31/12/2024
⏲
' টাইম মেশিন ' এর ব্যপারে তো আমরা সকলেই জানি ! সাই-ফাই গল্প,উপন্যাস কিংবা সিনেমা-কার্টুন, সবখানেই এই টাইম মেশিন এর ব্যবহার অহরহ ! তবে, বাস্তবে টাইম মেশিন ব্যবহার করে অতীতে যোগাযোগ সম্ভব না হলেও, ভবিষ্যতের সাথে যোগাযোগ করার উপায় কিন্তু রয়েছে !! আর তা হলো টাইম ক্যাপসুল 💊
টাইম ক্যাপসুলঃ টাইম ক্যাপসুল হচ্ছে বিশেষ ধরনের তথ্য ও উপাদানের সংরক্ষণ, যার মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্মের উদ্দেশ্যে কোনো তথ্য, চিঠি, ছবি, দলিল এবং অন্যান্য উপাদান মাটির গভীরে বা নিরাপদ কোনো স্থানে সংরক্ষণ করা হয় । অর্থ্যাৎ, টাইম ক্যাপসুলের মাধ্যমে ভবিষ্যতের মানুষকে বর্তমান সময়ের কোনো ঘটনা, তথ্য, উপাত্ত, বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে জানানো সম্ভব হয় ।
একারণে ভবিষ্যতের ইতিহাসবিদ-প্রত্নতত্ত্ববিদদের জন্য নির্ভরযোগ্য নিদর্শন হতে পারে টাইম ক্যাপসুল । পৃথিবীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরণের টাইম ক্যাপসুল আবিস্কৃত হয়েছে , আবার প্রতিনিয়তই নতুন নতুন টাইম ক্যাপসুল সংরক্ষণ করা হচ্ছে ।
⏱
ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ারে ২০২১ সালে ১৪৫ বছরের পুরনো একটি টাইম ক্যাপসুল পাওয়া যায়, যেখানে ১৮৭৬ সালের সময়কার সংবাদ-প্ত্রিকা ও মুদ্রা সংরক্ষণ করা ছিলো ।
১৯৩৭ সালে যুক্তরাষ্টের ওগলিথ্রোপ বিশ্ববিদ্যালয়ে "দ্য ক্রিপ্ট অফ সিভিলাইজেশন" নামক একটি ব্যতিক্রমধর্মী টাইম ক্যাপসুল সংরক্ষণ করা হয়। যা, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনের পুরো নিচতলায় নানা ধরনের বই, পানীয় ও একসেট লিনকন লগ সংরক্ষন করে পুরো ভবনকে স্টিল দ্বারা ঝালাই করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। মজার ব্যাপার হলো, এই টাইম ক্যাপসুল উন্মোচনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১১৩ খ্রিষ্টাব্দ । অর্থ্যাৎ, আজ থেকে প্রায় ৬১৯০ বছর পর এটি উন্মোচন করা হবে !!
⏲
টাইম ক্যাপসুল যে কেউ চাইলে সহজেই তৈরি করতে পারে। আবার, টাইম ক্যাপসুলের জন্য ইচ্ছেমতো সময়ও নির্ধারণ করে দেয়া যায় । সাধারনত, ২৫-১৫০ বছরের জন্য ব্যক্তিগত টাইম ক্যাপসুল তৈরি করা হয়। টাইম ক্যাপসুল তৈরির জন্য শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী পাত্র যেমনঃ প্লাস্টিকের পাত্র, কাঠের বাক্স, ধাতব ক্যান বা স্টিলের কোনো বাক্স ইত্যাদি ব্যবহার করা যায় । পাত্রে সকল জিনিসপত্র রাখা শেষে পানি যেন না ঢোকে , এজন্য পাত্রের ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ করে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে তারপর সংরক্ষণ করতে হবে ।
টাইম ক্যাপসুলে বিভিন্ন উপাদান রাখা যেতে পারে, যেমনঃ
- প্রিয় বই বা ম্যাগাজিন 📚
- চিঠি-পত্র
- সংবাদ-পত্রিকা
- নিজ বা পরিবারের ছবি 📷
- ব্যবহৃত খেলনা, উপাদান , জুতা , পোশাক
- শিল্পকর্ম
- ধাতব মুদ্রা বা কাগজের নোট
ইত্যাদি । মাটি খুঁড়ে , ভবনের দেয়ালে, গাছের কোটরে বা বাগানে ইত্যাদি স্থানে টাইম ক্যাপসুল সংরক্ষণ করা যায় ।
টাইম ক্যাপসুল কেবল পৃথিবীতে নয়, এমনকি মহাকাশেও তা সংরক্ষণ করা হয়েছে !! ( ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড, অ্যাপোলো ১১ )
⏰
চাইলে আমরা নিজেরাও কিন্তু টাইম ক্যাপসুল তৈরি করতে পারি । ২০২৪ সাল খুব শীঘ্রই বিদায় নিবে। আর ২০২৪ সাল নানা কারণে বিশেষ ভাবে স্মরণীয় ! তাই, ভবিষ্যতের জন্য ২০২৪ সালে আমাদের স্মরনীয় মুহূর্তগুলোকে আমরা টাইম ক্যাপসুলে সংরক্ষণ করে রাখতে পারি !!
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট, উইকিপিডিয়া, ব্যাপন ।