28/08/2025
কারিগরি বা কর্মমুখী শিক্ষা একটি দেশকে দ্রুত বেকারত্ব থেকে মুক্তির শিক্ষা ব্যবস্থা। যে দেশ যত উন্নত সেই দেশ তত বেশি কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত। দ্রুত উন্নয়নে রেখে চলেছে তার অবদান। যেমন যুদ্ধ বিদ্ধস্ত জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা দ্রুত উন্নতি করা সিঙ্গাপুরসহ বিশ্ব দরবারে যারা প্রযুক্তির অবদান রেখে চলছে, তাদের গড় কারিগরি শিক্ষার হার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ।
আমাদের দেশে কারিগরি শিক্ষা এখনো সে অর্থে বিকশিত হতে পারেনি। এ কারণে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতের হার ১০ থেকে ১২ শতাংশ। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট হতে পাসকৃত ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সবাই কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন গ্রাজুয়েট। কিন্তু এই দুই শ্রেণির মধ্যে কাজের ধরণে রয়েছে পার্থক্য। কিন্তু সবাই তো দেশের জন্যই নিবেদিত। বর্তমানে সরকারের মোট পদসংখ্যা ২২ লক্ষ। এর মধ্যে অতি ক্ষুদ্র একটি অংশে ১০ম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে চাকুরির সুযোগ রয়েছে পলিটেকনিক গ্রাজুয়েটদের এবং তাদের শ্রমিকের হাতে হাত রেখে কাজ করতে হয়।
পক্ষান্তরে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারগণ প্লানিং ডিজাইনিং অর্থাৎ বৃহৎ পরিকল্পনা করে বাস্তবায়নের জন্য পলিটেকনিক গ্রাজুয়েটদের হাতে ছেড়ে দেয় এবং এজন্যই পলিটেকনিক গ্রাজুয়েটদের বলা হয় মিড লেভেল ইঞ্জিনিয়ার।
এখন প্রশ্ন দাড়ায়, একজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার তৈরিতে সরকার যত টাকা ভর্তুকী দেয়, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার তৈরিতে সরকার সমান ভর্তুকী দেয় না এবং এ জন্যই আজও আমাদের সমাজে পলিটেকনিক একটি অবহেলিত নাম। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, তারা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। মা বাবার স্বপ্ন থাকে তাদের সন্তান পলিটেকনিক থেকে পাশ করে ১০ গ্রেডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকরির সুযোগ পাবে।
আগেই বর্ণনা করেছি যে, দশম গ্রেডের উপসহকারী পদের কর্ম পরিধি অনুযায়ী এই পদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ যুক্তিযুক্ত। উপসহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের সুযোগ থাকলে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার তৈরিতে সরকার যে ভর্তুর্কী প্রদান করে তা অসম হবে কেন? প্রতিযোগিতার সময় সমান সুযোগ আশা করবেন আর আমাদের মত গরীব দেশের সিংহভাগ ভর্তুকী নিয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার হবেন তাও কি যুক্তিযুক্ত? বরং ডিপ্লোমা ছাত্রদের ভবিষ্যত সংকুচিত করে আমরা কার লাভ বা ক্ষতি করছি? দশম গ্রেডের উপ-সহকারী পদে ডিপ্লোমা ছাত্রদের চাকরির সুযোগ সংকুচিত হলে মা বাবা সন্তানদের পলিটেকনিকে পড়াতে চাইবেন না। ফলে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিতের হার কমবে, বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার নিম্ন পদে চাকরি করলে হীনমন্যতায় ভুগতে হয়। তাই, কারিগরি শিক্ষার হার বৃদ্ধির লক্ষে দশম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে শিক্ষাগত যোগ্যতার অনুযায়ী ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নিয়োগ হওয়া উচিত এতে ভর্তুকী এবং সে অনুযায়ী দেশের কল্যাণ দুটোই সমন্নত থাকবে।
এসবের মধ্যে দেশ ধ্বংসের খেলায় মেতেছেন কতিপয় অতি প্রতিক্রিয়াশীল একটি মহল _ যারা দেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র হতে দিতে চায় না।
আসুন সকল কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত জনরা মিলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেই বলে শপথ করি এবং ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে যার যা আছে তাই দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেই।
আবু হামেদ মোঃ জাকারিয়া শাহীদ
অধ্যক্ষ (অতিঃ দায়িত্ব )
রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট