10/11/2015
ডিপ্লোম ইন্জিনিয়ারিং পাশের পর জার্মানীতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ (জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা)
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা
যেহেতু জার্মানিতে টিউশন ফি নেই, পড়াশোনা এখানে কোন পণ্য নয় এবং একই সাথে সকল বিশ্ববিদ্যালয় একটা নির্দিষ্ট মান বজায় রাখে – এই দেশে পড়তে আসতে হলে ছাত্রছাত্রীদেরও একটা বিশেষ যোগ্যতার কথা খেয়াল রাখতে হবে। আর সেটা হল, একটা নির্দিষ্ট মান নিয়ন্ত্রণ! কোনমতে শুধু একটা ডিগ্রী সার্টিফিকেট নিয়ে জার্মানিতে পড়তে আসাও যেমন উচিত হবে না, তেমনি সত্যিকার অর্থে যাদের উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা নেই, তারা আসলে জার্মানিতে পড়ার জন্য যোগ্য নয়।
তাই যারা গন্তব্য হিসেবে জার্মানিকে ঠিক করেছে, তাদের জন্য প্রথম যোগ্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব থাকবে নিজের উপরই। টেকনিক্যাল সলিড জ্ঞান, ভাষা-গত যোগ্যতা (জার্মান বা ইংরেজি), নতুন দেশের নতুন পরিবেশে নিজেদের খাপ খাইয়ে চলার মতন ধৈর্য এবং পরিশ্রমী মনোবল, নিজের কাজ নিজে গুছিয়ে নেবার মানসিকতা, সময় জ্ঞান, পরিকল্পিত এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা – এই যোগ্যতা এবং গুণগুলো যাদের আছে, তারাই জার্মানিতে আসার জন্য নিজেকে যোগ্য বলে মনে করতে পারে।
যোগ্যতা আসলে দুই রকম, একটা সার্টিফিকেট যোগ্যতা, আর আরেকটা সত্যিকার অর্থে কিছু জানা। প্রথমটি খুব সহজেই যোগাড় করে নেওয়া যায়, দ্বিতীয়টির যায় না। এদেশে যেহেতু পড়ানোর জন্য কারও কাছে থেকে পয়সা নেওয়া হচ্ছে না, এবং বিশ্ববিদ্যালয় গুলি চেষ্টা করবে তাদের মান বজায় রাখতে, এখানে ধরেই নেওয়া হবে যে আগত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দ্বিতীয় যোগ্যতাটা ভাল মতনই আছে।
ব্যাচেলরঃ
1. ডিপ্লোমা সম্পন্ন ছাত্র-ছাত্রী যার শুধু মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট আছে, তাদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিকের সমমানের সার্টিফিকেট লাগবে।জার্মানিতে এসেসমেন্ট পরীক্ষা পাস করতে হবে ।
2. ব্যাচেলর ডিগ্রী করার জন্য স্টুডেন্টকলিগ (ডুয়েট ভর্তি পরীক্ষার মত) কোর্স করতে হয় যা জার্মান ভাষায় করতে হয় ।
3. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর কোর্সে ২ বছর পড়াশোনা চলমান থাকলে সরাসরি জার্মান ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া যায় । স্টুডেন্টকলিগ করতে হবে না ।
• জার্মান ভাষায় ব্যাচেলর করতে চাইলে টেস্টডাফ বা ডিএসহা (“TestDaF” (test of German as a foreign language) or “Deutsche Sprachprüfung für den Hochschulzugang ausländischer Studienbewerber” (DSH))
• গোয়েথে থেকে সি-২ লেভেল পর্যন্ত জার্মান ভাষা শেখা থাকলে উপরোক্ত পরীক্ষা দেবার প্রয়োজন নেই।
• ইংরেজিতে পড়ার জন্য টোফেল বা আইএলটিএস প্রয়োজন। একেক ইউনিভার্সিটিতে একেক রকম মার্ক বা ন্যুনতম স্কোর প্রয়োজন, কোন সাধারণ নিয়ম নেই।
মাস্টার্সঃ
1. ডিপ্লোমা সম্পন্ন ছাত্র-ছাত্রী যার শুধু মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট আছে, তাদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিকের সমমানের সার্টিফিকেট লাগবে।
2. ডিপ্লোমা স্টুডেন্ট বা অন্যান্যরা যারা শুধু মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট আছে, তাদেরকে কমপক্ষে ১৫ বছর পড়াশোনার প্রমাণ দেখাতে হবে। এসএসসি পর্যন্ত ১০ বছর এবং যদি ৪ বছরের ডিপ্লোমা হয়, তবে সব ইউনিভার্সিটি ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট গ্রহণ নাও করতে পারে, এই ব্যাপারে কোন সাধারণ নিয়ম নেই।
কিছু কথাঃ
স্টাডি গ্যাপ কোন সমস্যা নয়!!
ভর্তির জন্য ন্যূনতম বা কোন ধরণের বয়স সীমা নেই।
ইঞ্জিনিয়ারিং বা টেকনিক্যাল স্টুডেন্টরা প্রায় সকল ক্ষেত্রেই মাস্টার্সে অন্য টেকনিক্যাল বা ইঞ্জিনিয়ারিং ফিল্ডে সুইচ করতে পারবে।
রেজাল্ট ২.৮ নিয়েও এডমিশন পাওয়া যায়। তবে সিজিপিএ কম থাকলে অন্তত ১৫-২০ টা ইউনিতে এপ্লাই করতে হবে।
“IELTS/TOEFL করা কি জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য বাধ্যতামূলক?”
না, বরং মাস্টার্স/ব্যাচেলর করতে যথেষ্ট ইংরেজি জ্ঞান আছে কি না সেটা প্রমাণ করাই মুখ্য।ব্যাচেলর ডিগ্রী করার জন্য স্টুডেন্টকলিগ (ডুয়েট ভর্তি পরীক্ষার মত) কোর্স করতে হয় যা জার্মান ভাষায় করতে হয় ।বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর কোর্সে ২ বছর পড়াশোনা চলমান থাকলে সরাসরি জার্মান ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়া যায় ।
ইংরেজি মাধ্যমে ব্যাচেলর করা আছে এই সার্টিফিকেট দিয়ে অনেক ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করা যায়। মনে রাখতে হবে যে, IELTS করা থাকলে এবং ভাল মার্ক পেলে সেটা এই সার্টিফিকেটের চেয়ে বেশি ভাল। কোন কোন ইউনিভার্সিটিতে এই সনদ গ্রহণযোগ্য হবে, এর কোন তালিকা নেই।