17/12/2025
📜১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সালের নতুন গেজেট: ভবন নির্মাণের আগে যে নিয়ম না জানলেই নয়।
ঢাকার ভূমি মালিক, ডেভেলপার এবং রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। গত ১৪ই ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ সরকার এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় "ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫"-এর গেজেট প্রকাশ করেছে । এই বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর বলে গণ্য হবে । অর্থাৎ, আপনি যদি আজ বা ভবিষ্যতে কোনো ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করেন, তবে ২০২৪ সালের পুরাতন নিয়ম সম্পূর্ণ অচল। নতুন নিয়মের প্রতিটি ধাপ না মানলে আপনার কোটি টাকার বিনিয়োগ বড় ধরণের আইনি ও আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন: ৩টি ধাপে ছাড়পত্র
আগে যেভাবে সহজেই প্ল্যান পাশ করা যেত, সেই দিন শেষ। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী অনুমোদন প্রক্রিয়াকে ৩টি সুনির্দিষ্ট ধাপে ভাগ করা হয়েছে:
১. পরিকল্পনা অনুমোদন (Planning Permit):
নির্মাণের আগেই আপনাকে রাজউকের নগর পরিকল্পনা শাখা থেকে ভূমির ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এই অনুমোদন নিতে হবে ।
২. নির্মাণ অনুমোদন (Construction Permit):
পরিকল্পনা অনুমোদনের পর আর্কিটেকচারাল, স্ট্রাকচারাল, ইলেকট্রিক্যাল ও প্লাম্বিং নকশা জমা দিয়ে এই অনুমোদন নিতে হবে ।
৩. বসবাস বা ব্যবহার সনদ (Occupancy Certificate):
ভবন নির্মাণ শেষ হলে এই সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক, যা ছাড়া ভবনটি ব্যবহারের অযোগ্য বলে গণ্য হবে ।
ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR) বা ভবনের আয়তন নির্ধারণে নতুন সমীকরণ আপনার জমিতে কতটুকু বা কত তলা ভবন করতে পারবেন, তা এখন সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে নির্ধারিত হবে।
এখন থেকে 'এলাকা ভিত্তিক FAR' (মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী) এবং 'রোডভিত্তিক FAR' (রাস্তার চওড়া অনুযায়ী)—এই দুটির মধ্যে যেটি কম (Minimum), সেটিই আপনার জন্য প্রযোজ্য হবে । অর্থাৎ, আপনার জমি বড় হলেও সামনের রাস্তা সরু হলে আপনি বড় ভবন তৈরির অনুমতি পাবেন না। রাস্তার প্রশস্ততা অনুযায়ী FAR সূচক কমানো বা বাড়ানো হবে ।
'বসবাস সনদ' (Occupancy Certificate) ছাড়া সমূহ বিপদ (The Major Warning) সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো অকুপেন্সি সার্টিফিকেট। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী:
ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন: বসবাস বা ব্যবহার সনদ ছাড়া কোনো ভবনে গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির নতুন সংযোগ দেওয়া যাবে না ।
ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন বন্ধ: অকুপেন্সি সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্ট আইনগতভাবে বিক্রি, হস্তান্তর বা নামজারি (Mutation) করা যাবে না । ডেভেলপার কোম্পানিও লে-আউট প্ল্যান অনুমোদনের আগে কোনো প্লট বা ফ্ল্যাট বিক্রি করতে পারবে না ।
ঋণ ও বিমা জটিলতা: ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই সনদ ছাড়া ঋণের মর্টগেজ বা প্রজেক্ট ফাইন্যান্সিং-এ জটিলতা তৈরি করতে পারে।
পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: নতুন বাধ্যবাধকতা পরিবেশ রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে:
STP বাধ্যতামূলক: ৫ কাঠা বা তার বেশি আয়তনের জমির ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদনের সময়ই সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (STP) এর সংস্থান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ।
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ: ১,৩৪০ বর্গমিটার বা তার বেশি আচ্ছাদিত এলাকার ক্ষেত্রে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং এবং ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জের ব্যবস্থা রাখতেই হবে ।
সোলার প্যানেল: ইমারতে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং এর জন্য নির্দিষ্ট উচ্চতা মানতে হবে ।
বিচ্যুতি ও উচ্ছেদ অভিযান অনুমোদিত নকশা থেকে সামান্য বিচ্যুতি ঘটালে বা সেটব্যাক (Setback) না মানলে কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া, ইউটিলিটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, এমনকি ভবন ভেঙে ফেলার ক্ষমতা রাখে । নির্মাণ কাজের সময় প্রতিবেশী বা পরিবেশের ক্ষতি হলে কাজ স্থগিত করা হতে পারে । এছাড়া, প্রকৌশলী বা স্থপতি যদি ভুল তথ্য দেন বা তদারকিতে গাফিলতি করেন, তবে তাদের পেশাগত সনদ বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ দায়ের করা হবে ।
আপনার করণীয় কী?
আইনটি অত্যন্ত বিশদ এবং কারিগরি বিষয়বহুল। সামান্য ভুলের কারণে আপনার স্বপ্নের প্রজেক্টটি আটকে যেতে পারে। আপনার প্রজেক্টের ফিজিবিলিটি স্টাডি, ডিজাইন এবং প্ল্যানিং এখনই ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী রিভিউ করে নিন।
আপনার স্বপ্নের প্রজেক্টের সঠিক ভ্যালুশন, সয়েল টেস্ট, স্ট্রাকচারাল ডিজাইন বা কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্টের জন্য আমাদের বিশেষজ্ঞ টিমের সাথে যোগাযোগ করুন। আমরা নিশ্চিত করি আপনার বিনিয়োগ যেন হয় টেকসই।
আমাদের সেবাসমূহ: আর্কিটেকচারাল ডিজাইন | ইন্টেরিওর ডিজাইন | স্ট্রাকচারাল ডিজাইন | প্রোজেক্ট অডিট | প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট | কন্সট্রাকশন কনসালটেন্সি | রাজউক অনুমোদন |
📞 যোগাযোগ করুন:
Mobile: +8801329529939, +8801986-822737
Email: [email protected]