24/11/2025
🌺ভূমিকম্পের সময় বিল্ডিংয়ের উপর মূলত কম্পনজনিত পার্শ্বীয় (side) লোড কাজ করে, যা অনুভূমিক দিক থেকে আসে।
🏗️ ভূমিকম্পে একটি বিল্ডিংয়ের উপর যে সকল লোড পড়ে?
🔄 Inertial Load (ত্বরণজনিত লোড)
ভূমিকম্পে মাটি হঠাৎ দ্রুত দুলে ওঠে। বিল্ডিংয়ের ভর এই দোলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করে ফলে বিল্ডিংয়ের ভিতরের অংশে Inertial Force তৈরি হয়। এই ইনর্শিয়া ফোর্সই মূলত ভূমিকম্প লোড।
Force = Mass × Acceleration
অর্থাৎ, বিল্ডিং যত ভারী হবে লোড তত বেশি হবে।
↔️ পার্শ্বীয় (Lateral Load)
এই লোড বিল্ডিংকে পাশের দিকে ঠেলে দেয়। এটি বিল্ডিংয়ের কলাম ও শিয়ার ওয়ালে সরাসরি কাজ করে ফলে বিল্ডিংকে বাঁকায় এবং দুলিয়ে দেয়। এই লোডের কারণেই ভবনের কলাম ভেঙে যেতে পারে, বিমে ফাটল ধরে এবং বিল্ডিং হেলে পড়ে
🔃 Torsional Load (মোচড়ানো লোড)
যখন বিল্ডিংয়ের ভার দুই পাশে সমানভাবে না থাকে, তখন বিল্ডিং ঘুরতে শুরু করে। এটি সাধারণত হয়:
-অনিয়মিত আকৃতির ভবন হলে
-বিল্ডিংয়ের এক পাশে ভারী অংশ থাকলে
-অসমভাবে কলাম বসালে
🌊 Vertical Seismic Load (উপর-নিচ কম্পন)
ভূমিকম্পে কেবল পাশ থেকে নয়, নিচ থেকে উপরেও কম্পন আসে। এর ফলে বিম ও স্ল্যাবে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ফ্লোর সিস্টেম দুর্বল হলে ক্ষতির মাত্র বেড়ে যায়।
🧨 এই লোডগুলোর প্রভাব যে ভাবে কাজ করে--
কাঠামোগত প্রভাব:
-কলাম ফেইলিউর
-বিম-কলাম জয়েন্টে ফাটল
-Soft Storey ধসে যাওয়া
-ভিত্তিতে অতিরিক্ত চাপের প্রভাবে ভিত্তি ফেইলিউর
-হেলে পড়া
স্থাপত্যিক ও অ-কাঠামোগত ক্ষতি:
-দেয়ালে বড় ফাটল
-ফলস সিলিং ভেঙে পড়া
-কাঁচ ও জানালার ভাঙন
-স্যানিটারি ও পাইপলাইন ক্ষতি
ভূমিকম্প আসলে বিল্ডিংয়ের উপর স্বাভাবিক ভার না দিয়ে ঝাঁকুনি দিয়ে চাপ দেয়। যারা বিল্ডিং ডিজাইনে এই লোডগুলো গণনায় রাখে না, তাদের ভবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
একটি বিল্ডিংকে ভূমিকম্প প্রতিরোধী (Earthquake Resistant) করতে হলে শুরু থেকেই সঠিক পরিকল্পনা, মানসম্মত নির্মাণ ও নিয়মিত তদারকি জরুরি।
🏗️ ১. সঠিক নকশা ও পরিকল্পনা
ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন করা:
অভিজ্ঞ স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে ডিজাইন করাতে হবে। ডিজাইনে অবশ্যই BNBC (বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড) অনুসরণ করতে হবে।
ভবনের আকার ও আকৃতি:
খুব বেশি অনিয়মিত বা অদ্ভুত আকৃতির বিল্ডিং ঝুঁকিপূর্ণ।
আয়তাকার বা সমান জ্যামিতিক আকৃতি বেশি নিরাপদ।
উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ:
ভিত্তি (foundation) যত মজবুত হবে।