19/05/2026
#অপ্রকাশিত_ভালোবাসা
Rakib Ahmed
পর্ব – ৯
একটু একটু করে বদলে যাওয়া
বিয়ের পর প্রায় তিন সপ্তাহ কেটে গেছে।
সময় খুব ধীরে হলেও তাদের সম্পর্কের ভেতরে ছোট ছোট পরিবর্তন আসছে।
আগের মতো অস্বস্তিকর নীরবতা এখন আর নেই।
যদিও আয়ান এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি, তবুও মেহরিনের উপস্থিতি তাকে আর অস্বস্তি দেয় না।
বরং কখনো কখনো মেয়েটাকে না দেখলে কেমন যেন খালি খালি লাগে।
---
সেদিন সকালে আয়ান ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল।
হঠাৎ মিম দৌড়ে এসে বলল,
“ভাইয়া, তোমার টিফিন।”
“টিফিন?”
“ভাবি বানিয়েছে।”
আয়ান অবাক হয়ে তাকালো।
“এসবের দরকার ছিল না।”
মেহরিন শান্ত গলায় বলল,
“আপনি প্রায়ই দুপুরে না খেয়ে থাকেন।”
আয়ান থেমে গেল।
এই কথাটা সে কাউকে কখনো বলেনি।
সে ধীরে বলল,
“আপনি জানলেন কীভাবে?”
মেহরিন একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল।
“আসলে… মিম বলেছে।”
মিম সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল,
“আরে না তো! আমি—”
মেহরিন তাড়াতাড়ি তার হাত চেপে ধরল।
আয়ান ভ্রু কুঁচকে দুজনের দিকে তাকাল।
কিন্তু আর কিছু বলল না।
---
বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে টিফিন খুলতেই সে আবার অবাক হলো।
তার পছন্দের খাবার।
সবকিছু ঠিক যেমন সে পছন্দ করে।
আয়ান অনেকক্ষণ চুপচাপ খাবারের দিকে তাকিয়ে রইল।
তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছিল।
কেউ তাকে এত খেয়াল করে—এটা তার অভ্যাস নেই।
---
বিকেলে বাসায় ফিরে আয়ান দেখল মেহরিন বারান্দায় বসে মিমকে পড়াচ্ছে।
মিম বিরক্ত মুখে বলছে,
“আমি ম্যাথস ঘৃণা করি।”
মেহরিন হেসে বলল,
“ম্যাথসকে ভয় পেলে হবে?”
“হবে।”
“না, হবে না।”
আয়ান দরজার পাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ দেখল।
মেয়েটা খুব সহজেই এই বাড়ির সঙ্গে মিশে গেছে।
যেন সে অনেকদিন ধরেই এখানে আছে।
---
রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল।
মিম ভয় পেয়ে দৌড়ে এসে মেহরিনকে জড়িয়ে ধরল।
“ভাবি, আমি অন্ধকার ভয় পাই।”
মেহরিন তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
“আমি আছি তো।”
আয়ান দূর থেকে দৃশ্যটা দেখছিল।
তার চোখ হঠাৎ নরম হয়ে এলো।
এই কয়েক সপ্তাহে সে বুঝেছে—
মেহরিন শুধু ভালো মানুষ না।
সে এমন একজন, যে খুব অল্প সময়েই সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে।
---
রাত গভীর।
আয়ান বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।
হঠাৎ মেহরিন পাশে এসে দাঁড়ালো।
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ।
তারপর আয়ান ধীরে বলল,
“ধন্যবাদ।”
মেহরিন অবাক হয়ে তাকালো।
“কিসের জন্য?”
“সবকিছুর জন্য।”
মেহরিনের বুক কেঁপে উঠল।
হালকা বাতাসে তার চুল উড়ছিল।
সে ধীরে বলল,
“আমি তো কিছুই করিনি।”
আয়ান কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে মৃদু গলায় বলল,
“করেছেন।”
এই ছোট্ট কথাটুকুই মেহরিনের হৃদয়ে অদ্ভুত উষ্ণতা ছড়িয়ে দিল।
কারণ সে বুঝতে পারল—
আয়ানের হৃদয়ের বন্ধ দরজাটা হয়তো ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে।