Multiple Scientific Society

Multiple Scientific Society Science is the pursuit and application of knowledge and understanding of the natural and social worl

আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি, তার মোট গভীরতা প্রায় ১২,৭৪২ কিলোমিটার! কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো-মানবজাতি এতদিনেও মাটির নি...
22/11/2025

আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি, তার মোট গভীরতা প্রায় ১২,৭৪২ কিলোমিটার! কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো-মানবজাতি এতদিনেও মাটির নিচে মাত্র ১২ কিলোমিটার পর্যন্তই পৌঁছাতে পেরেছে!
এই জায়গাটির নাম রাশিয়ার কোলা সুপার ডিপ বোরহোল - Kola Superdeep Borehole পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর গর্ত। যেটি নরওয়ে সীমান্তের কাছে অবস্থিত ।সেখানে তাপমাত্রা এতটাই বেশি ছিল (প্রায় ১৮০° সেলসিয়াস) যে ড্রিল মেশিনগুলো পর্যন্ত গলে গিয়েছিল!

আর এটা ছিল শুধু পৃথিবীর ওপরের স্তর! নিচে আছে ম্যান্টল, যেখানে পাথর গলে গলে লাভার মতো তরল অবস্থায় রয়েছে। তার নিচে আউটার কোর - এক বিশাল সাগর, যা তৈরি লিকুইড লোহা ও নিকেল দিয়ে। আর একদম ভেতরে আছে ইনার কোর, যার তাপমাত্রা প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস, সূর্যের পৃষ্ঠের মতোই ভয়ংকর গরম।

এর খনন ১৯৭০ সালে শুরু হয় । এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ কিছু আবিস্কার হয় যেমন

1. অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা

১২ কিমি গভীরে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৮০°C—এর বেশি গভীর খনন অসম্ভব হয়ে পড়ে।

2. ২৫ কোটিরও বেশি বছরের পুরনো শিলা

কেউ তা আগে কখনো দেখেনি।

3. মাইক্রোফসিল (জীবাশ্ম) চিহ্ন

প্রায় ২ কিমি গভীরে ২৪টি প্রাচীন অণুজীবের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়।

(জীবন্ত নয়, কেবল জীবাশ্মের রাসায়নিক নিদর্শন)

4. গ্রানাইট-ব্যাসাল্ট রূপান্তর সম্পর্কে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়

বিজ্ঞানীরা আশা করেছিলেন, গভীরে গ্রানাইটের নিচে ব্যাসাল্ট পাওয়া যাবে—কিন্তু পাওয়া যায়নি।

এটি ভূতত্ত্বে বড় সংশোধন আনে। পরে ১৯৯২ সালে এই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাইরে থেকে শান্ত দেখালেও, পৃথিবীর ভেতরে লুকিয়ে আছে এক জ্বলন্ত অগ্নি কুন্ড।

ছবিতে হাসিখুশি যে কিশোরীদের দেখছেন, তাদের করুণ পরিণতি হয়তো আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।সময়টা জুলাই ১৯৪৫। যুক্তরাষ্ট্রে...
13/08/2025

ছবিতে হাসিখুশি যে কিশোরীদের দেখছেন, তাদের করুণ পরিণতি হয়তো আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।
সময়টা জুলাই ১৯৪৫। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে ক্যাম্পিং করতে গিয়েছিল ১৩ বছর বয়সী একদল বান্ধবী।
ছবির সামনে থাকা মেয়েটির নাম বারবারা কেন্ট।
তারা জানত না যে, মাত্র ৪০ মাইল দূরেই ম্যানহাটন প্রজেক্টের বিজ্ঞানীরা ইতিহাসের প্রথম পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
বারবারা পরে স্মৃতিচারণ করে বলেন, "হঠাৎ আকাশে তীব্র আলো আর বিশাল এক মেঘের কুণ্ডলী দেখলাম...
কিছুক্ষণ পরেই আকাশ থেকে সাদা কণা ঝরতে শুরু করলো।"
তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে সেগুলোকে তুষার ভেবে খেলা শুরু করে, মুখেও মাখে।
কিন্তু কণাগুলো ঠান্ডা ছিল না, ছিল গরম। তারা ভেবেছিল, গ্রীষ্মকাল বলেই হয়তো এমন।
আসলে সেগুলো কোনো তুষার ছিল না। সেগুলো ছিল 'ট্রিনিটি টেস্ট'-এর পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে ছড়িয়ে পড়া ভয়ংকর তেজস্ক্রিয় ছাই
। বিস্ফোরণের আগে বা পরে আশেপাশের হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি বা নিরাপদ স্থানে সরানোও হয়নি।
এর পরিণতি ছিল ভয়াবহ। বারবারা কেন্ট এবং তার সব বান্ধবী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। ছবিতে থাকা প্রত্যেকটি মেয়ে ৩০ বছর বয়স হওয়ার আগেই মারা যায়।
শুধুমাত্র বারবারা নিজে ক্যান্সারের সাথে বহু বছর যুদ্ধ করে বেঁচে ছিলেন।
পারমাণবিক বোমার ভয়াবহতা শুধু জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
পরীক্ষার কারণে নিজেদের দেশেই যারা ভয়াবহ মূল্য দিয়েছিলেন, তাদের কথা প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার মারালিঙ্গাতেও পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে বহু আদিবাসী মানুষ ক্যান্সারে মারা গিয়েছিলেন, যে ইতিহাস অনেকেরই অজানা।
বিজ্ঞানের অগ্রগতির পেছনে লুকিয়ে থাকা এমন অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের কথা আমাদের মনে রাখা উচিত।

রাশিয়ান বিজ্ঞানীরা সাইবেরিয়ার পারমাফ্রস্টে ৩০০টি প্রাগৈতিহাসিক কৃমি আবিষ্কার করেছেন, যার মধ্যে দুটিকে সফলভাবে পুনরুজ্জ...
01/07/2025

রাশিয়ান বিজ্ঞানীরা সাইবেরিয়ার পারমাফ্রস্টে ৩০০টি প্রাগৈতিহাসিক কৃমি আবিষ্কার করেছেন, যার মধ্যে দুটিকে সফলভাবে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়েছে। এই কৃমিগুলি হাজার হাজার বছর ধরে বরফে আটকা পড়ে ছিল, তবুও গলানোর পরপরই তারা নড়াচড়া ও খাদ্য গ্রহণ শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি কৃমির বয়স প্রায় ৩২,০০০ বছর, অন্যটি ৪১,৭০০ বছর। এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের জন্য একটি বড় অর্জন, কারণ এটি প্রমাণ করে যে কিছু প্রাণী অত্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে হিমায়িত অবস্থায় টিকে থাকতে পারে এবং পুনরায় সক্রিয় হতে পারে।

এই কৃমিগুলি নেমাটোড প্রজাতির, যা মাটির মধ্যে বসবাসকারী একধরনের সুক্ষ্ম জীব। এরা অতীতের জলবায়ু ও পরিবেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই প্রাচীন জীবগুলির টিকে থাকার রহস্য তাদের দেহের বিশেষ জৈবিক গঠনে নিহিত থাকতে পারে, যা তীব্র শীতল অবস্থায়ও কোষের ক্ষতি রোধ করে।

এই গবেষণা শুধু প্রাণীবিদ্যার জন্যই নয়, জ্যোতির্বিদ্যা ও মহাকাশ গবেষণার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ধারণা করা হচ্ছে যদি কৃমিরা হাজার হাজার বছর বরফে সংরক্ষিত থেকে পুনরায় জীবিত হতে পারে, তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে অন্যান্য গ্রহে বা উপগ্রহে, যেমন মঙ্গল বা ইউরোপায়, অনুরূপ প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা কি একেবারেই অসম্ভব !!

Copied

"টেলিস্কোপের লেন্সে ধরা পড়া আইনস্টাইন রিং"বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ও ব্যয়বহুল মহাকাশ টেলিস্কোপ, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কো...
01/07/2025

"টেলিস্কোপের লেন্সে ধরা পড়া আইনস্টাইন রিং"

বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ও ব্যয়বহুল মহাকাশ টেলিস্কোপ, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST), সম্প্রতি মহাবিশ্বের একটি চিত্তাকর্ষক ও বিরল দৃশ্য ধরা পড়েছে, যা বিজ্ঞানীদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এই ছবিতে ধরা পড়েছে একটি আইনস্টাইন রিং, যা প্রথম নজরে আকাশে ভাসমান একটি ভৌতিক, সুন্দর বলয়ের মতো মনে হয়। কিন্তু এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের পেছনে রয়েছে মহাকর্ষের অবিশ্বাস্য শক্তি এবং দুটি পৃথক ছায়াপথের সমন্বয়।

আইনস্টাইন রিং হলো এমন একটি মহাজাগতিক ঘটনা, যা আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করা যায়। এই ঘটনাটি ঘটে যখন দুটি ছায়াপথ বা মহাজাগতিক বস্তু প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে, এবং সামনের ছায়াপথটির শক্তিশালী মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র পেছনের ছায়াপথ থেকে আসা আলোকে বাঁকিয়ে দেয়। এই মহাকর্ষীয় লেন্সিং (Gravitational Lensing) প্রভাবের ফলে পেছনের ছায়াপথের আলো একটি প্রায় নিখুঁত বলয়ের আকারে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। এই ঘটনার নামকরণ করা হয়েছে আইনস্টাইনের নামে, কারণ তিনিই প্রথম এই ধরনের মহাকর্ষীয় প্রভাবের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে উৎক্ষেপণের পর থেকে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের গভীরতম রহস্য উন্মোচন করে চলেছে। এর অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড ক্যামেরা এবং অতি সংবেদনশীল সেন্সরগুলো দূরবর্তী ছায়াপথ, নক্ষত্র গঠন এবং এমনকি প্রাচীন মহাজাগতিক ঘটনাগুলোর অভূতপূর্ব ছবি তুলে এনেছে। আইনস্টাইন রিং-এর এই সাম্প্রতিক ছবিটি জেমস ওয়েবের অতুলনীয় ক্ষমতার আরেকটি প্রমাণ। এই ছবিতে ধরা পড়া বলয়টি শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, বরং এটি বিজ্ঞানীদের মহাবিশ্বের গঠন, ছায়াপথের বিবর্তন এবং মহাকর্ষীয় লেন্সিং-এর প্রকৃতি সম্পর্কে নতুন তথ্য সরবরাহ করছে।

জেমস ওয়েবের ধরা এই আইনস্টাইন রিং-এর ছবিতে দেখা যায় একটি উজ্জ্বল, প্রায় নিখুঁত বৃত্তাকার বলয়, যা দুটি ছায়াপথের মিথস্ক্রিয়ার ফলাফল। সামনের ছায়াপথটির বিশাল মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র পেছনের ছায়াপথের আলোকে বিকৃত করে এই অপূর্ব দৃশ্য সৃষ্টি করেছে। ছবিটি এতটাই স্পষ্ট যে বিজ্ঞানীরা এর মাধ্যমে দুটি ছায়াপথের গঠন, দূরত্ব এবং এমনকি তাদের গঠনকারী তারকা ও গ্যাসের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করতে পারছেন। এই ধরনের পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের বড় আকারের গঠন এবং অন্ধকার পদার্থের (Dark Matter) ভূমিকা বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আইনস্টাইন রিং শুধু একটি দৃষ্টিনন্দন মহাজাগতিক দৃশ্য নয়, এটি বিজ্ঞানীদের জন্য একটি জানালা যা মহাবিশ্বের অতীত ও বর্তমানের গল্প বলে। এই ঘটনা আমাদের মহাকর্ষের প্রকৃতি, ছায়াপথের গঠন এবং এমনকি মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কে গভীর ধারণা দেয়। জেমস ওয়েবের মতো টেলিস্কোপের মাধ্যমে এই ধরনের বিরল ঘটনা পর্যবেক্ষণের ফলে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের গঠন ও বিবর্তনের নতুন মডেল তৈরি করতে পারছেন।

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের ধরা আইনস্টাইন রিং-এর এই ছবি শুধু একটি মহাজাগতিক শিল্পকর্ম নয়, বরং এটি মানুষের জ্ঞানের সীমানা প্রসারিত করার একটি মাধ্যম। এই ভৌতিক বলয়টি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মহাবিশ্ব কতটা বিস্ময়কর এবং রহস্যময়। জেমস ওয়েবের মতো প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা এই রহস্যের আরও গভীরে প্রবেশ করতে পারছি, এবং হয়তো একদিন মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পাব।

ছবি: jwst/nasa

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল এ পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বকালের ভয়ানক এক যুদ্ধ। বিশ্বকে এ যুদ্ধ যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল তা আজ যু...
01/07/2025

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছিল এ পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বকালের ভয়ানক এক যুদ্ধ। বিশ্বকে এ যুদ্ধ যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল তা আজ যুদ্ধের ৭৬ বছর পরেও সকলের মনে আছে। এ যুদ্ধের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঘটনার একটি ছিল হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ। আজ ৬ আগস্ট, এই ঘটনার ৭৬তম বার্ষিকী।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জয়লাভ, জাপানের আত্নসমর্পন ও পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪২ সালে "ম্যানহাটন প্রজেক্ট" নামের একটি প্রকল্প শুরু করে। এ প্রকল্পের কাজ ৩টি স্থানে করা হতো, যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ওক রিজ, ওয়াশিংটনের হ্যানফোর্ড ও নিউ মেক্সিকোর লস আলামাস। এ প্রকল্পে যুক্তরাজ্য ও কানাডাও যুক্ত ছিল। প্রকল্পের মূল কেন্দ্র ছিল নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটন নামক ব্যুরোতে। ম্যানহাটন প্রজেক্টের মূল্যমান ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ও এতে ১,৭৫,০০০ জন কর্মী কাজ করেছিলেন। প্রকল্পটির কাজ অত্যন্ত গোপনে সম্পাদিত হয়েছিল। এতটাই গোপনে করা হয়েছিল যে সেখানে কর্মরত বিজ্ঞানীদের দল বাদে কেউই জানতেন না তারা পৃথিবী ধ্বংসকারী অস্ত্র বানাচ্ছেন। এটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক প্রকল্প।

২য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে প্রকল্পের কাজটি এটমিক এনার্জি কমিশনের নিকট হস্তান্তর করা হয়। প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক হন ব্রিগেডিয়ার জেনালের লেজলি রিচার্ড গ্রোভস ও বিজ্ঞানী রবার্ট ওপেনহাইমার। ওপেনহাইমারের অধীনে ছিল তখন বিংশ শতাব্দীর সেরা বিজ্ঞানীদের দল। উল্লেখযোগ্য ছিলেন- জন ভন নিউম্যান, নীলস বোর, ফিলিপ মরিসন, লিও জিলার্দ, জর্জ কিস্তিয়াভোসকি প্রমুখ। প্রকল্পের ৮ জন বিজ্ঞানী ছিলেন নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত।

এ প্রকল্প থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৪টি বোমা তৈরি করেছিল। এর মধ্যে প্রথম বোমা, "ট্রিনিটি" পরীক্ষামূলকভাবে নিউ মেক্সিকোর আলামোগের্ডোতে বিস্ফোরিত করা হয়। এর ভয়াবহতা সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা তখনও অবগত ছিলেন না। অপরদিকে জার্মানি তখন যুদ্ধে পারমাণবিক বোমার ভয় দেখানো শুরু করেছিল ও জাপান যুদ্ধে ক্রমাগত শক্তি লাভ করছিল, যার ফলে প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান নির্দেশ দেন যেন তাড়াতাড়ি বাকি ৩টি বোমাকে যেন শত্রুপক্ষের ভূমিতে নিক্ষেপ করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৬ই আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর ক্যাপ্টেন পল উইলিয়ামস টিবেট জুনিয়র ৬ই আগস্ট হিরোশিমায় "লিটল বয়" পারমাণবিল বোমাটি ফেলে দেন। মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যুকূপ ও আর্তনাদের শহরে পরিণত জাপানের শান্তিময় শহর হিরোশিমা। হাসপাতালগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ২,৩৭,০০০ লোক ২ সপ্তাহে মৃত্যুবরণ করেন৷ বেশিরভাগই ছিলেন নিরীহ বেসামরিক মানুষ। তেজস্ক্রিয়তায় অনেকদিন পরিত্যক্ত থাকে শহরটি।

এ দিনকে স্মরণীয় রাখার জন্যে জাপানিরা হিরোশিমা পিস মেমোরিয়ালে নিহতদের শ্রদ্ধা নিবেদন করে। সারাদেশে এদিন শোক অনুষ্ঠান পালন করা হয়।

-- জাবির হাসান
সিভিল এভিয়েশন উচ্চ বিদ্যালয়
Writer Of Academics Dept. Of Education & Others




Rafi

ভয়নিক পাণ্ডুলিপি — এক অদ্ভুত নিঃশব্দ চিৎকার:সময়টা ছিল ১৯১২ সাল। এক অচেনা অন্ধকারে ঢাকা ভিয়েনা শহরের প্রান্তে, এক পুরন...
30/06/2025

ভয়নিক পাণ্ডুলিপি — এক অদ্ভুত নিঃশব্দ চিৎকার:
সময়টা ছিল ১৯১২ সাল। এক অচেনা অন্ধকারে ঢাকা ভিয়েনা শহরের প্রান্তে, এক পুরনো যাজক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ভেঙে ফেলা হচ্ছিল। বহু বছরের জমে থাকা ধুলো ও ছত্রাকের গন্ধে ঠাসা সেই ভাঙা বইয়ের স্তূপে হঠাৎই চোখে পড়লো এক অভূতপূর্ব চামড়া বাঁধা পাণ্ডুলিপি। বইটি ছিল চওড়া, পাতাগুলো পার্চমেন্টে লেখা, আর তাতে আঁকা ছিল অদ্ভুত সব উদ্ভিদ, অচেনা রসায়নচক্র, নানারকম জ্যোতির্বিদ্যার চিহ্ন, আর এক রহস্যময় ভাষায় লেখা ছড়ানো-ছিটানো অনুচ্ছেদ।

এই অদ্ভুত বইটির মালিক হলেন এক বিরল বই সংগ্রাহক — উইলফ্রিড এম. ভয়নিক। তাঁর নামেই বইটির পরিচিতি হয় — Voynich Manuscript।

কিন্তু এ ছিল স্রেফ এক বই নয়, ছিল এক প্রকৃত রহস্যের কাব্য। যে কাব্য যুগ যুগ ধরে বিজ্ঞানী, গবেষক, ইতিহাসবিদ ও ভাষাতত্ত্ববিদদের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। বইটির কোনো ভাষা এখনো পর্যন্ত ডিকোড করা যায়নি। কোনো বর্ণমালা মেলে না, কোনো ব্যাকরণ সুনির্দিষ্ট নয়। যেন এই লেখা পৃথিবীর নয়, ভিন্ন জগতের।
ভাষা যে কথা বলে না

বিশেষজ্ঞরা এটিকে বলছেন “একটি কনস্ট্রাক্টেড ল্যাঙ্গুয়েজ” বা কৃত্রিম ভাষা। আবার অনেকেই মনে করেন, এটি হতে পারে প্রাচীন কোনো লুপ্ত সভ্যতার চিহ্ন। কেউ কেউ দাবি করেন — এটি আসলে এক প্রতারণা, একজন প্রতারক তাঁর সারা জীবনের প্রহসন হিসেবে এটি তৈরি করেছিলেন।

কিন্তু তারপরও প্রশ্ন জাগে — যদি প্রতারণা হয়, তবে এত নিখুঁতভাবে ২০০+ পৃষ্ঠা জুড়ে একই লিপি, অভিন্ন ধারা ও চিত্রশৈলী কীভাবে তৈরি সম্ভব?

অনেকেই মনে করেন, এই পাণ্ডুলিপি লেখা হয়েছিল ১৫শ শতকের শুরুতে। কার্বন ডেটিং মতে, পার্চমেন্ট তৈরি হয়েছিল আনুমানিক ১৪০৪ থেকে ১৪৩৮ সালের মধ্যে। কিন্তু লেখকের পরিচয় আজও অজানা। গবেষকরা নাম করেছেন — রজার বেকন, জন ডি, অথবা আলকেমিস্ট জ্যাকব সিনাপিউস… কিন্তু প্রমাণ নেই।
অজানা উদ্ভিদ, রহস্যময় নারী, জ্যোতির্বিদ্যার গোলকধাঁধা

বইয়ের পাতায় পাতায় ছড়ানো রয়েছে এমন সব উদ্ভিদের চিত্র, যা পৃথিবীর কোনো উদ্ভিদবিজ্ঞান অভিধানে খুঁজে পাওয়া যায় না। ডাঁটা, পাতা, ফুল, মূল — সবকিছুই যেন এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ। যেন প্রকৃতির সঙ্গে কল্পনার এক অজানা সংলাপ।

অনেক পৃষ্ঠায় দেখা যায় নগ্ন নারীদের, জলাশয়ের মধ্যে স্নানরত, রহস্যময় টিউবের মতো গঠন ঘিরে। কেউ বলেন, এগুলো মহিলাদের গর্ভধারণ বা প্রজননের প্রতীক। আবার কেউ মনে করেন, এগুলো কোনো আধ্যাত্মিক দর্শনের চিত্ররূপ।

আরও কয়েকটি অধ্যায় জ্যোতির্বিদ্যা ও রসায়নের অজানা সূত্রে ভরা — এমন গোলক ও ছক যা কোনো বর্তমান জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুযায়ী মেলে না।

সীমান্ত পেরোনো ষড়যন্ত্র?

বিশ্বযুদ্ধের সময় অনেকে ধারণা করেছিলেন, এটি আসলে এক গুপ্ত বার্তা। কেউ মনে করেন, এটি হতে পারে প্রাচীন কোনো গুপ্ত গোষ্ঠীর প্রাচীন বিধান। আবার একটি মত আছে — বইটি তৈরি করেছিলেন কোনও যুগপৎ কবি ও ঔষধ প্রস্তুতকারী, যিনি চেয়েছিলেন তাঁর জ্ঞানের মূলে তৈরি একটি নিঃশব্দ প্রতিরূপ।

১৯৫০ থেকে শুরু করে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে, বহুবার চেষ্টা করা হয়েছে এই ভাষা ভাঙার। এমনকি ২০১৮ সালে কানাডার এক কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট দাবি করেন তিনি ৮০% কোড ভেঙে ফেলেছেন, তবে তা আজও বিতর্কিত।

চুপ করে বসে থাকা রহস্যের বই:

তবে এই বই শুধু এক ইতিহাস নয় — এক জীবন্ত ধাঁধা। একটি বই, যা কথা বলে না, কিন্তু বারবার আমাদের ভাবায়। এমনকি কিছুর দাবি, এই বইতে আছে এমন ঔষধের সূত্র যা আধুনিক বিজ্ঞান জানে না, এমন গর্ভনিরোধক ও অনন্ত যৌবনের উপায় লুকিয়ে আছে এর পাতায় পাতায়।

তবে যদি তাই হয়, কেন লেখক নিজের পরিচয় গোপন রাখলেন?
একটি পাণ্ডুলিপি, এক জগতের ছায়া

আজও এই বই রয়েছে Yale University এর Beinecke Rare Book & Manuscript Library-তে, সাধারণ দর্শনার্থীদের চোখের সামনে এক পুরু কাঁচের পেছনে সংরক্ষিত। কোনো উত্তর নেই, শুধু এক গভীর অভিব্যক্তি, এক অদ্ভুত আকর্ষণ — যেন বইটি নিজেই ডাকছে, বলছে, "ভেদ করো আমাকে, বুঝতে পারো কি সেই ভাষা যা ভাষাহীন?"

Voynich Manuscript-এর প্রকৃত রহস্য কী — তা হয়তো কোনোদিনই জানা যাবে না। কিন্তু এটাই তো রহস্যের আসল সৌন্দর্য, তাই না? যখন প্রশ্নই উত্তর হয়ে ওঠে, এবং এক টুকরো পার্চমেন্টও হয়ে ওঠে এক সমগ্র কল্পনার দরজা।

এই গল্প এক ইতিহাস নয় — এক আমন্ত্রণ। সেইসব কৌতূহলীদের উদ্দেশে, যারা অন্ধকারের বুকেও আলো খুঁজে বেড়ায়।

Copied

বিচ্ছেদের এক অন্য রূপসাইলেন্ট ডিভোর্স বা নীরব বিচ্ছেদ এটা এমন একটি সম্পর্ক যেখানে স্বামী-স্ত্রী মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়...
29/06/2025

বিচ্ছেদের এক অন্য রূপ
সাইলেন্ট ডিভোর্স বা নীরব বিচ্ছেদ

এটা এমন একটি সম্পর্ক যেখানে স্বামী-স্ত্রী মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, কিন্তু সামাজিকভাবে বা আইনত তারা বিবাহিত থাকেন। এটি এমন এক পরিস্থিতি যখন দুটি মানুষ একই ছাদের নিচে বসবাস করলেও তাদের মধ্যে কোনো মানসিক সংযোগ, আবেগিক আদান-প্রদান বা পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকে না। এটি প্রচলিত বিবাহবিচ্ছেদের মতো কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি সম্পর্কের একটি অদৃশ্য ভাঙন।
সাইলেন্ট ডিভোর্সের লক্ষণসমূহ:
সাইলেন্ট ডিভোর্সের কিছু সাধারণ লক্ষণ নিচে দেওয়া হলো

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অর্থপূর্ণ কথোপকথন একেবারেই কমে যায়। তারা দৈনন্দিন কাজকর্ম নিয়ে কথা বললেও আবেগিক বা ব্যক্তিগত বিষয়ে কোনো আলোচনা থাকে না।

একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি বা আগ্রহের অভাব দেখা যায়। কোনো পক্ষই অন্যজনের অনুভূতি বা প্রয়োজন নিয়ে মাথা ঘামায় না।

দম্পতিরা ইচ্ছাকৃতভাবে একে অপরের সাথে সময় কাটানো এড়িয়ে চলেন। তারা নিজেদের আলাদা রুটিন তৈরি করে নেন এবং যার যার নিজস্ব কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন

শারীরিক ঘনিষ্ঠতা সম্পূর্ণভাবে বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এটি মানসিক দূরত্বের একটি বড় প্রতিফলন।

ছোটখাটো বিষয় নিয়েও ভুল বোঝাবুঝি হয় এবং কেউ ক্ষমা চাইতে বা বিষয়টি মিটমাট করতে আগ্রহী হয় না।

দম্পতিরা একসাথে কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেন না। প্রত্যেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।


একে অপরের সফলতা বা ব্যর্থতায় কোনো রকম আগ্রহ বা অনুভূতি প্রকাশ পায় না।

অনেকগুলো কারণে সাইলেন্ট ডিভোর্স হতে পারে। এর মধ্যে কিছু প্রধান কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:


ছোটখাটো সমস্যাগুলো সমাধান না হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকলে তা বড় ধরনের মানসিক দূরত্ব তৈরি করে।


একবার বিশ্বাস ভঙ্গ হলে তা আবার ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ে, যা নীরব বিচ্ছেদের দিকে ঠেলে দেয়।

একজন বা উভয় সঙ্গী যদি মনে করেন তাদের আবেগিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না, তবে তারা মানসিকভাবে দূরে সরে যেতে পারেন।

সন্তান লালন-পালন বা আর্থিক বিষয় নিয়ে তীব্র মতবিরোধ থাকলে তা সম্পর্কের অবনতি ঘটায়।


অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততা বা সম্পর্কের জন্য সময় না দেওয়াও নীরব বিচ্ছেদের একটি কারণ হতে পারে।

অনুভূতি প্রকাশ করতে না পারা বা একে অপরের কথা শুনতে না চাওয়া সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সাইলেন্ট ডিভোর্সের প্রভাব শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি পুরো পরিবার, বিশেষ করে সন্তানদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।


দম্পতিরা নিজেদের মধ্যে একাকীত্ব এবং হতাশা অনুভব করেন।


বাবা-মায়ের এই নীরব বিচ্ছেদ দেখে সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এবং তাদের মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি হয়। তারা ভুল ধারণা নিয়ে বড় হতে পারে যে, সম্পর্কে ভালোবাসা বা আবেগ প্রকাশ করা অপ্রয়োজনীয়।


অনেক সময় দম্পতিরা সামাজিকভাবে নিজেদের গুটিয়ে নেন এবং বাইরে স্বাভাবিক থাকার ভান করেন।


দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ এমন নীরব বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।

স্বামী-স্ত্রীকে নিজেদের মধ্যে খোলাখুলি কথা বলতে হবে। নিজেদের অনুভূতি, চাহিদা এবং সমস্যাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।


বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। একজন তৃতীয় পক্ষ নিরপেক্ষভাবে সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করতে পারেন।

পুরোনো স্মৃতিগুলো ফিরে দেখা এবং একসাথে নতুন কিছু করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি।

মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
সাইলেন্ট ডিভোর্স একটি জটিল সমস্যা যা অনেক সময় অজান্তেই সম্পর্কের গভীরে শিকড় গেড়ে বসে। সঠিক সময়ে এর লক্ষণগুলো চিহ্নিত করতে পারলে এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পর্ককে বাঁচানো সম্ভব। তবে যদি

কোনোভাবেই সম্পর্ককে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হয়, তবে বিচ্ছেদকে একটি সুস্থ সমাধান হিসেবে মেনে নেওয়াও প্রয়োজন হতে পারে।

Copied

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি ডিপ্রেশনে আক্রান্ত নারীরা প্রায় ৬০ থেকে ৭২ দিনের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর স্মৃতি রাখ...
28/06/2025

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি ডিপ্রেশনে আক্রান্ত নারীরা প্রায় ৬০ থেকে ৭২ দিনের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর স্মৃতি রাখতে অসুবিধায় পড়েন। একটি উল্লেখযোগ্য গবেষণায় (Yvette I. Sheline et al., 1999, Proceedings of the National Academy of Sciences) দেখা গেছে, হতাশাগ্রস্ত নারীদের হিপোক্যাম্পাসের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়ে যায় — যা মস্তিষ্কের সেই অংশ যা স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য দায়ী। দীর্ঘ সময় ধরে ডিপ্রেশন থাকলে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন অতিরিক্ত নিঃসরণ হয়, যা হিপোক্যাম্পাসের কোষের ক্ষতি করে এবং নিউরোনাল কানেকশন দুর্বল করে। এর ফলে শর্ট-টার্ম মেমোরি ও কগনিটিভ ফাংশন কমে যায়।
এই গবেষণাগুলোর আলোকে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডিপ্রেশন শুধু মানসিক নয় — এটি একটি নিউরোবায়োলজিক্যাল সমস্যা, যার ফলে নারীদের মস্তিষ্কে গঠনগত এবং কার্যকরী পরিবর্তন ঘটে। শুধু নারীরাই নয়, পুরুষরাও ডিপ্রেশনে পড়লে স্মৃতিশক্তি হারাতে পারেন। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা এই সমস্যায় তুলনামূলকভাবে বেশি ভোগেন।তাই নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা ও চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

সেদিন ফেসবুকে ঢুকতেই এক বড়োভাই ম্যাসেজ দিলো বিকাশ নাকি ১ বছর ফুর্তি উপলক্ষে ১০০০ টাকা দিচ্ছে।দেখি সবাইকে তার বড়োভাই এক...
27/06/2025

সেদিন ফেসবুকে ঢুকতেই এক বড়োভাই ম্যাসেজ দিলো বিকাশ নাকি ১ বছর ফুর্তি উপলক্ষে ১০০০ টাকা দিচ্ছে।দেখি সবাইকে তার বড়োভাই একি ম্যাসেজ দিচ্ছে। বিরক্ত হয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকলাম,দেখি বন্ধু একটা লিংক পাঠালো কোকাকোলার অফিসে নাকি আইফোন বেশি হয়ে গিয়েছে তাই সবাইকে একটা করে দিয়ে দিচ্ছে।

প্রতিনিয়ত আমরা এমন অসংখ্য স্প্যামিং, ফিশিং লিংকের সম্মুখীন হ‌ই।না জেনে ক্লিক করে দিই এসব লিংকে। বোঝার উপায় নেই কিসের লিংক এসব। কখনো জনপ্রিয় ওয়েবসাইটের নকল লিংক, অনলাইন মার্কেটপ্লেসের ফিশিং সাইট কখনোবা ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয় লিংক।

স্প্যামিং, ফিশিং সাইট কী?: স্প্যামের আভিধানিক অর্থ প্রতারণা। ইন্টারনেটে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোনো কাজ, প্রতারণা করলে তাকে স্প্যামিং বলা হয়।অনাকাঙ্খিত, অবাঞ্ছিত কোনো বার্তা, লিংক প্রেরণ স্প্যামিংএর অর্ন্তভূক্ত। লটারি, কোনো পণ্য, টাকা, সম্পদের লোভ দেখিয়ে ভুয়া লিংক প্রেরণ স্প্যামিংএর অর্ন্তভূক্ত। ফিশিং সাইট হলো কোনো ওয়েবসাইটের নকল,কপি। এটাও প্রতারণার জন্য তৈরি করা হয় যা স্প্যামিং।

স্প্যামিং অর্থনৈতিকভাবে টেকসই কারণ বিজ্ঞাপনদাতাদের তাদের মেইলিং লিস্টে ব্যবস্থাপনা, সার্ভার, অবকাঠামো, আইপি রেঞ্জ, এবং ডোমেইন নাম এর জন্য কোন অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না। এতে একসাথে অনেকগুলো ম্যাসেজ দেওয়া রায়।স্প্যামিং অনেক বিচারব্যবস্থায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব স্প্যামিং লিংকে প্রতারকরা ম্যাল‌ওয়ার সহ নানান ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয়।ফলে লিংকে ক্লিক করলে মানুষের ব্যাক্তিগত তথ্য,ব্যাংক একাউন্টের তথ্য ইত্যাদি হাতিয়ে নেয়।দিনকে দিন বেড়েই চলেছে এই স্প্যামিং লিংকের দৌরাত্ম।

স্প্যামিং লিংক এবং ফিশিং সাইট চেনার উপায়:
• প্রথমে ইউআর‌এল চেক করুন। দেখুন লিংকটি ঠিক আছে কিনা কিংবা ওয়েবসাইট এর ডোমেইন ঠিক আছে কিনা।যদি ফেসবুকের লিংক হয় তবে তা সাধারণত https:/ /facebook. com হবে। কিন্তু লিংকটি যদি ত্রুটিপূর্ণ হয় যেমন http:/ /ishanto .me/facebook/*index.php?ds**=MTI1 এই লিংকটি খেয়াল করুন এটাতে http রয়েঈছে কিন্তু প্রথম লিংকে https রয়েছে। Http (Hyper text transfer protocol), Https (Hyper text transfer protocol secure) নাম দেখেই এদের প্রার্থক‌্য বোঝা যায়। অর্থাৎ http যুক্ত লিংকে end to end encryption নেই।
•ইমেইলে এখন স্প্যাম আসে যে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর লটারিতে আপনি জিতেছেন, সেটা দেয়ার জন্যে এর প্রধান আপনার নাম, লিঙ্গ, দেশ এবং মোবাইল নাম্বার চেয়েছেন। কিংবা মাইক্রোসফট এ আপনি চাকরির জন্যে নির্বাচিত হয়েছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদেরকে ইমেইল করে দিতে হবে। তাছাড়া ফেসবুক, টুইটার এর মেইল হুবুহু কপি করে কাস্টমাইজ করে ফিশিং এর চেষ্টা করে অনেকে।
•কোনো সাইটে ভিজিটের পর যদি "আপনার ফোন হ্যাক হয়েছে" "ফোনটি পরিস্কার করুন" "আপনার ফোনে ম্যাল‌ওয়ার প্রবেশ করেছে" এই ধরনের নোটিফিকেশন আসে ব্রাউজার থেকে তাহলে বুঝতে হবে আপনার ভিজিট কৃত ওয়েবসাইটটি ভুয়া ছিলো এবং ফিশিং সাইট ছিলো।তখনি দ্রুত আপনার ব্রাউজারের এ্যাপের ক্লিয়ার ডাটা করে নিন।

স্প্যামিং লিংক চেক করার উপায়:
বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব স্প্যামিং লিংক চেক করা যায়। আমরা এখানে তিনটা ওয়েবসাইট সম্পর্কে জানব।

•Google Transparency Report: গুগলে সার্চ দিলে এই ওয়েবসাইটটি আসবে। যেহেতু এটা গুগলের একটি ওয়েবসাইটে তাই নিঃসন্দেহে ব্যবহার করা যায়।এই ওয়েবসাইটে ঢুকে আপনার বড় ভাইয়ের পাঠানো লিংকটি কপি করে পেস্ট করুন অর্থাৎ আপনার কাছে মে লিংকটি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। তারপর আপনার লিংকটিতে কোনো ধরনের ভাইরাস আছে কিনা কিংবা লিংকটি ঝুঁকিপূর্ণ কিনা তা দেখাবে।
•VirusTotal: এই ওয়েবসাইটটি অনেক প্রয়োজনীয় একটি ওয়েবসাইট। কারণ এখানে আপনার ঝুঁকিপূর্ণ ফাইলগুলো ও স্ক্যানিং করতে পারবেন।এই ওয়েবসাইটটিতেও আপনার সন্দেহজনক লিংকটি কপি করে দিলে ওই লিংক, কিংবা ফাইলে কোন ধরনের ভাইরাস আছে কিংবা থাকতে পারে তা বিস্তারিত দেখাবে।
•Jotti's malware scan: এই ওয়েবসাইটে শুধু ফাইল স্ক্যান করা যায়। আমরা বিভিন্ন সময় নানা ধরনের ফাইল ডাউনলোড করে থাকি কিংবা এপিকে ফাইল ইনস্টল করি এসব ফাইলে মাঝেমধ্যে ভাইরাস থাকে যা এই ওয়েবসাইটটিতে স্ক্যান করে দেখতে পারবেন।এই ওয়েবসাইটটি অনেক জনপ্রিয় স্ক্যানার ব্যবহার করে থাকে।

স্প্যামিং করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও দিনকে দিন সাইবার জগতে এটা অন্যতম হয়ে ওঠেছে। প্রতিদিন এসব স্প্যামিংএর কারণে মানুষের ফেসবুক আইডি,ব্যাক্তিগত তথ্য,ব্যাংক একাউন্টের তথ্য, প্রয়োজনীয় ইমেইল, ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ডিভাইসে ম্যাল‌ওয়ার ছড়িয়ে পড়েছে।এমনো অনেক ঘটনা দেখা দিচ্ছে যে অপরাধীরা শুধুমাত্র একটি ভয়েস ম্যাসেজের মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। সুতরাং কারো ফরোয়ার্ড করা ম্যাসেজে ক্লিক করার আগে সাবধান হোন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় স্প্যামাররা ইমেইল বোম্বিং করে ফলে একাধিক ডিভাইসে একি ইমেইল আসে।

স্প্যামাররা স্প্যামিং করার চেষ্টা করবে কিন্ত আমাদের সচেতন হতে হবে।লোভে পড়েই কোনো কিছুতে ক্লিক করার আগে সাবধান হোন। বড়োভাইয়ের ১০০০টাকা বিকাশের লোভে হারাতে পারেন লক্ষ টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স।

- টি এইচ মাহsite





নিচে ফেসবুকে বড়ো ভাইয়ের পাঠানো একটি লিংক চেক করার ফলাফল।

ফলাফল:https://transparencyreport.google.com/safe-browsing/search

লিংক https://ob-lnejnbn-d-2790.blogspot.com/p/blog-page.html?m=1

শিমুল আর তমাল দুই ক্রিকেটপাগল বন্ধু। একদিন টেনিস বলে স্কচটেপ প্যাঁচানোর সময় শিমুলের মনে হলো, এই স্কচটেপে কি এমন উপকরণ আছ...
26/06/2025

শিমুল আর তমাল দুই ক্রিকেটপাগল বন্ধু। একদিন টেনিস বলে স্কচটেপ প্যাঁচানোর সময় শিমুলের মনে হলো, এই স্কচটেপে কি এমন উপকরণ আছে বা কি এমন শক্তি এর পেছনে কাজ করে যার প্রভাবে এটি এভাবে আটকে থাকে? সে তমালকে বলে,

‘’স্কচটেপের আটকে থাকার রহস্য কি?’’

তমাল জবাব দেয়, স্কচটেপের আঠা টাই এখানে লেগে থাকার প্রধান নিয়ামক। তমালকে শিমুল আবার পাল্টা প্রশ্ন করে বসে,

‘’আঠায় এমন কি উপাদান আছে যার সাহায্যে এটি লেগে থাকে?’’

তমাল জবাব দেয়, আঠায় মূলত তিনটি উপাদান রয়েছে পলিমার, রেজিন, প্লাস্টিসাইজার ।

পলিমার হলো লম্বা শিকলযুক্ত রাসায়নিক অণু, যেটি আঠাকে নরম ও নমনীয় করে তোলে। রেজিন আঠার ট্যাকিনেস বা আঠাল ভাব টা বৃদ্ধি করে। আর প্লাস্টিসাইজার আঠাকে নরম আর প্রসারণ যোগ্য করে তোলে, যাতে অল্প চাপে আঠা দ্রুত লেগে যায়। এই তিন উপাদান মিলে আঠাকে এমন ভাবে তৈরি করে, যাতে আমরা খুব অল্প চাপেই কোনো বস্তুতে সেটি লাগাতে পারি।
শিমুল বুঝতে পরে মাথা নাড়িয়ে বললো, আচ্ছা,

‘’কিন্তু এই আঠা যেকোনো পৃষ্ঠে যে লাগাই সেটার কি কোনো অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক কৌশল আছে?’’

তমাল বললো, না, এটি সম্পূর্ণ একটি ভৌত প্রক্রিয়া। তুমি যখন চাপ দিয়ে টেপ টি লাগাও তখন দুটি জিনিস ঘটে,
১। আঠা তরলের ন্যায় আচরণ করে, পৃষ্ঠের খাঁজে খাঁজে প্রবেশ করে
২। পলিমার অণু এবং পৃষ্ঠের অণুর মধ্যে দূর্বল ভ্যান্ডারওয়ালস আকর্ষণ বলের সৃষ্টি হয়
আর এভাবেই একটি স্কচটেপ পৃষ্ঠতলের সাথে লেগে থাকে।
শিমুল বিশাল রহস্যের সন্ধান পাওয়ার মতন করে হেসে বললো, চলো, খেলা শুরু করতে হবে, সন্ধ্যার আগে আবার বাড়ি ফিরতে হবে যে….

✍copy

ব্রিটিশ পিরিয়ডের আধুনিক চাপ কল।
25/06/2025

ব্রিটিশ পিরিয়ডের আধুনিক চাপ কল।

গাছগুলো পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য আশ্চর্যজনক প্রক্রিয়া গ্রহণ করে। যখন গাছ বুঝতে পারে যে ...
24/06/2025

গাছগুলো পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য আশ্চর্যজনক প্রক্রিয়া গ্রহণ করে। যখন গাছ বুঝতে পারে যে কেউ বা কিছু তাদের পাতা, শিকড় বা অন্য কোনো অংশ খাচ্ছে বা ক্ষতি করছে, তখন তারা প্রতিরক্ষার জন্য বিশেষ এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে। এই রাসায়নিক পদার্থ গাছকে আক্রমণ থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু রাসায়নিক শত্রুদের দূরে সরিয়ে দেয় বা তাদের কাছে গাছের স্বাদ বা গন্ধ এতটা অপ্রিয় করে তোলে যে তারা আর গাছে আক্রমণ করতে আগ্রহী হয় না। কিছু রাসায়নিক এমনকি ক্ষতিকারক পতঙ্গ বা জীবাণুর বিরুদ্ধে গাছের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও শক্তিশালী করে।

এই প্রক্রিয়া প্রাকৃতিকভাবে গাছের মধ্যে সৃষ্ট এক ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা তাদের বেঁচে থাকার ক্ষমতা বাড়ায়। গাছ শুধুমাত্র স্থির বস্তু হলেও তারা পরিবেশের পরিবর্তন এবং আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় নিজেকে রক্ষা করার জন্য চমৎকার রাসায়নিক কৌশল ব্যবহার করে থাকে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছ জীবজগতের জটিল ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সুতরাং, গাছের রাসায়নিক প্রতিরক্ষা কেবল তাদের নিজেকে রক্ষা করার জন্য নয়, বরং পুরো প্রকৃতির সুস্থতা বজায় রাখার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Multiple Scientific Society posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Multiple Scientific Society:

Share