25/03/2025
তামিম ভাইয়ের হার্টের ব্ল'কটা একদিনে হয়নি বা আজ-কালের ব্যাপারও না৷ সিজন শুরুর আগে যদি প্লেয়ারদের বডি স্ক্রিনিং করানোর প্র্যাকটিস আমাদের থাকতো তাহলে প্লেয়াররা বা মেডিকেল ইউনিটও জানতে পারেন যে কোন একজন প্লেয়ারের হার্ট এবং লাঙ ফিটনেস কেমন আছে৷
ইউরোপিয়ান ফুটবলে সিজনের আগে ২ টা কমন স্ক্রিনিং করানো হয় ফুটবলারদের, CPET Test এবং CRY Test.
CPET Test হল Cardiac Pulmonary Exercise Test যেখানে একজন প্লেয়ারের হার্ট এবং লাং এর ফিটনেস যাচাই করা হয়৷ দেখা হয় ওই প্লেয়ারের হার্ট এবং লাঙ অক্সিজেন এবং কার্বন-ডাই অক্সাইডকে কতটুকু efficiently ব্যাবহার করতে পারছে৷ এই পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে তার ওয়ার্কলোড থেকে শুরু করে সব ব্যাপারে সচেতন থাকা যায়৷ ওই প্লেয়ার মাঠে নামার আগে মেডিকেল স্টাফদের জানা থাকে তার কি কি রিস্ক ফ্যাক্টর আছে৷
CRY Test হল Cardiac Risk in Young. অনেকের মনে আছে, ক্রিসচিয়ান এরিকসেনের ঘটনার কথা৷ উনার ঘটনার পর থেকেই ইউরোপিয়ান লিগে এটা একদম বাধ্যতামূলক পরীক্ষা হয়ে গেছে৷ এরিকনের কিন্তু হার্টে ব্লকের মত সমস্যা ছিল না, তার হার্টে হিডেন কার্ডিয়াক প্রবলেম ছিল৷ এরকম অনেক অ্যাথলেট আছেন যারা Hidden Cardiac problem নিয়ে আছেন যা তারা জানেনও না৷ দেখতে ফিটনেস ভালো, কিন্তু হার্ট হেলথে কিছু একটা হিডেন ঝামেলা আছে৷ এ কারণেই এই CRY টেস্ট করানো হয়৷ এগুলো একটা সিজন শুরুর আগেই তাকে মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট দেন ডক্টররা এবং উন্নত দেশগুলোতে এটা একটা কমন প্র্যাকটিস৷ এই টেস্টগুলোতেই জানা যায় আসলে ওই প্লেয়ারটার হার্টের কন্ডিশন বা অন্যান্য জায়গায় কি অবস্থায় আছেন। এই ব্যাপার নিয়েই কথা বললাম স্পোর্টস মেডিসিন এক্সপার্ট তুষার মাহমুদ ভাই এর সাথে, তিনি এখন বাংলাদেশ ফুটবল টিমের সাথে আছেন,তিনি স্পোর্টস মেডিসিন সেন্টারের গুরুত্বের কথা বললেন
নেটফ্লিক্সে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের একটা ডকুমেন্টারি দেখছিলাম৷ সেখানেও দেখছিলাম সিজনের আগে প্রতিটা প্লেয়ারের স্ক্রিনিং মাস্ট।
প্রান্তিক নওরোজ নাবিলের ইনসিডেন্টটাই আমাদের একটা ওয়েক আপ কল ছিল৷ নাবিলের প্রবলেমটা একদিনে হয় নাই৷ প্রথমদিকেই যদি ব্যাপারটার স্ক্রিনিং হত, লাং হেলথ শনাক্ত করা যেত তাহলে এটার ব্যাপ্তি এত বাড়তো না৷
আমাদের দেশে CPET মেশিন মনে হয় দুইটা, একটা এভারকেয়ার হসপিটালে৷ CRY Test করার ক্যাপাসিটি থাকার কথা না, কারণ সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যাবস্থায় এগুলো লাক্সারিই৷ কিন্তু আমাদের একটা ক্রীড়া মন্ত্রনালয় আছে৷ এত বছরেও আমাদের দেশে আমরা স্পোর্টস মেডিসিন সেন্টার বানাতে পারি নাই৷ যেই স্পোর্টস মেডিসিন সেন্টারে অ্যাথলেটদের শারিরিক পরীক্ষার সকল কিছু থাকবে।
স্পোর্টস মেডিসিন সেন্টার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা যা আমাদের দেশে খুবই উপেক্ষিত৷ বয়সভিত্তিক প্লেয়ারদের বয়স যাচাই থেকে শুরু করে সকল ধরনের ট্রিটমেন্টে আমাদের আউটসোর্সিং করতে হয়৷ আজকে এমন সেন্টার থাকলে প্রি সিজনে আমাদের ক্রিকেট-ফুটবল প্লেয়ারদের এই স্ক্রিনিংগুলো হলে অন্তত প্লেয়াররা জানতেন তাদের হার্ট বা লাং এর কি অবস্থা৷ নিচের দিকের কথা তো চিন্তাই করা যাবে না, অন্তত এলিট অ্যাথলেটরা নিজেদের কন্ডিশন জানতে পারতেন৷ এবং এখানে যে পরিমাণ খরচ এবং আমাদের দেশে যত ডিসিপ্লিনের খেলা আছে, সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগটা এককভাবে কোন ফেডারেশন না, ক্রীড়া মন্ত্রনালয়েরই নেয়া উচিত ছিল।
এই মুহুর্তে মাহে রমজানে প্রিমিয়ার লিগ ছাড়াও আরো ২ টি টুর্নামেন্ট চলছে৷
১. ঢাকা ৩য় বিভাগ কোয়ালিফাইং
২. ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশীপ
৩য় বিভাগ কোয়ালিফাইং এ আমি যে কয়দিন মাঠে গেছি, কোন অ্যাম্বুলেন্স দেখি নাই৷ ইমার্জেন্সি ট্রিটমেন্টের জন্য কোন মেডিকেল ইউনিট দেখি নাই৷ এই লেভেলের প্লেয়াররা তো আরো নাজুক থাকেন, আরো নন প্রফেশনাল থাকেন৷ তাদের আল্লাহ না করুক, কোন একটা ইস্যু ক্রিয়েট হলে কি অবস্থা হতে পারে একবার চিন্তা করে দেখেন৷
তবে আজকে তামিম ভাই এর অসুস্থ্যতার সাথে সাথেই ম্যাচ রেফারী দেবব্রত পালসহ, অফিশিয়াল টিটু ভাইরা যেভাবে ডিসিশন মেকিং করেছেন- এজন্য তাদের ধন্যবাদ দিতে হয়। এরকম সময় ডিসিশন মেকিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ সহায় হোন, তামিম ভাই এর শেফার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি৷