04/06/2026
Fahmida Islam Runa
প্রিয় খুকুমণি আপুর ওয়াল থেকে চুরি করলাম❤️❤️
" স্বরন করি বাধি ডোরে আপন মনে "
আদমজীর বড় রাস্তা, মেইন রাস্তার দুই পাশে বড় বড় কড়ুই গাছ। মিলের বাউন্ডারির বাহিরে, কিন্তু আর এক বাউন্ডারির ভিতরে। মন মুগ্ধকর, স্নিগ্ধ শান্ত সমাহিত তার রুপ। এইজন্য বোধহয় খুব ছোটবেলায় এই রাস্তা ধরে হারাতে চলেছিলাম। তাই বড় হয়ে আর হাটা হয়নি। এখন ভাবি কেন রিকশায় চড়ে বাস ইস্টপে যেতাম। হাটলে বেশ হত। কিন্তু বাস্তবতা হাটা হয়নি, প্রয়োজনের কারনে সম্বব ছিল না। আজ কল্পনায় ভাসি,জানি
স্বপ্নের পোলাওয়ে ঘি এর অভাব হয় না। তবে সেটা এক সময়ের বাস্তবতা ছিল। তাই অনুভূতি জাগায় অনুরন। রাতে নিয়ন লাইটের আলোতে হাটলে কাপড়ের রং পরিবর্তন হত।বেশ উপভোগ্য ছিল তা। কার কাপড় কেমন হয়েছে এইটা দেখাতাম। বাসায় মেহমান এলে রাতে থাকলে বেড়াতে যেতাম নদীর পার জেটিতে বসতাম। এক অসাধারণ অনুভূতি। সবাই মিলে উপোভগ করা। আজ আর সেই নাই। জীবন এখন নিজের মত করে উপভোগ্য। সবাই মিলে না।
ছুটির দিনে মিলের কেরিয়ার গুলি রেললাইন এর মত পথ গুলিতে থাকত। আমরা আট নয়জন ঠেলে বসে পরতাম উন্মুক্ত রেল বহু দূর পর্যন্ত যেত। কি নিশ্চিত নির্ভার এক শৈশব কাটিয়েছি। এখনকার শিশুদের জীবন দেখলে মায়া লাগে। কি কঠিন জীবন।
মশার ঔষধ দেওয়া হত ড্রেন গুলিতে। হোস পাইপ দিয়ে ভো ভো আওয়াজ তুলে। তো একবার এইরকম করে মশার ঔষধ দিয়ে গেল। ড্রেনে অনেক তেলাপোকা মরে যায় তাতে। রোজীদের মুরগী এইরকম কিছু তেলাপোকা খেয়ে খাবী খাচ্ছিলো। ভরসা হল তেতুলগোলা খাওয়াতে হবে। বাসায় তেতুল নাই। রোজী বলল চল তেতুল কিনে আনি। ভো দৌড় বাজারে। বাজার তো বেশ দূরে। আকাশ কালো ছিল। তেতুল কিনার পর মুষলধারে বৃষ্টি ফিরতি পথে। রোজী এক গাছের নীচে, আর আমি এক গাছের নীচে। অপেক্ষা বৃষ্টি থামার। কিন্তু একলোক আমাকে বলল এই খুকি ভিজছো কেন?
রোজী ভয় পেয়ে গেলে নিশ্চয় ছেলে ধরা তোর নাম জানল কেমনে। চল দৌড় দেই। তারপর ভো দৌড়ে রাস্তা পার। তখন তো জানা ছিল না ছোটমেয়ে হলে খুকী আর আর ছোট ছেলে হলে খোকা ডাকে। এটাই স্বাভাবিক ছিল।
এখন অনেক কিছু হয়তো জানি, সাথে জীবন যে সহজ নয় তাও। জীবনের মুগ্ধতা চলে গেছে, কঠিন বাস্তবতা প্রতিদিন তার পাপড়ি মেলে ধরে ভিন্ন ভিন্ন রুপে। আর আসে না সেই সহজাত সহজতা। তারপর ও সেই সহজতা ভুলি কি করে।
খুকুমণি আপু