05/08/2025
Air Conditioner আবিষ্কারের ইতিহাস এবং এটি কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:
এসি আবিষ্কারের ইতিহাস
এসির ধারণা নতুন নয়। প্রাচীন পারস্যে বাতাসের প্রবাহকে শীতল করার জন্য বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হত, যেমন দুই স্তরের দেয়ালের মাঝখানে বায়ুপ্রবাহের ব্যবস্থা রাখা। এমনকি প্রাচীন মিশরীয়রাও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করত।
তবে আধুনিক এসির জনক হিসেবে যার নাম আসে তিনি হলেন আমেরিকান প্রকৌশলী উইলিস হ্যাভিল্যান্ড ক্যারিয়ার (Willis Haviland Carrier)। ১৯০২ সালে তিনি প্রথম বৈদ্যুতিক এয়ার কন্ডিশনার আবিষ্কার করেন। তবে এটি মূলত মানুষের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়নি, বরং এর উদ্দেশ্য ছিল শিল্প ক্ষেত্রে তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা।
ক্যারিয়ার একটি ছাপাখানায় কাজ করতেন। সেখানকার অতিরিক্ত তাপ এবং আর্দ্রতার কারণে ছাপা কাগজের আকার ও কালির ব্যবহার ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। এই সমস্যা সমাধানের জন্যই তিনি এয়ার কন্ডিশনার তৈরি করেন। এটি বাতাসের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে কাগজের মান উন্নত করতে সাহায্য করেছিল।
পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে ঘরবাড়িতে এসির ব্যবহার শুরু হয় এবং ১৯২৮ সালে টমাস মিগলি জুনিয়র 'ফ্রেয়ন' নামের একটি নিরাপদ রেফ্রিজারেন্ট আবিষ্কার করেন, যা এসির বাণিজ্যিক ব্যবহারকে আরও সহজ করে তোলে। ১৯৪৬ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে এসির চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপর থেকে বিভিন্ন ধরনের এসি যেমন পোর্টেবল এসি, স্প্লিট এসি, ইনভার্টার এসি ইত্যাদি আবিষ্কৃত হয়, যা আমাদের জীবনকে অনেক আরামদায়ক করেছে।
এসি কীভাবে কাজ করে?
একটি এসি মূলতঃ পদার্থবিজ্ঞানের সহজ নীতির উপর ভিত্তি করে কাজ করে। এটি ঘরের ভেতরের গরম বাতাস শোষণ করে এবং সেই বাতাস থেকে তাপ বের করে ঠান্ডা বাতাস ঘরে ফিরিয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কয়েকটি প্রধান অংশ কাজ করে:
১. রেফ্রিজারেন্ট (Refrigerant): এটি একটি বিশেষ তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ, যা সহজেই তরল থেকে গ্যাসে এবং গ্যাস থেকে তরলে রূপান্তরিত হতে পারে। এসি এই পদার্থটি ব্যবহার করে তাপ শোষণ করে এবং ছেড়ে দেয়।
২. কম্প্রেসর (Compressor): এটি এসির "হৃদপিণ্ড" বা "হার্ট" বলা যায়। এর কাজ হলো রেফ্রিজারেন্টকে সংকুচিত করা। কম্প্রেসর রেফ্রিজারেন্ট গ্যাসকে উচ্চ চাপে পরিণত করে, যার ফলে তার তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
৩. কনডেন্সার কয়েল (Condenser Coil): এটি এসির বাইরের অংশে (আউটডোর ইউনিট) থাকে। কম্প্রেসর থেকে আসা উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রার গ্যাস এই কয়েলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই কয়েলের চারপাশে একটি ফ্যান (Condenser Fan) বাইরের বাতাস টেনে নিয়ে আসে, যা গরম গ্যাসকে ঠান্ডা করে। ফলে গ্যাসটি তাপ ছেড়ে দিয়ে তরলে রূপান্তরিত হয়।
৪. এক্সপ্যানশন ভালভ (Expansion Valve): এটি একটি ছোট ভালভ, যা রেফ্রিজারেন্ট প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে। কনডেন্সার থেকে আসা উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রার তরল রেফ্রিজারেন্ট এই ভালভের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় এর চাপ হঠাৎ কমে যায়। এর ফলে এটি আবার গ্যাসে পরিণত হতে শুরু করে এবং এর তাপমাত্রা অনেক কমে যায়।
৫. ইভাপোরেটর কয়েল (Evaporator Coil): এটি এসির ভেতরের অংশে (ইনডোর ইউনিট) থাকে। এক্সপ্যানশন ভালভ থেকে আসা ঠান্ডা রেফ্রিজারেন্ট এই কয়েলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। ঘরের ভেতরের একটি ফ্যান (Blower Fan) ঘরের গরম বাতাস টেনে নিয়ে এই কয়েলের উপর দিয়ে প্রবাহিত করে। ঠান্ডা কয়েলের সংস্পর্শে এসে গরম বাতাস থেকে তাপ শোষিত হয় এবং বাতাস ঠান্ডা হয়। এই ঠান্ডা বাতাস আবার ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি চক্রাকারে চলতে থাকে। রেফ্রিজারেন্ট ঘরের ভেতর থেকে তাপ শোষণ করে বাইরে ছেড়ে দেয়, আর এই চক্রের মাধ্যমে ঘর ক্রমশ ঠান্ডা হতে থাকে।
Dhaka AC Cleaning 01999-698841