07/10/2026
যৌথ মালিকানাধীন বা এজমালি জমিতে ভবন নির্মাণ করার আগে আইনি, আর্থিক এবং পারস্পরিক সম্পর্কের জটিলতা এড়াতে কিছু বিষয়ে স্পষ্ট চুক্তি ও সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
যৌথ মালিকানায় ভবন নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ
• লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত চুক্তি: সকল সহ-মালিকদের মধ্যে ফ্ল্যাট বা অংশের ভাগ-বাটোয়ারা, খরচের অনুপাত এবং মালিকানা নিয়ে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্পষ্ট এবং রেজিস্ট্রিকৃত চুক্তি বা দলিল করে নেওয়া আবশ্যক।
• মালিকানা ও জমির কাগজপত্র যাচাই: জমির খতিয়ান, নামজারি (মিউটেশন), সিএস, এসএ, আরএস ও বিএস পর্চা এবং বায়েজিদ বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত মালিকানার দলিল সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ও আপডেট আছে কি না তা যাচাই করা।
• খরচ ও বিনিয়োগের হিসাব: নির্মাণ কাজ শুরু করার আগে কার কতটুকু অংশ বা কার কি পরিমাণ আর্থিক অবদান থাকবে, তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নির্ধারণ করা এবং প্রতি কিস্তির টাকা সময়মতো দেওয়ার নিয়ম ঠিক করা।
• ফ্ল্যাট বা অংশ বণ্টন: ভবনের কোন তলা বা কোন ফ্ল্যাট কোন মালিক পাবেন, তা নিয়ে আগে থেকেই লটারি বা সমঝোতার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা।
• আইন ও রাজউক/পৌরসভার অনুমোদন: ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যেমন পৌরসভা, জেলা পরিষদ বা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নিয়ম মেনে নকশা পাস করানো এবং সেটব্যাক রুল (ফাঁকা জায়গা রাখার নিয়ম) মেনে চলা।
• যৌথ ও ব্যক্তিগত জায়গার সংজ্ঞা: নিচতলার গ্যারেজ, ছাদ, সিঁড়ি, লিফট বা উঠানের মতো যৌথ জায়গাগুলো কীভাবে ব্যবহৃত ও রক্ষণাবেক্ষণ হবে, তা পরিষ্কার করে নির্ধারণ করা।
• ভবিষ্যতের বিরোধ নিষ্পত্তি: কাজ চলাকালীন বা নির্মাণ শেষে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা কীভাবে সালিশ বা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে, তার শর্ত চুক্তিতে রাখা।
Engr Bulbul Ahmed Papon