14/07/2026
মাদারীপুর প্রতিনিধি: সংসার ও স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে স্বামীর বাড়িতে আমরণ অনশনে বসেছেন রানী আক্তার নামের এক গৃহবধূ। মাদারীপুর সদর উপজেলায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি এখন স্থানীয় এলাকাবাসীর মুখে মুখে। স্ত্রীর অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অনড় ওই তরুণীর অনশনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।
নেপথ্যের গল্প: প্রেম, বিয়ে ও অপেক্ষা
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে রানীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে স্বপন নামের এক যুবকের। রানী আক্তারের আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। তবে স্বপনের প্রতি ভালোবাসার টানে এবং তার দেওয়া সুন্দর ভবিষ্যতের আশ্বাসে রানী তার প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স (তালাক) দেন। এরপর পারিবারিকভাবে নয়, বরং নিজেদের পছন্দে স্বপনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
বিয়ের পর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ দুটি বছর। এই দীর্ঘ সময়েও স্বপন রানীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেননি বা স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তোলেননি। রানী যখনই তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিংবা বিয়ের বিষয়টি স্বপনের পরিবারকে জানানোর জন্য চাপ দিতেন, তখনই স্বপন নানা অজুহাত দেখাতেন। পারিবারিক সমস্যা, উপযুক্ত সময় কিংবা অন্য কোনো কৌশলী কারণ দেখিয়ে স্বপন বলতেন— "এখনই পরিবারকে জানানো যাবে না, কিছুদিন পর সব ঠিক করে তোমাকে ঘরে তুলে নেব।" সরল বিশ্বাসে স্বামীর এই প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে দিনের পর দিন অপেক্ষা করে গেছেন রানী।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও অনশন
হঠাৎ করেই স্বপনের আচরণে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। কিছুদিন আগে থেকে তিনি রানীর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ফোন বন্ধ রাখা, দেখা না করা এবং এড়িয়ে চলায় রানী বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হতে যাচ্ছেন। কোনো উপায় না দেখে অবশেষে নিজের অধিকার আদায়ের শেষ চেষ্টা হিসেবে মাদারীপুর সদর উপজেলায় অবস্থিত স্বপনের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন রানী। সেখানে তিনি স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশনে বসেন।
অনশনরত রানী আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে সাংবাদিকদের বলেন:
"স্বপন আমাকে ভালোবাসার নাটক করে আমার প্রথম সংসার ভেঙেছে। দুই বছর আগে ও আমাকে বিয়ে করেছে, অথচ আজ আমাকে চেনে না। ও যদি আমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিয়ে ঘরে না তোলে, তবে আমার আর বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই। ও আমাকে স্বীকার না করলে আমি এখানেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করব।"
এলাকায় চাঞ্চল্য ও গুঞ্জন
তরুণীর এই অনশনের খবর মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্বপনের বাড়ির সামনে উৎসুক প্রতিবেশীদের ভিড় জমতে শুরু করেছে। অনেকেই স্বপনের এই প্রতারণামূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন এবং রানী যেন তার আইনি ও সামাজিক অধিকার ফিরে পান, সেই দাবি তুলছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বপন ও তার পরিবারের অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি মীমাংসা করার এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে নিজের দাবিতে অনড় রানী আক্তার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— স্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।