04/10/2024
সেশন ২৪৩
ব্যাচ ২৭
আপনি আপনার থট (চিন্তা) তৈরি করতে পারেন।
কি বলবেন না বলবেন, কোনটা গ্রহন করবেন, কি বর্জন করবেন – এটার মাষ্টার আপনি নিজে।
আমরা যা দেখি শুনি, পড়ি ও এক্সপিরিয়েন্স করি – সেখান থেকে থট তৈরি হয়। আপনি নিজেই এই থট এর ক্রিয়েটর। আপনি চাইলে যে কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে পারেন অথবা ইগ্নোর করতে পারেন অথবা অস্থির হয়ে যেতে পারে। সবটুকুই আপনার নিজের তৈরি।
আশে পাশে থেকে অনেক ধরনের থট আপনার কাছে আসবে – কোনটা গ্রহণ করবেন আর কোনটা বর্জন করবেন, এটা আপনার সিদ্ধান্ত।
কি বলবেন, কি বলবেন না, কোনটার কি জবাব দিবেন বা চুপ থাকবেন – সব ক্ষমতা আপনার। ইউ আর দ্যা মাষ্টার অব ইউর থট এন্ড ফিলিংস। চয়েস পুরাই আপনার উপর নির্ভর করে “কি বলবেন”?
যা আপনি শুনবেন, দেখবেন ও পড়বেন – আপনি সেদিকেই যাবেন এবং তাই হবেন। কারণ আপনি প্রতিদিন যা শুনেন, দেখেন ও পড়েন তা আপনার মনে স্টোর হয়ে যায়... এবং আপনাকে সে দিকে ধাবিত করে...
এখন আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি কি কি শুনবেন, দেখবেন ও পড়বেন? যা আপনার জীবনে কাজে লাগবে ও আপনার সেই কাজে সফল হতে সাহায্য করবে।
থট প্রসেসে অর্থাৎ মস্তিস্কে আপনিই সিগন্যাল পাঠান। তখন মস্তিস্ক গুগল করে তার দেখা, জানা, শুনা ও অভিজ্ঞতা এবং আপনি মানুষ হিসেবে কেমন (রুচি, ব্যক্তিত্ব, বেড়ে ওঠা, মানসিকতা) থেকে তথ্য নিয়ে, কি রিয়েক্ত করবেন বা কি বলবেন তার সিগন্যাল দেয় আপনার ব্রেইন। তারমানে সিগন্যাল কন্ট্রোল করার ক্ষমতা বা চাবি আপনার চিন্তায়। আপনি চাইলেই তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
আপনার চিন্তাই বাস্তবে প্রতিফলিত হয়। আপনার থট প্রসেস থেকে যত সব নেগেটিভিটি, খারাপ জিনিস, অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট করে ফেলুন। আপনার ব্রেইনের কম্পিউটারে যত সব সুন্দর জিনিস, পজিটিভ বিষয়, স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস, সাহস, মানবিকতা, সৃজনশীলতা ও দক্ষতার সকল ফাইল ডাউনলোড করে রাখুন। তখন গুগল করলে আপনার ব্রেইন সব সুন্দর জিনিস গুলোই খুঁজে পাবে এবং সেই অনুযায়ী রিয়েক্ত/ফিডব্যাক করবে।
তারপরও অপশন আপনার নিজের কাছে, আপনি কিভাবে রিয়েক্ত করবেন? খারাপ রিয়েকশনের কোন সুফল নেই বরং নিজেকে ছোট করা ও অসুখী করা।
আমরা যদি ২০-২৫ বছর আগে ফেরত যাই, পৃথিবীতে তথা আমাদের মধ্যে এতো স্ট্রেস, টেনশন, ডিপ্রেশন ছিল? ছিল না। আমরা আমাদের থট প্রসেসে এতো বেশী অপ্রয়োজনীয় ও অসুন্দর ইনফরমেশন ঢুকিয়ে ফেলেছি প্রতি সেকেন্ডে যে, তারই নেগেটিভ ফলাফল আমাদেরকে ভুগতে হচ্ছে।
ধরুন, সেই সময়ে আপনি ডাক বিভাগের মাধ্যমে মা-বাবা বা বন্ধু-বান্ধবের কাছে চিঠি পাঠাতেন। ৭-১৫ দিন পর সেই চিঠির তথ্য তারা পেতেন আবার ৭-১৫ পর সেই চিঠির রিপ্লাই পেতেন। তারমানে ১ মাসে ১ বার তথ্যের আদান প্রদান হতো। ছিল না তেমন কোন টেনশন, স্ট্রেস ইত্যাদি। এখন প্রতি সেকেন্ডে তথ্য আদান প্রদান হয় এবং একইভাবে বেড়েছে স্ট্রেস, টেনশন, ডিপ্রেশন, অস্থিরতা...
তথ্য দরকার আছে তবে দরকারি তথ্য গুলো রেখে বাকী থট গুলো ডিলিট করে ফেলুন, আপনি ফুরফুরে ও হাসিখুশি থাকবেন, কাজের সময় ও প্রোডাক্টিভিটি বেড়ে যাবে – জীবন সুন্দর!
- ইকবাল বাহার
#স্বপ্নদেখুন_সাহসকরুন_শুরুকরুন_লেগেথাকুন
#উদ্যোক্তা
#নিজের_বলার_মতো_একটা_গল্প_ফাউন্ডেশন