Palmal Group of Industries

Palmal Group of Industries Palmal Group of Industries, one of the promising RMG manufacturing business organizations, emerged in 1984 from the sole initiative of Late Engr. Mr.

Nurul Haque Sikder, the former and founder Chairman and Managing Director of the Group.

এই জানুয়ারিতে, IPF বাংলাদেশ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে ICCB, ঢাকা-তে, যেখানে ১৪টি দেশ ও অঞ্চলের ৪০০ প্রদর্শনকারী অংশগ্রহণ করবেন।...
04/01/2026

এই জানুয়ারিতে, IPF বাংলাদেশ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে ICCB, ঢাকা-তে, যেখানে ১৪টি দেশ ও অঞ্চলের ৪০০ প্রদর্শনকারী অংশগ্রহণ করবেন। প্রদর্শনীতে থাকবে বৈচিত্র্যময় উদ্ভাবনী যন্ত্রপাতি, উপাদান এবং সমাধান, যা উৎপাদন দক্ষতা ও কার্যক্রম উন্নত করতে সহায়তা করবে। 🔥

এখনই রেজিস্ট্রেশন করুন🎟 https://chanchao.tw/pR4Q58

প্রদর্শনী প্রোফাইল:
◌ প্লাস্টিক ও রাবার
◌ প্রিন্টিং
◌ প্যাকেজিং
◌ লেবেল প্রিন্টিং
◌ করাগেটেড ও ফোল্ডিং কার্টন
◌ কোয়ালিটি ডিটেকশন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম
◌ পেপারকেমটেক, পেপার মেশিনারি ও কাগজ
◌ প্লাস্টিক ও রাবার কাঁচামাল ও সহায়ক উপকরণ
◌ মেশিনারি পার্টস ও এক্সেসরিজ

【IPF বাংলাদেশ ২০২৬】
📆 ২৮–৩১ জানুয়ারি ২০২৬
📍 ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (ICCB), ঢাকা

04/01/2026

Winter Jacket
゚viralシfypシ゚

04/01/2026

গার্মেন্টস শেখার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন (A-Z)

এই গাইডটিতে গার্মেন্টস (RMG) ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজনীয় সবকিছু ধাপে ধাপে সাজানো হয়েছে শেখা, কাজ, পরীক্ষা, হিসাব—সবই এক জায়গায়। নতুন থেকে শুরু করে সুপারভাইজার/মার্চেন্ডাইজার/কোয়ালিটি ম্যানেজার—সবাই কাজে লাগাতে পারবেন।

Step 1: বেসিক ধারণা

1.1 ইন্ডাস্ট্রির সারসংক্ষেপ

বাংলাদেশে গার্মেন্টস ১৯৮০-এর দশক থেকে দ্রুত বিকশিত; রপ্তানিতে প্রধান অবদান।

প্রধান সেগমেন্ট: Knit, Woven, Sweater, Denim।

সাধারণ ফ্যাক্টরি ফ্লো: Fabric Store → Cutting → Sewing → Washing (যদি থাকে) → Finishing → Packing → Shipment।

1.2 প্রধান বিভাগ/টিম

Cutting, Sewing, Finishing/Packing, QC/QA, Merchandising, PPC (Production Planning & Control), IE (Industrial Engineering), Compliance, Commercial & Logistics।

1.3 সাধারণ জব রোল

Operator, Helper, QC Inspector, Line Chief/Supervisor, IE, Merchandiser, Store Keeper, Finishing In‑charge, Compliance Officer প্রভৃতি।

Step 2: Fabric & Accessories

2.1 Fabric-এর মূল ধরন

Woven (বোনা): Warp & Weft দিয়ে interlacing। উদা: শার্ট, প্যান্ট, ডেনিম।

Knitted (লুপযুক্ত): লুপ ফর্মেশনে তৈরি। উদা: টি‑শার্ট, পোলো, লেগিংস।

Non‑woven: তাপ/কেমিক্যাল/চাপ দিয়ে; উদা: মাস্ক, মেডিকেল গাউন।

2.2 Knit Structures (উদাহরণ)

Single Jersey, Rib (1x1/2x2), Interlock, Piqué, Fleece/Terry।

2.3 Woven Weaves (উদাহরণ)

Plain, Twill, Satin, বিশেষ: Denim (twill), Canvas, Poplin।

2.4 গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাব্রিক প্যারামিটার

GSM (ওজন), Composition (Cotton/Poly/Blends), Width (ইঞ্চি/সেমি), Shrinkage (Wash/Steam), Color Fastness (wash/rub/perspiration/light), Spirality (knit), Bow/Skew (woven)।

2.5 Fabric Storage & Relaxation

Knit ফ্যাব্রিক কাটিংয়ের আগে সাধারণত ২৪ ঘণ্টা relaxation (রোল খুলে) দেওয়া হয়।

আর্দ্রতা/তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ; রং/লট আলাদাভাবে ম্যানেজ।

2.6 Accessories

(A) Sewing Trims: Thread, Button, Zipper, Elastic, Hook & Bar, Snap, Drawcord, Interlining/Fusing।

(B) Finishing/Packaging: Main/Size/Care Label, Heat Seal/Sticker, Hangtag, Polybag, Tissue, Collar Stand/Butterfly, Neck Board, Carton, Barcodes।

QC Tips: Zipper spec (length/teeth type), Thread ticket/Tex, Button pull test, Elastic recovery %, Label wash fastness।

Step 3: Machines & Operations

3.1 কোর সেলাই মেশিন

Lockstitch (Class 301) – সাধারণ জয়েন্ট/টপস্টিচ।

Chainstitch (Class 401) – waistband/long seam; ফিড-অফ-দ্য-আর্মেও ব্যবহৃত।

Overlock/Overedge (Class 500: 504/514/516) – edge neatening; 516 = 5‑thread safety।

Coverstitch/Flatseam (Class 600: 602/605/607) – হেম, নেক, ফ্ল্যাটসিম।

Bartack – বেল্ট লুপ/স্ট্রেস পয়েন্ট শক্ত করা।

Buttonhole (Straight/Keyhole), Button Attach, Eyelet।

3.2 কাটিং/ফিনিশিং যন্ত্রপাতি

Cutting: Fabric inspection machine, Spreading machine, Straight knife, Band knife, Die cutter/Notcher, Fusing press, Numbering & Bundling।

Finishing: Steam iron & vacuum table, Thread trimmer/sucker, Stain remover, Needle detector/Metal detector, Measurement table।

3.3 সূচ (Needle) ও সুতা

Knit: Ballpoint (যেমন 11/75, 12/80)।

Woven/Denim: Sharp point (যেমন 14/90, 16/100, 18/110)।

Thread: Spun/Poly core-spun/Filament; Ticket/Tex অনুযায়ী সাইজ।

3.4 Stitch & SPI গাইড (সাধারণ)

Knit টপস্টিচ/হেম: 8–10 SPI; Shirt topstitch: 10–14 SPI; Denim: 7–9 SPI। (Buyer spec প্রাধান্য পাবে)

3.5 Operation Bulletin (OB) – উদাহরণ (Basic T‑shirt)

SL অপারেশন মেশিন অনুমানিক SMV (মিনিট)

1 Shoulder Join 504/516 0.40
2 Neck Rib Attach + Topstitch 605 0.90
3 Sleeve Attach (O/L) 504 0.45
4 Side Seam (Safety) 516 0.60
5 Bottom Hem 605 0.50
6 Sleeve Hem 605 0.45
7 Trimming/Thread Suck – 0.20
8 Final QA & Measurement – 0.30
Total 3.80
(নোট: কারখানাভেদে পরিবর্তনশীল; IE টাইম স্টাডি করে নিশ্চিত করুন)

Step 4: Cutting Process

4.1 Fabric Inspection (4‑Point System)

Defect ধরন অনুযায়ী পয়েন্ট দিয়ে রোল গ্রেডিং; কাটা আগে রোল অনুমোদন।

4.2 Spreading & Lay Plan

Grainline বজায় রেখে spreading; stripe/print matching; lay height limit (ফ্যাব্রিক/স্টাইল অনুযায়ী)।

4.3 Marker & Efficiency

Marker efficiency ↑ রাখলে ফ্যাব্রিক খরচ ↓। Buyer size ratio মেনে marker।

4.4 Cutting & Part Control

Notch/Drill mark; Numbering & Bundling; Shade grouping (A/B/C শেড)।

4.5 Safety & Housekeeping

ব্লেড সেফটি, ESD/clean table, কাটিং অফাল আলাদা।

Step 5: Sewing Line Management

5.1 Line Layout & Balancing

OB অনুযায়ী মেশিন সেট‑আপ; Bottleneck অপারেশন চিহ্নিত করে manpower/machine টিউনিং।

5.2 WIP Control

প্রতিটি স্টেশনে Min‑Max WIP সেট; ক্যানবান/ট্যাগ সিস্টেমে ট্র্যাকিং।

5.3 Inline/End‑line QC

Defect tagging, rework station, First‑Pass‑Yield (FPY) উন্নতকরণ।

5.4 Key Metrics & ফর্মুলা

SMV = Basic Time × (1 + Allowances%)।

Efficiency (%) = (Earned Minutes / Available Minutes) × 100।

Earned = Output pcs × SMV

Available = No. of operators × Working minutes

DHU (%) = (Defects / Inspected garments) × 100।

FPY (%) = (Good out / Total out) × 100।

উদাহরণ (Efficiency):

Operators: 25, Working minutes: 480 → Available = 25×480 = 12,000 মিনিট

Output: 1,200 pcs, SMV: 7.0 → Earned = 1,200×7 = 8,400 মিনিট

Efficiency = 8,400/12,000 × 100 = 70%

Step 6: Finishing & Packing

6.1 Finishing Flow

Trimming → Thread suck → Stain removal (প্রয়োজনে) → Full pressing/steaming → Measurement check → Tag/Sticker → Folding → Poly → Metal detection/Needle detection → Carton packing।

6.2 Measurement & Fit

Buyer Tech Pack/Measurement spec অনুযায়ী টলারেন্স চেক; Size set রেকর্ড।

6.3 Packing

Solid pack (একই সাইজ/রঙ), Assorted pack (বিভিন্ন সাইজ/রঙ রেশিও); Carton marking, Barcode/Shipping mark।

Step 7: Quality Control & Assurance

7.1 AQL (Acceptable Quality Limit)

Buyer‑নির্ধারিত AQL (যেমন 2.5/4.0) অনুযায়ী Sample size বাছাই করে Inline/Final inspection।

Major/Minor defect আলাদা করে গণনা; Accept/Reject সিদ্ধান্ত।

7.2 Lab Tests (সাধারণ)

Dimensional Stability (Shrinkage), Spirality

Color fastness: Wash, Rubbing (dry/wet), Perspiration, Light

Physical: Seam strength/slippage (woven), Bursting (knit), Pilling, GSM

Chemical: Azo‑free, pH, Heavy metals (buyer/regulatory অনুযায়ী)

7.3 Needle/Metal Policy

Broken needle log, part sealing, end‑of‑line metal detection (sensitivity buyer policy অনুযায়ী), magnet control।

Step 8: Merchandising & PPC

8.1 Order Lifecycle

Inquiry → Costing/Consumption → Price/Confirm PO → TNA → Lab‑dip/Strike‑off/Trim dev → Fit/Size‑set → PP Meeting → Bulk Production → Inline/Final Inspection → Shipment → Payment।

8.2 Costing – সাধারণ কাঠামো

Fabric (consumption × price) + Trims + Print/Embroidery/Wash + CM/CMTP (Cut‑Make/Thread‑Packing) + Testing/Inspection + Overhead + Freight + Margin = FOB Price

Knit-এ সাধারনত 4–8% wastage; woven-এ 2–4% (স্টাইল/ফ্যাব্রিকভেদে ভিন্ন)।

8.3 Consumption ধারণা (High‑level)

Marker‑based পদ্ধতি সর্বোত্তম। Knit‑এ GSM×Area ভিত্তিক হিসাবও প্রচলিত।

8.4 Approvals & Samples

Lab‑Dip (ডাই শেড), Strike‑off (প্রিন্ট), Handloom/Blanket (woven dev), Proto/Fit, Size‑set, PP, TOP।

8.5 TNA (Time & Action) – উদাহরণ টেমপ্লেট

মাইলস্টোন দায়িত্ব লক্ষ্য তারিখ

PO Receive Merch Wk‑0
Lab‑dip/Trims Dev Start Merch/QA Wk‑1
Fit/Size‑set Submit Tech/Merch Wk‑2
PP Meeting QA/Prod/Merch Wk‑3
Bulk Fabric In‑house Store/Merch Wk‑4
Cutting Start Prod Wk‑4.5
Sewing Start Prod Wk‑5
Inline Inspection QA Wk‑6
Finishing/Packing Prod/QA Wk‑7
Final Inspection QA/Buyer Wk‑7.5
Shipment Commercial Wk‑8

8.6 Capacity Planning (সরল ফর্মুলা)

Days needed ≈ (Order Qty × SMV) / (No. of operators × Working minutes/day × Efficiency)

Step 9: Compliance & Safety

9.1 Social & Legal Compliance (সারাংশ)

শ্রম আইন মেনে কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম, ছুটি, বেতন/বোনাস, হয়রানি/ভেদাভেদ বিরোধী নীতি, গ্রিভিয়েন্স মেকানিজম।

কোনও Child/Forced/Prison labor নয়; ফ্রিডম অব অ্যাসোসিয়েশন সম্মান।

9.2 Health, Safety & Environment (HSE)

ফায়ার সেফটি: এক্সিট, অ্যালার্ম, ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্ট, নিয়মিত ড্রিল।

মেশিন সেফটি: গার্ডিং, PPE (গ্লাভস, মাস্ক, ইয়ারপ্লাগ), এরগনোমিক্স।

কেমিক্যাল: MSDS, সেফ স্টোরেজ, স্পিল রেসপন্স; ETP/WTP অপারেশন (যদি থাকে)।

9.3 Buyer/3rd Party Audit Readiness

ডকুমেন্টেশন, ট্রেনিং রেকর্ড, রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, CAP (Corrective Action Plan)।

Step 10: IE, Lean & Productivity

10.1 SMV/Time Study

Stop‑watch/Video Time Study → Rating → Allowances → SMV।

10.2 Lean টুলস

5S (Sort, Set, Shine, Standardize, Sustain)

Kaizen (ধারাবাহিক উন্নতি), Kanban (পুল‑সিস্টেম), Value Stream Mapping, Single‑piece flow (যেখানে উপযোগী)।

10.3 Bottleneck Management

Highest WIP/Longest cycle time অপারেশন চিহ্নিত → শ্রম/মেশিন/মেথড পরিবর্তন।

10.4 দ্রুত উন্নতির আইডিয়া

Thread break/needle heat কমাতে সঠিক সূচ/থ্রেড, তেল/টেনশন টিউনিং; Changeover SMED (setup time কমানো); OB আপডেট।

Step 11: Sustainability & Green Factory (সংক্ষিপ্ত)

শক্তি সাশ্রয় (LED, VFD, Air‑leak control), পানি সাশ্রয় (low‑liquor ratio dyeing, reuse), বর্জ্য পৃথকীকরণ/রিসাইক্লিং, কেমিক্যাল ZDHC গাইডলাইন, Higg Index (FEM/FSLM) ব্যবহার।

Glossary (দ্রুত রিভিউ)

GSM: Gram/sq.m – কাপড়ের ওজন।

SMV/SAM: অপারেশন প্রতি স্ট্যান্ডার্ড মিনিট।

AQL: গ্রহণযোগ্য ত্রুটি সীমা ভিত্তিক ইনস্পেকশন পদ্ধতি।

OB: Operation Bulletin – অপারেশন, মেশিন, SMV টেবিল।

TNA: Time & Action – অর্ডারের টাইমলাইন।

DHU: Defects per Hundred Units।

FOB/CIF/CFR/EXW: Incoterms – শিপমেন্ট চুক্তির শর্ত।

CM/CMTP: Cut‑Make (Thread‑Packing)।

SPI: Stitches per inch।

WIP: Work in Progress।

Practice Tasks (স্বশিক্ষার জন্য)

1. Fabric ID drill: ১০টি ফ্যাব্রিক স্যাম্পল নিয়ে GSM, width, composition নোট করুন।

2. Mini OB বানান: বেসিক টি‑শার্টের ১০–১২টি অপারেশন লিখে আনুমানিক SMV দিন।

3. Line Efficiency হিসাব: আপনার লাইনের একদিনের ডেটা নিয়ে efficiency/DHU/FPY বের করুন।

4. TNA তৈরি: ৮ সপ্তাহের মধ্যে শিপমেন্ট ধরেই নিজের অর্ডারের TNA বানান।

5. AQL সিমুলেশন: ১,২০০ পিস লটের জন্য sample size/accept‑reject রেকর্ডের নমুনা ফরম বানান।

চেকলিস্ট (দৈনিক ব্যবহার্য)

Cutting: 4‑point pass ✓, Shade group ✓, Marker sign‑off ✓

Sewing: OB posted ✓, WIP within limit ✓, End‑line FPY ≥ টার্গেট ✓

Finishing: Measurement within tolerance ✓, Metal detect pass ✓, Carton mark ✓

QA: Inline report ✓, CAP follow‑up ✓

Merch: TNA on‑track ✓, Approvals on‑file ✓

নোট

Buyer spec/টেক প্যাক সর্বদা চূড়ান্ত রেফারেন্স।

সংখ্যা/মান (SPI, AQL level, metal sensitivity ইত্যাদি) buyer ও প্রোডাক্টভেদে ভিন্ন হতে পারে—ফ্যাক্টরি স্ট্যান্ডার্ড ও buyer SOP মিলিয়ে নিন।

ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন।

04/01/2026

১০০% পলিস্টার নিট ফেব্রিক ডাইং প্রসেস:

➡পলিস্টার ফেব্রিক বর্ণনাঃ
✅পলিস্টার মানে হলো এস্টারের পলিমার যা সম্পুর্ণই একটি মেন মেইড ফাইবার এবং নন বায়োডিগ্রেডেবল। তাই এই ফেব্রিক ডাইং করার জন্যও স্পেশাল ডাইসের প্রয়োজন। বর্তমানে সারাবিশ্বে পলিস্টার ফেব্রিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

➡১০০% পলিস্টার ডাইং প্রসেস ফ্লো চার্টঃ

গ্রেইজ ফেব্রিক

স্কাওরিং এন্ড ব্লিচিং (If Required)

লেভেলিং

ডাইং

স্যাম্পল চেক

যদি ওকে হয় যদি ওকে না হয়
⬇ ⬇
রিডাকশন ক্লিনিং ডাই এডিশন
⬇ টপিং/স্ট্রিপিং

আফটার ট্রিটমেন্ট

➡১০০% পলিস্টার নিট ফেব্রিক ডাইং বর্ননাঃ

✅১)স্কাওরিং এবং ব্লিচিং:
পলিস্টার ফেব্রিকে কটন ফেব্রিকের মতো ওয়েল,ওয়াক্স, অন্যান্য ন্যাচারাল ইম্পিউরিটিস থাকে না কারন পলিস্টার একটি সম্পুর্ন মেন মেইড ফাইবার।
যার কারনে ১০০% পলিস্টার ফেব্রিককে স্কাওরিং ব্লিচিং না করলেও চলে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমন বায়ারের রিকুয়ারমেন্ট/ লাইট শেডের ক্ষেত্রে স্কাউরিং করা লাগতে পারে। আর স্কাওরিং করা হলে সেক্ষেত্রে ফেব্রিককে হিট সেটিং করে নেয়া হয় যাতে ফেব্রিকে ক্রিজ মার্ক না পরে।আর পলিস্টার ফেব্রিক ডাইং এর জন্য সাধারণত Soft Flow Jet Dyeing মেশিন ব্যবহৃত হয় সেখানে ফেব্রিক এবং লিকার দুটোই একসাথে মুভমেন্ট করে।

১০০% পলিস্টার ডাইং এর ক্ষত্রে pH ঠিক রাখা বাধ্যতামূলক তাই এর জন্য ডিসপার্সিং এজেন্টের সাথে এসিড বাফার ব্যাবহার করা হয়।সেক্ষেত্রে pH (৩.৫-৪) রাখা হয়। ফ্যাক্টরি ক্ষেত্রে সেটি ভিন্ন হতে পারে।এবং pH ডাইস এর কালারের উপরও নির্ভর করতে পারে।
প্যারামিটারঃ
pH= ৩.৫-৪
সময়ঃ ৫-৭ মিনিট
তাপমাত্রাঃ ৬০°সে

✅২) লেভেলিংঃ
ডাইং ধাপটি শুরু করার আগে ফেব্রিকে লেভেলিং এজেন্ট ব্যবহার করা হয়। লেভেলিং এজেন্ট দেয়ার উদ্দেশ্য হলো ডাইস ক্যামিক্যাল গুলো যেনো ফেব্রিকের সর্বত্র সমানভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক কথায় পলিস্টার ফেব্রিকের সেড ইভেন হওয়ার জন্য ৬০°সে তাপমাত্রায় লেভেলিং এজেন্ট ব্যাবহার করা হয়।

✅৩) ডাইংঃ
পলিস্টার ডাইং এর ক্ষেত্রে সাধারণত ডিসপার্স ডাইস ব্যবহার করা হয়। ডিসপার্স শব্দের অর্থ হলো ছড়িয়ে পরা।
পলিস্টার ফাইবারের ডাইস এর প্রতি আসক্তি নেই। তাই পলিস্টার ডাইং উচ্চ (১৩০°-১৩৫°সে) তাপমাত্রায় উঠিয়ে ৩৫-৪৫ মিনিট রেখে সম্পন্ন করা হয়। পলিস্টার এর গ্লাস ট্রানজিশন তাপমাত্রা ৭০-১২০°সে। তাই ডাইং এর সময় ১২০°সে এর উপরে নিয়ে সোয়েলিং করতে হয় যাতে ডাই সহজে ঢুকতে পারে।
সাধারণত লাইট কালারের ক্ষেত্রে ১৩০°সে এবং ডিপ কালারের ক্ষেত্রে ১৩৫°সে এ করা হয়।

সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে পলিস্টার ডাইং এর সময় যখন তাপমাত্রা ১৩০°-১৩৫°সে উঠে তখন পলিস্টার ফাইবার গুলোর মধ্যে ইন্টারমলিকিউল্যার ভাইব্রেশন বৃদ্ধি পায়। ফলে এদের মধ্যেকার আন্তঃআনবিক দূরত্ব বেড়ে যায় তখন ফাইবার গুলো swelling (ফোলা) হয় যার ফলে ডাইস গুলো তখন সহজেই ফাইবারে ঢুকে যায়। পরে যখন ৮০°সে তাপমাত্রায় ধীরে ধীরে কুলিং করা হয় তখন ডাইস গুলো ফাইবারের ভেতরে আটকে যায় আর বের হয়ে আসতে পারে না। এভাবেই ডাইং প্রসেসিং সম্পন্ন হয়।
এরপর শেড চেক করা হয় শেড যদি ওকে হয় তাহলে পরবর্তী স্টেপে(রিডাকশন ক্লিনিং) যাওয়া হয় আর শেড যদি ওকে না হলে/লাইট হয় তাহলে ডাই এডিশন করা হয় অন্যক্ষেত্রে টপিং বা স্ট্রিপিং করা লাগতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় পলিস্টার ডাইংয়ের ক্ষেত্রে মাথায় রাখা উচিত তা হলোঃ
পলিস্টার ডাইংএর ক্ষেত্রে অবশ্যই গ্রেড মেনটেইন করতে হবে। তাপমাত্রা ধীরে ধীরে উঠাতে হবে। এখানে প্রথমে ১১০ পর্যন্ত রেইট 1.5°C/min এর পর ১৩০ এ তুলতে 1°C/মিন হারে তুলতে হবে। কুলিং এর ক্ষত্রে এর পুরো উল্টো করতে হবে। ১১০ পর্যন্ত 1.5°C/min 75° পর্যন্ত 1.5°C/মিন হারে নামাতে হবে।
৬০°সে-১০০°সে পর্যন্ত ১গ্রেড এবং ১০০°-১৩০°সে পর্যন্ত ১/২ গ্রেড ধরা হয়। গ্রেড মেনটেইন না করলে কাপড়ে ভাজ পরে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।

✅৪)রিডাকশন ক্লিনিংঃ
পলিস্টার ডাইং এর ক্ষেত্রে রিডাকশন ক্লিনিং করা আবশ্যক। রিডাকশন ক্লিনিং এর সাহায্য ফেব্রিকের সারফেসে থাকা আনফিক্স ডাইস গুলোকে রিমুভ করা হয়।
কস্টিক সোডা ও সোডিয়াম হাইড্রো সালফেট এর সাহায্যে (৮০-৯০°সে) তাপমাত্রায় রিডাকশন ক্লিনিং করা হয়।
সেক্ষেত্রে pH মেনটেইন করা হয় ৯-১০।

লাইট কালারের রিডাকশন তাপমাত্রা ৮০°সে এর কম হওয়া যাবে না।
ডিপ কালারের রিডাকশন তাপমাত্রা ৯০°সে এর কম হওয়া যাবে না।
এবং রিডাকশন ক্লিনিগ শেষে এসিটিক এসিড দ্বারা নিউট্রাল করা হয়।

✅আফটার ট্রিটমেন্টঃ
এ পর্যায়ে ফেব্রিককে ডিটারজেন্ট এর সাহায্যে সোপিং করা হয় এবং সফেনারের সাহায্যে ফেব্রিককে সফট ও স্মুথ করা হয়।

➡উপসংহারঃ

✅100% পলিস্টার ফেব্রিক সাধারণত পোশাক, বাড়ির গৃহসজ্জার সামগ্রীতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও এই ফেব্রিক ব্যপকভাবে খেলাধুলার পোশাক, জ্যাকেট, বিছানার চাদর, পর্দা এবং গৃহসজ্জার সামগ্রীতে ব্যবহৃত হয়।
✅এই ফেব্রিকের কিছু সুবিধা হলোঃ
১)কম তাপমাত্রায় স্ত্রী করা যায়।
২)আকৃতি সহজে নষ্ট হয় না
৩)হালকা ও নমনীয়।
৪)টেকসই ও শক্তিশালী।
৫)দামে সস্তা।
৬)অন্যান্য ফেব্রিকের তুলনায় এ ফেব্রিক বেশিদিন ব্যবহারযোগ্য।
৭)ডাইং প্রসেস খুবই সহজ।
৮)এই ফেব্রিক রিসাইক্লিং করা যায়।

✅অসুবিধাগুলো হলোঃ
১) ডাইস এর প্রতি এই ফেব্রিকের আসক্তি খুবই কম
২) পলিস্টার ফেব্রিক পচন ধরতে প্রায় (২০-২০০) বছর পর্যন্ত সময় লাগে।
৩) এই ফেব্রিক কটন ফেব্রিকের মতো কমফোর্টেবল নয়।
৪) পলিস্টার ফাইবার তৈরির যে প্রসেস তা আমাদের পরিবেশের জন্য অনেক ক্ষতিকর। কারণ এ ফাইবার তৈরি হওয়ার সময় যে বিষাক্ত ধোঁয়াগুলো কারখানা থেকে বের হয় তা মোটেও পরিবেশবান্ধব নয়।

@ collected

04/01/2026

Winter Jacket
゚viralシfypシ゚

04/01/2026

T Shirt
゚viralシfypシ゚

04/01/2026

New product
゚viralシfypシ゚

04/01/2026

Sweater
゚viralシfypシ゚

19/11/2025

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে Pay Order:
নিরাপদ লেনদেনের নতুন দিগন্ত।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (Garments) শিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় খাত, যা জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
এই বিশাল শিল্পখাতে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন ঘটে—কখনো কাঁচামাল ক্রয়ে, কখনো শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে, আবার কখনো সরকারি ফি বা ভেন্ডর পেমেন্টে।

এইসব লেনদেনকে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখতে “Pay Order (পে অর্ডার)” একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

🏦 Pay Order কী?🎯

Pay Order হলো একটি ব্যাংক ইস্যুকৃত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের নিশ্চয়তা দলিল, যা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা হয়।
অর্থাৎ, এটি একটি Prepaid Payment Instrument, যেখানে ব্যাংক নিশ্চিত করে যে প্রাপক তার অর্থ পাবে — কারণ অর্থ আগেই ব্যাংকে জমা থাকে।

👉 সহজভাবে বললে —

“Pay Order মানে হলো ব্যাংকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা প্রদানের গ্যারান্টি।”

এটি শুধুমাত্র দেশের অভ্যন্তরে (Local Transaction) ব্যবহৃত হয়।

👕 গার্মেন্টস শিল্পে Pay Order এর ব্যবহার:🎉🎉

বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের ব্যবসায়িক লেনদেনে Pay Order বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়। নিচে সবচেয়ে প্রচলিত ব্যবহারগুলো তুলে ধরা হলো 👇

১️⃣ সরকারি ফি ও লাইসেন্স নবায়নে:

BGMEA, BKMEA, DOE, Customs বা EPB-তে বিভিন্ন ফি, সার্টিফিকেট নবায়ন, বা পরিবেশ ছাড়পত্র জমা দিতে Pay Order ব্যবহৃত হয়।

২️⃣ Tender বা Bid Security জমা দিতে:

যখন কোনো পোশাক প্রতিষ্ঠান সরকারি বা কর্পোরেট টেন্ডারে অংশ নেয়, তখন Earnest Money হিসেবে Pay Order জমা দেয়।

৩️⃣ সরবরাহকারী ও সেবা প্রদানকারীর পেমেন্টে:

অনেক স্থানীয় ভেন্ডর চেক বা ক্যাশের পরিবর্তে Pay Order পছন্দ করে, কারণ এটি ব্যাংক গ্যারান্টিযুক্ত।

৪️⃣ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইউটিলিটি বিল পরিশোধে:

গার্মেন্টস কারখানার গ্যাস, পানি, বা বিদ্যুৎ বিল প্রদানের সময় Pay Order ব্যবহৃত হয়।

৫️⃣ ব্যাংক চার্জ ও আমদানি প্রক্রিয়ায়:

Back-to-Back LC বা Import Registration Certificate নবায়নে Pay Order একটি সাধারণ মাধ্যম।

⚙️ Pay Order ইস্যু প্রক্রিয়া:🎯🎯🎯

Pay Order ইস্যুর প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ কিন্তু নিরাপদ। নিচে ধাপে ধাপে দেখা যাকঃ

↗️ ব্যাংকে Pay Order আবেদনপত্র পূরণ করা হয়।
↗️ নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিতে হয় (Cash বা Account Debit)।
↗️ ব্যাংক যাচাই শেষে Pay Order Slip ইস্যু করে।
↗️ আবেদনকারী Slip প্রাপকের হাতে দেয়।
↗️ প্রাপক Slip তার ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা পায়।

🔒 Pay Order এর নিরাপত্তা ও বৈশিষ্ট্য:📑

💼 এটি একটি Non-Negotiable Instrument — অর্থাৎ, এটি অন্যের নামে ট্রান্সফার করা যায় না।

🏦 ব্যাংক আগে থেকেই অর্থ গ্রহণ করে, তাই Payment Failure বা Bounce-এর ঝুঁকি নেই।

🔍 এতে ব্যাংকের Authorized Signature ও Seal থাকে।

📜 সাধারণত ৩–৬ মাস পর্যন্ত Validity থাকে।

❌ “Stop Payment” বা “Cancel” করা যায় না (যদি না বৈধ কারনে ব্যাংক সম্মত হয়)।

💡 গার্মেন্টস শিল্পে Pay Order এর সুবিধা:🎯🎯

✅ নিশ্চিত ও নিরাপদ পেমেন্ট:
ব্যাংক গ্যারান্টিযুক্ত হওয়ায় প্রাপক নিশ্চিতভাবে টাকা পায়।

📈 চেক বাউন্স ঝুঁকি নেই:
কারণ অর্থ আগেই ব্যাংকে জমা থাকে।

🧾 অডিটে সহজ যাচাই:
Pay Order নম্বর ও ব্যাংক সিলের মাধ্যমে হিসাব যাচাই করা সহজ।

📂 কোম্পানির হিসাব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা:
প্রতিটি Pay Order ব্যাংক ও কোম্পানির রেকর্ডে ট্র্যাকযোগ্য।

🔗 ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন:
নিয়মিত Pay Order ব্যবহার করলে ব্যাংক কোম্পানিকে ক্রেডিট সুবিধায় অগ্রাধিকার দেয়।

⚠️ Pay Order এর সীমাবদ্ধতা
সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা:
➡️ ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া অধিকাংশ ব্যাংক এখনো কাগজভিত্তিক Pay Order ইস্যু করে।
➡️ শুধু স্থানীয় ব্যবহারযোগ্য এটি আন্তর্জাতিক লেনদেনে প্রযোজ্য নয়।
➡️ হারানোর ঝুঁকি হারিয়ে গেলে পুনরায় ইস্যুতে সময় লাগে।
➡️ সময়সাপেক্ষ নিষ্পত্তি কিছু ব্যাংকে ক্লিয়ারেন্সে সময় লাগে।

🌐 ভবিষ্যৎ দিক: e-Pay Order ও ডিজিটাল লেনদেন

বাংলাদেশ ব্যাংক এখন Pay Order প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল (e-Pay Order) করতে কাজ করছে।
এর মাধ্যমে —

✅ অনলাইনে Pay Order আবেদন করা যাবে।

🧾 QR Code বা Tracking ID দিয়ে তাৎক্ষণিক ভেরিফিকেশন করা যাবে।

📊 ডিজিটাল অডিটিং ও রেকর্ড রাখা সহজ হবে।

👉 e-Pay Order চালু হলে গার্মেন্টস খাতের আর্থিক লেনদেন আরও দ্রুত, নিরাপদ ও পেপারলেস হবে।

বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে Pay Order একটি নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ পেমেন্ট পদ্ধতি, যা ব্যাংকিং নিরাপত্তা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখে।

এটি শুধু একটি কাগজ নয়—বরং ব্যবসার আস্থা, আর্থিক সততা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশে অগ্রযাত্রার প্রতীক।
ভবিষ্যতে e-Pay Order চালু হলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প আরও আধুনিক, দ্রুতগামী ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে।

Courtesy:
Engr Md Islamul Haque
Senior Merchandiser
Radisson Garments Ltd

01/10/2025

পোশাক শিল্পের সংকট ও সম্ভাবনা

দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি নিয়ে কথা বলতে গেলে সবার আগে যে খাত নিয়ে কথা বলতে হবে সেটি হচ্ছে পোশাক শিল্প। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে যখন উৎপাদন খাত বলতে তেমন কিছুই ছিল না, তখন আশির দশকে পোশাক শিল্প একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছিল। ধীরে ধীরে এ শিল্প দেশের প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হয়। আজকের বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে বিশেষভাবে পরিচিত করেছে এই পোশাক শিল্প। আমাদের মোট রপ্তানি আয়ের অনেক বড় একটি অংশ আসে এই খাত থেকে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও নারীর ক্ষমতায়ন এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে, পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থার এক বিশাল রূপান্তরের ইতিহাস বহন করছে। প্রায় ৫০ লাখ মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য সরাসরি এর সঙ্গে জড়িত এবং প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু যে শিল্প এত বড় অর্জনের গল্প লিখে দিয়েছে, সেই শিল্পই আজ বহুমুখী সংকটে জর্জরিত। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি ও ডলার সংকট, শ্রমিক অসন্তোষ, প্রতিযোগী দেশগুলোর অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত পিছিয়ে থাকা সব মিলিয়ে পোশাক শিল্প এক কঠিন সময় পার করছে। প্রতিনিয়ত প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের গার্মেন্টস কি টিকে থাকবে, নাকি ধীরে ধীরে ভিয়েতনাম কিংবা অন্য দেশগুলো বাজার দখল করে নেবে? আবার অন্যদিকে, অনেকেই মনে করেন, যদি সঠিক পরিকল্পনা নেওয়া যায় তবে এখনো এ শিল্পের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে। সেই ভবিষ্যতের দিকে এগোতে হলে প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী চিন্তা, নীতি সহায়তা এবং শ্রমিক-উদ্যোক্তা-সরকারের সমন্বিত পদক্ষেপ।
আশির দশকের গোড়ার দিকে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের শুরু হয়েছিল বিদেশী বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে। পরে স্থানীয় উদ্যোক্তারা ধীরে ধীরে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নব্বইয়ের দশক থেকে গার্মেন্টস শিল্প দেশের রপ্তানির মেরুদণ্ডে পরিণত হয়। সেই সময় বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশ কোটার সুবিধা পেত, যা ছিল এক বিশাল আশীর্বাদ। ২০০৫ সালে কোটা সুবিধা উঠে যাওয়ার পর অনেকে ভেবেছিলেন, বাংলাদেশ হয়তো টিকতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, শ্রমঘন শিল্প হওয়ায় এবং শ্রমিকদের মজুরি তুলনামূলক কম থাকায় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সক্ষম হলো।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পোশাক শিল্প থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যা ছিল ৩৬.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মূল কারণ হলো বৈশ্বিক অর্থনীতির ধস, ইউরোপ ও আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসসহ নানা কারণে এই শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মাঝে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান এসবই বাংলাদেশের প্রধান বাজার। যখন এসব দেশে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয় তখন সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের রপ্তানিতে। এদিকে, আমাদের দেশের কাঁচামাল আমদানিনির্ভর হওয়ায় ডলার সংকট উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে লাভজনক ব্যবসা করা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকরা আজও তুলনামূলকভাবে কম মজুরি পান। যদিও ২০২৩ সালে সরকার ন্যূনতম মজুরি কিছুটা বাড়িয়েছে, তবুও জীবনযাত্রার ব্যয় এত বেড়ে গেছে যে শ্রমিকদের প্রকৃত সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে প্রায়ই দেখা যায় আন্দোলন, সড়ক অবরোধ, কারখানা ভাঙচুর। এই অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধসের পর থেকেই বিশ্বব্যাপী নজর পড়েছে বাংলাদেশের পোশাক খাতের নিরাপত্তা মানদণ্ডের ওপর। এরপর অনেক সংস্কার হলেও, এখনো বেশকিছু কারখানায় শ্রমিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও কাজের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আরেকটি বড় সমস্যা হলো প্রযুক্তিগত পিছিয়ে থাকা। বৈশ্বিক বাজারে এখন অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজাইনিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে উৎপাদন আরও দ্রুত ও মানসম্পন্ন হচ্ছে। ভিয়েতনাম, চীন বা এমনকি আফ্রিকার কিছু দেশও প্রযুক্তি গ্রহণে অনেক এগিয়ে গেছে। অথচ বাংলাদেশ এখনো মূলত শ্রমঘন মডেলের ওপর নির্ভর করছে। ফলে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে সময়মতো ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিযোগিতার কথাও আলাদা করে উল্লেখ করতে হয়। ভিয়েতনাম বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তাদের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, যা তাদের রপ্তানি খরচ কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া কম্বোডিয়া, ভারত, ইথিওপিয়া ধীরে ধীরে গার্মেন্টস শিল্পে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। সস্তা শ্রমের সুবিধা আর এককভাবে বাংলাদেশের শক্তি হিসেবে কাজ করছে না।
তবে সংকট যতই থাকুক, সম্ভাবনা কিন্তু কম নয়। বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ে এক বিশাল ভূমিকা রাখছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদনের জন্য বিদেশি ক্রেতারা এখন বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এ ছাড়া নতুন বাজারের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত হচ্ছে। ভারত, চীন, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করা গেলে বৈচিত্র্য বাড়বে এবং ইউরোপ-আমেরিকার ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা হলেও কমবে। বাংলাদেশ এখনো প্রধানত নিম্ন ও মধ্যমানের পোশাক রপ্তানি করে। অথচ যদি উচ্চমূল্যের ব্র্যান্ডেড পণ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া যায়, তবে আয় কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন দক্ষ ডিজাইনার তৈরি করা, স্থানীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানের বিপণন কৌশল গ্রহণ করা। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল বা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ফলে লজিস্টিক খরচ কমবে, যা ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শ্রমিকদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ। এই শ্রমিকরাই এ শিল্পের প্রাণ। তাদের মজুরি, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন সবকিছু নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শ্রমিক অসন্তোষ কেবল অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি সুবিধা কিংবা আইএলও’র শ্রম মানদণ্ড পূরণ করার জন্যও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রযুক্তি ও অটোমেশনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন বাজার অনুসন্ধান ও রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা প্রসার, ডলার সংকট নিরসন ও গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং স্থানীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলা। যদি এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যায়, তবে পোশাক শিল্প কেবল বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগানদার হিসেবেই নয়, বরং একটি টেকসই ও মর্যাদাবান শিল্প হিসেবে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
পোশাক শিল্পকে ঘিরেই বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকাংশে দাঁড়িয়ে আছে। অতএব সংকটকে ভয় না পেয়ে, তা মোকাবিলা করার জন্য সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের সহায়তা, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ মনোভাব এবং শ্রমিকদের আস্থাই পারে এ শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের গল্প আসলে শুধু অর্থনীতির গল্প নয়, এটি শ্রম, ঘাম, সংগ্রাম আর স্বপ্নের গল্প। এই গল্প যেন ব্যর্থতায় থেমে না যায়, বরং আগামী প্রজন্মের কাছে গর্বের এক ইতিহাস হয়ে থাকে এই প্রত্যাশা সবার।

লেখক : আরিফুল ইসলাম রাফি, ঢাকা

02/06/2025

Hi everyone! 🌟 You can support me by sending Stars – they help me earn money to keep making content that you love.

Whenever you see the Stars icon, you can send me Stars.

সামনের বছরের জন্য ব্যাক্তি আয়করের হার
02/06/2025

সামনের বছরের জন্য ব্যাক্তি আয়করের হার

Address

9/Kha, Confidence Centre, Shahjadpur
Dhaka
1212

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Telephone

+88029897529

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Palmal Group of Industries posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Palmal Group of Industries:

Share