07/07/2021
1) ট্রান্সফরমার কি এবং কিভাবে কাজ করে?
ট্রান্সফরমার একটি ইলেক্ট্রিক্যাল যন্ত্র যা পরিবর্তনশীল বিদ্যুতকে (Alternating current) এক ভোল্টেজ থেকে অন্য ভোল্টেজে রূপান্তরিত করে। ট্রান্সফরমার ‘উচ্চ-ধাপী’ (স্টেপ আপ) অথবা ‘নিম্ন-ধাপী’(স্টেপ ডাউন) দুই ধরনের হয়ে থাকে এবং এটি ম্যাগনেটিক ইণ্ডাকশন (Magnetic induction) নীতি অনুসারে কাজ করে। ট্রান্সফরমারে কোন চলমান/ঘূর্ণায়মান অংশ থাকে না, এটি সম্পূর্ণ স্থির ডিভাইস। এটির গঠন খুবই সাধারন, দুই বা ততোধিক অন্তরীত তামার তার একটি অন্তরীত ইস্পাতের অথবা লোহার কোরের (laminated steel/Iron core) গায়ে প্যাঁচানো থাকে। ট্রান্সফরমারে দুটি উইন্ডিং থাকে, প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উইন্ডিং । প্রাইমারি উইন্ডিয়ে ভোল্টেজ প্রদান করলে ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হয় এবং ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স আইরন কোরের মধ্য দিয়ে সেকেন্ডারি উইন্ডিয়ে যায় এবং সেখানে ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হয়। যার ফলশ্রুতিতে সেকেন্ডারি কয়েলে ভোল্টেজ পাওয়া যায়। ট্রান্সফরমারের ভোল্টেজ পরিবর্তনের হার প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচ সংখ্যার হারের উপর নির্ভর করে।
2) ট্যাপ (Tap) কি এবং কখন ব্যাবহার করা হয়?
উচ্চ বা নিম্ন ভোল্টেজ অবস্থার সংশোধন করতে এবং সেকেন্ডারি টার্মিনালে নির্ধারিত ভোল্টেজ আউটপুট দিতে, উচ্চ ভোল্টেজের কিছু ট্রান্সফরমারে ট্যাপ(Tap) প্রদান করা হয়। উচ্চ অথবা নিম্ন ভোল্টেজ, উভয় অবস্থায় সাধারণত দুই এবং একের অর্ধেক এবং নির্ধারিত প্রাইমারি ভোল্টেজ থেকে পাঁচ শতাংশ উপরে অথবা নিচে বিবেচনা করে ট্যাপ সেট করা হয়। উদাহরণস্বরূপঃ যদি কোন ট্রান্সফরমারের প্রাইমারিতে নির্ধারিত ভোল্টেজ ৪৮০ভোল্ট হয় এবং এটি লাইন ভোল্টেজ ৫০৪ ভোল্টে চলে তাহলে প্রাইমারিতে ট্যাপ স্বাভাবিকের থেকে ৫% উপরে দিতে হবে যাতে করে সেকেন্ডারিতে সঠিক ভোল্টেজ রেটিং বজায় রাখা যায়।
3)Insultaing, Isolating এবং Shielded Winding ট্রান্সফরমারের মধ্যে পার্থক্য কি?
ইনস্যুলেটিং (Insultaing) এবং আইসোলেটিং (Isolating) ট্রান্সফরমার একই। মূলত ট্রান্সফরমারের প্রাইমারী এবং সেকেন্ডারি উইন্ডিয়ের বিচ্ছিন্নতার (Isolation) অথবা দুটির অন্তরকের (Insultaing) বর্ণনার উদ্দেশ্যে এই শব্দ দুটি ব্যবহার করা হয়। Shielded Winding ট্রান্সফরমার ডিজাইন করা হয় প্রাইমারী এবং সেকেন্ডারি উইন্ডিং-এর মাঝে metallic shield (ধাতব ঢাল) দেয়া থাকে, যাতে করে এর নয়েজ হ্রাস পায়। সব দুই, তিন এবং চার উইন্ডিং বিশিষ্ট ট্রান্সফরমার ইনস্যুলেটিং বা আইসোলেটিং ধরনের হয়ে থাকে। শুধু অটো-ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উইন্ডিং একে অপরের সাথে ইলেক্ট্রিক্যালি যুক্ত থাকে, এতে কোন ইনস্যুলেটর বা আইসোলেটর থাকে না।
4) একটি ট্রান্সফরমারের নেমপ্লেটে প্রদত্ত ভোল্টেজ ব্যতীত অন্য কোন ভোল্টেজে কি ট্রান্সফরমার চালানো যেতে পারে?
কিছু কিছু ক্ষেত্রে ট্রান্সফরমার নেমপ্লেটে প্রদত্ত ভোল্টেজ অপেক্ষা কম ভোল্টেজে চালান যেতে পারে। যদি ট্যাপ প্রদান করা না হয়ে থাকে তাহলে ট্রান্সফরমার নেমপ্লেটে প্রদত্ত ভোল্টেজ অপেক্ষা বেশি ভোল্টেজে চালান উচিত নয়। যদি নির্ধারিত ভোল্টেজ অপেক্ষা কম ভোল্টেজে ট্রান্সফরমার চালান হয়, তাহলে এর KVA রেটিংও ক্রমান্বয়ে কমে যাবে। উদাহরণস্বরূপঃ যদি কোন ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি ভোল্টেজ ৪৮০ ভোল্ট ও সেকেন্ডারি ভোল্টেজ ২৪০ ভোল্ট হয়ে থাকে এবং এটি যদি ২৪০ ভোল্টে অপারেট করা হয় তাহলে সেকেন্ডারি ভোল্টেজ হ্রাস পেয়ে হবে ১২০ ভোল্ট। যদি ট্রান্সফরমারটির রেটিং ১০KVA হয়ে থাকে তাহলে সেটি হয়ে যাবে ৫ KVA অথবা প্রদত্ত ভোল্টেজের সমানুপাতিক হবে।
5) ট্রান্সফরমারের কর্মদক্ষতা বেশি হয়ে থাকে কেন?
ট্রান্সফরমার একটি স্ট্যাটিক ডিভাইস অর্থাৎ স্থির যন্ত্র। এতে কোন ঘূর্ণায়মান অংশ নেই, ফলে ঘর্ষণজনিত কোন ক্ষয় এতে নেই। অন্যান্য ঘূর্ণায়মান যন্ত্রের তুলনায় ট্রান্সফরমারে লস অনেক কম। তাই ট্রান্সফরমারের কর্মদক্ষতা সবচাইতে বেশি। ট্রান্সফরমারের কর্মদক্ষতা ৯৫%-৯৮% পর্যন্ত হয়ে থাকে।
6) ট্রান্সফরমার কি সমান্তরালে(parallel) সংযোগ দেয়া যেতে পারে?
সিঙ্গেল ফেজ ট্রান্সফরমার সমান্তরালে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তাদের ইম্পিড্যান্স এবং ভোল্টেজ সমান হতে হবে। যদি দুটি ট্রান্সফরমারের ভোল্টেজ সমান না হয়, তাহলে দুটি ট্রান্সফরমারের ক্লোজ নেটওয়ার্কে থাকা সার্কুলেটিং কারেন্টের কারনে মাত্রাতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হবে এবং ট্রান্সফরমারের জীবদ্দশা হ্রাস পাবে। এছাড়াও প্রত্যেক ট্রান্সফরমারের ইম্পিড্যান্স অবশ্যই ৭.৫% এর মধ্যে থাকতে হবে। উদাহরণস্বরূপঃ যদি ট্রান্সফরমার ‘A’-এর ইম্পিড্যান্স ৪% হয়ে থাকে এবং ট্রান্সফরমার ‘B’-কে সমান্তরালে সংযোগ দিতে B-এর ইম্পিড্যান্স ৩.৫% অথবা ৪% এর মধ্যে থাকতে হবে। থ্রি ফেজ ট্রান্সফরমার সমান্তরাল সংযোগের ক্ষেত্রে একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
7) ট্রান্সফরমারের কোরের লেমিনেশন/ইনসুলেশন কতটুকু পুরু হয়ে থাকে?
উত্তরঃ আসলে এই লেমিনেশন স্বাভাবিক ভাবে ০.৪মিমি থেকে ০.৫ মিমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে পাওয়ার লাইনে ব্যবহৃত অনেক ট্রান্সফরমারের লেমিনেশনের পুরুত্ব অনেক কম হয় (০.২ মিমি)।
8))একটি ট্রান্সফরমার কয়েল এর তার গুলো কি মানের হতে হবে?
উত্তরঃ একটি ট্রান্সফরমারের প্রাইমারী এমং সেকেন্ডারী কয়েল অনেক ভাল মানের অরিজিনাল কপার তার দিতে তৈরি করতে হবে।তাছাড়া এটার মধ্যে দিয়ে অতিরিক্ত রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়,ফলে ভোল্টেজ ড্রপ বেশি হয়,লসের পরিমাণ বেড়ে যায়।
প্রশ্নঃ অন লোড আর নো লোড কি?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের আউটপুটে যখন কোন লোড লাগানো থাকে না তখন তাকে বলে “নো লোড কন্ডিশন”। আর যদি আউটপুটে লোড বিদ্যমান থাকে তাহলে তাকে বলা হয় “লোডেড কন্ডিশন”।
09) টরোয়েড বা টরয়েড ট্রান্সফরমার কি?
উত্তরঃ এখন আমরা আলোচনা করবো নতুন দের বিশেস সেনসেশন টরোয়েড ট্রান্সফরমার নিয়ে। এই টরোয়েড বা টরয়েড ট্রান্সফরমার (Toroid transformer) মূলত একই নীতিতে কাজ করে থাকে। এর প্রকৃত নাম টরোয়ডাল বা টরওয়ডাল ট্রান্সফরমার। এর গোল বা রিং আকৃতির জন্য এই নাম দেয়া হয়েছে। ইংরেজি টরাস (Torus) শব্দের অর্থ গোলাকার রিং বিশেষ। আর এই টরাস শব্দটি থকেই টরোয়েড শব্দটি এসেছে।
10)ট্রান্সফরমার গরম হওয়ার কারন কি ?
উ : (a) ওভার লোড হওয়ার জন্য হতে পারে
(b) ইন্সুলেশন দুর্বল হয়ে গেলে
(c) কোথাও আর্থ হয়ে গেলে।
(d) ওভার ভোল্টেজ সাপ্লাইয়ের জন্য।
11) সিলিকা জেলের স্বাভাবিক রং কি রূপ থাকে ?
উ : ভাল অবস্থায় ধব ধবে সাদা, কিন্তু জলীয় বাস্প গ্রহন করলে কিছুটা বাদামী রং এর হয়ে যায়,আবার উত্তাপ দিলে ইহা সাদা হয়ে যায়।
12) ট্রান্সফরমার তৈলের কাজ কি ?
উ : ইহার প্রধান কাজ দুটি- প্রথমত ইহা ইন্সুলেশনের কাজ করে, দ্বিতীয়ত ট্রান্সফরমারকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্যে করে।
14) ব্রিদার কি ?
উ : ইহা ট্রান্সফরমারের কনজার্ভেটরের সহিত লাগানো থাকে, যার মাধ্যমে বাহির হতে ঠান্ডা বাতাস ফিল্টার হয়ে ট্যাংকে ঢুকে এবং গরম বাতাস ট্যাংক হতে বাহির হয়ে যায়।
15) বুকল্স রিলে কি ?
উ : ইহা এক প্রকার রিলে যাহা ট্রান্সফরমারেরট্যাংক ও কনজার্ভেটরের সংযোগকারী পাইপের মধ্যে বসানো থাকে এবং ট্রান্সফরমারের ভিতরে ত্রুটি দেখা দিলে সর্তক ঘন্টা বাজিয়ে থাকে।
16) গার্ড ওয়্যার কি ?
উ : ট্রান্সমিশন লাইনের নীচে ব্যবহ্নত তার, যাহা আর্থের সহিত সংযোগ থাকে।
17) জাম্পার কি ?
উ : মেইন লাইন হতে বাসা বাড়ীতে সাপ্লাই লাইনের সংযোগ রক্ষাকারী তার।
18) ডেম্পার ওয়্যাইন্ডিং কি ?
উ : সিনক্রোনাস মোটরকে র্স্টাট দেওয়ার জন্য ইহার পোলের উপর মোটা তারের ওয়্যাইন্ডিং দেওয়া হয় এবং ইহা অল্টারনেটরে ও ব্যবহ্নত হয় হান্টিং দোষ কমানোর জন্য।
19) সি.বি কি ?
উ : সার্কিট ব্রেকার যাহা ক্রটি পূর্ণ লাইনকে আপনা
আপনি র্সোস হতে বিচ্ছিন্ন করে।
20) এ.সি কে ডি.সি এবং ডি.সি কে এ.সি কি ভাবে
করা হয় ?
উ : এ.সি কে ডি.সি করা হয় রেকটিফায়ার ও
রোটারী কনভার্টার দ্বারা এবং ডি.সি কে এ.সি
করা হয় ইনভার্টার দ্বারা।
21)ট্রান্সফরমারের কোরের লেমিনেশন/ইনসুলেশন কতটুকু পুরু হয়ে থাকে?
আসলে এই লেমিনেশন স্বাভাবিক ভাবে ০.৪মিমি থেকে ০.৫ মিমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে পাওয়ার লাইনে ব্যবহৃত অনেক ট্রান্সফরমারের লেমিনেশনের পুরুত্ব অনেক কম হয় (০.২ মিমি)।
22) একটি ট্রান্সফরমার কয়েল এর তার গুলো কি মানের হতে হবে
উত্তরঃ একটি ট্রান্সফরমারের প্রাইমারী এমং সেকেন্ডারী কয়েল অনেক ভাল মানের অরিজিনাল কপার তার দিতে তৈরি করতে হবে।তাছাড়া এটার মধ্যে দিয়ে অতিরিক্ত রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়,ফলে ভোল্টেজ ড্রপ বেশি হয়,লসের পরিমাণ বেড়ে যায়।
23) অন লোড আর নো লোড কি?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের আউটপুটে যখন কোন লোড লাগানো থাকে না তখন তাকে বলে “নো লোড কন্ডিশন”। আর যদি আউটপুটে লোড বিদ্যমান থাকে তাহলে তাকে বলা হয় “লোডেড কন্ডিশন”।
24) টরোয়েড বা টরয়েড ট্রান্সফরমার কি?
উত্তরঃ এখন আমরা আলোচনা করবো নতুন দের বিশেস সেনসেশন টরোয়েড ট্রান্সফরমার নিয়ে। এই টরোয়েড বা টরয়েড ট্রান্সফরমার (Toroid transformer) মূলত একই নীতিতে কাজ করে থাকে। এর প্রকৃত নাম টরোয়ডাল বা টরওয়ডাল ট্রান্সফরমার। এর গোল বা রিং আকৃতির জন্য এই নাম দেয়া হয়েছে। ইংরেজি টরাস (Torus) শব্দের অর্থ গোলাকার রিং বিশেষ। আর এই টরাস শব্দটি থকেই টরোয়েড শব্দটি এসেছে।
25) ট্রান্সফরমার হামিং কি ?
উ : ট্রান্সফরমারের কোর এবং কয়েল কানেকশন যদি
মজবুত ভাবে না করা থাকে, লুজ কানেকশন থাকে
তাহলে ফুল লোড অবস্থায় কাঁপতে থাকে এবং এক
প্রকার আওয়াজ হয়, তাহাই হামিং।
26)ট্রান্সফরমার রেটিং 50/75MVA বলতে কি বুঝায়?
উত্তরঃ প্রাকৃতিক কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করেই ট্রান্সফরমার 50MVA লোড বহন করতে সক্ষম। কিন্তু কৃত্রিম কুলিং (এয়ার প্রেসার) ব্যবহার করে ট্রান্সফরমারের ক্ষমতা 75MVA পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যাবে।
27) ট্রান্সফর্মারের রেটিং অনুযায়ী কত পার্সেন্ট লোডে চালানো হয়?
উত্তরঃ বাংলাদেশে সাধারনত রেটেড পাওয়ারের ৮০-৯০% লোডে ট্রান্সফরমারকে চালানো হয়।
28) ONAN ও ONAF কি...?
উত্তরঃ ট্রান্সফর্মার কুলিং সিস্টেমের নাম। যদি কুলিং ফ্যানের মাধ্যমে বাতাসের চাপ দিয়ে ট্রান্সফরমার তেলকে ঠান্ডা রাখা হয়, তবে তাকে Oil Natural Air Force (ONAF) Cooling বলে। ফ্যান না চালিয়ে শুধুমাত্র ট্রান্সফরমার তেলের মাধ্যমেই ঠান্ডা রাখলে, তাকে Oil Natural Air Natural (ONAN) Cooling বলে। সাধারনত লোড কম থাকলে কুলিং ফ্যান চালানো হয় না, লোড বাড়লে চালাতে হয়। তাই একই ট্রান্সফরমার ONAN এবং ONAF, দুই মোডেই চালানো হয়।
29) ট্রান্সফরমারের ভোল্টেজ
রেগুলেশন কি?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের নো-লোড হতে ফুল
লোড ভোল্টেজের পার্থক্যকে ফুল লোড
ভোল্টেজ দ্বারা ভাগ করে একে শতকরা
হিসাবে প্রকাশ করাকেই ভোল্টেজ
রেগুলেশন বলে।
ভোল্টেজ রেগুলেশন, %VR = V – V /V x100
ভোল্টেজ রেগুলেশন এর মান যত কম হয় ততই
ভালো। ভোল্টেজ রেগুলেশন লোডের ধরনের
উপর নির্ভরশীল, যেমন- রেজিস্টিভ লোড
(হিটার, ইলেক্ট্রিক আয়রন, ল্যাম্প – ইউনিটি
পাওয়ার ফ্যাক্টর
ইন্ডাকটিভ লোড ( ইন্ডাকশন মোটর, চোক
কয়েল, ট্রান্সফরমার – ল্যাগিং পাওয়ার
ফ্যাক্টর)
ক্যাপাসিটিভ লোড ( ক্যাপাসিটর
সিনক্রোনাস কন্ডেনসার – লিডিং পাওয়ার
ফ্যাক্টর)
30) ট্রান্সফরমারে কোন ধরনের
লোডে ভোল্টেজ রেগুলেশনের মান
নেগেটিভ হয় এবং কেন?
উত্তরঃ ক্যাপাসিটিভ লোডের ক্ষেত্রে
ভোল্টেজ রেগুলেশনের মান নেগেটিভ হয়।
কারন এক্ষেত্রে কারেন্ট ভোল্টেজের ৯০৹
আগে থাকে।
31) ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমারের
প্রাইমারিতে ডেল্টা ও সেকেন্ডারিতে
স্টার সংযোগ থাকে কেন?
উত্তরঃ প্রাইমারি হাই সাইড থেকে
সেকেন্ডারি লো সাইডে গ্রাহকদের সরবরাহ
দেয়া হয়। এক্ষেত্রে ডেল্টা/স্টার সংযোগ
উপযোগী কারন, তিন ফেজ চার তার ব্যবস্থা
একমাত্র স্টার সংযোগে পাওয়া যায়। তাহলে
গ্রাহকদের প্রয়োজনে তিন ফেজ ও সিঙ্গেল
ফেজ উভয় সরবরাহ দেয়া যাবে।
32) ট্রান্সফরমারের দক্ষতা কাকে
বলে? সর্বোচ্চ দক্ষতার শর্ত কি?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের আউটপুট ও ইনপুট
পাওয়ারের অনুপাতকেই দক্ষতা বলে। কোন
ঘূর্ণন অংশ না থাকায় অন্যান্য সকল
ইলেকট্রিক্যাল মেশিনের চেয়ে
ট্রান্সফরমারের দক্ষতা অনেক বেশি প্রায়
৯৫% থেকে ৯৯% পর্যন্ত।
কোর লস = কপার লস হলে সরবচ্চ দক্ষতা হয়।
33) ট্রান্সফরমারে অয়েল (তৈল) এর
কাজ কি? অয়েল এর ফ্লাশ পয়েন্ট ও
ফায়ার পয়েন্ট বলতে কি বুঝায়?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারকে ঠাণ্ডা রাখা ও
ইন্সুলেশন হিসাবে কাজ করে ট্রান্সফরমার
অয়েল।
যে তাপমাত্রায় তৈলের বাস্পে আগুন ধরে
যায় তাকে ফ্লাশ পয়েন্ট (এই তাপমাত্রা
১৬০ C এর নিচে হওয়া ঠিক নয়) আর যে
তাপমাত্রায় ট্রান্সফরমারের তৈলে আগুন
ধরে যায় তাকে ফায়ার পয়েন্ট (এই
তাপমাত্রা ২০০ C এর নিচে হওয়া ঠিক নয়
বলে।
34) ট্রান্সফরমারের স্লাজিং কি?
উত্তরঃ ট্রান্সফরমারের তৈল বাতাসের
সংস্পর্শে এসে এলে অক্সিজেনের সাথে
বিক্রিয়া করে তেলের অনু ভেঙ্গে গাঁদ বা
তলানি সৃষ্টি হয়, একে ট্রান্সফরমারের
স্লাজিং বলে।
35) পোলারিটি না জেনে ট্রান্সফরমারের প্যারালেল অপারেশন করা হলে কি কি সমস্যা হবে?
যখন ৩ ফেজ ট্রান্সফরমার ব্যবহার না করে ৩টা ১ ফেজ ট্রান্সফরমার ব্যবহার করার মাধ্যমে ৩ ফেজ সাপ্লায় দেয়া হয় তাকে ট্রান্সফরমারের ব্যাংকিং পদ্ধতি বলা হয় । অর্থাৎ ১ ফেজ ট্রান্সফরমারের সাহায্যে ৩ ফেজ সাপ্লায় বাবস্থাকে ট্রান্সফরমার ব্যাংকিং বলে ।
36) ট্রান্সফরমারের ব্যাংকিং করার শর্ত কি কি?
১। সংযোগ দেয়া প্রত্যেকটা ট্রান্সফরমারের Kva রেটিং অবশ্যই এক থাকতে হবে ।
২। ট্রান্সফরমার তিনটার ভোল্টেজ রেটিং সমান হতে হবে ।
৩। ট্রান্সফরমারগুলো সঠিক পোলারিটি মতো সংযোগ করতে হবে ।
37) ট্রান্সফরমারের ব্যাংকিং কতো প্রকার এবং কি কি ?
ট্রান্সফরমারের ব্যাংকিং সাধারনত ছয় প্রকার হয়ে থাকে, সেগুলো হলো:
১। ডেল্টা – ডেল্টা কানেকশন ।
২। স্টার – স্টার কানেকশন
৩। স্টার – ডেল্টা কানেকশন
৪। ডেল্টা – স্টার কানেকশন
৫। (V-V) অথবা ওপেন ডেল্টা কানেকশন ।
৬। T – T কানেকশন ।
38) আইডিয়াল ট্রান্সফরমার কাকে বলে ?
যে ট্রান্সফরমারের কোন প্রকার পাওয়ার লস নেই তাকে আইডিয়াল ট্রান্সফরমার বলা হয়, একে আদর্শ ট্রান্সফরমারও বলা হয়ে থাকে । এর মানে হচ্ছে আমরা ইনপুট এবং আউটপুটে সমান পাওয়ার পাব । ইনপুটে যদি ১০০ KW দেয়া হয় তাহলে আউটপুটেও ১০০ KW পাব । যদিও বাস্তবে পাওয়ার লস হয়না এমন কোন মাশিন নেই, কিন্তু এই ট্রান্সফরমারে পাওয়ার লস খুবই কম তাই একে আইডিয়াল ট্রান্সফরমার বলা হয় ।
39) আইডিয়াল ট্রান্সফরমারের বৈশিষ্ট্য কি কি ?
১। আইডিয়াল ট্রান্সফরমারের অয়ান্ডিং রেজিস্টান্স খুব কম হবে ।
২। আইডিয়াল ট্রান্সফরমারের করে লস থাকা যাবেনা
৩। কোন লিকেজ ফ্লাক্স থাকা যাবেনা ।
৪। আইডিয়াল ট্রান্সফরমারের কোরের পারমিটিভিটি অনেক উচ্চমানের হবে ।
40) ট্রান্সফরমেশন রেশিও বলতে কি বোঝায়?
একটি ট্রান্সফরমারের দুইদিকের ইন্ডিউসড কারেন্ট এবং ভোল্টেজ ও কয়েলে যে প্যাচ থাকে সেটার সাথে নির্দিষ্ট একটা অনুপাত অনুযায়ী হয়ে থাকে এই অনুপাকেই টার্ন রেশিও অথবা ট্রান্সফরমেশন রেশিও বলা হয় । ট্রান্সফরমেশন রেশিওকে a দ্বারা প্রকাশ করা হয়ে থাকে, তাই a=E/E=I/I=N/N এভাবে রেশিও বোঝানো হয়।
41) কোন ট্রান্সফরমার স্টেপ ডাউন নাকি স্টেপ আপ সেটা বোঝার সহজ উপায় কোনটা ?
এইখানে খুব সহজে কোন ট্রান্সফরমারের স্টেপ ডাউন নাকি স্টেপ আপ বের করা যায় ।
কোন ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি সাইডের থেকে যদি সেকেন্ডারি সাইডে প্যাঁচের সংখ্যা কম হয় তখন সেই ট্রান্সফরমারকে স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার বলা হয় ।
আবার, যখন কোন ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি সাইডের থেকে যদি সেকেন্ডারি সাইডে প্যাঁচের সংখ্যা বেশি থাকে তখন সেই ট্রান্সফরমারকে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার বলে ।
তাই বলা যায় কয়েলের প্যাঁচের সংখ্যা দেখেই আমরা খুব সহজে কোন ট্রান্সফরমারের স্টেপ ডাউন নাকি স্টেপ আপ অবস্থা বুঝতে পারি ।