03/02/2026
এপস্টিন ফাইলস কী? আর এই জেফরী এপস্টিন বান্দাই বা কে? বেশ কিছুদিন ধরে সবখানে বহুল চর্চিত এই
জেফরী এপস্টিন হলো এক মার্কিন ধনকুবের, ফাইন্যান্সার। যার সাথে যোগাযোগ ছিলো বিশ্বের নামীদামী সব ব্যক্তিবর্গের। তবে তার আসল পরিচয়, সে ছিল একজন ঘৃণ্য আর সাজাপ্রাপ্ত চাইল্ড সেক্স ট্রাফিকার, এক সুবিশাল আন্ডারওয়ার্ল্ড ক্রাইম রিংয়ের হোতা।
২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বিশাল এক রেকর্ড উন্মুক্ত করেছে, যা পরিচিত পেয়েছে “এপস্টিন ফাইলস” নামে। প্রায় ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথিতে প্রায় ২ হাজার ভিডিও এবং ১ লাখের বেশি ছবি রয়েছে।
যেগুলো সব কিছু নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করতে যাওয়াও সম্ভব না, এতোটাই ডার্ক, সেনসেটিভ, কল্পনাতীত রকমের জঘন্য, বর্বর, ইনহিউম্যান অ্যাক্টস!
অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের রে*প, তাদের হত্যা করা, সেই সব শিশুদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ছিঁড়ে আলাদা করা থেকে শুরু করে তাদের শরীরের অঙ্গ বিশেষ খাবার হিসেবে গ্রহণ করা, লাইভ টর্চারে মানুষ হত্যা করা, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের জাস্ট বিকৃত এন্টারটেইনমেন্টের জন্য হত্যা... শুনলে হলিউডের বেশ কিছু হরর মুভির হাই প্রোফাইল গুপ্ত সংঘ, সিক্রেট কাল্টের সীন মাথায় আসছে না? অথচ এই সবের সাথে নাম জড়িয়ে আছে ট্রাম্প, ইলন মাস্ক, বিল গেটস, প্রিন্স অ্যান্ড্রু, জর্জ বুশ থেকে হালের মামদানির মা কীংবা মোদি থেকে দুনিয়াজোড়া খ্যাতিমান অসংখ্য মানুষের নাম জড়িয়ে আছে এই ইস্যুতে।
এপস্টিনের নিজের একটা আইল্যান্ড ছিল। সেই এপস্টিন আইল্যান্ডে আয়োজন করা হতে প্রাইভেট পার্টির। যেখানে ওই সব হাইপ্রোফাইল পেডো ফাইল/ক্যানিবাল/সাটানিক রিচুয়াল করা ক্লায়েন্টদের বাচ্চা সাপ্লাই থেকে শুরু করে যত রকম ইনসেইন ডার্ক ক্রাইম চালানো সম্ভব সব কিছুর এক হিউজ ক্রাইম রিং চালাতো জেফরি এপস্টিন!
ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্ট হলো, অসংখ্য ছবি আর ভিডিও লিক হলেও এদের কারো বিরূদ্ধেই কোন স্টেপ নেয়া হবে না কজ ওয়ার্ল্ড অর্ডার কন্ট্রোলই করে এরা! এই সব তথ্য রিভিল হওয়াটাই তো ইতিহাসের অন্যতম বিশাল এক এক্সপোজ ইনসিডেন্ট! কল্পনার বাইরের এক অন্ধকার দুনিয়া। সভ্যতার বুলি যেখানে ফাঁপা মিথ্যা ছাড়া কিছুই না।
এপস্টিন ফাইল এত সেনসিটিভ হওয়া সত্ত্বেও তা প্রকাশ পাওয়ার পেছনে মূল কারণ ছিল আইনি প্রক্রিয়া, ভুক্তভোগীদের মামলা, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং জনচাপের সম্মিলিত ফল। জেফরি এপস্টিনের মৃত্যুর পর তার সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের বিচার চলাকালে অনেক নথি আদালতে জমা পড়ে যেগুলো আগে সিল করা ছিল, কিন্তু ভুক্তভোগীরা যুক্তি দেন যে শিশু যৌন শোষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত সম্ভাব্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম জনস্বার্থে জানা জরুরি। ফলে নিউইয়র্কের আদালত আদেশ দেয় কিছু নথি আনসিল করে প্রকাশ করার, যেখানে ফোনলগ, ফ্লাইট রেকর্ড ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উচ্চারিত নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল—যেগুলো দোষ প্রমাণের তালিকা নয়, বরং যোগাযোগ ও সাক্ষ্যের রেকর্ড।
একই সঙ্গে বড় সংবাদমাধ্যম ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা Freedom of Information Act ও আদালতের নথির মাধ্যমে তথ্য বের করে আনে এবং জনমত তৈরি করে, আর কিছু অংশ বিভিন্ন সময়ে লিকও হয়। মার্কিন আইনি ব্যবস্থায় জনস্বার্থকে ব্যক্তিগত সুনামের চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির কারণে, শিশু পাচার ও যৌন শোষণের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রেক্ষাপটে এসব তথ্য গোপন রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, তাই এত স্পর্শকাতর হলেও এপস্টিন ফাইল শেষ পর্যন্ত প্রকাশের মুখ দেখে।
সব যদি প্রমাণ না ও হয়, যদি ১০০ এর মাঝে ৫ টাও সত্য হয় দেন দোজ আর এনাফ টু দ্য ট্রু ফেইস বিহাইন্ড দ্য মাস্ক অব সো কলড ওয়েস্টার্ন সিভিলাইজেশ্যন।।।