02/07/2024
“দাম্পত্য জীবন” থেকে চুম্বকীয় কিছু অংশ।
====================
স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই দুটি আলাদা পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা দুজন মানুষ। তাই এই দুই আলাদা প্রকৃতির মানুষ একে অপরের সঙ্গে থাকতে পারে শুধু বিশ্বাস নামক সেতুর উপর ভর করে। তাই একে অপরের উপর বিশ্বাসী থাকাটা খুবই জরুরী। যেকোন বিষয়ে শেয়ারিং স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্কের মাধুর্য্য বাড়িয়ে দেয়। একজন স্ত্রীর সবথেকে আপন, ভালোবাসা আর বিশ্বাসের স্থান তার স্বামী। আর স্বামীকে এ বিশ্বাস মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। প্রতিদিনই স্ত্রীকে একবার ভালোবাসি কথাটি বললে স্ত্রীর কোন দুশ্চিন্তা থাকে না স্বামীকে নিয়ে। মমহানবীর বাণী থেকে বলা যায়, যে স্ত্রী তার স্বামীকে সন্তষ্ট রেখে মৃত্যু বরণ করে সেই স্ত্রী জান্নাতবাসী। মহান আল্লাহ পাক স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ককে পোশাকের সাথে তুলনা করেছেন। কারণ পোশাক আমাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে রাখে ঠিক তেমনি স্বামী তার স্ত্রীকে হেফাজত করে। ইদানিংকালে সমাজে ডিভোর্সের সংখ্যা বেড়ে গেছে। অনন্ত সেই কারণ অনুসন্ধানে যাবে না। নানাবিধ কারণে ডিভোর্সের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। তবে ডিভোর্সের কারণ যাই হোক এতে করে সমাজে স্বামী-স্ত্রী বা দাম্পত্য জীবনে যে অশান্তি বাড়ছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের সমাজ এখনও পুরুষতান্ত্রিক। তাই ডিভোর্সের কারণে একজন পুরুষের চাইতে নারীকেই বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাই স্বামীর থেকে ডিভোর্স নেওয়ার আগে একজন স্ত্রীকে যে কোন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার পরিবর্তে একজন ডিভোর্সী নারীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। তাতে সিদ্ধান্ত পরির্তনও হতে পারে। একমাত্র জন্মদাতা পিতামাতা ও সৃষ্টেকর্তা ব্যাতিরেকে একজন নারীর জন্য স্বামীর থেকে বড় আপন অন্য কেউ হতে পারে না। তাই বলা যায় এবং সাধারণ জ্ঞানে বোঝা যায় স্বামী স্ত্রীর মধুর সম্পর্ক একটি সুখি দাম্পত্য জীবনের সর্বোত্তম নিয়ামক। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্বামী ও স্ত্রীর ঝগড়াঝাটি পরিহার করা উচিত। বিশেষকরে ডিভোর্স, সেপারেশন থেকে দুরে থাকা অবশ্যকর্তব্য। কারণ সন্তানের জন্য বাবা-মা উভয়কেই প্রয়োজন। আর যদি কখনও ডিভোর্স ও সেপারেশন অবশ্যম্ভাবী হয়ে যায় তবে অবশ্যই দুজনেই সন্তানকে কোয়ালিটি টাইম দেয়ার শর্তে হতে হবে। প্রিন্সেস ডায়ানা যখন মারা যান, তখন প্রিন্স হ্যারির বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। ডায়ানার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সারা বিশ্ববাসি সরাসরি দেখেছে। তারা এও দেখেছে বালক প্রিন্স হ্যারির বারবার ফুপিয়ে কেঁদে ওঠা। যদিও রাজ পরিবার থেকে হ্যারিকে বলা হয়েছিল না কাঁদতে। হাসি ঠেকানো যায়; কিন্তু কান্না আটকানো.... প্রশ্নই আসে না। পৃথিবীর কোন শক্তি মা হারানোর কান্না আটকাতে পারে না। বিপরীত দিকে অদৃশ্য ভালোবাসার বটবৃক্ষ বাবা নামক ব্যাক্তিও যদি একবার কেউ হারিয়ে ফেলে সমস্ত পৃথিবীটা তার জন্য হয়ে যায় অন্ধকার। তাই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মা বাবার ঝগড়াঝাটি পরিহার করা অবশ্যই উচিত।
কত ঠুনকো কারণে যে কত সময় কত স্বামী-স্ত্রীর ঘরে অশান্তির আগুন লেগে যায় তার ইয়াত্তা নেই। অনেক সময় অশান্তির কারণগুলো অন্যের কাছে ঠুনকো মনে হলেও ভুক্তভোগীদের কাছে তা অনেক বড় বিষয়। স্বামী-স্ত্রী যদি ঝগড়ার সময় পুরোনো ঝগড়া আবার তুলে আনেন তবে ঝগড়া শেষ হবে না কোন দিনও। যদি দুজনের মতের অমিল যদি সমাধান হয়েই যায় তবে তা আবার আলোচনায় আনা যেন খাল কেটে কুমির আনার মতই। পুরানো কলহের দায় সঙ্গীর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করলে কখনই সুখী সংসার পাওয়া সম্ভব নয়। ঝগড়ার পর কিছু একটা সময় কথা বন্ধ রাখা অত্যান্ত জরুরী। তবে লম্বা সময় কথা না বলা, তাকে এড়িয়ে চলা, উপেক্ষা করা পরিস্থিতিকে আরোও ঘোলাটে করে। কলহ দেখা দিলেই নিজেকে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। দুজন মানুষ কখনই সর্বক্ষেত্রে পুরোপুরি একমত হবে না এটার স্বাভাবিক। তবে ঝগড়ার পর নিজেকে দোষারোপ করতে থাকলে দিনশেষে ক্ষতিটা নিজেরই হবে। আর নিজের মতের সাথে মিলেনা বলেই সঙ্গীকে অপমান করা, মনে আঘাত দিয়ে কথা বলা, দুর্ব্যবহার করা মোটেও উচিত নয়। দম্পতি হিসাবে সংসার টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই। শুধু কথায় নয় কাজেও ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে। ভালোবাসা বাড়াতে ভালোবাসা চর্চা করতে হয়। আর এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে দুজনকেই ভালোবাসা বাড়ানোর চর্চা করতে হবে। নিজের আবেগ থেকে দুরে থাকা যাবে না। শুনতে সহজ মনে হলেও ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ কথাটি বলতে হবে চান্স পেলেই। আমি তোমাকে ভালোবাসি একথাটা শুনতে শুনতে আমরা অনেকটা অভ্যস্থ হয়ে গেছি কিন্তু আমার প্রিয়জনকে আমি কে কখনও সরাসরি মুখে বলেছি? আমি কি তার গলা জড়িয়ে ধরে একান্ত আপন করে বলেছি “I Love you very much.” আমি অনেক বেশি ভালোবাসি তোমাকে। আমার নিকট থেকে ভালোবাসি শব্দাটাও তার কাছে অনেক বড় একটা প্রাপ্তি হতে পারে। এরকম হাজারো কথা ভাবতে থাকে অনন্ত।
মোঃ ইকবাল হোসেন সোহাগ, ০২/০৭/২০২৪ (চলবে)