29/03/2026
প্রোস্টেট সমস্যার উপশমে আধুনিক Pulsed Electromagnetic Field (PEMF) প্রযুক্তিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ও পরবর্তীতে বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী বলেন, “আমার প্রোস্টেটের সমস্যার (প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়া বা BPH) জন্য আমি গত প্রায় ১২ বছর ধরে ওষুধ খাচ্ছিলাম। সম্প্রতি বিদেশের বেশ কিছু গবেষণার তথ্যে জানতে পারি যে Pulsed Electromagnetic Field (PEMF) নামে একটি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রোস্টেটের এ ধরণের সমস্যায় সুফল পেয়েছেন অধিকাংশ গবেষক দল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যথা নিরাময়ের জন্য আমাদের নিজেদের উন্নয়ন করা এবং আমাদেরই প্রতিষ্ঠিত একটি অলাভজনক কোম্পানি BiBEAT Ltd. (বাইবিট লিঃ) এর মাধ্যমে তৈরি করা একটি PEMF যন্ত্র হাতেই ছিল। এতে রয়েছে একটি মূল ইলেকট্রনিক যন্ত্র ও তারের মাধ্যমে সংযুক্ত প্রায় ৭ ইঞ্চি ব্যাসের একটি অ্যাপ্লিকেটর কয়েল। ঘরে কম্পিউটারে কাজ করার সময় কয়েলটি চেয়ারের মাঝখানে রেখে তার উপর বসে যাই। এতে প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডটি PEMF এর প্রভাবের আওতায় পড়ে। কয়েক দিনের মধ্যেই উন্নতি লক্ষ্য করি, ওষুধ না খেয়েই। এভাবে প্রতিদিন প্রায় এক ঘণ্টা করে পরপর ৪/৫ দিন ব্যবহারের পর দু/তিন সপ্তাহ আর PEMF ও নিই না। তার পর আবার ৪/৫ দিন ব্যবহার করি। এভাবে প্রোস্টেটের সমস্যামুক্ত হই এবং গত ৯ মাস ধরে কোনো ওষুধ খাচ্ছি না। আবার মাঝে মাঝে কোমর ও হাঁটু ব্যথা হলে একই যন্ত্র ব্যবহার করে ভাল থাকছি”।
সর্বসাধারণের জন্য বাইবিট Electro Health নামে PEMF প্রযুক্তির এ যন্ত্র বিক্রয় করছে ২০১৯ থেকে। এর Standard Model এর দাম এবং অন্যান্য তথ্য নিচে দেওয়া হল:
• দাম: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ১১,০০০ টাকা। তবে ১৫ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত আগের দাম ৯,৮০০ টাকা থাকবে।
• চাহিদা বেশি হলে বাইবিট ঐ তারিখের মধ্যে সরবরাহ নাও করতে পারে। সেক্ষেত্রে ১৫ এপ্রিল ২০২৬ এর মধ্যে ৩,০০০ (তিন হাজার) টাকা অগ্রিম দিয়ে বুক করলে ক্রেতা আগের দামেই যন্ত্র পেয়ে যাবেন।
• যন্ত্রের উপর আছে দু বছরের ফ্রি সার্ভিস ওয়ারেন্টী, তবে প্রয়োজনে ছোটখাট মেরামত করে আমাদের তৈরি যন্ত্র এক যুগেরও অনেক বেশি ব্যবহার করা যাবে, এ রেকর্ড আমাদের আছে।
• যদি দুই মাস ব্যবহার করেও সমস্যার কোনো উন্নতি না হয়, তাহলে যন্ত্রটি ফেরত দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পেয়ে যাবেন।
• তবে একই যন্ত্র যেহেতু শরীরের বিভিন্ন ব্যথায়ও ব্যবহার করা যাবে, তাই এটি পরিবারের যে কারও ব্যবহারের জন্য ঘরে রেখে দেওয়ার মত একটি যন্ত্র। তাই ফেরত না দিয়ে চাইলে রেখেও দিতে পারেন।
• বাইবিটের ওয়েবসাইট: www.bibeat.com
• বাইবিটের যোগাযোগ:
ফোন: +8801933322692, +8801933322693
ইমেইল: [email protected]
বিশ্বে PEMF প্রযুক্তির ইতিহাসঃ
১৯৭০ এর দশকে আমেরিকার কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ব্যাসেট প্রথম PEMF ব্যবহার করে দুরারোগ্য ভাঙ্গা হাড় জোড়া দিতে সফল হন। এর পর থেকে শরীরের মাথা থেকে পা পর্যন্ত বিবিধ সমস্যায় PEMF এর ব্যবহারের উপর সারা বিশ্বে গবেষণা চলেছে এবং হাজার হাজার বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা হয়েছে। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে PEMF এর প্রভাবে সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো সম্প্রসারিত হয়, ফলে রক্ত প্রবাহ একটু বেড়ে যায়, এবং এ গুণটিকেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্য দূর করাতে একটি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে PEMF এর উপকারিতার আরও বিভিন্ন কারণ দিন দিন জানা যাচ্ছে। PEMF শরীরের কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াকে উদ্দীপিত করে Adenosine triphosphate (ATP) নামে একটি যৌগ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে জানা গেছে। ATP হল শরীরের কোষের তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহের জন্য প্রধান ও অপরিহার্য অণু। তাই এটি স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশাল ভূমিকা পালন করে। আবার শরীরের প্রতিটি কোষের outer membrane বা কোষঝিল্লিতে বিদ্যুৎ চার্জ থাকে, PEMF সেগুলোকে মৃদুভাবে নাড়িয়ে দেয়, যার ফলে শরীর তার নিজস্ব রক্ষা ব্যবস্থা ও নিরাময় প্রক্রিয়াকে গুলোকে উদ্দীপিত করে তোলে। তাই খুবই মৃদু শক্তির PEMF শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গের জন্য উপকারী ভূমিকা পালন করার বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণাগুলিতে তেমন কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার উল্লেখ পাওয়া যায় নি। তাই ঘরে বসেই PEMF যন্ত্র ব্যবহার করা যাচ্ছে। এটি বর্তমানে 'বিকল্প চিকিৎসা' বা 'সহায়ক চিকিৎসা' হিসেবে বিশ্বে জনপ্রিয় হচ্ছে।
আবার প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড এর ক্ষেত্রে ওষুধ বা সার্জারির মত এই থেরাপিতে লিবিডো (যৌন আকাঙ্ক্ষা) বা হরমোনের ভারসাম্যের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। তাই এক্ষেত্রে PEMF ব্যবস্থাটি অনেকই পছন্দ করছেন। তবে প্রোস্টেট এর ক্যানসার থাকলে নিজেই PEMF ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত হবে।
আমেরিকার FDA সাধারণত হাড় জোড়া লাগানো, হতাশা (Depression), এবং অস্ত্রোপচার পরবর্তী ব্যথা (surgical pain) কমানোর মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে PEMF প্রযুক্তির যন্ত্রগুলোকে 'Medical Device' হিসেবে ছাড়পত্র দেয়। তবে সাধারণ PEMF যন্ত্রগুলো ওয়েলনেস (Wellness) ডিভাইস হিসেবে 'Over the Counter' (OTC) বা কোনো প্রেসক্রিপশন ছাড়াই সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে সরাসরি বিক্রয় করা হচ্ছে।
কাদের জন্য PEMF যন্ত্র নিষেধ?
• যাদের শরীরে হার্টের পেসমেকার, ডিফিব্রিলেটর বা যে কোনো ইলেকট্রনিক ইমপ্ল্যান্ট আছে, তাদের জন্য PEMF কঠোরভাবে নিষেধ। কারণ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড ওই ডিভাইসের কার্যকারিতায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
• গর্ভবতী মায়েদের, গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের ওপর PEMF-এর প্রভাব নিয়ে পর্যাপ্ত দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা না থাকায় সুরক্ষার খাতিরে এটি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
• তাছাড়া শরীরের কোন স্থানে আঘাতের ফলে ভিতরে bleeding হলে সেখানটায় সাথে সাথে ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ PEMF স্থানীয়ভাবে রক্তপ্রবাহ একটু বাড়িয়ে দেয়।
বাংলাদেশে PEMF প্রযুক্তির মাধ্যমে বায়ো-মেডিকেল ফিজিক্স গবেষণায় প্রবেশের ইতিহাসঃ
বিদেশে PEMF যন্ত্র ব্যবহার করে দুরারোগ্য ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগানোর উপর সফল গবেষণাটির খবর পেয়ে ১৯৭৮ সালে ডঃ আবদুস সাত্তার সাইয়েদ নামে BCSIR (সাইন্স ল্যাবরেটরী) এর খুবই সৃজনশীল একজন পদার্থ বিজ্ঞানী এ বিষয়ে গবেষণা করতে মনস্থ করেন। তখন তিনি তার বাল্যবন্ধু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ডঃ মো: শামসুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করেন। এর কিছুদিন আগেই ব্রিটেনে কমনওয়েলথ বৃত্তিতে ইলেকট্রনিকসে পিএইচডি শেষ করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে যোগ দেন তরুণ শিক্ষক ডঃ খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী। ডঃ ইসলাম তাকেও দলে ভেড়ান। এভাবে তৈরি হয় বাংলাদেশে সর্বপ্রথম বায়ো-মেডিকেল ফিজিক্স বিষয়ে গবেষণা দল এবং PEMF নিয়ে তাদের গবেষণা। পঙ্গু হাসপাতালের ডঃ সালেক তালুকদারের সাথে কাজ করে দু বছরে ১৬ জন দুরারোগ্য ভাঙ্গা হাড়ের রোগীদের উপর PEMF প্রয়োগ করে ১৩ জনের ক্ষেত্রে সফল হন তারা। এছাড়া ১৯৮০ এর দশকে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে হিস্টোপ্যাথলজি বিভাগে অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সাথে ইঁদুরের হাড় কেটে তার উপর PEMF এর প্রভাব নিয়ে কয়েকবছর গবেষণা করেও সুফল পান এই দলটি। উল্লেখ্য, এ সব গবেষণায় যে PEMF যন্ত্র প্রয়োজন হয় তা সম্পূর্ণ গোড়া থেকে ডিজাইন ও তৈরি করেন ডঃ রব্বানী নিজেই।
এ গবেষণার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইসলামের সাথে যোগাযোগ হয় ব্রিটেনের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ফিজিক্স এন্ড ক্লিনিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ব্রায়ান ব্রাউন এর। বৃটিশ সরকারের সহায়তায় নিজেদের গবেষণা দলগুলির মধ্যে একটি অ্যাকাডেমিক লিংক স্থাপিত করেন তারা ১৯৮৩ সালে। তবে ঢাকা দলের মধ্যে ড: রব্বানী ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি আধুনিক ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তিতে দক্ষ। ধীরে ধীরে তিনিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এর গবেষণার নেতৃত্বে চলে আসেন। এ গবেষণার বেশ কিছু সফলতার প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে তার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় নতুন বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগ। ২০১৫ সালে অবসরে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি এ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে অনারারী অধ্যাপক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করে তার গবেষণার কাজ চালু রাখতে সহায়তা করে যাচ্ছে।
সাধারণতঃ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বিজ্ঞানের গবেষণা করেন কেবল জার্ণালে প্রকাশনার জন্য, তা সরাসরি এ দেশের মানুষের তেমন কোন কাজে আসে না। ডঃ রব্বানী উপলব্ধি করেন যে এদেশের মানুষ অনেক ত্যাগ স্বীকার করে, আধা-পেটা খেয়ে বা না খেয়ে তাকে পড়াশুনার খরচ জুগিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার খরচ জুগিয়ে যাচ্ছেন। তাই কেবল প্রকাশনার জন্য গবেষণা করাটাকে তিনি অনৈতিক মনে করেন। নিজের গবেষণার মাধ্যমে এ ত্যাগ স্বীকার করা সাধারণ মানুষগুলোর জীবনমান একটু হলেও উন্নীত করাটাকে তিনি তার জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন। তাই তার সব গবেষণাকেই এ লক্ষ্যে পরিচালনা করেন এবং এর ফলে বেশ কিছু সফলতা আসে যা তাকে আন্তর্জাতিক মহলেও সুপরিচিত করে তোলে।
অধ্যাপক রব্বানী উপলব্ধি করেন যে সারা বিশ্বে প্রচলিত পেটেন্ট ব্যবস্থা অল্প কিছু মানুষকে অনেক ধনী বানিয়েছে, আর বিপুল সংখ্যগিরিষ্ঠ মানুষকে চরম দারিদ্রের দিকে ঠেলে দিয়েছে। একশ’ বছর আগে আবিষ্কার হওয়া ইসিজি ও এক্স-রে যন্ত্রের সেবা এখনও এ বিপুল সংখ্যগিরিষ্ঠ মানুষদের কাছে সুলভ ও সহজলভ্য হয়ে ওঠে নি। এ কারণে তিনি তার উদ্ভাবিত যন্ত্রপাতির পেটেন্ট করেন না, এমন কি ২০০৮ সালে তার একটি আবিষ্কারের উপর সুইজারল্যান্ডের একটি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের প্রস্তাবকেও এই নৈতিক অবস্থান থেকে তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন, কারণ পেটেন্ট করা ছাড়া তারা বিনিয়োগ করবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উদ্ভাবিত প্রযুক্তি-নির্ভর যন্ত্রপাতি দেশেই তৈরি করে জনসাধারণের কাছে সুলভে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অধ্যাপক রব্বানী ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন অলাভজনক কোম্পানি, বাইবিট লিমিটেড, যার তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ‘কোম্পানি লিমিটেড বাই গ্যরান্টী’ ধারায় সম্পূর্ণ শূণ্য মূলধন নিয়ে শুরু করা এ কোম্পানিকে কোন ব্যাংক ঋণ দেয় না, তার পরও বাংলাদেশের নানান প্রতিকূলতার মধ্যে এখন পর্যন্ত একে টিকিয়ে রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন, এটি সত্যিই অভাবনীয় একটি ব্যাপার।
ব্যথায় PEMF প্রযুক্তিঃ
বিদেশের গবেষকেরা শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা কমানোতে PEMF প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছেন তা ডঃ রব্বানী জানতে পারেন ২০১৯ সালে। তখন তার তরুণ গবেষকদেরকে নিয়ে নিজেদের তৈরি যন্ত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে কাঁধ, কোমর, হাঁটু ও অন্যান্য ব্যথায় খুবই ভাল ফলাফল পান। তখন বাইবিট থেকে ব্যথার উপশমে Electro Health নামে PEMF প্রযুক্তির যন্ত্রটি বিপণন শুরু করেন। শর্ত জুড়ে দেন যে দু মাসের মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হলে যন্ত্রটি ফেরত দিয়ে সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত পাবেন ব্যবহারকারীরা। এ পর্যন্ত প্রায় ৩,৫০০ (সাড়ে তিন হাজার) ব্যথার ভুক্তভোগী এ যন্ত্রটি কিনে নিয়ে ঘরে বসেই ব্যবহার করেছেন এবং ফেরৎ এসেছে শতকরা মাত্র ১১ জনের থেকে। এর অর্থ তাদের শতকরা ৮৯ জন ব্যথায় উপশম পেয়েছেন, যা বিদেশের গবেষকদের ফলাফলের সাথে তুলনীয়। ইদানীং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দু মাস ধরে একটি ফ্রি ক্যাম্পেইনে দৈনিক ৪০ মিনিট করে শরীরের বিভিন্ন ব্যথায় PEMF প্রয়োগ করা হয়। এর মধ্যে যারা ৩ দিন বা তার বেশি সময় ধরে থেরাপী নিয়েছেন তাদের সংখ্যাটি ছিল ৩১। ব্যথার অল্প উপশম পেয়েছেন এদের সবাই, আর মোটামুটিভাবে পরিপূর্ণ উপশম পান ২৮ জন, সর্বোচ্চ ১২ দিনের মধ্যে। অর্থাৎ এখানে শতকরা ৯০ জন সুফল পেয়েছেন।
প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের সমস্যায় PEMF প্রযুক্তিঃ
ডঃ রব্বানী নিজেই প্রোস্টেটের সমস্যায় ভুগছেন ২০১৩ থেকে। তখন থেকে সবার মত নিয়মিত ওষুধ খেয়ে চলছিলেন এবং তার অভিজ্ঞতার কথা আমরা এ পোস্টের প্রথমেই দেখতে পেয়েছি। ২০২৫ এর জুনের দিকে, অর্থাৎ প্রায় ৯ মাস আগে তিনি ওষুধ ছেড়ে দিয়ে কেবল PEMF দিতে শুরু করেন। প্রথম দুই দিন সকালে প্রস্রাবের প্রবাহ কিছুটা ধীর ও বাধাগ্রস্ত ছিল। কিন্তু তৃতীয় দিন থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং আরও কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় স্বাভাবিক হয়ে যায়। এরপর তিনি PEMF ব্যবহারও ছেড়ে দেন। প্রায় ১৫ দিন পরে প্রস্রাবের প্রবাহ আবার একটু কমে গেলে কয়েক দিন আবার PEMF ব্যবহার করেন। গত ৯ মাস ধরে তিনি প্রোস্টেটের সমস্যায় কোনো ওষুধ খাচ্ছেন না। প্রতি দু সপ্তাহ পরপর প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে ৪/৫ দিন PEMF ব্যবহার করে যাচ্ছেন।
এরপর তিনি তার দুইজন আত্মীয়কে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেন, যাদের বহু বছর ধরে প্রোস্টেট এর সমস্যা ছিল। তারাও উপকার পেয়েছেন। প্রথমজন কয়েক মাস ওষুধ ও PEMF পাশাপাশিই ব্যবহার করেছেন এবং এখন সম্পূর্ণভাবে ওষুধ বন্ধ করে দিয়েছেন। মাঝে মাঝে শুধু PEMF ব্যবহার করেন।
অন্যজন অল্পদিন হয় ওষুধের পাশাপাশি PEMF ব্যবহার করতে শুরু করেছেন এবং বেশ উন্নতি লক্ষ্য করেছেন। ওষুধ খাওয়া সত্ত্বেও আগে তাকে রাতে প্রায় চারবার ঘুম থেকে উঠতে হতো, এবং সকালে প্রস্রাবের প্রবাহ দুর্বল ছিল। PEMF ব্যবহার শুরু করার দুই সপ্তাহ পরে তিনি জানান যে রাতে দুবার উঠতে হচ্ছে, এবং সকালে প্রবাহ কিছুটা ভাল হয়েছে। চার সপ্তাহ পরে তিনি জানান যে এখন রাতে মাত্র একবার, কদাচিৎ দুবার, উঠতে হয়, এবং প্রস্রাবের প্রবাহ আরও ভাল হয়েছে।
বয়স্ক পুরুষদের একটি বিশাল অংশের প্রোষ্টেট বড় হওয়ার (BPH) সমস্যা থাকে, এবং তারা সারা জীবন ধরে ওষুধ খেয়ে চলেছেন। বলাবাহুল্য দীর্ঘদিন ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে অনেক সময় কিডনি বা অন্যান্য অঙ্গের উপর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই এ ধরণের প্রোস্টেট সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদেরকে এ নতুন PEMF প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখার জোর পরামর্শ দিচ্ছেন অধ্যাপক রব্বানী।
PEMF প্রযুক্তির ভবিষ্যৎঃ
যত দিন যাচ্ছে, PEMF নিয়ে শরীরের বিভিন্ন সমস্যায় গবেষকেরা কাজ করে যাচ্ছেন এবং বেশির ভাগই সফলতার কথা বলছেন। স্ট্রোক, পারকিনসনিজম, আলঝেইমার, মাইগ্রেন থেকে শুরু করে সায়াটিকা সহ স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, প্যানক্রিয়াসের ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা, ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথী ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যায় উপকারের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। শোনা যায় বর্তমানে বিশ্ববিখ্যাত অনেক অ্যাথলেট এবং স্পোর্টস টিম ইনজুরি কাটিয়ে দ্রুত মাঠে ফিরতে এবং পেশীর ক্লান্তি দূর করতে নিয়মিত PEMF ব্যবহার করছেন। আবার মহাশূন্যে মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশে নভোচারীদের হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং পেশীর ক্ষয় রোধ করতে PEMF প্রযুক্তি ব্যবহার করছে আমেরিকার NASA। ধারণা করা যাচ্ছে যে ভবিষ্যতে অনেক চমক দেখাতে যাচ্ছে PEMF প্রযুক্তি।