলোমেলো ইলেকট্রিক পোল
⛔️হকার দখলকৃত ফুটপাত
⛔️বেআইনি গ্যারেজ আর পার্কিং
তাই, একটা ভবন ধসে রাস্তায় পড়ে গেলে সেই লেনে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ; উদ্ধারকারী দল হয়ত কয়েক ঘণ্টা নয়, কয়েক দিনেও পৌঁছাতে পারবে না আর অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা—স্ট্রেচারও যেতে পারবে না।
এটাকে বলে mobility failure, যেকোনো বড় শহরের Disaster Management-এ এটি সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্য।
তাছাড়া, আমাদের জনবল ও সরঞ্জামের ভয়ংকর ঘাটতিও আছে। আমাদের ১৮ কোটির দেশে ফায়ার সার্ভিস জনবল তুলনামূলক অনেক কম। উদ্ধারকারী দলের সংখ্যা তো একেবারেই হাতে গোনা। ভারী ডেব্রি কাটার মেশিন, থার্মাল ইমেজার, লাইফ-ডিটেক্টরের সংখ্যাও খুবই সীমিত।
ঢাকায় যদি ৫,০০০+ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় (যা ৭.৫ মাত্রার ক্ষেত্রে অনুমান), তাহলেঃ
⛔️একই সময়ে খুব বেশি প্রফেশনাল রেস্কিউ অপারেশন অসম্ভব
⛔️অনেক জায়গায়ই দেরীর কারনে মৃত্যুর হার বাড়বে।
⛔️আন্তর্জাতিক সাহায্য পৌঁছাতে কমপক্ষে ২৪–৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে, সেই সময়ে ঢাকা কার্যত নিজেকে বাঁচাতে অপারগ।
এবার আসি হাসপাতাল প্রস্তুতির মামলায়। প্রায় সব বড় হাসপাতালের রাস্তায় জ্যাম থাকে। তাদের সীমিত ICU, সীমিত surgical capacity প্লাস
হাসপাতালগুলোর নিজস্ব structural assessment তেমন নেই। তাই ভূমিকম্পের শকে হাসপাতাল বিল্ডিংগুলোর নিজেরই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে, মাস ক্যাজুয়ালটি হ্যান্ডল করার কোনো সিস্টেম নেই, ট্রেনিং নেই, রিহার্সেল নেই। ওয়াটার-গ্যাস-ইলেকট্রিসিটি লাইন বন্ধ হলে হাসপাতালগুলো ৬–১২ ঘন্টার মধ্যে অচল হয়ে পড়বে। মানে আপনি উদ্ধার হয়ে আসলেন মানেই চিকিৎসা গ্যারান্টেড না।
সুপার-সাইক্লিক রিস্ক এর কথাটা না বললেই নয়। আমরা তো আবার ফেরেশ্তাদের দেশ তাই ভূমিকম্পের সাথে সাথে শুরু হবে আতঙ্ক আর গুজব মিলে ম্যাসিভ দৌড়াদৌড়ি। শুরু হবে লুটপাট। লাগবে ডেডলকড ট্রাফিক জ্যাম। সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়বে মুহুর্তেই, আর টেলিকম নেটওয়ার্ক ডাউন থাকবে কমপক্ষে ৭ দিন। UNDP র এক রিপোর্ট এ একবার পড়েছিলামঃ
“Dhaka is not prepared for a multi-layered post-earthquake chaos.”