NOCS Dhanmondi DPDC

NOCS Dhanmondi DPDC Electricty Sales and Distribution Dependable power and Delighted to customer

“দাম্পত্য জীবন” থেকে চুম্বকীয় কিছু অংশ।====================স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই দুটি আলাদা পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা দুজন মান...
02/07/2024

“দাম্পত্য জীবন” থেকে চুম্বকীয় কিছু অংশ।
====================
স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই দুটি আলাদা পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা দুজন মানুষ। তাই এই দুই আলাদা প্রকৃতির মানুষ একে অপরের সঙ্গে থাকতে পারে শুধু বিশ্বাস নামক সেতুর উপর ভর করে। তাই একে অপরের উপর বিশ্বাসী থাকাটা খুবই জরুরী। যেকোন বিষয়ে শেয়ারিং স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্কের মাধুর্য্য বাড়িয়ে দেয়। একজন স্ত্রীর সবথেকে আপন, ভালোবাসা আর বিশ্বাসের স্থান তার স্বামী। আর স্বামীকে এ বিশ্বাস মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। প্রতিদিনই স্ত্রীকে একবার ভালোবাসি কথাটি বললে স্ত্রীর কোন দুশ্চিন্তা থাকে না স্বামীকে নিয়ে। মমহানবীর বাণী থেকে বলা যায়, যে স্ত্রী তার স্বামীকে সন্তষ্ট রেখে মৃত্যু বরণ করে সেই স্ত্রী জান্নাতবাসী। মহান আল্লাহ পাক স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ককে পোশাকের সাথে তুলনা করেছেন। কারণ পোশাক আমাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে রাখে ঠিক তেমনি স্বামী তার স্ত্রীকে হেফাজত করে। ইদানিংকালে সমাজে ডিভোর্সের সংখ্যা বেড়ে গেছে। অনন্ত সেই কারণ অনুসন্ধানে যাবে না। নানাবিধ কারণে ডিভোর্সের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলেছে। তবে ডিভোর্সের কারণ যাই হোক এতে করে সমাজে স্বামী-স্ত্রী বা দাম্পত্য জীবনে যে অশান্তি বাড়ছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের সমাজ এখনও পুরুষতান্ত্রিক। তাই ডিভোর্সের কারণে একজন পুরুষের চাইতে নারীকেই বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাই স্বামীর থেকে ডিভোর্স নেওয়ার আগে একজন স্ত্রীকে যে কোন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার পরিবর্তে একজন ডিভোর্সী নারীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। তাতে সিদ্ধান্ত পরির্তনও হতে পারে। একমাত্র জন্মদাতা পিতামাতা ও সৃষ্টেকর্তা ব্যাতিরেকে একজন নারীর জন্য স্বামীর থেকে বড় আপন অন্য কেউ হতে পারে না। তাই বলা যায় এবং সাধারণ জ্ঞানে বোঝা যায় স্বামী স্ত্রীর মধুর সম্পর্ক একটি সুখি দাম্পত্য জীবনের সর্বোত্তম নিয়ামক। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্বামী ও স্ত্রীর ঝগড়াঝাটি পরিহার করা উচিত। বিশেষকরে ডিভোর্স, সেপারেশন থেকে দুরে থাকা অবশ্যকর্তব্য। কারণ সন্তানের জন্য বাবা-মা উভয়কেই প্রয়োজন। আর যদি কখনও ডিভোর্স ও সেপারেশন অবশ্যম্ভাবী হয়ে যায় তবে অবশ্যই দুজনেই সন্তানকে কোয়ালিটি টাইম দেয়ার শর্তে হতে হবে। প্রিন্সেস ডায়ানা যখন মারা যান, তখন প্রিন্স হ্যারির বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। ডায়ানার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সারা বিশ্ববাসি সরাসরি দেখেছে। তারা এও দেখেছে বালক প্রিন্স হ্যারির বারবার ফুপিয়ে কেঁদে ওঠা। যদিও রাজ পরিবার থেকে হ্যারিকে বলা হয়েছিল না কাঁদতে। হাসি ঠেকানো যায়; কিন্তু কান্না আটকানো.... প্রশ্নই আসে না। পৃথিবীর কোন শক্তি মা হারানোর কান্না আটকাতে পারে না। বিপরীত দিকে অদৃশ্য ভালোবাসার বটবৃক্ষ বাবা নামক ব্যাক্তিও যদি একবার কেউ হারিয়ে ফেলে সমস্ত পৃথিবীটা তার জন্য হয়ে যায় অন্ধকার। তাই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মা বাবার ঝগড়াঝাটি পরিহার করা অবশ্যই উচিত।
কত ঠুনকো কারণে যে কত সময় কত স্বামী-স্ত্রীর ঘরে অশান্তির আগুন লেগে যায় তার ইয়াত্তা নেই। অনেক সময় অশান্তির কারণগুলো অন্যের কাছে ঠুনকো মনে হলেও ভুক্তভোগীদের কাছে তা অনেক বড় বিষয়। স্বামী-স্ত্রী যদি ঝগড়ার সময় পুরোনো ঝগড়া আবার তুলে আনেন তবে ঝগড়া শেষ হবে না কোন দিনও। যদি দুজনের মতের অমিল যদি সমাধান হয়েই যায় তবে তা আবার আলোচনায় আনা যেন খাল কেটে কুমির আনার মতই। পুরানো কলহের দায় সঙ্গীর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করলে কখনই সুখী সংসার পাওয়া সম্ভব নয়। ঝগড়ার পর কিছু একটা সময় কথা বন্ধ রাখা অত্যান্ত জরুরী। তবে লম্বা সময় কথা না বলা, তাকে এড়িয়ে চলা, উপেক্ষা করা পরিস্থিতিকে আরোও ঘোলাটে করে। কলহ দেখা দিলেই নিজেকে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। দুজন মানুষ কখনই সর্বক্ষেত্রে পুরোপুরি একমত হবে না এটার স্বাভাবিক। তবে ঝগড়ার পর নিজেকে দোষারোপ করতে থাকলে দিনশেষে ক্ষতিটা নিজেরই হবে। আর নিজের মতের সাথে মিলেনা বলেই সঙ্গীকে অপমান করা, মনে আঘাত দিয়ে কথা বলা, দুর্ব্যবহার করা মোটেও উচিত নয়। দম্পতি হিসাবে সংসার টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই। শুধু কথায় নয় কাজেও ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে। ভালোবাসা বাড়াতে ভালোবাসা চর্চা করতে হয়। আর এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে দুজনকেই ভালোবাসা বাড়ানোর চর্চা করতে হবে। নিজের আবেগ থেকে দুরে থাকা যাবে না। শুনতে সহজ মনে হলেও ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ কথাটি বলতে হবে চান্স পেলেই। আমি তোমাকে ভালোবাসি একথাটা শুনতে শুনতে আমরা অনেকটা অভ্যস্থ হয়ে গেছি কিন্তু আমার প্রিয়জনকে আমি কে কখনও সরাসরি মুখে বলেছি? আমি কি তার গলা জড়িয়ে ধরে একান্ত আপন করে বলেছি “I Love you very much.” আমি অনেক বেশি ভালোবাসি তোমাকে। আমার নিকট থেকে ভালোবাসি শব্দাটাও তার কাছে অনেক বড় একটা প্রাপ্তি হতে পারে। এরকম হাজারো কথা ভাবতে থাকে অনন্ত।

মোঃ ইকবাল হোসেন সোহাগ, ০২/০৭/২০২৪ (চলবে)

পূর্ব প্রকাশের পর “ দাম্পত্য জীবন” লেখা থেকে কিছু অংশ।==================================রাগের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা...
30/06/2024

পূর্ব প্রকাশের পর “ দাম্পত্য জীবন” লেখা থেকে কিছু অংশ।
==================================
রাগের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসার গভীরতা সবাই বুঝতে পারে না। রাগ এবং ঝড় দুটোই একরকম, থেমে যাবার পর বুঝা যায় কতটা ক্ষতি হয়েছে। তবে এতটুকু বলে রাখি, দিন শেষে যদি একান্তই নিজের বলে ডাকো, লিখে দিবো তোমার নামে এই পৃথিবী তুমি যদি এই হৃদয়ে থাকো। মনতো সবার আছে মনের ব্যাথা খোঁজে কজন? দেহের অসুখ হলে দেখতে আসে শুধু প্রিয়জন। আর মনের ব্যাথা হলে তখন পাগল বলে আত্মীয়-স্বজন। একজন মানুষের কষ্টগুলো যখন ধৈর্যের বাইরে চলে যায় তখন মানুষ কাঁদেনা, শুধু চুপ হয়ে যায়। অনন্ত মনে মনে ভাবে সেও কখন যেন নিরব হয়ে গেছে নিজেও জানে না। শত আঘাত আর বঞ্চনার কারণে অনন্ত কথা বলতে পারে না, শুধু শ্রাবণের কোলে বৃষ্টি হয়ে ঝরতে পারে। অনন্তের ভেতরের অনন্ত যে বড্ড একা। তাই সে রাত জাগা তারাকে বন্ধু ভাবে। অনন্তের ভেতরটা কোন মিথ্যা নয়, সত্যের দিকে চেয়ে বাঁচার চেষ্টা করে। অনন্ত জানে মনের উপর কারো জোর নেই। অথচ বিভিন্ন কারণে এই মনটাই বারবার ভেঙ্গে কাঁচের চুড়ির মতো টুকরো টুকরো হয়ে যায়। জয়ীতার সাথে অনন্তের মনোমালিন্য হওয়ার পর অনন্ত শুধু ভাবে জয়ীতা কি সেই প্রেমিক যার মাঝে খুঁজেছিল একরাশ মুগ্ধতা, যাকে ঘিরে ছিল দিন রাত কল্পনা। হ্যাঁ আমিই সেই প্রেমিক যাকে ছাড়া বাঁচবেনা বলে অনড় ছিলে, ঠিক তাকেই আবার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলে। যার বুকে মাথা রেখে করেছিলে হাজারো ছেলেমানুষী, এখন তার জীবনেই হয়ে গেছো দুঃখ বিলাসী। জানি তোমার ভূল একদিন ভাংবেই, জানি তুমি তাকাবে একদিন ফিরে, তোমাকে সময় দিলাম শুনছো তুমি প্রিয়া? ভুল ভাঙ্গলে ফিরলে পরে ডেকো আমায় সেই প্রিয় নাম ধরে, হয় আমাকে আস্ত গোলাপ না হয় দিও চোখের পানি আমার সমাধি পরে। আমি জানি জীবন হলো জলের নৌকা, কখনও সুখের পাল তোলে আবার কখনও কষ্টের স্রোতে ভাসে। কখনও ছু্টে যায় ভালোবাসার টানে, আবার কখনও থেমে যায় অজানা অভিমানে। অভিমান তোমার ভাঙ্গবেই। তোমাকে ফিরে আসতেই হবে অনন্তের ডাকে। অনন্ত মনে মনে ভাবে যে তাকে ঘৃনা করে তাকে সে ঘৃনা করবে না। আর যে তাকে ভালোবাসকে সে তাকে ভালোবাসতে ব্যাস্ত থাকবে। এ বিষয়ে হযরত আলী (রা) এর একটি উদ্ধৃতি স্মরণযোগ্য, “তাকে সঙ্গী করোনা যে তোমার দোষ মনে রাখে, গুন ভুলে যায়।” সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে দিয়ে যাকে মনের আরশী নগরে রাখতে পারে নি অনন্ত সে হয়তো কারোও মনে বন্ধি থাকতে চায় না। তার সাথে জীবনের পথচলাটা খুবিই সাবধানে চলতে হয়। কেননা সে পাখি খাঁচার দরজাটা খোলা পেলেই উড়াল দিবে অন্য আকাশে। ভালোবাসার বন্ধন সবার জন্য নয়। তবুওতো মানুষ সম্পর্ক তৈরি করে, সম্পর্ক ধরে রাখে, সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখে। কিছু কিছু মায়া মমতা, ভালোবাসা বর্ণনা করে বুঝানো যায় না। এগুলো টাকার পরিমানেও মাপা যায় না। এগুলো শুধু অনুভব করা যায়। উদাহরন দিয়ে বলা যায়, একটা লোক প্রতিদিন এক বৃদ্ধার নিকট থেকে আপেল কিনে নিয়ে যেতো। আপেল কেনার পর লোকটি প্রতিদিনের মতো একটা আপেল বের করে বলতো, আপনার আপেলগুলো আজও পানসে, একদম মিষ্টি না। এই নেন একটা খেয়ে দেখুন এই বলে নিজের কেনা একটা আপেল বৃদ্ধার দিকে বাড়িয়ে দেয়। আপেল বিক্রেতা বৃদ্ধা আপেলটা খেয়ে যে মাত্র বলবে মিষ্টি ঠিকঠাক আছে তখনি ক্রেতা লোকটি চলে যায়। লোকটার সাথে প্রতিদিনকার মতো আজও তার স্ত্রী আছে। হাঁটতে হাঁটতে তার স্ত্রী বলে তুমি প্রতিদিন মিথ্যা কথা বলো কেন? আমি আপেলগুলি খেয়ে দেখেছি! বেশ ভালো এবং মিষ্টি। স্বামী লোকটি বললো, আসলে আপেলগুলো মিষ্টি তা আমি জানি। কিন্তু তুমি দেখনি বৃদ্ধার চেহারা। অনেক কষ্টে তার পেটের খাবার জোটে। আমি না হয় প্রতিদিন মিথ্যে বলে নিজের ভাগের একটা আপেল তাকে দিয়ে দেই। অন্যদিকে আপেল বিক্রেতা বৃদ্ধার পাশেই বসেন এক তরকারি বক্রেতা। তরকারি বিক্রেতা প্রতিদিন আপেল ক্রেতা ও বিক্রেতার এই ব্যাপারটি লক্ষ্য করেন। আজকে হঠাৎ আপেল বিক্রেতা বৃদ্ধাকে বললেন, আমি প্রতিদিন লক্ষ্য করি আপনি ওই আপেল ক্রেতাকে নির্দিষ্ট ওজনের চেয়ে একটু বেশি আপেল বাড়িয়ে দেন। এবার আপেল বিক্রেতা বৃদ্ধা হেসে বললেন, আমি জানি আপেল ক্রেতা প্রতিদিন মিথ্যা বলে আমাকে একটা আপেল খাইয়ে দিয়ে চলে যায়। সে মনে করেছে আমি তা বুঝিনা। তার প্রতি ভালোবাসা রেখে আমার আপেলের ওজনের পাল্লাটাও নিজে নিজে ঢলে পড়ে। এটার নামই হচ্ছে অদৃশ্য ভালোবাসা। কিছু কিছু ভালোবাসা বর্ণনা করে বোঝানো যায় না। এগুলো শুধু অনুভব করা যায়। এরকম আড়ালে আমরা অনেকেই অনেকের কেয়ার করি, কিন্তু কেউ কাউকে বুঝতে দেই না। অনন্ত মনে মনে বলে বেঁচে থাকুক আমাদের সকলের মনের এই আড়ালে বেঁচে থাকা ভালোবাসাগুলো।

মোঃ ইকবাল হোসেন সোহাগ, ৩০/০৬/২০২৪ (চলবে)

বিরহ পর্ব “দাম্পত্য জীবন” পান্ডুলিপি থেকে কিছু অংশ=================================মানুষের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হলে বাহ্যিক...
25/06/2024

বিরহ পর্ব “দাম্পত্য জীবন” পান্ডুলিপি থেকে কিছু অংশ
=================================
মানুষের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হলে বাহ্যিক আচরণ বদলায়, ভেতরের অনুভূতি নয়। পশুপাখিরাও একে অপরকে বোঝে, আর মানুষ সব সময় অন্যকে নিচু করার সুযোগ খোঁজে। সুর্য অস্ত যাবার আগে কমে আসে তার উত্তাপ, আর সম্পর্ক ছিন্ন হবার আগে কমে যায় তার আবেগ। তাই গুরুত্ব বোঝাতে চাইলে অনেক সময় দুরত্বের প্রয়োজন হয়। প্রিয় মানুষের অবহেলার চেয়ে, প্রিয় মানুষ ভুল বুঝলে বেশি খারাপ লাগে। তোমাতে জমিয়েছি ভালোবাসা, তোমাকে করেছি বিশ্বাস। তোমাকে হারালে থেমে যাবে আমার জীবনের নিঃশ্বাস। নিজেকে ভেঙ্গে আবার গোড়া থেকে শুরু করতে চায় অনন্ত। ভূল যেমন মানুষকে শিখতে সাহায্য করে, তেমন কিছু আঘাত মানুষকে বদলাতে সাহায্য করে। মানুষ বেঁচে থাকে নিঃশ্বাসে আর ভালোবাসা বেঁচে থাকে বিশ্বাসে। নিঃশ্বাস হারিয়ে গেলে যেমন মানুষ বাঁচে না, তেমনি বিশ্বাস ভেঙ্গে গেলে আত্মার সম্পর্কও থাকেনা। হয়তো অনন্ত জয়ীতাকে বোঝাতে পারেনি তাঁকে ভালোবাসি কত। জয়ীতা বুঝতে পারেনি অনন্তের ভালোবাসা অবিরত। তাই নিজের বুঝের উপর থেকে সেদিনই বিশ্বাস উঠে গেছে, যেদিন হাজার বার শতভাবে বুঝানোর পরও জয়ীতা বুঝতে পারলেনা তাকে। আর আমিও বোঝাতে পালামনা তোমাকে। বুঝতে না পারা আর বোঝাতে না পারায় বুকের গভীরে যে কষ্টের পাহাড় জমেছে সেই কষ্টের সংজ্ঞা লিখতে গেলে কলমের কালি ফুরাবে, ডায়েরির পাতা শেষ হয়ে যাবে। আর তুমিও তা পড়তে পড়তে অধৈয্য হয়ে পড়বে জয়ীতা তবুও আমার কষ্টের কাহিনীর সূচনা পর্বও শেষ হবে না। কষ্টগুলো সবসময় আমারই থাক। কেননা আমার কষ্টগুলো তোমাকে স্পর্শ করতে পারে না। স্মৃতির পাতায় ব্যথা বাড়ায়, কমছে আয়ূ, এখন আর রোজ নিয়ম করে তুমি নেওনা আমার খোঁজ। তোমায় ঘিরে হাজারো কথা, তোমায় ঘিরে হাজারো কবিতা লিখে রেখেছি এই মনের পাতায় পাতায়। পাতা উল্টালে শুধু তোমাকেই পাই। তোমার নামে আমার সকল কবিতা, তোমায় নিয়ে আমার এ লেখা। যে লেখার প্রতি অধ্যায়ে তুমি, যার সূচনা তুমি, যার সমাপ্তিও তুমি। তোমাকে ভুলে থাকার মিথ্যে চেষ্টা আমি করব না। ভুলতে চাইলেও অতীতের মধুর স্মৃতিগুলো ঠিকই মনে পড়ে। মানুষ সবকিছু সহ্য করতে পারে কিন্তু কাউকে পেয়ে হারালে তা সহজে ভুলতে পারে না। বিশেষকরে অতীতের স্মৃতিগুলো আরোও কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। শারীরিক ভাবে কেউ পাশে না থাকলে একজন মানুষ তেমন একাকীত্ব অনুভব করেনা কিন্তু মনের কথা কাউকে বলতে না পারলে হাজার মুখের ভীড়েও মানুষ একাকিত্ব অনুভব করে। পুরানো চিরকুট বা পুরানো স্মৃতির ব্যাথা অস্ত্রের আঘাতের চেয়েও মারাত্মক। একটা সম্পর্ক ভাঙ্গাটা খুবই সহজ। কিন্তু সম্পর্ক গড়া বা ধরে রাখা অনেক কঠিন। যেজন সম্পর্কটা ভাঙ্গে সে জানেনা কেউ সেটা কতটা যত্নে গড়ে। আর যে ছেড়ে যায় সেও জানেনা ফেলে আসা মানুষটার ভেতর কতটা পোঁড়ে। উঁচু নিচু এবন মান অভিমান ইত্যাদির কারণে আমাদের মাঝে ব্যক্তিগত ইগো তৈরী হয়। এই যে উঁচু নিচু দেয়াল তৈরী করে রাখা নিজেদের মধ্যে অথচ একটা ঝড়ের সামনে আমরা সকলেই সমানভাবে অসহায়। যেখানে প্রকৃতিই ভেদাভেদ মানেনা, সেখানো নিজেরা নিজেদের মাঝে কেন অহংকারের দেয়াল তৈরী করে দুরত্ব নিয়ে চলাফেরা করি বলো জয়ীতা। এটাকি বোকামী নয় আমাদের। সব সম্পর্কেই ছোটখাট মন মালিন্য, মতের অমিল, ভুল বোঝাবুঝি, মন কষাকষি থাকাটা দোষের কিছু না। এই সব স্বাভাবিক ব্যাপার। দিনশেষে পাশাপাশি বসে ভালোবাসা দিয়ে তা পুষিয়ে নিলেই সম্পর্কের মাঝে আর দুরত্ব তৈরী হয় না আর বিচ্ছেদ নামক পরিচ্ছেদের মুখোমুখিও হতে হয় না। একজন বুদ্ধিমান পুরুষ বা বুদ্ধিমতি নারী কখনই একে অপরকে অপমান বা মনে কষ্ট দিয়ে কিংবা কারো সামনে অন্যকে ছোট করে বথা বলে না কারণ তারা জানে স্ত্রী’র জন্য স্বামী এবং স্বামীর জন্য স্ত্রী এই দুনিয়াতে সুখ দুঃখের সাথী এবং পরকালে জান্নাতের সঙ্গী। বিশেষকরে একটা নারীর জীবনে তার স্বামীর চেয়ে আপন কেহ হয় না। নির্দিষ্ট একটা বয়সের পর মেয়েরা বাবা-মায়ের কাছেও সেই স্নেহ আদর পায় না, কিন্তু স্বামী নামক মানুষটা আমৃত্যু পরিশ্রম করে যায় স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারটাকে ভালো রাখার জন্য। প্রতিটা ঘরে ঘরে স্বামী-স্ত্রীর সুন্দর সম্পর্ক রচিত হোক। পুরুষের অস্বস্তি দূর করার জন্য সৃষ্টিকর্তা পুরুষের বুকের পাজরের হাড় দিয়ে বানালেন নারী। তাই স্বামী স্ত্রী একে অন্যের প্রতিযোগী না হয়ে সহযোগী হলে পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন হয়ে ওঠবে মধুময়। একটি পরিবারের জন্য একটি সুন্দর দাম্পত্য জীবন অনেক বেশি প্রয়োজন। সকল ভুল বোঝাবুঝির অবসার হোক ঘুচে যাক সব অন্ধকার। আপন আলোয় উদ্ভাসিত হোক অনন্ত ও জয়ীতার দাম্পত্য জীবন অনন্ত শুধু এটাই চায়।
একটা দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা পাওয়ার থেকেও মূল বিষয় হলো দুজন দুজনকে সত্যিকার অর্থে চেনা এবং দুজন মানুষের একসঙ্গে ভালো থাকা। দুজনের ভালোবাসা রচনার ক্ষেত্রে কে উঁচু আর কে নিচু কভু যেন হয়না এ হিসাব। দুজনেই মানুষ এই যেন হয় মনোভাব। তাইতো অনেকেই বলে ভালো থাকার জন্য সুন্দর মনের একটা মানুষ পাশে থাকা চাই। পুরো পৃথিবীকে আলোকিত করার জন্য যেমন একটা সুর্য যথেষ্ট; তেমনি পুরো জীবনকে সাঁজাতে মনের মতো একজন ভালোবাসার মানুষই যথেষ্ট। চিনতে হবে কে ‘আপন’ আর কে ‘পর’? আপনকে চিনতে হলে জীবনে খারাপ সময় আসতে হবে। খারপ সময়ে যে পাশে থাকে সেই আপন। নিঃস্বার্থ ভালোবাসার মানুষগুলো হচ্ছে বটগাছের মত। যে গাছের নিচে মানুষ আসবে, বসবে, আরাম নেবে আবার যাবার সময় সেই ছায়াটাকেই আঘাত করে চলে যাবে। অনন্ত বলতে থাকে জয়ীতাকে সে কতখানি ভালোবাসে সেটা একমাত্র আল্লাহ জানেন। জয়ীতাকেও সে জানাতে চায় কিন্তু বোঝাতে পারে নি। তবে কেউ যদি কাউকে না বুঝে কষ্ট দেয় তবে দিক। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে জীবনটা ছোট নয়। যে কষ্ট আজ তারা দুজনেই পাচ্ছে, কোন না কোনভাবে তা কষ্টদানকারীর জীবনে ফিরে আসবেই। তাই মুছে ফেলেতে হবে চোখের জল, শক্ত করতে হবে মন; বাঁচার মতো বাঁচতে গেলে লড়তে হবে সারাক্ষন।

মোঃ ইকবাল হোসেন সোহাগ, ২৫/০৬/২০২৪ (চলবে)

”দাম্পত্য জীবন” পান্ডুলিপি থেকে নির্বাচিত কিছু অংশ-------একটা নামহীন সুখের গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেকগুলো দুখের সাঁকো পাড়ি দি...
23/06/2024

”দাম্পত্য জীবন” পান্ডুলিপি থেকে নির্বাচিত কিছু অংশ-------

একটা নামহীন সুখের গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেকগুলো দুখের সাঁকো পাড়ি দিতে হয়। তুমি আমার পাশে থাকতে না চাইলে তোমাকে ধরে রাখার সামর্থ্য আমার নেই। কিন্তু তোমাকে সারা জীবন ভালোবাসার শক্তি আমার আছে। সেই কবে তোমার হাত ধরে বলেছিলাম জীবন ভর পাশে থেকো। আরোও বলেছিলাম যদি হারিয়ে যাই তবে আজীবন মনে রেখো। তুমি আমায় ব্যক্তিতগভাবে আঘাত কর তাতে কোন ক্ষতি নাই, কিন্তু জগতের সব স্বামীরা অপমানিত হয় এমন কোন কথা আমায় বলোনা। দুরত্ব সবাই বাড়াতে পারে, কাছে এসে থেকে যেতে পারে খুব কম মানুষই। তুমি যদি দুরে চলে যাও আমার জীবনটা শুন্যতায় ভরে যাবে। তুমি আমার সেই শুন্যতা যা পৃথিবীর সব মানুষকে দিয়ে পূরণ করা যাবে না। অমি দুঃখ পাই, হয়তো তুমিও দুঃখ পাও আমার দ্বারা। পৃথিবীর বুকে এমন কোন মানুষ নেই যার বুকে এক ফোঁটাও কষ্ট নেই। কেউ প্রকাশ করে চোখের জলে আবার কেউ বয়ে বেড়ায় হাসির ছলে। তাইতো আমি এখন হাসতে ভালোবাসি কারণ আমার কাছে এখন হাসিটাইতো দুঃখ লুকানোর একমাত্র ঔষধ। পবিত্র কোরআন মতে, নারীকে পুরুষের মাথা থেকে সৃষ্টি করা হয়নি, যাতে সে পুরুষের উপরে থাকবে। পা থেকেও সৃষ্টি করা হয়নি যে তাকে অবজ্ঞা করবে। বরং তাকে পুরুষের পাজর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে একজন পুরুষ তাকে দু বাহুর নিচে হৃদয়ের কাছাকাছি জড়িয়ে রাখতে পারে। অনন্ত ভাবে আমার থাকার ঘরটা হয়তো ছোট কিন্তু আমার মনের ঘরটা অনেক বড় যেখানে তোমাকে লুকিয়ে রাখতে চাই সারাটা জীবন ধরে। হয়তো বিরহের আগুনে পুড়ে আমি সে যুগের দেবদাস হয়ে যাবো না। কিন্তু আমার হৃদয়টা হয়ে যাবে বেদনায় খান খান। তোমার আমার মান অভিমানে আমাদের সন্তানরা যেন কোন কষ্ট না পায় সেদিকে দুজনেরই খেয়াল রাখা দরকার। ছোটখাট মান অভিমানতো দাম্পত্য জীবনে থাকবেই। তাই বলে কি সব কিছু ছেড়ে, নিজের সাজানো গোছানো সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এই সংসার তো আমাদের নিজের সংসার। এসংসারটা তোমার অনেক প্রিয় সেটা আমি জানি। তোমার নিজের হাতে সাজানো গোছানো সংসার রেখে কেন তুমি দুরে অনেক দুরে হারিয়ে যেতে চাও? আমি ভাবতে লাগলাম আমাদের মাঝে যতই ভুলবোঝাবুঝি হোক না কেন মানুষটা সত্য হলে, ভালোবাসা সত্য হলে সুখে দুঃখে ছায়ার মতো পাশে থাকবে। আর মিথ্যে মায়ায় জড়িয়ে গেলে সঙ্গ ছেড়ে চলে যাবে এটাই বাস্তবতা। তাহলে আমার জীবনটা কি মিথ্যে মায়া? আমি ভাবতে লাগলাম অন্যের সম্যসার সমাধান আমি করতে পারি কিন্তু এখন নিজের সমস্যার কোন সমাধান খুঁজে পাচ্ছিনা। ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো মনে করে ভাবতে লাগলাম যেখানে সমস্ত ঘটনার জন্য আমার চিৎকার করে কান্না করার কথা ছিল, সেখানে আমি হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে রেখে নিজের আত্ম-চিৎকারগুলোকে নিজেই হজম করছি। আমি বিশ্বাস করি যে বিশ্বস্ত সে কখনই হারিয়ে যাবে না। আমি আজীবন তোমাকে ভালোবেসেই যাবো। আমার মৃত্যুর পরেও যদি বুঝতে পারো যে আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম তবে তা চিরন্তন সত্য। ভুল বুঝে রাগ করে কয়েকদিন কথা বন্ধ রাখা যায় কিন্তু যেজন রাগের অজুহাতে সরে যেতে চায় জীবন থেকে এবং যাওয়ার সময় মিথ্যে কোন অভিযোগ রটিয়ে যায় তাকে আর কি বলা যায়। এরকম ব্যক্তিগত বিপদ এবং অন্যান্য যে কোন বিপদের সময় হতাশ না হওয়ার জন্য মহান আল্লাহতায়ালার নির্দেশ রয়েছে। পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন মোটিভেশনাল শব্দ আছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে “লা তাগদাব”- অর্থ্যাৎ জীবন চলার পথে বিভিন্ন সময় অনাকাঙ্খিত বিষয়ের সম্মুখীন হতে হবে, রাগ করোনা। “লা তাখাফ”- অর্থ্যাৎ ভবিষ্যত নিয়ে কখনও দুশ্চিন্তা করোনা। তা ন্যাস্ত করে দিতে হবে আল্লাহর হাতে। আরেকটি শব্দ হলো “লা তাসখাত”- অর্থ্যাৎ আল্লাহর কোন ফয়সালার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ো না। তাইতো বলি আল্লাহ তুমি আমাদের দুজনার মনের ভুলবোঝাবুঝিগুলো দুর করে দাও। যদি কোন ভুল ট্রেনে কখনো উঠেই পড়ি তবে যেন পরের শ্টেশনে নেমে যাই। কারণ যত দুরে যাব ফেরার রাস্তাটাও বড় হবে এবং কষ্টটাও বেড়ে যাবে।

মোঃ ইকবাল হোসেন সোহাগ, ২৩/০৬/২০২৪ (চলবে)

নতুন পান্ডুলিপি “দাম্পত্য জীবন”  থেকে পূর্ব প্রকাশিতের পর।সকলকেই বুঝে নিতে হয় যে পৃথিবীর সব সম্পর্কগুলোই কখনও পারফেক্ট হ...
10/06/2024

নতুন পান্ডুলিপি “দাম্পত্য জীবন” থেকে পূর্ব প্রকাশিতের পর।

সকলকেই বুঝে নিতে হয় যে পৃথিবীর সব সম্পর্কগুলোই কখনও পারফেক্ট হয় না। তাই বলে সবাই কি ছেড়ে যায়? যারা সম্পর্কের পূর্ণতা চায় তারা সব কিছু মানিয়ে থেকে যায় সম্পর্কের মানুষটার সাথে। ‘আপন’ ‘পর’ চিনতে হয়। দীর্ঘদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে নক্ষত্র যেমন চেনা যায়, বলতে পারা যায় কোন কোন নক্ষত্র কোথায় উদিত হয়। কোনটা শুকতারা আর কোনটা ধ্রুবতারা। অথচ বহুবছর একসাথে থেকেও মানুষ চেনা যায় না। অনন্ত মনে মনে বলতে থাকে সে তার মনের মানুষটাকে চিনতে চায়। তাইতো তার কোন আচরণে সে ব্যথা পেতে চায় না। হযরত আলী (রা) বলেন,“যদি কোন লোক তোমাকে খারপ কথা বলে, তবে তার কথার জবাব দিও না। কেননা হতে পারে এর চেয়েও কোন খারাপ বাক্য তার ঠোঁটের কাছেই রয়েছে। তুমি তার কথার জবাব দেওয়ার সাথে সাথেই সেতো তা বলতে শুরু করবে।” আজ যার প্রতি ঘৃনা তাকে হয়তো একদিন ভালোবাসও সম্ভ্বব। যাকে কেউ একবার ভালোবাসে তাকে সে কোনদিন ঘৃনা করতে পারে কি? আজ একটা খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে অনন্ত যাচ্ছে। একটা খারাপ অধ্যায় মানে এই নয় যে গল্প এখানেই শেষ। খারাপের মধ্যে দিয়েই ভালোর আবির্ভাব হয়। দুঃখ, কষ্ট, খারাপ লাগা, অপূর্ণতা, অপ্রাপ্তি সবার জীবনেই আছে। হয়তো তার জন্য কেউ প্রকাশ্যে শোক পালন করে, কেউবা আবার নিরবে ডুকরে ডুকরে কেঁদে মরে। কিন্তু দেন শেষে সবারই নিজস্ব কষ্ট আছে। তুমি কিংবা আমি কেহই এর বাইরে নই। একটি পুরুষ সেই সময় ভেঙ্গে পড়ে যখন নিজের জীবন বাজি রেখে পরিবারের জন্য পরিশ্রম করে যায় কিন্তু পরিবারে তাকে বুঝার মত কেউ থাকেনা। আর ঠিক তখনই সে ভেতরে ভেতরে পুড়ে ছাই হয়েও ঠোঁটের কোনায় রাখে কৃত্রিম হাসি আর হৃদয়ে ক্ষত বিক্ষত হয়েও কেউ বলে ভালো আছি। অনেক বেদনা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো মানুষটার রাত যতই গভীর হয়, ভেতরে লুকিয়ে রাখা নিদারুন কষ্টগুলো ততই মাথাচারা দিয়ে ওঠে। তার চোখ থেকে ক্রমান্বয়ে গড়িয়ে পড়ে বেদনাময় অশ্রু। রাতজাগা মানুষগুলো আসলে ভালো থাকে না। মানুষিক ভাবে ভালো থাকলে তারা রাত জাগতো না। এই শহরে সবাই ব্যস্ত। কেউ কেউ বড় হবার নেশায়, আর কেউ কাউকে ফিরে পাবার আশায়। দিয়েছিলাম তারে মন, করেছিল সে অভিমান। রাগ ভাঙ্গাতে দিলাম মনোযোগ পরে জানলাম সবটাই তার ছিল অভিযোগ। জীবন হলো জলের নৌকা। কখনও সুখের পাল তোলে, কখনও দুঃখের স্রোতে ভাসে, কখনও ছুটে যায় ছুটে যায় ভালোবাসার টানে, আবার কখনও থেমে যায় অজানা অভিমানে। এই যে তোমার অভিমানে আমি রয়েছি দুরে। আমার হৃদয়ে নীরবে কত সুখের ফুল ফুটে ঝরে গেছে চোখের অশ্রুতে, তবুওতো সমস্ত অশ্রু লুকিয়ে বলি তোমায় ছাড়া খুব ভালো নেই আমি। বিদ্রোহী কবি নজরুল যথার্থই বলেছেন, “মৃত্যুর যন্ত্রনার চেয়ে বিরহের যন্ত্রণা যে কত কঠিন, কতো ভয়ানক তা একমাত্র ভূক্তভুগিই অনুভব করতে পারে।” জয়ীতা তোমার একটু রাগ বেশি। আমি তোমার রাগকেও ভালোবাসি। মানুষ ঘর তালাশ করে, ঘর ঘর করে গলা শুকায়। একখানা ঘর আর কতখানিই বা আশ্রয় দেয় মানুষকে, যদি না ঘরের লোক আপন হয়। হয়তো খারাপ সময় একদিন চলে যাবে কিন্তু অনন্তের অনেক কিছুই জানা হয়ে গেল। ভাগ্যবানতো সে, যাকে বুঝার মত একজন মানুষ আছে। আমাকে যে বোঝে না তাকে বার বার বোঝানের দরকার নেই। সময় হলে সে নিজেই বুঝতে পারবে। তাই নিজেকে পরিবর্তন করা শিখতেছে অনন্ত। কারণ পরিবর্তন প্রতিশোধের থেকে অনেক মূল্যবান।

মোঃ ইকবাল হোসেন সোহাগ ১০/০৬/২০২৪ (চলবে)

(১৯/০৫/২৪ তারিখের পর)“বিরহ পর্ব”======স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কলহ বা মনোমালিন্য হলে দুজনেই খুব বেশি অসহায় হয়ে পড়ে। একই ঘরে ...
23/05/2024

(১৯/০৫/২৪ তারিখের পর)
“বিরহ পর্ব”
======

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কলহ বা মনোমালিন্য হলে দুজনেই খুব বেশি অসহায় হয়ে পড়ে। একই ঘরে একই ছাদের নিচে থাকলেও যেন মনে হয় কি নিদারুন একাকিত্বের মধ্যে বসবাস করছে তারা দুজন। সব থেকেও যেন তাদের কিছু নেই। অনন্তের এটাই মনে হতে থাকে বার বার জয়ীতাকে ছাড়া ভালো থাকার অভ্যাসটা হয়তো কখনও করতে পারবে না সে। তবুও যদি হয়েও যায় যুগ যুগ পার করে দিবে তবুও তার অপেক্ষায় বসে থাকবে একাকী নিরজনে। তার বিশ্বাস জয়ীতাও রাতে ঘুমাতে পারে না। তবুও ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকে। কি এমন সংকোচ অনন্তের থেকে দুরে রাখে জয়ীতাকে। সে মনে মনে বলে তার জীবনটা এমন হলো কেন? জীবনে কি পাবো না পাবো জানিনা, কিন্তু পেয়ে গেছি অনেক কিছু। ভালোবাসা চেয়েছিলাম তা কি পেয়েছি? স্বপ্ন দেখেছিলাম হতাশা পেলাম, বিশ্বাস করেছিলাম, তবে কি বোকা হলাম আর ‘আপন’ করেছিলাম তোমাকে সেখানে কি ‘পর’ হয়ে গেলাম। তাহলে কি মানুষ যা চায় তা পায় না। স্বপ্ন ছিলো অপূর্ব এক পৃথিবীর ঠিকানা। যে পৃথিবীতে থাকবেনা অন্ধকার, থাকবে শুধু আলো। আমার বাগানে থাকবে শুধু সুগন্ধি ফুল। আমার থাকবে ছলছল বহমান নদী, থাকবেনা মরুভূমি। কিন্তু একি হলো হায় আমার মনের পাখিটার ডানা আছে কিন্তু উড়তে পারে না। আসলে মানুষ যা চায় তা পায় না। সম্পর্ক একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব দুজনারই। একটা সম্পর্কে যখন দুজন মানুষের মধ্যে জেদ চেপে যায় তখন দুজনেই জিতে যায়, শুধু হেরে যায় সম্পর্কটা। তাই নিজেদের মধ্যে অযথা দুরত্ব তৈরী করা ঠিক না। ভুল বোঝাবুঝি করে দুরত্ব তৈরী হলেও দুরত্ব কখনও সম্পর্ককে আলাদা করতে পারে না। সময় দিয়ে কখনও সম্পর্ককে মাপা ঠিক না। যদি মনের অনুভূতি ঠিক থাকে তাহলে সম্পর্কটাও সারা জীবন ঠিক থাকে। বাবা মা ভাই বোন স্বামী স্ত্রী শশুর শাশুড়ী সকলে মিলেই একটি পরিবার। পরিবারের সকলেরই গুরুত্ব আছে। তাই বলে পরিবারের অজুহাত দেখিয়ে কখনও ভালোবাসার মানুষকে ছেড়ে দেয়া যাবে না। বরং ভালোবাসার অজুহাত দেখিয়ে ভালোবাসার মানুষকে সারা জীবন ধরে রাখা উচিত। কারোও অবহেলায় অনেকেই স্বর্থপর হয়ে নিজের পথ আলাদা করে নেয়। কিন্তু কিছু মানুষ চাইলেও স্বর্থপর হতে পারে না। বরং স্বার্থপর হবার অভিনয় করতে গিয়ে তারা আরোও বেশি মায়ায় জড়িয়ে যায়। কেউ যদি গুরুত্ব কমিয়ে দেয় তাহলে কি দুরত্ব বাড়াতে হয়? উত্তর হলো না। কষ্ট হলেও দাঁতে দাঁত চেপে সব হজম করতে হয়। তবে একটা কাজ করা যায় অবহেলাকারীকে বুঝিয়ে দেয়া যায় যে আজকে সে অবহেলা করছে একদিন সেও কারোও অবহেলার পাত্র হতে পারে। আমিও মানুষ। বাজারের কোন সস্তা পন্য নয়। অবহেলার নগরে ভবঘুরে হয়ে হাঁটবোনা আর বদলে যাবো একদিন। একদিন ঠিকই নিরব হয়ে যাবো বলবোনা প্রেয়সীকে ভালোবাসি নিশ্চুপে নির্বাক হয়ে থাকবো আর পাঠাবো না চিরকুট নীল খামের সাদা কাগজে। শুধু নিজেকে নিয়ে লিখবো অকারণ অজুহাতে অবহেলায় প্রেয়সী আমার ভালোবাসা হত্যা করেছে। তাইতো এই আমিটা পাল্টে যাবো জীবনের তরে। আমি মন জমিনে আর প্রেম চাষ করবো না, একাকীত্বে মিশে যাবো একদিন। নিরবে কাঁদার থেকে বড় কষ্ট বোধহয় পৃথিবীতে আর কিছুই নেই। অসচ্ছল পুরুষ মানুষ কখনও কারো প্রিয় হতে পারে না। “অর্থহীন পুরুষ” শুধু গল্প আর কবিতাতেই গুরুত্ব পায়। দরিদ্র পুরুষ নিজের পরিবার, স্ত্রী সন্তানদের নিকটও প্রিয় হতে পারে না। তারা শুধু প্রিয় হয় প্রয়োজনে। অপরদিকে একজন নারীর জীবন বিষাক্ত হওয়ার জন্য একটাই কারণ তার খারাপ স্বামী। কিন্তু নারীর জীবন সুন্দর হওয়ার জন্য তার একজন ভালো স্বামীই যথেষ্ট। অনেকে বলেন স্বামী এমন একটা বিষয় ঝগড়া লাগলে মনে হয় এর সাথে যায় না। আর ভালো সময় মনে হয় তাকে ছাড়া বাঁচা যায় না। রাসুল (স) বলেছেন, “ যখন স্বামী স্ত্রী একে অপরের প্রতি প্রেম এবং মহব্বতের সাথে দৃষ্টি বিনিময় করেন, মহান আল্লাহ তায়ালাও তাদের উভয়ের প্রতি রহমতের দৃষ্টি বর্ষণ করনে।” স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্ক হওয়া উচিত হাত ও চোখের মত। যদি হাত ব্যাথা পায় তাহলে চোখ কাঁদবে আর যদি চোখ কাঁদে তাহলে হাত অশ্রু মুছে দিবে। এই দুজনের মধ্যকার ভালোবাসা হতে হবে গভীর থেকে গভীরতর।

মোঃ ইকবাল হোসেন সোহাগ ২৩/০৫/২০২৪ (চলবে)

(“দাম্পত্য জীবন”  থেকে পূর্ব প্রকাশিতের পর ০৯/০৫/২০২৪ তারিখের পর)(বিরহ পর্ব)=======নিরব হয়ে চলতে চলতে কখনও কখনও নিজের অজ...
19/05/2024

(“দাম্পত্য জীবন” থেকে পূর্ব প্রকাশিতের পর ০৯/০৫/২০২৪ তারিখের পর)
(বিরহ পর্ব)
=======
নিরব হয়ে চলতে চলতে কখনও কখনও নিজের অজান্তেই সরব হয়ে যায় অনন্ত। আর সরবতাই হয়ে যায় অনেক সময় অধিক নিরবতার কারণ। আজ চুপ হয়ে আছি। কিন্তু কেন? নিশ্চুপ জীবন কারোও কাম্য নয়। অনেক কথা বলা মানুষটা যখন বেশি নিশ্চুপ হয়ে যায় বুঝতে হবে আঘাতটা অনেক গভীরে লেগেছে। আমিতো জয়ীতাকে ভালোইবেসেছি। যদি ভালোবেসেই থাকি তবে তার দেয়া আঘাতে আমার কিছুই যায় আসে না। ভালোবাসার টানে জয়ীতার দেয়া প্রতিটা আঘাত অনন্তের কাছে মনে হয় তার হৃদয়ের আলতো ছোঁয়া। একটা শীর্ণ বৃক্ষ ঝড়ো বাতাসে নুঁয়ে পড়লেও বাতাস থামলেই আবার সোজা হয়ে দাড়াতে চায়। আমিও সোজা হয়ে দাড়াতে চাই মনে মনে বলে অনন্ত। অনন্ত চায় তার অব্যক্ত ভালোবাসা ব্যক্ত করতে। অনন্ত চায় এতটুকু বোঝাতে সে তাকে ভালোবাসে এখনও। তাইতো রাগ নামক দানব ভেতর থেকে ছুঁড়ে ফেলে সে। অযথা রাগ করা যাবে না। কারণ রাগ সুন্দর সু-সর্ম্পকের বাগানটাকে শুকনো মরুভূমি বানিয়ে দেয়। দিন শেষে নিজেকে ভালো রাখতে গেলে নিজের কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। রাগ কমানোর জন্য কম কথা বলা, অন্যের সাথে নিজেকে কম জড়ানো। কারোও অবহেলা নিয়ে বেশি দিন চলা যায় না। জানি তোমার অবহেলা একদিন শেষ হবে জয়ীতা। তাইতো বলি অবহেলা শেষে ডাক দিলে আমি এখনও তোমাকে ভালোবাসি একথাই বলবো। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি একথাটা সরাসরি বলতে না পারা বা বোঝাতে না পারা ভীষণ কষ্টের। পৃথিবীতে যত ধরনের কষ্ট আছে তার মধ্যে তিব্রতর কষ্ট হচ্ছে বলতে না পারার কষ্ট। শব্দ হয় না, রক্তপাত হয় না কিন্তু ভিতরে ভিতরে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যায়। জয়ীতা আমি জানি তুমিও ভালোবাসো আমায়। আমার জানাটা কি ভূল? আমার এই ভূল জানাটাই আমার কাছে সত্যি হয়ে থাক। আমি এটা কখনও জানতে চাই না যে আমাকে তুমি আর ভালোবাসো না। যদি ভালো নাই বাসো তবে কেন তোমার গরম নিঃশ্বাস আমার নরম বুকে ফেলেছিলে। আমাকে তুমি জড়িয়েছিলে জন্ম জন্মান্তরের মায়ার বন্ধনে। তোমার পৃথিবীতে আমি একটাই চাঁদ ছিলাম। তোমার কল্পনায় আমিই একমাত্র রাজপুত্র ছিলাম। তোমার নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে আমারই অস্তিত্ব ছিল। তুমি বলেছিলে আমাকে কখনও ছেড়ে যাবে না। আমিতো সেই ভরসাতেই জীবন তরী ভাসিয়েছি তোমার প্রেমের নদীতে। যেদিন তোমায় প্রথম দেখেছিলাম জানিনা কোন মায়ায় পড়ে গিয়েছিলাম। মায়া বড় অদ্ভুত বিষয়। মনে মনে তোমাকেই করেছিলাম হৃদয় রানী। জানিনা তোমার স্বলজ্জ চোখের চাহনীতে আমি কি দেখেছিলাম। ভুলে গিয়েছিলাম আমার আমিকে। শুধু মনে মনে বলেছিলাম এমন দুটো মায়াবী চোখ যার সে চোখের জাদুতে যদি নিজেকে আটকাতে পারতাম। বন্ধুসম একজনকে বলেছিলাম যে চাঁদ মুখ আমি হেরেছি দু নেত্রে তাকে যদি পাই তাহলে মন্দ হয় না। মনে মনে কল্পনা করেছি সুদুরের ভভিষ্যৎকে। আমি কল্পনায় সাজিয়েছিলাম তোমাকে। না কল্পনা বেশি দিন কল্পনা থাকে নি। বাস্তব হয়ে তুমি এসেছিলে আমার ভূবনে। আমি হয়েছিলাম তৃপ্ত। ভালোবাসার সুধা পান করে আমি হয়েছিলাম ধন্য।

মোঃ ইকবাল হোসেন সোহাগ , ১৯/০৫/২৪ (চলবে)

(“দাম্পত্য জীবন” পান্ডুলিপি থেকে পূর্ব প্রকাশের পর।)“ভালোবাসার সংসার পর্ব”===============নিজের অস্তিত্বের প্রশান্তির জন্...
08/05/2024

(“দাম্পত্য জীবন” পান্ডুলিপি থেকে পূর্ব প্রকাশের পর।)
“ভালোবাসার সংসার পর্ব”
===============
নিজের অস্তিত্বের প্রশান্তির জন্য হাজারো মানুষের ভীড়ে একজন অতি আপন মানুষ থাকলেই চলে। যে আপন মানুষ তার অপার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দিয়ে রাঙিয়ে দিবে জীবন। ভালোবাসার মানুষের কাছে আমাদের চাওয়া কি? সে শুধু আমাকে বুঝবে, আমাকে দু’দন্ড শান্তি দিবে, আমার সুখে দুঃখের সাথী হবে শুধু তাই, না অন্য কিছু? তার আর আমার চাওয়া এক হবে, তার এবং আমার পাওয়া ও প্রাপ্তিতে মিল থাকতে হবে, তার এবং আমার জীবন এবং মরন একই সূত্রে গাঁথা থাকতে হবে। হ্যাঁ আমার সে রকম একজন ভালোবাসার মানুষ চাই।
আমার অনেক মানুষ প্রয়োজন নেই। আমার খুব কম সংখ্যক মানুষই থাকুক যারা আমায় বুঝবে। আমি হারিয়ে গেলে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রটিয়ে দিবে পুরো পৃথিবী। আমার অনেক মানুষ প্রয়োজন নেই। আমার অন্তত একটা মানুষই থাকুক, যে কিনা আমি না থাকলে শোক প্রকাশ করবে, অসুস্থ্য থাকলে সেবা না করুক, অন্তত অসুস্থ্যতার খবর শুনে যার মন ব্যকুল হয়ে থাকবে এই অতি সাধারণ আমিটার জন্য। আমার অনেক মানুষ প্রয়োজন নেই। আমার অন্তত খুব সংখ্যক মানুষই থাকুক, যারা আমায় শুধু ভালোবাসবে, যারা ভরসা দিবে খারাপ সময়ে। পৃথিবীর এই শতকুটি মানুষের ভীড়ে আমার অনেক মানুষের প্রয়োজন নেই। আমার খুব কম মানুষই থাকুক, যারা আমায় মানষিক শান্তি দিবে, যারা আমায় হাসাবে। আমার সত্যিই অনেক মানুষ প্রয়োজন নেই। আমার প্রয়োজন খুব অল্প সংখ্যক মানুষ, যারা শুধু নিজেরাই ভালো থাকতে নয় আমাকেও ভালো রাখতে পারবে। সে রকম অনেক মানুষ না পাওয়া গেলে কিছু সংখ্যক মানুষ থাকুক। তাও যদি না থাকে, তবে অন্তত একটা মানুষই না হয় থাকুক; যে আমায় আমার মত করে বুঝবে। ভালো আর মন্দের সংমিশ্রনর এই আমিটাকে শুধুই ভালোবাসবে। অন্তত একটা মানুষই থাকুক, আমায় প্রচন্ড ভালোবাসুক, আমাকে আমার মত করে বুঝুক। তবুও অন্তত একটা মানুষই থাকুক। আমার জীবনের জন্য আশীর্বাদ হয়ে। আমিও তোমার জীবনের একজন, শুধুমাত্র একজনই হতে চাই। এক ও এক সমান দুই। আমরা দুইজন হয়ে সারা জীবন রই। কতটুকু দেখেছি? কতটুকু জেনেছি? কোন বেদনায় একজন পুরুষ আজীবন অকৃতদার থেকে যায়। কোন স্বপ্ন ভঙ্গ হলে একজন প্রেয়সী আজীবন একাকী জীবন কাটায়। কতখানি ভালোবাসলে তাজমহল নির্মিত হয়। সম্পর্ক কতখানি গভীর হলে রচিত হয় অমর প্রেম গ্রন্থ লাইলী মজনু, শিরি ফরহাদ আরো কত উপাখ্যান। স্ত্রী কতখানি ভালোবাসলে বিপত্মীক থেকে যায় আজীবন। স্বামীর প্রতি কতখানি শ্রদ্ধা থাকলে তার স্মৃতিকে ধারণ করে অবশিষ্ট জীবন রয়ে যায় স্বামীগৃহে। প্রিয়ার প্রিয়তম হওয়ার জন্য কতজনের কত লালিত স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছে তার ইয়াত্তা নেই। সর্বংসহা হয়ে কতজন যে যাপন করে যাচ্ছে প্রেমময় ও প্রেমহীন দাম্পত্য জীবন সে কথা বলাই বাহুল্য। কত অদৃশ্য প্রেম, কত একতরফা ভালোবাসা, কত প্রস্ফুটিত
ভালোবাসা, কত অকালে ঝরে পড়া অমর প্রেম, পারু-দেবদা কাহিনী, কত সেক্সপিয়ার , কত হুমায়ুন আহমেদ কাহিনী, কত শরৎ চন্দ্র, কত রবীন্দ্রনাথ সব কি আমরা জানি। যে সম্পর্ক গড়ে উঠতে সময় লাগে, সে সম্পর্ক দীর্ঘদিন টিকে থাকে। খুব দ্রুত যে সম্পর্ক স্থাপিত হয় খুব সহজেই তা আবার ভেঙ্গে যায়। সতরাং সময় নিয়ে একে অন্যের ভেতরের অনুভুতিগুলো অনুধাবন করে যে সম্পর্ক তৈরী হয় সে সম্পর্কই প্রকৃত সম্পর্ক। যে সম্পর্কে আত্মার সাথে সম্বন্ধ থাকে না সেখানে রাবনের চিতা চিরদিন জ্বলতে থাকে। ভালোবাসায় যেখানে ঢাক ঢাক গুড়গুড় সেখানে তুষের আগুনের মত নিরন্তর দগ্ধকারী দুঃখ বিরাজ করে। অল্পতেই যেখানে খন্ড প্রলয় (তুমুল কান্ড) বেধে যায় সেখানে কি আর স্বর্গসুখ পাওয়া যায়?

“দাম্পত্য জীবন” পান্ডুলিপি থেকে পূর্ব প্রকাশ (৩০/০৪/২৪) এর পর।“ভালোবাসার সংসার”=============একজন পুরুষ তার সমস্ত অস্তিত্...
08/05/2024

“দাম্পত্য জীবন” পান্ডুলিপি থেকে পূর্ব প্রকাশ (৩০/০৪/২৪) এর পর।

“ভালোবাসার সংসার”
=============
একজন পুরুষ তার সমস্ত অস্তিত্ব ও শক্তি দিয়ে তার চার পাশের মানুষগুলোকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়। একজন নারীও ঠিক তেমনি করে তৈরি করতে চায় আপন ভূবন। যদি নারী ও পুরুষের চাওয়া একই হয়, একটি স্বপ্নের নীড় রচনা করা তাহলে কেন আবার স্বামী স্ত্রীর মাঝে মতদন্ধ তৈরি হয়। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মতদন্ধ অবশ্যই পরিহার করে চলা উচিত। স্বামী এবং স্ত্রী দুজন মিলেই তৈরি হয় একটি সংসার। সেই সংসারে থাকে বাবা, মা, ভাই বোন, ননদ, জা, দেবর, পাড়া-প্রতিবেশি ছাড়া আরোও অনেকে। ছোট্ট ছোট্ট হাসি-কান্না, ব্যাথা-দুঃখ, আনন্দ ইত্যাদি নিয়েই চলে মানব জীবন। শুধুমাত্র প্রাচুর্য দিয়েই সংসারের সুখ কেনা যায় না। সংসার করতে হয় ভালোবেসে। শুধুই দায়িত্ববোধ দিয়ে সংসারকে বেধে রাখলে চলবে না। হ্যাঁ ভালোবাসার সাথে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ অবশ্যই থাকতে হবে। অনেকের জীবনেই একটা সময়ের পর সংসার হয়ে যায় শুধুই দায়বদ্ধতা। সংসার সামলানো ছেলে মেয়ের দায়িত্ব পালন করা, সবার মন রাখার চেষ্টা করা এভাবেই কেটে যায় সংসার নামক ঘানি। মনে হয় সবকিছু চলছে শুধুমাত্র অভ্যাসে। অভ্যাসের বাহিরে কিছু নয়; বা সংসার একটা দায়বদ্ধতা যেটা আমরা চাইলেই এড়িয়ে যেতে পারিনা। ব্যাস আমরা মনে করি সংসারতো হচ্ছে কিন্তু একে অপরের প্রতি কতটুকু ভালোবাসা আছে সেটা জানার কিংবা বুঝার দরকার প্রয়োজন মনে করি না। সবকিছু সামলাতে সামলাতে আমরা ভূলেই যাই এই নিত্যদিনকার অভ্যাসের বাহিরে আমাদের নিজেদেরও একটু সময় দরকার। শুধুমাত্র অভ্যাসের নিয়মে সংসার হয় না। শুধুমাত্র রোজ ছুঁয়ে দিলেই ভালোবাসার গভীরতা অনুভব করা যায় না। কখনোও কখনো পাশের মানুষটার কাছে জানতে ইচ্ছা করা উচিত, আমাদের মাঝে কি আদৌ ভালোবাসা আছে, না কি সবটাই অভ্যাস।
একসাথে হাজারটা রাত কাটানোর পরও অনেক কথাই না বলা রয়ে যায় পাশের মানুষটাকে। অথচ দুজনই হাতের উপর হাত রেখে এক সাথে পার করে দিয়েছে জীবনের অনেকগুলো বসন্ত। এত কিছুর পরও কি দুজনের মাঝে ভালোবাসার অভাববোধ হয়? ভালোবাসার তিব্র অভাবে হাহাকার করতে থাকে কিছু কিছু সম্পর্ক। কিন্তু ঔ যে বললাম দায়বদ্ধতা আর অভ্যাসের দায়ে কেউ কেউ ছেড়ে আসতে পারে না তথাকথিত সংসার। আমি নিজেও চাইনা কোন সংসার কিংবা কোন সম্পর্ক ভেঙ্গে যাক। আমি শুধু চাই কোন সম্পের্কেই যেন কখনও ভালোবাসার অভাববোধ না হয়। ছোট্ট এই জীবনে ভালোবাসার অভাব মানুষকে ভীষন একা করে দেয়। সেটা যে কোন বয়সের যে কোন মানুষকেই। ভালোবাসায় এবং নির্ভরতায় বাঁচুক আমাদের প্রতিটি সম্পর্ক, আমাদের প্রতিটি সংসার। এই হোক আমাদের সকলের কামনা।

মোঃ ইকবাল হোসেন সোহাগ ০৮/০৫/২০২৪ (চলবে)

নতুন পান্ডুলিপি “দাম্পত্য জীবন” থেকে কিছু অংশ।(পূর্ব প্রকাশিতের পর)আপনি থেকে তুমি, তুমি থেকে তুই। প্রতিটি সন্মোধনই একই অ...
30/04/2024

নতুন পান্ডুলিপি “দাম্পত্য জীবন” থেকে কিছু অংশ।
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

আপনি থেকে তুমি, তুমি থেকে তুই। প্রতিটি সন্মোধনই একই অর্থ বহন করে। তবুও প্রয়োগের ক্ষেত্র আলাদা। ইংরেজরা অবশ্য এ বিষয়ে বিভিন্ন শব্দ প্রয়োগ থেকে বেঁচে গেছে। শুধুমাত্র “You” দিয়ে সবগুলো সন্মোধন একত্রিত করে ফেলেছে। আমরা শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিকে সাধারনত আপনি করে ডাকি। একান্ত আপনজন বা স্নেহভাজনদেরকে তুমি করে ডাকি। আর অতিপ্রিয় বা ছোটদের বিশেষ করে অনেক সময় তুচ্ছার্থে তুই করে ডাকি। কোন ডাকেই ক্ষতি নাই। অতি আপনজন বা বন্ধু বান্ধব কে তো তুই বলেই ডাকি। প্রিয়া বা প্রেয়সীর ক্ষেত্রে আমরা ‘তুমি’ কেই বেশি প্রধান্য দেই। তাদের কাছ থেকে আমরা ‘তুমি’ শব্দটি শুনতেই বেশি আগ্রহী। এরকম সব ভাবনা ভাবতে ভাবতে অনন্ত মনে মনে বলতে থাকে যদি পৃথিবীর সব গোলাপ প্রতিদিন একটা একটা করে জয়ীতাকে দেয় এবং বলে আমি তোমাকে ভালোবাসি তবে সব গোলাপ শেষ হয়ে যাবে তবুও জয়ীতাকে ভালোবাসার সাধ শেষ হবে না। হয়তো অনন্তের ভালোবাসার গভীরতা আজও বুঝতে পারে নি জয়ীতা। চাঁদকে ভালোবাসি রাত পর্যন্ত, সুর্যকে ভালোবাসি দিন পর্যন্ত, ফুলকে ভালোবাসি সুবাস পর্যন্ত কিন্তু তোমাকে ভালোবাসি শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত। তাইতো রবীন্দ্রনাথ বলেন, “পৃথিবীর বড় দুরত্ব কোনটি জানো? না জীবন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, উত্তরটা সঠিক নয়। সবচেয়ে বড় দুরত্ব হলো যখন আমি তোমার সামনে থাকি, কিন্তু তুমি জানো না যে আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি।” অপরিনত ভালোবাসা বলে, আমি তোমাকে ভালোবাসি কারণ আমার তোমাকে প্রয়োজন। আর পরিনত ভালোবাসা বলে, তোমাকে আমার প্রয়োজন কারণ আমি তোমায় ভালোবাসি। অনেক সময় কষ্ট পাই কিন্তু রাগ করি না! কারণ কারো রাগের মুল্য অন্যের কাছে নাও থাকতে পারে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে রাধা একদিন জিজ্ঞেশ করলেন,“রাগ কি?” উত্তরে শ্রীকৃষ্ণ বললেন,“অন্যের ভূলের শাস্তি নিজেকে দেওয়াই হলো রাগ।” তাইতো বলা যায় একটা সুন্দর সম্পর্ক তো সেটাই... যেখানে মিষ্টি একটা হাসির সাথে ছোট্ট একটা sorry বললে সব ভুল বোঝাবুঝি মিটে যায়। অন্তর থেকে কোন কিছু চাইলে বা কাউকে চাইলে এটা ধরে নেয়া যায় যে সেও রোজ রাতে তার প্রেয়সীকে ভেবেই ঘুমাতে যায়। এজন্যই তো মহা মনিষীরা বলেন,“ যাকে ভালোবাসো সেও তোমাকে ভালোবাসবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। ভালোবাসা কোন ধন সম্পত্তি নয় বা মোহ নয় জোর করেই তাকে পাবে। মন থেকে ভালোবেসে যেতে হবে, বাকিটা সময় বলে দিবে।” যদি তুমি আমাকে ঘৃনা করো তবুও আমি তোমাকে ভালোবাসি ইহা কোন নিউটনের উক্তি নয়, এটা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স) এর চরিত্র। অনন্ত ভাবে কষ্ট কি? এর উত্তর খুঁজতে যাব না। কষ্ট পাই তখন যখন দেখি তোমার সমস্ত অস্তিত্ব জুঁড়ে আমার অবস্থান ‘পর’। আমি তোমার ‘তুমি’ হয়ে থাকতে চাই। তবে হ্যাঁ অতি আদরের ‘তুই’ থেকে আরোও জঘন্য হতেও আমার আপত্তি নেই। প্রতি মুহুর্তে আমরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হইনা কেন তাতে শান্তি খুঁজতে হবে। প্রতি মুহুর্তেই নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হবে আমার চাওয়া জিনিসগুলো কখনই নিখুঁত হবে না, কিন্তু আমাদের একজন নিখুঁত স্রষ্টা আছেন। যিনি আমাদের বুঝার বাইরে আমাদের শান্তি দিতে পারেন। জীবনে শৃঙ্খলা ও ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে তাঁর ঐশ্বরিক প্রজ্ঞার উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। তাহলেই কষ্ট কমে যাবে। কষ্ট পেলে এখন আমি আর বিচলিত হই না। কারণ কেউ আমাকে কষ্ট দিলে সেও নিশ্চয়ই কষ্ট পায়। হয়তো সে সাথেই কষ্ট পায় নয়তো পাবে কোন একদিন। আমার শ্রম, আমার মেধা, আমার জ্ঞান, আমার আমিত্ব সব কিছুই মূল্যহীন যদি তুমি তা মূল্যায়ন না কর। ভালোবাসার মানুষের কাছে আপন হতে না পারার বেদনা বলে বুঝাবার মত নয়। আমার সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে যার বিচরণ তার হৃদয়পটে যদি আমার ছবি থাকে অস্পষ্ট তবে জীবনে ভালোবাসার সংজ্ঞাটাই পালটে যায়। আর ভালোবাসা যেখানে অস্পষ্ট ভালো থাকাটাও সেখানে দুষ্কর। ভালো থাকতে গেলে ভালোবাসতে হয়, ভালোবাসা পেতে হয়। ভালোবাসাহীন জীবন নরক তূল্য। কেন কি কারণে ভালোবাসায় ঘাটতি হয়? শুধু কি স্বার্থ নাকি অর্থ? ভালোবাসা কি শুধু মুখেই বলতে হয়। আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবো না। তুমি আমার জীবন, তুমি আমার চিরসাথী ইত্যাদি কথাগুলি প্রেম পর্বে হয়তো মুখে বলতে হয় নয়তো চিঠিতে লিখে বুঝাতে হয়। কেননা ওটাতো আবেগী পর্ব। কিন্তু সাংসারিক জীবনে সেসকল কথা মুখে বলার সাথে সাথে আচার আচরণেও বুঝে নিতে হয়। একজনের প্রতি অন্য জনের দৃষ্টিভঙ্গি, মনোভাব, ফিলিংস ইত্যাদি মিলে কি তৈরী হয়না নির্ভরতার কোন যায়গা। সেই নির্ভরতা থেকে কি একটু বুঝা যায়না একে অন্যকে ভালোবাসি কতখানি। সেই ভালোবাসার জোয়ারে কি ছোটখাট শ্যাওলা, কচুরীপানার মত ভুলগুলো ভেসে যেতে পারে না। যদিও বা কখনও কোন ছোটখাট ভুল হয়েও যায় একজন কি অন্যজনকে শুধরে নিতে পারে না। না কি সেই ছোট্ট ভুলকে অনেক বড় করে দেখে জীবন চলার পথকে করতে হবে নিরর্থক।
মোঃ ইকবাল হোসেন সোহাগ, ৩০/০৪/২০২৪ (চলবে)

Address

8/2 New Colony, Lalmatia
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when NOCS Dhanmondi DPDC posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category