26/05/2023
নির্মাণ খাত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে | কিন্তু আমরা আমাদের নির্মাণ শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র কি সম্পূর্নরুপে নিরাপদ করতে পেরেছি!
একটি গবেষণায় দেখা যায় নির্মাণ শিল্পে প্রতিবছর গড়ে আমাদের দেশে শতাধিক শ্রমিক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেণ | এই মৃত্যুর পিছনে উল্লেখযোগ্য কারণ হল সুউচ্চ স্থান থেকে পড়ে যাওয়া এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া | আঘাতজনিত কারণেও এ ধরণের দূর্ঘটনা ঘটে থাকে |
তাছাড়া আহতের সংখ্যাও অগনিত এবং অপ্রকাশিত থেকে যায় অধিকাংশই | অঙ্গহানি, বিকলাঙ্গ, শ্বাসকষ্ট, শ্রবণশক্তি হ্রাস, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস এবং চর্মরোগ সহ বিভিন্ন নির্মাণ-সম্পর্কিত স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে ভোগেন আমাদের এই উন্নয়ন যোদ্ধাগন |
বাংলাদেশে নির্মাণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন রয়েছে | প্রথমটি হল বাংলাদেশ শ্রম আইন (বিএলএ) ২০০৬, যা বাংলাদেশের সমস্ত শ্রম আইনকে একীভূত করে ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিতকরণে এবং আহত বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে নির্দেশিকা দেয় | এক্ষেত্রে সরকারের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শণ বিভাগ (ডিআইএফই) বিএলএ ২০০৬ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে | আর দ্বিতীয়টি হল বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ২০০৬, যা বাংলাদেশের সকল ভবনের নকশা, নির্মাণের ন্যূনতম মান ও নিরাপদ নির্মাণ নিশ্চিতকরনণে বিশেষ ভূমিকা রাখে |
বাংলাদেশে এসকল আইন বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও, প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বিভ্রান্তি, প্রয়োগকারী সংস্থার লোকবলের ঘাটতি ইত্যাদি নানা সীমাবদ্ধতার কারণে নির্মাণে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োগ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে |
নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব সাধারণত: বিল্ডিং মালিক, প্রাইভেট ডেভেলপার বা ঠিকাদারদের উপর বর্তায় যারা প্রায়শই খরচ এবং ব্যবস্থাপনাগত ঝামেলার কারণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয় না | আবার এমনও দেখা যায় কোম্পানিগুলো নিরাপত্তা বিধি প্রয়োগ করলেও, কর্মীদের মধ্যে সচেতনতার অভাবেও সাইটগুলিতে নিরাপত্তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়ে ওঠে না |
তাই উন্নয়ন যোদ্ধা অর্থাৎ নির্মাণ শ্রমিকদের প্রতি আহবান :
১. কর্মক্ষেত্রে আরো বেশি সচেতন ও সজাগ থাকুন
২. নিরাপত্তা সরঞ্জামাদি ও পোষাক ব্যবহার করুন
৩. দূর্ঘটনার শিকার হলে আমাদের পেইজে কমেন্ট করে জানান |