01/06/2026
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব Tarique Rahman নিকট খোলা চিঠি।
বিষয়: তামাক ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে বাস্তবভিত্তিক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
সম্প্রতি আপনি ঘোষণা দিয়েছেন, “তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।” আপনার এই অঙ্গীকার নিঃসন্দেহে দেশের কোটি মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং একটি সুস্থ, সচেতন ও উন্নত জাতি গঠনের লক্ষ্যে অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
তবে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, তামাক ও মাদক - দুইটি ভিন্ন সমস্যা হলেও বাস্তবে এদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও বিভিন্ন সরকারের পক্ষ থেকে তামাক ও মাদকবিরোধী বহু ঘোষণা শুনেছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ঘোষণা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত কার্যকারিতা দেখা যায়নি। ফলে সমস্যার মূল শিকড়ে আঘাত না করে কেবল প্রচারণা বা বক্তব্যের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশে বর্তমানে যে ভয়াবহ মাদক সমস্যা বিরাজ করছে, তার একটি বড় অংশ দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন সীমান্তপথে প্রবেশ করে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারির ঘাটতি, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতার কারণে মাদক সহজেই দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। সমাজে প্রচলিত একটি ধারণা হলো - এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে কখনো কখনো প্রভাবশালী ব্যক্তি, স্থানীয় রাজনৈতিক মহল কিংবা দায়িত্বশীল কিছু অসাধু কর্মকর্তার স্বার্থ জড়িয়ে থাকে। ফলে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হলেও সরবরাহের মূল উৎস অক্ষত থেকে যায়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মাদক নির্মূল করতে হলে সর্বপ্রথম মাদকের প্রবেশপথ বন্ধ করতে হবে। সীমান্ত এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, কঠোর জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। মাদক দেশের ভেতরে ঢোকার আগেই যদি তা প্রতিহত করা যায়, তবে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন কিংবা গ্রাম পর্যায়ে মাদক বিস্তার রোধ করা অনেক সহজ হবে।
একইসঙ্গে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি-
১. সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ।
২. মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।
৪. তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বৃদ্ধি করা।
৫. মাদকাসক্তদের জন্য কার্যকর পুনর্বাসন ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ।
৬. তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও সহজলভ্যতা কমিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
একটি জাতি তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার তরুণ সমাজ সুস্থ, সচেতন ও উৎপাদনশীল থাকে। আজ আমাদের দেশের হাজার হাজার পরিবার মাদক ও তামাকের ভয়াবহ প্রভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আপনার ঘোষণাটি যেন কেবল একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার না হয়ে বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা হয় - সেটিই দেশের মানুষের প্রত্যাশা। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে সীমান্ত সুরক্ষিত, মাদক প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত, তরুণ সমাজ নিরাপদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠে।
আপনার সফল নেতৃত্বে সেই বাংলাদেশ গড়ে উঠুক, এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
বিনীত,
একজন সচেতন নাগরিক
মোঃ শাহেদুর রহমান রাফি