26/05/2025
বলা হয়ে থাকে কল্পনার স্বর্গে বাস করে বেকুবেরা।আবার নিজের কল্পনা বা চিন্তাকে কোনো ছাচে ফেলে ধরে বেধে রাখার চেষ্টা কেউ করলে তাকে নিসন্দেহে বলা যায় সংকীর্ণ গণ্ডির মানুষ।তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ায়? প্যারাডক্স? নিত্যনতুন এই প্যারাডক্সে ডুবছে ভাসছে সেপিয়েন্স।সে কখনো সাহসী ও সাবধানীর ভূমিকায়,কখনো বেকুব,কখনো ভাবুক। সে যাই হোক,কল্পনা করার ক্ষমতা সেপিয়েন্সের আদিম রোগ,সংক্রামক রোগ,পিছু ছাড়ে না কিছুতেই।কল্পনা করেই থেমে থাকে না,সেই কল্পনার একটা গতি করে দিতে চায় সে।নিত্যদিন ভেবে চলে,আবিষ্কারের নেশা তার নিউরনে,অস্থিমজ্জায়।খুটিয়ে খুটিয়ে যত আঙ্গিক থেকে দেখা যায় ততভাবে সে চেষ্টা করে তার মনে উকি দেওয়া প্রশ্নের উত্তর খোজার।যতক্ষণ উত্তর না মিলে ততক্ষণ ভাবনার তাড়না থেকে মুক্তি মিলে না।
যখন দেখি সাইন্স ফিকশনের দরজা ভেঙে বাস্তবে এসে হানা দেয় মানুষের করা অতীতের সব উদ্ভট কল্পনার সন্তানেরা,আশ্চর্য কি লাগে না? সৃষ্টি করার মহিমা অদ্ভুত আনন্দের আর গৌরবের।আবার একইসময়ে সমস্ত সৃষ্টি এক নিমিষে ধ্বংস করার দানবিক শক্তিও সেপিয়েন্সকে অস্থির করে তোলে।
ছবিটিতে যে কন্টাক্ট লেন্স দেখতে পাচ্ছেন এটা University Of Science And Technology of China এর গবেষকদের তৈরি করা ন্যানোপার্টিকেল মিশ্রিত সফট লেন্স যা Near-Infrared /Infrared রেডিয়েশনের 800-1600nm ওয়েভলেন্থ ডিটেক্ট করতে সক্ষম এবং এটাকে দৃশ্যমান আলোর ওয়েভলেন্থে (400-700nm)কনভার্ট করতে সক্ষম!হলিউডের সিনেমায় বা বাস্তবেও যে ব্যাটারি সাপোর্টেড ইনফ্রারেড গগলস ব্যাবহার করতে দেখা যায় তার মর্ডান ট্রান্সফরমেশন হচ্ছে এই নতুন আবিষ্কৃত কন্টাক্ট লেন্স।
সহজে বলি-নাইট ভিশন শব্দটির সাথে কি পরিচিত আমরা? হ্যা,অই যে ভ্যাম্পায়ার বাদুড়,নিশাচরদের রাতের চলাফেরা করার ক্ষমতা দেখে আমরা যারা আক্ষেপ করতাম তাদের ক্ষেত্রে এই লেন্স নাইট ভিশনের ক্যাপএবিলিটি দিব্যি দিতে পারবে।চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায় ও ইনফ্রারেড রেডিয়েশন লেন্সের মাধ্যমে কনভার্ট হয়ে দৃশ্যমান আলোতে ইমেজ তৈরি করতে পারবে।কি মনে হচ্ছে? সুপার হিউম্যান?🤓আসলে এখানে ব্যাপারটা হচ্ছে আমাদের চোখের পাতা বন্ধ করলে সেটা দৃশ্যমান আলোকে বাধা দিতে পারে কিন্তু ইনফ্রারেড এর মতো লং ওয়েভ লেন্থ আটকানো সম্ভব না।যাই হোক,এই প্রযুক্তিকে আরো উন্নত করতে পরবর্তীতে গবেষণা প্রয়োজন।
ডাক্তারদের সার্জারী তে এই লেন্স বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।ভারী গগলসের পরিবর্তে এটি অধিক সহজে ব্যাবহার করা যাবে।আলাদা চার্জ করার ও প্রয়োজন নাই।আবার যারা কালার ব্লাইন্ড তাদের ক্ষেত্রে ও কালার ডিটেকশন এর জন্য সুবিধা হবে।এছাড়াও মোর্স কোডের মত সিগন্যাল ডিটেক্ট করা যাবে, ডিরেকশন বোঝা যাবে।তবে গবেষকরা বলছেন তৈরীকৃত ইমেজ এর কোয়ালিটি এখনো তততা উন্নত না অর্থাৎ এই প্রযুক্তি নিয়ে আরো কাজ করার সুযোগ আছে।তাছাড়া শক্তিশালী ইনফ্রারেড সিগন্যাল না পেলে ফাংশন করতে ঝামেলা হয়।এই লেন্স তৈরির আগে প্রাথমিকভাবে কিছু ইদুরের রেটিনায় ব্যাবহৃত বিশেষ ন্যানো পার্টিকেল ব্যাবহার করে পরীক্ষা করা হয়েছিল।অন্ধকারে খাবার সন্ধান করতে গিয়ে ইনফ্রারেড ডিটেক্ট করে ক্ষতিকর বাক্স বাদ দিয়ে নিরাপদ বাক্স নির্বাচনে সক্ষম হয়েছিল এক্সপেরিমেন্টাল ইদুরগুলো।সাধারণ ইদুরের ক্ষেত্রে বাক্স নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্ব কাজ করে নাই।
বিজ্ঞান চর্চা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা