03/07/2025
সোলার সিস্টেম সেটআপ নিয়ে সঠিক গাইডলাইন-
সোলার সিস্টেম নিজের বাসা, অফিস বা অন্য যেকোনো প্রয়োজনে ব্যাবহারের জন্য সেটআপের আগে আপনাকে এই বিষয়গুলি সম্পর্কে বেসিক একটি ধারনা থাকতে হবে, না হলে আপনার খরচ বেশী করেও প্রপার আউটপুট নাও পেতে পারেন তাই সবার আগে দরকার নিজে নিজে কিছুটা স্টাডি করে বেসিক ইনফরমেশনগুলি জেনে নেয়া। সঠিক গাইডলাইন আপনাকে শুধু টাকাই সেভ করবে না বরং ভুল প্রোডাক্ট কিনে ভোগান্তি থেকেও রেহাই দিতে পারে, তাই নিজের কিছুটা সময় এর পেছনে ব্যয় করুন।
একদম সিম্পল ২ টি পদ্ধতিতে আপনি আপনার নিজের সোলার সিস্টেম নির্বাচন করতে পারেন-
১। সবার প্রথমে আপনার টোটাল লোড এবং পিক লোড (সব একসাথে চালালে) এর হিসাব বের করতে হবে। বিদ্যুৎ বিলের পেপার থেকে ইউনিট এর হিসাব পেতে পারেন। এক্ষেত্রে বেস্ট এবং আধুনিক সমাধান হচ্ছে ডিজিটাল এনার্জিমিটার বা ক্লিপ অন মিটার দিয়ে সব লোড অন করে কারেন্ট এবং ভোল্টেজ মেপে (power= voltage x current) [এক্ষেত্রে আপনি পাওয়ার ফ্যাক্টর ইগনোর করতে পারেন যেহেতু এটি একটি ধারনা নেয়া তবে এক্স্যাক্ট হিসাব বেড় করতে হলে আপনার বাসার লোডের ধরণ এবং আপনার এনার্জি সাপ্লাই কোম্পানির ধরণ ভেদে PF বা পাওয়ার ফ্যাক্টর কম বেশী হতে পারে সেভাবে হিসাব করে নেবেন।]
অথবা এখন অনেক ডিজিটাল ডিভাইস পাওয়া যায় যা দিয়ে সহজেই বাসার বা অন্য যেকোনো লোড এর সঠিক পাওয়ার মেজারমেন্ট করা যায় সহজেও মোবাইল অ্যাপ থেকেই (কমেন্টে লিংক দেয়া থাকবে)
২। আপনি কত সময়ের জন্য ব্যাকআপ চাচ্ছেন সেটি আপনাকে শিধান্ত নিতে হবে। কেননা ব্যাকআপ টাইমের উপর আপনার ব্যাটারির ক্যাপাসিটী সরাসরি ডিপেন্ড করবে। আপনি বেশী সময়ের জন্য ব্যাকআপ লাগবে মনে করে বড় ব্যাটারি কিনে সেটিকে চার্জ করার জন্য বেশী এনার্জির প্রয়োজন হবে তাই বেশী সোলার প্যানেল এবং ইনভার্টার এর ক্যাপাসিটি এবং দক্ষতারও সম্পর্ক রয়েছে এর সাথে। বেশী সময়ের জন্য ব্যাকআপ না লাগলে অযথাই বিগ সাইজের ব্যাটারি প্রয়োজন নেই। আবার আপনার লোড যদি বেশী হয় সেক্ষেত্রে ছোট ব্যাটারি হয়ত আপনার তেমন কাজেই আসবে না। তাই লোড এর পরেই ব্যাকআপ টাইম এর হিসাব করাটা জরুরী।
এছাড়াও আপনি কি মোডে আপনার সোলার প্ল্যান্ট চালাতে চাচ্ছেন সেটিও পরিষ্কার করে নিতে হবে প্রথমেই। যেমন অনেকেই অফ গ্রিড করতে চান অর্থাৎ তার লোডের সাথে গ্রিড এর কোন কানেকশনই থাকবে না। এটি হতে পারে প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি অথবা পর্যাপ্ত বাজেট এবং সোলার প্যানেল বসানোর জায়গা আছে এমন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অফ গ্রিড এটি আসলে শুধু ছোট ছোট প্যানেলের জন্য এবং অল্প কিছু লোডের জন্য চলে কিন্তু বড় লোড এর এখনো তেমন প্র্যাকটিস নেই। তবে সেন্টমার্টিন এর মত দ্বীপে অফগ্রিড সিস্টেম সেটআপ করার জন্য পারফেক্ট একটি জায়গা। সেখানে ন্যাশনাল গ্রিডের লাইন সরাসরি নেই আবার সেখানে বিদ্যুৎ এর দাম ও সম্ভবত খুবই বেশী এবং তা প্রতি ইউনিট ৪৫-৫০ টাকার মত (আমার কাছে এক্স্যাক্ট ইনফরমেশন নেই, কারো সঠিক তথ্য জানা থাকলে কমেন্টে জানাবেন প্লিজ)।
আমাদের দেশে সাধারণত হাইব্রিড মডেল বেশী পপুলার। এই সিস্টেমের সুবিধা হচ্ছে সোলার, গ্রিড বা লাইনের বিদ্যুৎ এবং ব্যাটারি কিভাবে চার্জ হবে কখন কিভাবে কার থেকে লোড চলবে এগুলি খুব সহজেই কনফিগার করে নেয়া যায়। এছাড়াও হাইব্রিড সিস্টেমে অনেক বড় বা বেশী ক্যাপাসিটির ব্যাটারির দরকার হয়না এবং এটি সাধারণত বিদ্যুৎ চলে গেলে শুধু সেই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য ব্যাবহার করা হয়। এর বাইরে এতো একটি মডেল আমাদের দেশে পপুলার এবং এটি আমরা আমাদের বিডিশপ এর অফিসেও করেছি সেটি হচ্ছে দিনের বেলায় সোলার থেকে লোড চলবে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে স্টোর করবে এবং সন্ধ্যার পর ব্যাটারি থেকে সব কিছু চলবে। এই সিস্টেমে বিদ্যুৎ বিল ও যেমন কমবে ৬০-৯০% পর্যন্ত ঠিক একইসাথে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এর ও নিশ্চয়তা থাকে।
এবার চলুন একটু পিছনে এবং বেসিক এ ফিরে যাই-
আমাদের দেশে অনেক বাসার ছাদে, গ্রামে টিনের চালের উপড়ে, প্রত্যন্ত এলাকায় নৌকার ছৈ এর উপড়ে অনেক ছোট ছোট সোলার প্যানেল দেখা যায় যেগুলো সাধারণত খুবই কম ভোল্টেজ এবং খুবই কম ওয়াটের হয়ে থাকে। এগুলি দিয়ে সাধারণত দিনের বেলায় MPPT/PWM কন্ট্রোলার দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করা হয় এবং লোড শেডিং এর সময় ব্যাবহার করা হয়। এগুলি থেকে সাধারণত DC লাইট, ফ্যান এবং মোবাইল চার্জিং এর জন্য বেশী পপুলার।
অনেকেই যারা নতুন সোলার সিস্টেম কেনার কথা ভাবছেন আপনাদের চোখের সামনেও হয়ত তেমনি ছোট ছোট প্যানেলের ছবি ভেসে উঠতে পারে। শুরুটা এভাবেই হয়েছিল আজ থেকে অনেক বছর আগে থেকেই। অনেকের কাছে এখনো ২০ ওয়াট, ৫০ ওয়াট, ১০০ ওয়াট এর সোলার প্যানেল আছে এবং এখনো গ্রাম এবং প্রত্যন্ত এলাকায় ছোট ছোট প্যানেলগুলি প্রচলিত আছে।
ছোট প্যানেলের সাথে ছোট ব্যাটারি এবং DC লাইট, ফ্যান এবং মোবাইল চার্জিং এর মত বেসিক সুবিধাসহ অনেক অনেক PWM চার্জার দিয়ে অনেক কম খরচে একটি বিকল্প বিদ্যুতের ব্যাবস্থা করা যায়।
ছোট প্যানেলের সুবিধা অনেক- যেমন এটি দামে সস্তা। সস্তা বলতে একটি ছোট ফুল সেটআপ পাওয়া যায় ৩-৫ হাজারের মধ্যে। ছোট সোলার সিস্টেমের আরও সুবিধা হচ্ছে এটি ইন্সটল করা সহজ। অনেক ক্ষেত্রে বাঁশ, দড়ী দিয়েও বেধে রাখা হয়। এর সাথে কোন ইনভভার্টার লাগেনা আর নেই কোন SPD, Fuse আর সার্কিট ব্রেকারের ঝামেলা। তার দিয়ে চার্জারে এবং সেখান থেকে ব্যাটারিতে কানেকশন দেয়া হয়। তার চাইতেও বড় সুবিধা হচ্ছে এটি খুবই লো ভোল্টেজ তাই বৈদ্যুতিক শক পাবার কোন সম্ভাবনা নেই আর একারণেই মোটামুটি বাড়ির যে কেউ এগুলি চালাতে অভ্যস্ত।
আপনার যদি খুব কম বাজেটে মোবাইল এর চার্জ করা এবং ১ টা ডিসি ফ্যান আর ১ টা লাইট ৩/৪ ঘণ্টা চললেই হয়ে যায় তাহলে এখনো এই ছোট সোলার সিস্টেমগুলি উপযোগী।
কিন্তু আপনি যদি আপনার বাসার লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, ফ্রিজ, এসিসহ অন্যান্য ইলেকট্রিক এপ্লাইয়েন্স সোলার সিস্টেম থেকে চালাতে চান অথবা বিদ্যুৎ না থাকলে সাময়িক সময়ের জন্য ব্যাকআপ বিদ্যুৎ সিস্টেম তৈরি করতে চান তাহলে আপনার প্রয়োজন হবে DC সিস্টেমের সাথে ইনভার্টার যা DC বিদ্যুৎ কে AC বিদ্যুতে কনভার্ট করবে।
এখন প্রশ্ন থাকে, আপনার জন্য কেমন সোলার সিস্টেম দরকার এবং তার জন্য সোলার প্যানেল কোনটা নেয়া ভালো হবে। আর এই ক্ষেত্রে আপনাকে খুব সতর্কতার সাথে বুঝে শুনে শিধান্ত নিতে হবে।
প্রথমেই আপনাকে শিধান্ত নিতে হবে আপনি কত ভোল্টেজের সোলার সিস্টেমে যাবেন অর্থাৎ 12V, 24V, 48V ইত্যাদি সেই হিসাবে আপনাকে ব্যাটারি, চার্জার, সেফটি ইকুইপমেন্টস, সোলার প্যানেল নির্বাচন করতে হবে।
মনে রাখবেন, যত বেশী ভোল্টেজের (আমরা এখানে শুধু লো ভোল্টেজ সেগমেন্টের কথা আলোচনা করছি) সিস্টেমে যাবেন আপনার সোলার সিস্টেম তত বেশী লোড হ্যান্ডেল করার সক্ষমতা থাকবে। এর পাশাপাশি আরও কিছু সুবিধা থাকছে ৪৮/৫১.২ ভোল্ট সিস্টেমে, যেমন- কম কারেন্ট লস, বেশী ইফিসিয়েন্সি, স্কেলেবিলিটি ইত্যাদি। শুধু অসুবিধা একটিই তা হচ্ছে ১২/২৪ ভোল্ট সিস্টেমের তুলনায় এই সেগমেন্টে খরচ বেশী। কিন্তু আপনার যদি লম্বা সময় স্মুথ অপারেশন এর প্লান থাকে তাহলে ৫১.২ ভোল্ট এর লিথিয়াম ব্যাটারি এবং ভালো ব্র্যানের ইনভার্টার এর কথা প্রাইমারি অপশন রাখা ভালো শিধান্ত হবে।
এবার কেমন সোলার সিস্টেম দরকার তার জন্য আমরা লোডের উপর ভিত্তি করে বেশ কিছু সেগমেন্ট হিসাবে ভাগ করে নিতে পারি-
Residential Segment:
1. যাদের শুধুমাত্র ২ টি লাইট, ২ টি ফ্যান এবং ২ টি মোবাইল চার্জ করার মত সিস্টেম দরকার তাদের যদি আমরা নাম দেই "আবাসিক ছোট প্রোজেক্ট"। এক্ষেত্রে টোটাল লোড ২০০/২৫০ ওয়াটের মধ্যে। আনুমানিক খরচ- ৩০/৩৫ হাজার +/-
2. যাদের ৫ টি লাইট, ৫ টি ফ্যান, ১ টি ফ্রিজ, ১ টি ল্যাপটপ, ১ টি টিভি, ১ টি রাউটার, ২ টি মোবাইল চার্জ করার মত সিস্টেম দরকার তাদের যদি আমরা নাম দেই "আবাসিক মাঝারি প্রোজেক্ট"। এক্ষেত্রে টোটাল লোড ৮০০/১০০০ ওয়াটের মধ্যে। আনুমানিক খরচ- ৫০/৭৫ হাজার +/-
3. যাদের ১০ টি লাইট, ৫ টি ফ্যান, ১ টি ফ্রিজ, ১ টি ১ হর্স পাওয়ার এর পানির মোটর, ১ টি ল্যাপটপ, ১ টি টিভি, ১ টি রাউটার, ২ টি মোবাইল চার্জ করার মত সিস্টেম দরকার তাদের যদি আমরা নাম দেই "আবাসিক বড় প্রোজেক্ট"। এক্ষেত্রে টোটাল লোড ১৮০০/২০০০ ওয়াটের মধ্যে। আনুমানিক খরচ- ১.২/১.৫ লাখ +/-
Commercial Segment:
বড় বাসা, অফিস, রেস্টুরেন্ট, বড় ফার্ম হাউজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ যেখানে সাধারণত এসি লাগানো থাকে সেগুলিকে লোড এর হিসাব অনুসারে কিছু সেগমেন্টে ভাগ করতে পারি-
1. যাদের ১ টি ১.৫ টনের এসি, ৫ টি সিলিং ফ্যান, ১০ টি LED লাইট, ১ টি ফ্রিজ, ৫ টি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ১ টি টিভি, ১ টি রাউটার, ২/৪ টি মোবাইল চার্জ করার মত সিস্টেম দরকার তাদের যদি আমরা নাম দেই "কমার্সিয়াল ছোট প্রোজেক্ট"। এক্ষেত্রে টোটাল লোড ৩০০০ ওয়াটের মধ্যে। আনুমানিক খরচ- ২.৫/৩ লাখ +/-
2. যাদের ২ টি ১.৫ টনের এসি, 5 টি সিলিং ফ্যান, 10 টি LED লাইট, ১ টি ফ্রিজ, ৫ টি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ১ টি টিভি, ১ টি রাউটার, ২/৪ টি মোবাইল চার্জ করার মত সিস্টেম দরকার তাদের যদি আমরা নাম দেই "কমার্সিয়াল মাঝারি প্রোজেক্ট"। এক্ষেত্রে টোটাল লোড ৫০০০ ওয়াটের মধ্যে। আনুমানিক খরচ- ৪/৫ লাখ +/-
৩। যাদের ৪ টি ১.৫ টনের এসি, 5 টি সিলিং ফ্যান, 10 টি LED লাইট, ১ টি ফ্রিজ, ১০ টি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ১ টি টিভি, ১ টি রাউটার, ২/৪ টি মোবাইল চার্জ করার মত সিস্টেম দরকার তাদের যদি আমরা নাম দেই "কমার্সিয়াল বড় প্রোজেক্ট"। এক্ষেত্রে টোটাল লোড ৮০০০ ওয়াটের মধ্যে।আনুমানিক খরচ- ৬/৭ লাখ +/-
এর বাইরে আরও সোলার সেটআপ আছে সেগুলি হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রজেক্টস, আপাতত সেগুলি নিয়ে আলোচনায় জাচ্ছিনা।
এর বাইরেও সবার নিজ নিজ প্রয়োজন অনুসারেও লোড ক্যাল্কুলেশন করে সেই হিসাবে সোলার সিস্টেমের জন্য আপনার প্রয়োজনীয় লোড ক্যাল্কুলেশন করতে পারেন।
এরপর ইম্পরট্যান্ট পার্ট হচ্ছে প্রয়োজনীয় সেটআপের জন্য কত ওয়াটের সোলার প্যানেল লাগবে, কোন ইনভার্টার কিনবো, ইনভার্টার এর ক্যাপাসিটি কত হলে স্মুথলি চলবে, ব্যাটারি কোনটি এবং কত ভোল্টেজ এবং কত AH এর কিনবো এর সাথে সেফটি এর জন্য কি কি কিনতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।
এখানেও একটি সিম্পল ফর্মুলা ব্যাবহার করতে পারেন। তা হচ্ছে, আপনার কত ওয়াট বিদ্যুৎ প্রতিদিন প্রয়োজন তার হিসাব বের করে ফেলুন। শর্টকাট করতে চাইলে আপনার বিদ্যুৎ বিলের কাগজ বের করুন এবং খেয়াল করুন সব চাইতে বেশী বিদ্যুৎ বিল কোন মাসে এবং সেটির এমাউন্ট কত আবার সব থেকে কম কত এবং সেটির এমাউন্ট কত টাকা। আরও ভালো হয় যদি একটু কষ্ট করে খুঁজে বের করে ফেলতে পারেন যে আপনার ব্যবহৃত বিদ্যুৎ কত ইউনিট ছিল সেই মাসগুলিতে।
উদাহরণ হিসাবে যদি আপনি আপনার বিদ্যুৎ বিলে দেখেন যে ৩০০ ইউনিট বা 300KWH বিদ্যুৎ ব্যাবহার করেছিলেন সর্বচ্চ ব্যাবহারের মাসে। তার মানে হচ্ছে আপনার প্রতিদিন ৩০০/৩০= ১০ ইউনিট করে বিদ্যুৎ দরকার। এখন আপনাকে কিছু বিষয় হিসাব করতে হবে এই ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আপনার কেমন সাইজের সোলার প্যানেল কতগুলি লাগবে, আপনার একসাথে চলে এমন সব লোডসহ আপনার পিক লোড কত ওয়াট ইত্যাদি ইত্যাদি।
কিছু হিসাব সহজ করার জন্য কিছু তথ্য দিচ্ছি-
আমাদের দেশে এভারেজে ৬/৭ ঘণ্টা প্রপার সানলাইট পাবেন। সোলার প্যানেলের এঙ্গেল ২০-২৫ ডিগ্রী উত্তর দক্ষিণে সেট করবেন। টোটাল সিস্টেমের ইফিসিয়েন্সি ৮০% ধরবেন।
প্রতিটি ৫০০ ওয়াট 48/50Voc (Open Circuit Voltage) এর প্যানেল থেকে সারাদিনে প্রায় ২.৫ থেকে ৪ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাবেন (তবে এটি অনেকাংশেই নির্ভর করবে সূর্যালোকের তীব্রতা, আকাশে মেঘ, প্যানেলে ধুলিবালি ইত্যাদি ফ্যাক্টরের উপর) সেই হিসাবে আপনার যদি প্রতিদিন ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে সেক্ষেত্রে ৫০০ ওয়াট এর ৩ টি প্যানেল বসালেই হচ্ছে কিন্তু সেফ সাইডে থাকার জন্য এবং মেঘলা বা বৃষ্টির দিনেও যাতে আপনার লোড কভাব করে তার জন্য ৫০০ ওয়াট এর ৪টি প্যানেল থেকেই আপনার জন্য প্রয়োজনীয় ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ পেতে পারেন।
সত্যি বলতে এই টোটাল সোলার সিস্টেম শুধুমাত্র একটি পোষ্টের মাধ্যমে কভার করা সম্ভব না। এরপর সময় করে কোন সেগমেন্টের লোডের জন্য কি কি ডিভাইস বেস্ট সুইটেবল সেটি নিয়ে অন্য একদিন লিখবো ইনশা আল্লাহ।
উপড়ের বিষয়গুলি নিয়ে কারো কোন স্পেসিফিক প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আমি চেষ্টা করবো হেল্প করার জন্য।
বিশেষ নোটঃ উপড়ের তথ্যগুলি যদি আপনার কাছে হেল্পফুল মনে হয় সেক্ষেত্রে এখন অথবা পরে সময় করে পড়ার জন্য আপনার অয়ালে শেয়ার করে রাখতে পারেন।