02/05/2025
Thanks চিন্তাচক্র for featuring our CEO! ✨✨✨
ইয়ুথ আইকন: ফজলে এলাহী তন্ময়
তিনি কখনোই নিজেকে “গর্ব করার মতো কিছু” ভাবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত নিজেকে প্রকাশ করাও তাঁর স্বভাবে নেই। দিনের পর দিন, কখনো টানা রাতেও, তিনি কাজ করে যান নীরবে—কোনো ছবি, ক্যাপশন বা বাহবাবিহীনভাবে। তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানেন—আড্ডা, বিশ্রাম বা বিনোদনের জগতে তিনি নেই। টেবিলের একপাশে মাথা ঝুঁকিয়ে নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগে কাজ করে চলা এই মানুষটির নাম—ফজলে এলাহী তন্ময়। তাঁর পরিচয়ের আগে জানতে হবে তাঁর নিবেদন, কারণ সেই নিবেদনই তাঁকে আজকের ‘ইয়ুথ আইকন’ করে তুলেছে।
তন্ময়ের পরিচয়ের আগে তাঁর স্বপ্নের পরিচয় জানা জরুরি। তিনি প্রযুক্তির চর্চাকে ঢাল হিসেবে নিয়ে শিক্ষার বৈপ্লবিক রূপান্তর চান। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে প্রযুক্তিপ্রেমী যে কেউ যেন রোবোটিক্স ও প্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারে—এই লক্ষ্যে ফজলে এলাহী তন্ময় প্রতিষ্ঠা করেছেন Tech Topia। এটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী চিন্তা ও রোবট চর্চাকে সরল করে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু শহর নয়—গ্রামের শিক্ষার্থীরাও যেন প্রযুক্তিতে নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে পারে, সেটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।সারাদেশের আনাচে কানাচে ছয়িয়ে থাকা সকল innovators দের প্ল্যাটফর্ম Bengal innovators এর Head of Robotics and IOT core হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও Bangladesh Robotics oympiad এর Academic team member ছিলেন।রোবটিক্স নিয়ে দীর্ঘদিনের এই নিষ্ঠার ফল হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে ৫০টিরও বেশি রোবট তৈরি করেছেন।
Robodemy-এর ব্যানারে স্কুলভিত্তিক ওয়ার্কশপ, মেলা, ও রোবট প্রদর্শনী এখন নিয়মিত আয়োজন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের হাতে প্রযুক্তির স্পর্শ পৌঁছে দিয়েছেন তন্ময়—এ যেন এক নিঃস্বার্থ প্রেরণা জাগানিয়া তৎপরতা।বর্তমানে তিনি Robodemy-র Lead Trainer and Developer হিসেবে কাজ করছেন। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে Robodemy যুক্ত হয়েছে Innovation Design and Entrepreneurship Academy (iDEA) প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত Startup Innovation Grant-অনুদান —যা তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি। তন্ময় ভাই Robotics বিষয়ে শুধু প্রশিক্ষণেই নয়, বিভিন্ন Robotics Competition-এ বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। সেখান থেকে আজকের দিনে এসে তিনি দেশের শীর্ষ ৬টি রোবোটিক্স ইভেন্টের অন্যতম আয়োজক।
শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন একজন নিরীক্ষণপ্রবণ ছাত্র। স্কুলজীবন কেটেছে বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। এরপর তিনি পড়াশোনা করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (SUST)—EEE বিভাগে। তন্ময় শুধু প্রযুক্তির ছাত্র নন, তিনি কল্পনারও যাত্রী। তাঁর শখ—গল্প পড়া এবং লেখা। প্রযুক্তির জটিল সমীকরণের পাশাপাশি গল্পের পঙ্ক্তিমালায় তিনি খুঁজে ফেরেন মানবিক পৃথিবীর সন্ধান।
চিন্তাচক্র অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছে, তিনি একটি বই লিখে শেষ করেছেন, যা খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। প্রযুক্তির নির্মোহ জগৎ পেরিয়ে তাঁর কলমে উঠে এসেছে মানুষের গল্প—এ যেন বৈদ্যুতিক হৃদয়ে স্পন্দনের সুর।
তাঁর জন্মসাল? সেটা তন্ময় ভাইয়ার ব্যক্তিগত রহস্য! তিনি চান না সবাই জানুক তাঁর বয়স। তবে প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য এইটুকু বলা যায়—তাঁর সৃষ্টি ও স্বপ্নের বয়সটা অনেক বেশি। আর যদি কখনও চিন্তাচক্র–এর পডকাস্টে বসা হয় তাঁর সঙ্গে, আমরা সেই রহস্যের জট খুলেই ফেলব।
এই তরুণ শুধু নিজের ভবিষ্যৎ গড়েননি, গড়ে তুলেছেন সহস্র শিক্ষার্থীর আশার বাতিঘর। তিনি দেখিয়েছেন, প্রযুক্তি শুধু চাকরি পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি সমাজ বদলের হাতিয়ার হতে পারে। ফজলে এলাহী তন্ময়—এই নাম এখন তরুণদের অনুপ্রেরণার প্রতীক, পরিবর্তনের আলোকবর্তিকা।
•চিন্তাচক্র
যেখানে প্রযুক্তি কথা বলে সাহিত্যের ভাষায়!