29/06/2026
পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতিতে যেমন হিন্দুধর্মের প্রভাব প্রকট, পূর্ববঙ্গে তেমনই ইসলামের। বর্তমানে সিলেটের কারো কারোর মধ্যে সিলেটী জাতীয়তাবাদ নামক একটি ভঙ্গুর মতবাদ জাগ্রত হচ্ছে, যার সারকথা সিলেটীরা বাঙালি নয়। তাদের নিজস্ব লিপি আছে, নিজস্ব কথ্যরূপ আছে। চট্টগ্রামেও একই প্রয়াস দেখা যাচ্ছে কারো কারোর মধ্যে।
এই যুক্তির অসারতা কোথায় জানেন? বাংলা নিজেই বাঙালি না। বাংলা বলতে যদি বঙ্গ বোঝান, সেটা ময়মনসিংহ-ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল axis এ পরবে। প্রমিত বাংলা মূলত কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা-নদীয়ার কথ্যরূপ ও শব্দভাণ্ডারে প্রবল সংস্কৃতায়নের মাধ্যমে সৃষ্ট।
দোভাষী বাংলা ছিল পূর্ববঙ্গের জাত বাংলা, ভূমিপূত্র যাকে বলে।
কবি আলাওল থেকে শুরু করে আব্দুল হাকিমের বঙ্গবাণী কবিতা, এখানে দোভাষীর ছাপ পাবেন। এভাষাতে আরবি-ফারসির চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে যা তৎকালীন মুঘল সাম্রাজ্য ও বাংলা সুবাহের ঐতিহ্যও ছিল। এই ভাষাতেই আব্দুল হাকিম বলেন,
যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।
দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে না জুয়ায়
নিজ দেশ তেয়াগী কেন বিদেশ ন যায়।
দোভাষীর গঠনে অন্যতম ভূমিকা রেখেছিলেন সিলেটে আগত সুফি ধর্মপ্রচারকরা। এই ভাষার উপরেই ভিক্তি করে সৃষ্টি হয়ে সিলেটী নাগরি লিপি ও আরবিতে বাংলা লেখার রীতি। এই নাগরি লিপি ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহ, অসম (সিলেট, চট্টগ্রাম, উত্তর-পূর্ব ভারত), এমনকি পশ্চিমবঙ্গেরও বাংলা লেখার প্রধান লিপি।