Rakib Ahmed

Rakib Ahmed Assalamualaikum, I am Md Rakib Ahmed. I am a Diploma in Electrical Engineer. You all will follow the page. Thanks everyone.
(7)

On this page of mine, current events and various engineering topics will be discussed and shared, Inshallah.

20/08/2026

#তুমি_ছিলে_আমার_গল্পে
Rakib Ahmed

অধ্যায় ১: দুই বন্ধুর অটুট বন্ধন

ভোরের প্রথম আলো তখন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। গ্রামের মসজিদ থেকে ভেসে আসা ফজরের আজান, শিশিরভেজা সবুজ ঘাস আর পাখিদের কিচিরমিচির ডাক যেন প্রকৃতিকে এক অনন্য সৌন্দর্যে সাজিয়ে তুলেছে। এমনই এক শান্ত গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন দুই বন্ধু—জলিল ও আব্দুল্লাহ।

একই পাড়ায় জন্ম, একই স্কুলে পড়াশোনা, একই মাঠে খেলাধুলা আর একই স্বপ্ন নিয়ে বড় হওয়া—তাদের বন্ধুত্ব ছিল রক্তের সম্পর্কের চেয়েও গভীর। গ্রামের মানুষ মজা করে বলত, “একজনকে দেখলে আরেকজনকে খুঁজতে হয় না, কারণ তারা সব সময় একসঙ্গেই থাকে।”

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবন বদলাতে শুরু করল।

জলিল ছোট একটি ব্যবসা শুরু করলেন। খুব বড় কিছু নয়, বাজারের এক কোণে কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান। আয় কম হলেও সৎভাবে চলতেন তিনি। স্ত্রী আর দুই ছোট্ট মেয়ে অদিতি ও জান্নাতকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসারে অভাব থাকলেও ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না।

অন্যদিকে আব্দুল্লাহ স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ, ভদ্র ও ধর্মপরায়ণ মানুষ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন, মিথ্যা কথা বলতেন না, অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করতেন না। গ্রামের মানুষ তাকে শুধু শিক্ষক নয়, একজন আদর্শ মানুষ হিসেবেও সম্মান করত।

আব্দুল্লাহর সংসারও ছিল ছোট্ট। স্ত্রী আর একমাত্র ছেলে আদনানকে নিয়েই তার পৃথিবী। আদনানের বয়স তখন মাত্র চার বছর। চঞ্চল হলেও ছেলেটি ভীষণ ভদ্র ছিল। স্কুল থেকে ফিরে আব্দুল্লাহ তাকে কোলে বসিয়ে গল্প শোনাতেন, কখনো অক্ষর শেখাতেন, কখনো আবার গ্রামের মাঠে হাঁটতে নিয়ে যেতেন।

প্রতিদিন বিকেলে স্কুল ছুটি হলে আব্দুল্লাহ বাজারে এসে জলিলের দোকানে বসতেন। দোকানের সামনে একটি পুরোনো কাঠের বেঞ্চ ছিল। সেখানে বসে দুজন গরম চা খেতে খেতে জীবনের নানা গল্প করতেন।

একদিন আব্দুল্লাহ হেসে বললেন,

“জলিল, মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ কী জানিস?”

জলিল হেসে উত্তর দিলেন,

“টাকা?”

“না।”

“তাহলে জমি?”

আব্দুল্লাহ মাথা নেড়ে বললেন,

“মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো একজন সত্যিকারের বন্ধু। টাকা হারালে ফিরে পাওয়া যায়, কিন্তু প্রকৃত বন্ধু হারালে সেই শূন্যতা আর পূরণ হয় না।”

জলিল মুচকি হেসে বন্ধুর দিকে তাকিয়ে বললেন,

“তাহলে আমি তো অনেক ধনী। কারণ তোর মতো বন্ধু আমার আছে।”

দুজনেই হেসে উঠলেন।

কিন্তু সুখের দিন চিরকাল থাকে না।

হঠাৎ করেই বাজারের অবস্থা খারাপ হতে শুরু করল। জলিলের ব্যবসায় বিক্রি কমে গেল। ধারদেনা বাড়তে লাগল। একসময় এমন অবস্থা হলো যে দোকানের কর্মচারীদের বেতন দিতেও তাকে কষ্ট করতে হচ্ছিল।

রাতে বাড়ি ফিরে তিনি স্ত্রীর সামনে হাসিমুখে থাকার চেষ্টা করতেন, কিন্তু ভেতরে ভেতরে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়ছিলেন।

একদিন বিকেলে দোকান বন্ধ করে চুপচাপ বসে ছিলেন তিনি। মুখে কোনো কথা নেই, চোখে শুধু হতাশা।

ঠিক তখনই আব্দুল্লাহ এসে পাশে বসলেন।

“বন্ধু, কী হয়েছে?”

জলিল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,

“মনে হয় আর পারব না। সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

আব্দুল্লাহ কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললেন,

“তুই কি আমার ওপর ভরসা রাখিস?”

“অবশ্যই রাখি।”

“তাহলে শুন। আমি চাই তুই শহরে গিয়ে ব্যবসা শুরু কর। গ্রামের বাজার ছোট। তোর মেধা আর পরিশ্রমের জন্য বড় জায়গা দরকার।”

জলিল অবাক হয়ে বললেন,

“শহরে যাব? কিন্তু পুঁজি কোথায়?”

আব্দুল্লাহ শান্ত গলায় বললেন,

“যতটুকু সঞ্চয় করেছি, তা তোকে দেব। এটা ধার নয়, বন্ধুর পাশে দাঁড়ানো। তুই সফল হ, এটাই আমার চাওয়া।”

জলিল হতভম্ব হয়ে বন্ধুর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার চোখ ধীরে ধীরে ভিজে উঠল।

“তুই নিজের সংসারের কথা না ভেবে আমাকে টাকা দিবি?”

আব্দুল্লাহ মৃদু হেসে উত্তর দিলেন,

“রিজিকের মালিক আল্লাহ। মানুষের উপকারে যা ব্যয় করা হয়, তা কখনো নষ্ট হয় না।”

সেদিন সন্ধ্যায় দুই বন্ধু অনেকক্ষণ পাশাপাশি বসে রইলেন। অস্তগামী সূর্যের আলো তাদের মুখে পড়ছিল, কিন্তু কেউ কোনো কথা বলছিল না। নীরবতার মাঝেই যেন জন্ম নিচ্ছিল এমন এক সিদ্ধান্ত, যা বদলে দেবে তাদের জীবন, তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং একদিন দুই তরুণ-তরুণীর ভাগ্যও।

জলিল বাড়ি ফিরে গভীর চিন্তায় ডুবে গেলেন। রাতের খাবারের পর স্ত্রীকে সব খুলে বললেন। অনেক আলোচনা শেষে তারা সিদ্ধান্ত নিলেন—ঝুঁকি নিতেই হবে।

কারণ কখনো কখনো নতুন স্বপ্নের পথে হাঁটতে হলে পরিচিত মাটির মায়া ছেড়ে অচেনা পথে পা বাড়াতে হয়।

চলবে

19/08/2026

যত বড় হতে লাগলাম,ততই ফ্যামিলির সবার অপ্রিয় আর সমস্যা হতে লাগলাম!💔😅

14/08/2026

13/08/2026

Beauty of nature

 #ফুরমোন_পাহাড়ের_বৃষ্টি_ভেজা_সেই_রাতRakib Ahmed **অধ্যায় ২০ (শেষ পর্ব)**সময়ের সাথে সাথে সেই পুরনো কটেজটি জয় এবং জান্নাতু...
11/08/2026

#ফুরমোন_পাহাড়ের_বৃষ্টি_ভেজা_সেই_রাত
Rakib Ahmed
**অধ্যায় ২০ (শেষ পর্ব)**
সময়ের সাথে সাথে সেই পুরনো কটেজটি জয় এবং জান্নাতুলের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। শহরের কোলাহল, পরিবারের রক্তচক্ষু আর সমাজের ভ্রুক্ষেপ—সবই এখন তাদের স্মৃতিতে ফিকে হয়ে এসেছে। তারা এখন নিজেদের ছোট্ট এক পৃথিবীতে বাস করছে, যেখানে বাইরের পৃথিবীর কোনো খবর পৌঁছায় না। জয় এখন তার দক্ষতার পরিচয় দিয়ে অনলাইনে ছোটখাটো ব্যবসার কাজ শুরু করেছে, আর জান্নাতুল ঘরটিকে সাজিয়ে গুছিয়ে তুলেছে এক টুকরো স্বর্গ হিসেবে।
আজ বিকেলে আকাশ আবার মেঘলা হয়ে এসেছে। ফুরমোন পাহাড়ের সেই প্রথম বৃষ্টির রাতের মতোই আজ আকাশ থেকে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে। জান্নাতুল ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির ঝাপটা অনুভব করছিল। তার মনে পড়ে গেল সেই দিনগুলোর কথা, যখন তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পলায়ন করেছিল। ভয়, উদ্বেগ আর উত্তেজনার সেই দিনগুলো এখন এক মধুর স্মৃতি। জয় পেছন থেকে এসে জান্নাতুলের কোমর জড়িয়ে ধরল। তার হাতের উষ্ণতা জান্নাতুলের শরীরে এক পরিচিত শিহরণ জাগিয়ে তুলল।
"আবার বৃষ্টি নামছে, জান্নাত," জয় কানের কাছে ফিসফিস করে বলল।
জান্নাতুল জয়ের হাতের ওপর নিজের হাত রেখে হাসল। "ঠিক ফুরমোন পাহাড়ের সেই রাতের মতো। মনে আছে, সেদিন কতটা ভয় পেয়েছিলাম?"
জয় জান্নাতুলকে ঘুরিয়ে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করাল। তার চোখেমুখে এখন এক অদ্ভুত প্রশান্তি, যা কোনো প্রাপ্তি বা জয়ের চেয়েও বেশি কিছু। সে জান্নাতুলের কপালে আলতো করে চুমু খেল। "সেদিন আমাদের হাতে ছিল শুধু ভালোবাসা আর অনিশ্চয়তা। কিন্তু আজ? আজ আমাদের হাতে আছে একে অপরের হাত এবং একটি সুন্দর আগামীর সম্ভাবনা।"
জয় জান্নাতুলকে কোলে তুলে নিয়ে বেডরুমের দিকে এগিয়ে গেল। জান্নাতুল জয়ের গলায় হাত জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল, "তুমি কি জানো, সেই রাতটিই আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল? তোমাকে না পেলে আমার জীবন হয়তো কোনো এক খাচায় বন্দি হয়েই শেষ হয়ে যেত।"
জয় জান্নাতুলকে বিছানায় নামিয়ে দিয়ে তার চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে এখনো সেই একই নেশা, সেই একই তীব্র আকাঙ্ক্ষা। জয় জান্নাতুলের শরীরের প্রতিটি ইঞ্চিতে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে করতে বলল, "তুমি শুধু আমার, জান্নাত। আজ এই বৃষ্টির রাতেও আমাদের ভালোবাসা নতুন করে জন্ম নেবে।"
বাইরে বৃষ্টির বেগ বাড়ছে, কিন্তু তাদের ঘরের ভেতর তখন এক নিবিড় শান্তি আর তীব্র ভালোবাসার আবেশ। তারা দুজনেই জানে, পাহাড়ের সেই বৃষ্টি ভেজা রাতে তারা যে গল্পের শুরু করেছিল, আজ তা এক পূর্ণতায় গিয়ে শেষ হলো। তাদের শারীরিক মিলনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন তাদের সম্পর্কের এক একটি নতুন শপথ। জান্নাতুল জয়ের বুকে মুখ লুকাল, তার কান্নামাখা হাসি জয়ের শার্ট ভিজিয়ে দিচ্ছে। জয়ের বাহুবন্ধনে সে পৃথিবীর সমস্ত সুখ খুঁজে পেয়েছে। এই বৃষ্টির রাতটি যেন তাদের প্রেমের এক অনন্য সাক্ষী হয়ে রইল, যেখানে কোনো বাধা নেই, শুধু আছে ভালোবাসা আর অনন্তকালের এক মেলবন্ধন।
**সমাপ্ত**

 #ফুরমোন_পাহাড়ের_বৃষ্টি_ভেজা_সেই_রাতRakib Ahmed **অধ্যায় ১৯**ভোর হওয়ার আগেই জয় আর জান্নাতুল পাহাড় ছেড়ে নেমে এল। তাদের চো...
07/08/2026

#ফুরমোন_পাহাড়ের_বৃষ্টি_ভেজা_সেই_রাত
Rakib Ahmed
**অধ্যায় ১৯**
ভোর হওয়ার আগেই জয় আর জান্নাতুল পাহাড় ছেড়ে নেমে এল। তাদের চোখেমুখে একটা অদ্ভুত স্থিরতা। এতদিনের পলায়ন, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা যেন তাদের মধ্যকার সম্পর্ককে ইস্পাতের মতো শক্ত করে দিয়েছে। তারা এখন জানে, তাদের সম্পর্ক কোনো সাধারণ প্রেমের গল্প নয়, এটি একটি লড়াই। জয় গাড়ি চালিয়ে শহরের সীমানা পেরিয়ে এক অজানা গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। জান্নাতুল এখন আর আয়নার দিকে তাকিয়ে ভয়ে কাঁপে না, তার চোখের জল শুকিয়ে গেছে, সেখানে এখন জয়ের প্রতি অগাধ বিশ্বাস।
গাড়িটা একটি পুরনো নির্জন কটেজের সামনে থামল। এটি জয়ের বাবার এক বন্ধুর বাড়ি, যা দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। জয় চাবি দিয়ে দরজা খুলে জান্নাতুলকে নিয়ে ভেতরে ঢুকল। ভেতরে ধুলোবালি থাকলেও পরিবেশটা বেশ ছিমছাম। জয় জান্নাতুলের হাত ধরে বলল, "এখান থেকে আমাদের নতুন জীবন শুরু হবে, জান্নাত। আজ থেকে আমাদের কেউ খুঁজে পাবে না।"
জান্নাতুল চারিদিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জয়ের বুকে মাথা রাখল। জয়ের বুকটা এখন তার একমাত্র ঠিকানা। জয়ের হাতের স্পর্শে জান্নাতুল আজ নতুন করে নিজেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ অনুভব করছে। জয় জান্নাতুলকে কটেজের বেডরুমে নিয়ে গেল। জানালার পর্দাগুলো টেনে দিয়ে জয় ঘরের ভেতর অন্ধকার করে দিল। বাইরের সকালের আলো যেন তাদের এই মুহূর্তের শান্তিকে বিঘ্নিত করতে না পারে।
জয় জান্নাতুলের পরনের কাপড়গুলো একে একে সরিয়ে তাকে উন্মুক্ত করল। জয়ের প্রতিটি স্পর্শে জান্নাতুলের মনে হলো, পাহাড়ের সেই প্রথম বৃষ্টির রাতের উন্মাদনা আজ এক শান্ত তৃপ্তিতে রূপ নিয়েছে। তারা একে অপরকে নতুন করে আবিষ্কার করতে লাগল। জান্নাতুল জয়ের কাঁধ কামড়ে ধরে ফিসফিস করে বলল, "তুমি কি এখনো আমাকে আগের মতোই ভালোবাসো, জয়?"
জয় জান্নাতুলের কানের কাছে মুখ নিয়ে ভারী নিশ্বাসে বলল, "এর চেয়েও হাজার গুণ বেশি। এই শরীর, এই মন—সবকিছু তোমার জন্য।"
জয় জান্নাতুলের শরীরের খাঁজে খাঁজে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে দিল। তাদের মিলন ছিল ধীর, গভীর এবং আবেগে পরিপূর্ণ। বাইরের পৃথিবীটা যেন তাদের জন্য থেমে গিয়েছিল। জান্নাতুলের মনে হলো, জয়ের শরীরের উষ্ণতায় সে তার অতীতের সমস্ত ক্ষত মুছে ফেলতে পারছে। জয়ের হাতের প্রতিটি চাপ, প্রতিটি চুমু যেন জান্নাতুলকে নতুন এক সত্তা দিচ্ছে। এই কটেজের বদ্ধ বাতাসে তাদের শরীরের ঘ্রাণ আর ভালোবাসার আবেশ একাকার হয়ে গেল। তারা দুজনে জানে, এটিই তাদের শেষ গন্তব্য, যেখানে তারা কেবল নিজেদের জন্যই বাঁচবে। কোনো সমাজ, কোনো নিয়ম আর তাদের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।
চলবে

 #ফুরমোন_পাহাড়ের_বৃষ্টি_ভেজা_সেই_রাতRakib Ahmed **অধ্যায় ১৮**পাহাড়ের সেই ঝরনার কাছে তারা যে রাতে আশ্রয় নিয়েছিল, তা ছিল ত...
02/08/2026

#ফুরমোন_পাহাড়ের_বৃষ্টি_ভেজা_সেই_রাত
Rakib Ahmed
**অধ্যায় ১৮**
পাহাড়ের সেই ঝরনার কাছে তারা যে রাতে আশ্রয় নিয়েছিল, তা ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে অনিশ্চিত কিন্তু সবচেয়ে আবেগময় রাত। চারদিকে গভীর অরণ্য, পাহাড়ের পাথুরে শীতলতা, আর তাদের দুজনের শরীরের উত্তপ্ত মিলন। ঝরনার পানি পড়ার ছন্দময় শব্দ যেন তাদের হৃদপিণ্ডের স্পন্দনের সাথে মিশে গিয়েছিল।
জয় জান্নাতুলকে জড়িয়ে ধরে পাথরের ওপরেই বসেছিল। জয়ের গায়ের চামড়া পাহাড়ের ঠান্ডায় কিছুটা হিম হয়ে থাকলেও জান্নাতুলের সংস্পর্শে সে আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছিল। জান্নাতুল জয়ের গলার কাছে মুখ লুকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "জয়, আমাদের কি সত্যিই কোনো ভবিষ্যৎ আছে? এভাবে কি সারাজীবন লুকিয়ে বাঁচা সম্ভব?"
জয় জান্নাতুলের চুলগুলো কপালে থেকে সরিয়ে দিয়ে তার চোখের দিকে তাকাল। জয়ের চোখে এখন কোনো দ্বিধা নেই, আছে এক গভীর স্থিরতা। সে জান্নাতুলের চিবুক স্পর্শ করে বলল, "ভবিষ্যৎ আমরা নিজেরা তৈরি করি, জান্নাত। আজ রাতে এখানে আমরা কোনো সমাজের অংশ নই, আমরা কেবল দুজন মানুষ যারা একে অপরকে ভালোবাসে। কাল যখন সূর্য উঠবে, তখন আমি তোমাকে নিয়ে এমন এক জায়গায় পৌঁছাব যেখানে আমাদের অতীতের কোনো ছায়া থাকবে না।"
জান্নাতুল জয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে সম্মোহিতের মতো মাথা নাড়ল। সে জয়কে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। জয়ের শরীরের পেশিগুলো টানটান হয়ে উঠল। জান্নাতুলের পরনের কাপড় ঝরনার ঝাপটায় ভিজে জবজবে হয়ে গেছে, যা জয়ের সামনে তার দেহকে আরও আবেদনময়ী করে তুলেছে। জয় জান্নাতুলকে নিজের শরীরের ওপর টেনে নিয়ে এলো। পাহাড়ের সেই নির্জনতায়, আগুনের মতো জ্বলে ওঠা তাদের আবেগ যেন প্রকৃতিকে হার মানাল।
জয়ের প্রতিটি চুমু জান্নাতুলের সারা শরীরে এক নতুন শিহরণ জাগিয়ে তুলছিল। জান্নাতুলের নখের আঁচড় জয়ের পিঠের পেশিতে গভীর দাগ কাটছিল, যা জয়ের কামনার তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল। তাদের নিশ্বাসের শব্দ অরণ্যের নিস্তব্ধতা ভেঙে এক আদিম সুর তৈরি করছিল। জান্নাতুল তার সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে জয়কে অনুভব করছিল। জয়ের শরীরের প্রতিটি পরশ যেন জান্নাতুলের মনে করিয়ে দিচ্ছিল যে, সে জয়ের কাছে কতটা প্রিয় এবং কতটা অনিবার্য। জয়ের শক্ত বাহুর বেষ্টনীতে জান্নাতুলের মনে হলো, সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থানে আছে। পাহাড়ের সেই রাতটি তাদের দুজনের কাছে কোনো সাধারণ রাত ছিল না, তা ছিল তাদের সমস্ত সামাজিক শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে আসার এক প্রতীকী মিলন। তারা দুজনেই জানত, এই রাত পার হওয়ার পর তাদের সামনে অপেক্ষা করছে এক নতুন জীবন, হয়তো কঠিন, কিন্তু একান্তই তাদের নিজস্ব।
চলবে

 #ফুরমোন_পাহাড়ের_বৃষ্টি_ভেজা_সেই_রাতRakib Ahmed **অধ্যায় ১৭**সমুদ্রের তীরে কাটানো সেই সময়টা যেন জয়ের আর জান্নাতুলের জীবন...
30/07/2026

#ফুরমোন_পাহাড়ের_বৃষ্টি_ভেজা_সেই_রাত
Rakib Ahmed
**অধ্যায় ১৭**
সমুদ্রের তীরে কাটানো সেই সময়টা যেন জয়ের আর জান্নাতুলের জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ এবং সুন্দর একটা অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু নিয়তির খেলা বোঝা বড় দায়। রিসোর্টের শান্ত আবহাওয়ায় একদিন সকালে জান্নাতুল ঘুম থেকে উঠে দেখল জয় ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে খুব গম্ভীর হয়ে কারো সাথে ফোনে কথা বলছে। যদিও তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাইরের জগতের সাথে সব সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলবে, কিন্তু জয় হয়তো তার ব্যবসার প্রয়োজনে বা পরিবারের কোনো সংবাদের জন্য গোপনে যোগাযোগ রাখছিল।
জান্নাতুল জয়ের পিছু পিছু গিয়ে ব্যালকনিতে দাঁড়াল। জয় তাকে দেখে ফোনটা দ্রুত পকেটে ঢুকিয়ে ফেলল। তার চোখেমুখে এক ধরণের অস্থিরতা। জান্নাতুল মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করল, "কে ছিল জয়? তুমি কি কিছু লুকিয়েছ আমার থেকে?"
জয় একটু সময় নিয়ে জান্নাতুলের হাত দুটো ধরল। তার হাতের তালু একটু ঘামছে। জয় বলল, "জান্নাত, তোমার বাবা আমাকে খুঁজে বের করে ফেলেছেন। রিসোর্টের লোকেশন তারা জেনে গেছে। আর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তারা এখানে পৌঁছাতে পারে।"
জান্নাতুলের মুখটা এক মুহূর্তের জন্য ফ্যাকাসে হয়ে গেল। তার বুকটা ধড়ফড় করে উঠল। সে জানে, তার বাবা কতটা কঠোর মানুষ। কিন্তু জয়ের চোখের দিকে তাকাতেই তার সব ভয় যেন নিমিষেই গায়েব হয়ে গেল। জয় জান্নাতুলকে জড়িয়ে ধরে বলল, "ভয় পেয়ো না। আমি তোমাকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য এতদূর আসিনি। আমার কাছে একটা পরিকল্পনা আছে। আমরা এখান থেকে এখনই বের হব।"
দ্রুত ব্যাগ গোছগাছ করে তারা রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে পড়ল। জয় সমুদ্র সৈকতের উল্টো পথে গাড়ি ছুটাল। তাদের গন্তব্য এখন পাহাড়ি এলাকা, যেখানে মানুষের আনাগোনা কম। সমুদ্রের বিশালতাকে পেছনে ফেলে তারা যখন আবার পাহাড়ের দুর্গম পথে উঠল, জান্নাতুলের মনে পড়ে গেল ফুরমোন পাহাড়ের সেই প্রথম বৃষ্টির রাতের কথা। যেন জীবন এক গোলকধাঁধায় আবার একই বিন্দুতে ফিরে এসেছে।
গাড়ি চলতে চলতে এক সময় বনের গভীরে এসে থামল। জয় জান্নাতুলকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে একটা ঝরনার কাছে নিয়ে এল। পাহাড়ের গায়ে এই ঝরনার শীতল জল আর বনের নিস্তব্ধতা যেন তাদের আশ্রয়স্থল। জয় জান্নাতুলের হাত ধরে ঝরনার কাছে এসে দাঁড়িয়ে বলল, "শোনো জান্নাত, পরিস্থিতি জটিল। কিন্তু আমি তোমাকে হারাতে পারি না। আমাদের এমন কোথাও যেতে হবে যেখানে আমাদের পরিচয় বদলে যাবে।"
জান্নাতুল জয়ের বুকে মাথা রেখে ফিসফিস করে বলল, "তুমি যেখানে নিয়ে যাবে, আমি সেখানেই যাব। আমার কোনো ভয় নেই, যদি তুমি আমার পাশে থাকো।" জয়ের হাতের স্পর্শে জান্নাতুলের শরীর শিহরিত হলো। এই সংকটের মুহূর্তেও জয়ের শরীরী উষ্ণতা তাকে এক অদ্ভুত সুরক্ষা দিচ্ছিল। জয় তাকে পাহাড়ের পাথুরে ঢালে বসিয়ে তার মুখটা দুহাতে তুলে ধরল। জয়ের চোখের গভীরতায় আজ এক অন্যরকম জেদ। সে জান্নাতুলের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। সেই চুমুতে ছিল পলায়নের আর্তনাদ আর নতুন করে বাঁচার সংকল্প। জান্নাতুল জয়ের শার্টের কলার আঁকড়ে ধরে তার শরীরকে আরও কাছে টেনে নিল। তাদের এই অস্থির সময়ে একে অপরের শরীরের সান্নিধ্য যেন তাদের বাঁচিয়ে রাখার একমাত্র রসদ হয়ে উঠল। পাহাড়ের ঝরনার ঝিরঝির শব্দের সাথে মিশে রইল তাদের ভারী নিশ্বাস, যা সাক্ষী হয়ে রইল এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে তাদের অবিচল পদযাত্রার।
চলবে

 #ফুরমোন_পাহাড়ের_বৃষ্টি_ভেজা_সেই_রাতRakib Ahmed **অধ্যায় ১৬**কক্সবাজারের সেই সমুদ্রবিলাসী রিসোর্টে দিনগুলো যেন স্বপ্নের ...
29/07/2026

#ফুরমোন_পাহাড়ের_বৃষ্টি_ভেজা_সেই_রাত
Rakib Ahmed
**অধ্যায় ১৬**
কক্সবাজারের সেই সমুদ্রবিলাসী রিসোর্টে দিনগুলো যেন স্বপ্নের মতো কেটে যাচ্ছে। বাইরের জগতের সাথে তাদের সমস্ত সংযোগ বিচ্ছিন্ন। জয়ের ফোনের সিম কার্ড আগেই ভেঙে ফেলা হয়েছে, আর জান্নাতুল তার ফোনটি পুরোপুরি বন্ধ করে রেখেছে। শহরের সেই দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতুল যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সমুদ্রের নোনা হাওয়া, বালুকাময় সৈকতে জয়ের হাত ধরে হাঁটা, আর রাতে সমুদ্রের গর্জন শুনতে শুনতে তাদের একাত্ম হয়ে যাওয়া—সবকিছু মিলে এক অন্যরকম মায়ার জগত।
কিন্তু জান্নাতুলের মনে গভীর এক কোণে সবসময়ই খচখচ করছে একটি চিন্তা—তাদের এই পরিচয়হীন বেঁচে থাকা কি স্থায়ী হবে? জয় তার ব্যবসার কথা ভেবেছে, রিসোর্টে বসেও সে ল্যাপটপে মাঝে মাঝে কিছু কাজ করে নেয়, কিন্তু তার মূল মনোযোগ জান্নাতুলের দিকেই। আজ বিকেলের আকাশটা মেঘলা। সমুদ্রের রঙ হয়ে উঠেছে গাঢ় ধূসর। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে জান্নাতুল সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে ছিল। জয়ের হাতে এক কাপ কফি। সে জান্নাতুলের পাশে এসে দাঁড়িয়ে তার কাঁধের ওপর কফি কাপটা রাখল।
"কী ভাবছ?" জয় তার চিবুক জান্নাতুলের কাঁধে রেখে জিজ্ঞেস করল।
জান্নাতুল কফির কাপে চুমুক দিয়ে বলল, "মনে হচ্ছে এই সমুদ্রের ঢেউগুলো আমাদের অতীতের সব চিহ্ন মুছে দিচ্ছে। কিন্তু জয়, আমার বাবা-মা? তারা কি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন না?"
জয় জান্নাতুলের পিঠের ওপর দিয়ে নিজের হাত বাড়িয়ে দিয়ে তাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল। জয়ের হাতের স্পর্শে জান্নাতুলের শরীর ঝিরঝিরে ঠান্ডায় কেঁপে উঠল। জয় ফিসফিস করে বলল, "তোমার বাবা-মা আমাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আমি তার আগেই আমাদের একটা স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করছি। দূরে কোথাও, যেখানে আমরা শুধু আমাদের মতো করে বাঁচতে পারব।"
জান্নাতুল জয়ের বুকে মাথা রাখল। জয়ের শরীরটা আজ বেশ উত্তপ্ত। সমুদ্রের নোনা হাওয়া তাদের চুলগুলোকে এলোমেলো করে দিচ্ছে। জয় জান্নাতুলকে ব্যালকনি থেকে টেনে নিয়ে ভেতরে শোবার ঘরে ঢুকল। ঘরের আলো কিছুটা কমিয়ে দিয়ে সে জান্নাতুলকে জড়িয়ে ধরল। জয়ের চোখের ভাষা আজ বড্ড বেশি গভীর। জান্নাতুল অনুভব করল, জয়ের হাতের দখল তার পোশাকের ভাঁজে বাড়ছে। জয়ের প্রতি তার এই তীব্র আকর্ষণ কোনোভাবেই কমছে না, বরং প্রতিটা মুহূর্তে তা আরও গাঢ় হচ্ছে।
জয় জান্নাতুলের কানে ফিসফিস করে বলল, "আজ রাতে আমি তোমাকে শুধু আমার করে রাখতে চাই। এই সমুদ্রের গর্জন ছাড়া আর কোনো শব্দ আমাদের মাঝে থাকবে না।" জান্নাতুল জয়ের বুকে নিজের আঙুল দিয়ে নকশা করতে করতে বলল, "আমি তো কবেই তোমার হয়ে গেছি জয়। আজ রাতে, তুমি যেভাবে চাইবে, আমি ঠিক সেভাবেই থাকব।"
জয় জান্নাতুলের শাড়ির আঁচলটা আলতো করে খুলে নিল। জান্নাতুলের পিঠের ওপর জয়ের আঙুলগুলো যেন এক নতুন ভাষা লিখছে। জয়ের উত্তপ্ত নিঃশ্বাস জান্নাতুলের ঘাড়ের কাছে এসে লাগছে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মতো তাদের আবেগও তখন চরম সীমায় পৌঁছেছে। জয়ের প্রতিটি চুমু আর প্রতিটি স্পর্শ জান্নাতুলকে এক স্বর্গীয় অনুভূতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের শারীরিক মিলন এখন আর কেবল শরীরের চাহিদা নয়, তা যেন এক পবিত্র অঙ্গীকারের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাইরের পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল থেকে দূরে, কক্সবাজারের এই নিভৃত রিসোর্টে তারা একে অপরের শরীরের প্রতিটি ভাঁজে খুঁজে নিয়েছে তাদের কাঙ্ক্ষিত শান্তির নীড়। জান্নাতুলের মনে হলো, জয়ের বাহুবন্ধনেই সে পৃথিবীর সমস্ত সুখ আর সুরক্ষা খুঁজে পেয়েছে, আর জয়ের মনে হলো, জান্নাতুলকে ছাড়া তার এই অস্তিত্বই মূল্যহীন।
চলবে

Address

Sirajgonj
Sirajganj
6700

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rakib Ahmed posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share