Rakib Ahmed

Rakib Ahmed Assalamualaikum, I am Md Rakib Ahmed. I am a Diploma in Electrical Engineer. You all will follow the page. Thanks everyone.
(7)

On this page of mine, current events and various engineering topics will be discussed and shared, Inshallah.

19/05/2026

#অপ্রকাশিত_ভালোবাসা
Rakib Ahmed

পর্ব – ৯

একটু একটু করে বদলে যাওয়া

বিয়ের পর প্রায় তিন সপ্তাহ কেটে গেছে।

সময় খুব ধীরে হলেও তাদের সম্পর্কের ভেতরে ছোট ছোট পরিবর্তন আসছে।

আগের মতো অস্বস্তিকর নীরবতা এখন আর নেই।

যদিও আয়ান এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি, তবুও মেহরিনের উপস্থিতি তাকে আর অস্বস্তি দেয় না।

বরং কখনো কখনো মেয়েটাকে না দেখলে কেমন যেন খালি খালি লাগে।

---

সেদিন সকালে আয়ান ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল।

হঠাৎ মিম দৌড়ে এসে বলল,

“ভাইয়া, তোমার টিফিন।”

“টিফিন?”

“ভাবি বানিয়েছে।”

আয়ান অবাক হয়ে তাকালো।

“এসবের দরকার ছিল না।”

মেহরিন শান্ত গলায় বলল,

“আপনি প্রায়ই দুপুরে না খেয়ে থাকেন।”

আয়ান থেমে গেল।

এই কথাটা সে কাউকে কখনো বলেনি।

সে ধীরে বলল,

“আপনি জানলেন কীভাবে?”

মেহরিন একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল।

“আসলে… মিম বলেছে।”

মিম সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল,

“আরে না তো! আমি—”

মেহরিন তাড়াতাড়ি তার হাত চেপে ধরল।

আয়ান ভ্রু কুঁচকে দুজনের দিকে তাকাল।

কিন্তু আর কিছু বলল না।

---

বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে টিফিন খুলতেই সে আবার অবাক হলো।

তার পছন্দের খাবার।

সবকিছু ঠিক যেমন সে পছন্দ করে।

আয়ান অনেকক্ষণ চুপচাপ খাবারের দিকে তাকিয়ে রইল।

তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছিল।

কেউ তাকে এত খেয়াল করে—এটা তার অভ্যাস নেই।

---

বিকেলে বাসায় ফিরে আয়ান দেখল মেহরিন বারান্দায় বসে মিমকে পড়াচ্ছে।

মিম বিরক্ত মুখে বলছে,

“আমি ম্যাথস ঘৃণা করি।”

মেহরিন হেসে বলল,

“ম্যাথসকে ভয় পেলে হবে?”

“হবে।”

“না, হবে না।”

আয়ান দরজার পাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ দেখল।

মেয়েটা খুব সহজেই এই বাড়ির সঙ্গে মিশে গেছে।

যেন সে অনেকদিন ধরেই এখানে আছে।

---

রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল।

মিম ভয় পেয়ে দৌড়ে এসে মেহরিনকে জড়িয়ে ধরল।

“ভাবি, আমি অন্ধকার ভয় পাই।”

মেহরিন তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

“আমি আছি তো।”

আয়ান দূর থেকে দৃশ্যটা দেখছিল।

তার চোখ হঠাৎ নরম হয়ে এলো।

এই কয়েক সপ্তাহে সে বুঝেছে—

মেহরিন শুধু ভালো মানুষ না।

সে এমন একজন, যে খুব অল্প সময়েই সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারে।

---

রাত গভীর।

আয়ান বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।

হঠাৎ মেহরিন পাশে এসে দাঁড়ালো।

দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ।

তারপর আয়ান ধীরে বলল,

“ধন্যবাদ।”

মেহরিন অবাক হয়ে তাকালো।

“কিসের জন্য?”

“সবকিছুর জন্য।”

মেহরিনের বুক কেঁপে উঠল।

হালকা বাতাসে তার চুল উড়ছিল।

সে ধীরে বলল,

“আমি তো কিছুই করিনি।”

আয়ান কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে মৃদু গলায় বলল,

“করেছেন।”

এই ছোট্ট কথাটুকুই মেহরিনের হৃদয়ে অদ্ভুত উষ্ণতা ছড়িয়ে দিল।

কারণ সে বুঝতে পারল—

আয়ানের হৃদয়ের বন্ধ দরজাটা হয়তো ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে।

18/05/2026

#অপ্রকাশিত_ভালোবাসা
Rakib Ahmed

পর্ব – ৮

অদৃশ্য যত্ন

দিনগুলো ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল।

বাড়ির অস্বস্তিকর পরিবেশও একটু একটু করে স্বাভাবিক হচ্ছে।

আরাফাত এখন বেশিরভাগ সময় চুপচাপ থাকে। অফিস থেকে এসে নিজের ঘরে চলে যায়। পরিবারের কেউ তার সঙ্গে আগের মতো সহজ হতে পারছে না।

কিন্তু মেহরিন সবসময় চেষ্টা করে পরিবেশটা স্বাভাবিক রাখতে।

নাসরিন বেগমের কাজে সাহায্য করা, মিমের পড়া দেখা, রহমান সাহেবের ওষুধ মনে করিয়ে দেওয়া—অল্প কিছুদিনেই সে যেন এই বাড়িরই মানুষ হয়ে গেছে।

শুধু একজন মানুষ এখনো পুরোপুরি দূরে।

আয়ান।

সে কখনো খারাপ ব্যবহার করে না, কিন্তু একটা অদৃশ্য দূরত্ব রেখেই চলে।

মেহরিন সেটা বোঝে।

আর তাই সে কোনো তাড়াহুড়ো করে না।

---

একদিন সকালে আয়ান ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য বের হচ্ছিল।

হঠাৎ নাসরিন বেগম বললেন,

“আয়ান, নাস্তা করে যা।”

“দেরি হয়ে যাচ্ছে আম্মু।”

“তাহলে অন্তত চা খেয়ে যা।”

আয়ান অনিচ্ছায় টেবিলে বসলো।

মেহরিন রান্নাঘর থেকে চায়ের কাপ এনে তার সামনে রাখল।

আয়ান কাপ হাতে নিয়েই থেমে গেল।

চায়ে ঠিক যতটুকু চিনি সে খায়, ততটাই দেওয়া।

একটুও বেশি না।

সে অবাক হয়ে তাকালো।

মেহরিন স্বাভাবিক গলায় বলল,

“চা ঠান্ডা হয়ে যাবে।”

আয়ান কিছু বলল না।

কিন্তু তার মনে প্রশ্ন জাগল—

“সে কীভাবে জানলো?”

---

সেদিন বিকেলে বৃষ্টি হচ্ছিল।

আয়ান বাসায় ফিরতেই মিম দৌড়ে এলো।

“ভাইয়া! তুমি পুরো ভিজে গেছো!”

আয়ান বিরক্ত গলায় বলল,

“ছাতা নিতে ভুলে গেছি।”

ঠিক তখনই মেহরিন একটা তোয়ালে এগিয়ে দিল।

“ঠান্ডা লেগে যাবে।”

আয়ান কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে তোয়ালেটা নিল।

“ধন্যবাদ।”

শব্দটা খুব ছোট ছিল।

কিন্তু মেহরিনের মুখে অজান্তেই নরম হাসি ফুটে উঠল।

কারণ এই প্রথম আয়ান তাকে নিজের ইচ্ছায় ধন্যবাদ দিল।

---

রাতে আয়ান পড়তে বসেছিল।

হঠাৎ দরজায় নক হলো।

“ভেতরে আসুন।”

মেহরিন ধীরে ঘরে ঢুকল।

হাতে এক কাপ কফি।

“আপনি অনেকক্ষণ ধরে পড়ছেন… তাই ভাবলাম কফি লাগতে পারে।”

আয়ান অবাক হলো।

“আপনি এখনো ঘুমাননি?”

“ঘুম আসছিল না।”

সে কাপটা টেবিলে রেখে চলে যেতে নিল।

ঠিক তখনই আয়ান ডাকল,

“শুনুন…”

মেহরিন থেমে পেছনে তাকালো।

আয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

“আপনার… কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো?”

প্রশ্নটা শুনে মেহরিনের বুক কেঁপে উঠল।

কারণ এই প্রথম আয়ান তার অনুভূতির কথা জানতে চাইল।

সে খুব শান্তভাবে বলল,

“না। আমি ভালো আছি।”

আয়ান তাকিয়ে রইল।

মেয়েটার চোখের ভেতর আজও কোনো অভিযোগ নেই।

শুধু অদ্ভুত এক শান্তি।

আর কেন জানি না, সেই শান্তিটা ধীরে ধীরে আয়ানের মনেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল।

17/05/2026

#অপ্রকাশিত_ভালোবাসা
Rakib Ahmed

পর্ব – ৭

ধীরে ধীরে পরিচয়

আয়ান বাড়ি থেকে বের হয়ে অনেকক্ষণ রাস্তায় হাঁটল।

তার মাথার ভেতর সবকিছু এখনো এলোমেলো।

এক রাতের মধ্যে জীবন পুরো বদলে গেছে।

যে মেয়েটাকে সে ঠিকমতো চিনেও না, সে এখন তার স্ত্রী।

ভাবতেই কেমন অদ্ভুত লাগে।

তবুও কেন জানি না, মেহরিনের শান্ত মুখটা বারবার তার মনে পড়ছে।

মেয়েটা একবারও অভিযোগ করেনি।

না কোনো কান্না, না কোনো প্রশ্ন।

এত বড় একটা ঘটনার পরও সে এত শান্ত কীভাবে?

---

বিকেলের দিকে আয়ান বাসায় ফিরল।

ঘরে ঢুকতেই রান্নাঘর থেকে হাসির শব্দ ভেসে এলো।

সে অবাক হয়ে তাকালো।

মিম আর মেহরিন একসাথে কিছু একটা করছে।

মিম উত্তেজিত গলায় বলছে,

“না না ভাবি, এভাবে না। ভাইয়া আলুর ভাজি একটু মচমচে পছন্দ করে।”

মেহরিন হেসে বলল,

“আচ্ছা ঠিক আছে।”

আয়ান দরজার পাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ দেখল।

অদ্ভুত একটা উষ্ণ অনুভূতি হলো তার।

এই দৃশ্যটা যেন অনেকদিনের পরিচিত।

মিম হঠাৎ আয়ানকে দেখে বলল,

“এই যে ভাইয়া! তুমি এসেছো?”

মেহরিন সঙ্গে সঙ্গে পেছনে তাকালো।

দুজনের চোখ কয়েক সেকেন্ডের জন্য আটকে গেল।

তারপর আয়ান দ্রুত চোখ সরিয়ে নিল।

“হুম।”

মিম মুখ বাঁকিয়ে বলল,

“তুমি সারাদিন কোথায় ছিলে?”

“এমনি।”

“জানো ভাবি তোমার জন্য—”

মেহরিন তাড়াতাড়ি বলল,

“মিম!”

মিম থেমে গেল।

আয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকালো।

“কি?”

“কিছু না,” মেহরিন শান্ত গলায় বলল।

কিন্তু তার কানের পাশটা হালকা লাল হয়ে গেছে।

---

রাতে খাওয়ার টেবিলে নাসরিন বেগম বললেন,

“আজ মেহরিন রান্না করেছে।”

আয়ান একটু অবাক হলো।

মিম গর্বের সঙ্গে বলল,

“ভাবি কিন্তু অনেক ভালো রান্না করে।”

আয়ান চুপচাপ খেতে লাগল।

কিছুক্ষণ পর মিম আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল,

“কেমন হয়েছে?”

আয়ান থেমে গিয়ে ধীরে বলল,

“ভালো।”

ছোট্ট একটা শব্দ।

কিন্তু মেহরিনের মুখে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল।

কারণ এই প্রথম আয়ান তার কোনো কিছুর প্রশংসা করল।

---

রাতের দিকে মিম মেহরিনের ঘরে এসে বসল।

“ভাবি?”

“হুম?”

“তুমি কি আমার ভাইয়াকে ভয় পাও?”

মেহরিন অবাক হয়ে হেসে ফেলল।

“না তো।”

“তাহলে এত চুপচাপ থাকো কেন?”

মেহরিন কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

“তোমার ভাইয়া নিজেও তো খুব চুপচাপ।”

মিম দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

“এই বাসায় এখন দুইটা শান্ত মানুষ হয়ে গেছে। আমার কথা বলার কেউ নাই।”

মেহরিন এবার একটু জোরে হেসে ফেলল।

দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আয়ান সেই হাসির শব্দ শুনে থেমে গেল।

আজ প্রথমবার সে মেহরিনকে মন খুলে হাসতে শুনল।

আর অদ্ভুতভাবে তার নিজের মনটাও হালকা হয়ে গেল।

16/05/2026

#অপ্রকাশিত_ভালোবাসা
Rakib Ahmed

পর্ব – ৬

অস্বস্তির ভেতরের নীরবতা

ফজরের আজানের শব্দে ঘুম ভাঙল মেহরিনের।

কয়েক সেকেন্ড সে বুঝতেই পারল না কোথায় আছে।

তারপর ধীরে ধীরে সব মনে পড়ল।

নতুন ঘর।
নতুন জীবন।
নতুন সম্পর্ক।

সে আস্তে করে উঠে বসলো।

ঘরের একপাশে সোফায় ঘুমিয়ে আছে আয়ান।

হালকা আলোয় ছেলেটার মুখটা শান্ত লাগছে।

মেহরিন কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল।

তার হৃদয় অদ্ভুতভাবে নরম হয়ে গেল।

একসময় যাকে দূর থেকে দেখেই দিন কেটে যেত, আজ সেই মানুষটাই তার সবচেয়ে কাছের মানুষ।

কিন্তু তবুও কত দূরে।

---

সকালে নাসরিন বেগম নিজে এসে দরজা খুললেন।

“মা, ঘুম ভাঙছে?”

মেহরিন দ্রুত উঠে দাঁড়ালো।

“জি… আসসালামু আলাইকুম।”

“ওয়ালাইকুম সালাম।”

নাসরিন বেগম মেহরিনের মাথায় হাত রাখলেন।

তার চোখ আবার ভিজে উঠল।

গত রাতের কথা মনে পড়তেই বুকটা ভারী হয়ে যায়।

তিনি ধীরে বললেন,

“মা… আমাদের জন্য তোর জীবনটা এমন হয়ে গেল…”

মেহরিন তাড়াতাড়ি মাথা নেড়ে বলল,

“এভাবে বলবেন না, আম্মু।”

“তুই কষ্ট পাচ্ছিস না?”

মেহরিন কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।

তারপর খুব আস্তে বলল,

“সবকিছু হয়তো আল্লাহ যেভাবে ঠিক করেন, সেভাবেই হয়।”

নাসরিন বেগম অবাক হয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

এই মেয়েটার ভেতরে অদ্ভুত ধৈর্য আছে।

---

ডাইনিং টেবিলে আজ অস্বস্তিকর নীরবতা।

আরাফাত নিচের দিকে তাকিয়ে বসে আছে।

কেউ তার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলছে না।

মিম পর্যন্ত চুপচাপ।

আয়ান এসে বসতেই নাসরিন বেগম বললেন,

“মেহরিনকে নিয়ে আয়।”

আয়ান কিছুক্ষণ থেমে থেকে ধীরে মাথা নেড়ে উঠে গেল।

---

মেহরিন নিচে নামতেই সবাই তাকালো।

মিম সবার আগে দৌড়ে এসে তার হাত ধরল।

“ভাবি, এদিকে বসুন।”

মেহরিন হালকা হাসল।

ছোট মেয়েটার চোখে সত্যিকারের মায়া আছে।

খাওয়ার সময় হঠাৎ মিম বলল,

“ভাবি, তুমি চা খাও?”

“হুম, খাই।”

“আমার ভাইয়া কিন্তু কম চিনি খায়।”

কথাটা শুনে মেহরিন থমকে গেল।

অজান্তেই তার ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটে উঠল।

কারণ এটা সে আগেই জানত।

অনেক আগেই।

আয়ান খেয়াল করল মেয়েটার সেই ছোট্ট হাসি।

কেন যেন তার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি হলো।

---

খাওয়া শেষ করে আয়ান বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল।

মেহরিন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,

“আপনি কোথাও যাচ্ছেন?”

“হুম। একটু বাইরে।”

আসলে তার নিজের জন্য একটু সময় দরকার।

সবকিছু এখনো তার কাছে অবাস্তব লাগছে।

দরজার কাছে গিয়ে সে থেমে গেল।

তারপর পেছনে না তাকিয়েই বলল,

“আপনার যদি কিছু দরকার হয়… আম্মুকে বলবেন।”

মেহরিন ধীরে মাথা নেড়ে বলল,

“ঠিক আছে।”

আয়ান বেরিয়ে গেল।

মেহরিন দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।

তার চোখে কোনো অভিযোগ নেই।

শুধু শান্ত একটা অপেক্ষা।

15/05/2026

#অপ্রকাশিত_ভালোবাসা
Rakib Ahmed

পর্ব – ৫

নতুন সম্পর্কের প্রথম রাত

রাত অনেক হয়ে গেছে।

বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ।

কিন্তু আনন্দের বদলে পুরো বাড়িজুড়ে অদ্ভুত এক নীরবতা।

আত্মীয়স্বজনেরা ধীরে ধীরে চলে গেছে। কেউ সরাসরি কিছু না বললেও সবার চোখে আজকের ঘটনার ছাপ স্পষ্ট।

মিমও আজ চুপচাপ।

সাধারণত সে এতক্ষণে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে রাখত।

কিন্তু আজ তার ছোট্ট মনও বুঝে গেছে—কিছু একটা ঠিক হয়নি।

---

মেহরিনকে আয়ানের ঘরে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঘরের হালকা আলোয় সে বিছানার এক কোণে চুপচাপ বসে আছে।

হাতে কাঁচের চুড়ি, মাথায় লাল ঘোমটা।

তার বুকের ভেতর অদ্ভুতভাবে কাঁপছে।

আজকে যা হয়েছে, সেটা কি সত্যি?

যে মানুষটাকে সে এতদিন শুধু দূর থেকে ভালোবেসেছে… আজ সে-ই তার স্বামী।

তার চোখ ভিজে উঠল।

কিন্তু সেই কান্নায় কষ্টের চেয়ে বিস্ময় বেশি।

---

অন্যদিকে আয়ান এখনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে।

তার মাথা পুরো এলোমেলো।

সকালেও সে জানত না আজ তার বিয়ে হবে।

আর এখন—

একটা মেয়ে তার ঘরে বসে আছে, যে এখন তার স্ত্রী।

হঠাৎ পেছন থেকে মিম এসে দাঁড়ালো।

“ভাইয়া…”

আয়ান তাকালো।

মিম ধীরে বলল,
“তুমি রাগ করেছো?”

আয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

“না।”

“মিথ্যা।”

কিছুক্ষণ চুপ থেকে মিম বলল,
“ভাবি খুব কাঁদছিল।”

আয়ানের বুক কেঁপে উঠল।

সে কিছু বলল না।

মিম আবার বলল,
“তুমি ভাবির সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করো না, প্লিজ।”

কথাটা বলে সে চলে গেল।

আয়ান স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

---

কিছুক্ষণ পর ধীরে দরজা খুলে ঘরে ঢুকল সে।

মেহরিন সঙ্গে সঙ্গে মাথা নিচু করে ফেলল।

ঘরে ভারী নীরবতা।

আয়ান কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ধীরে বলল,

“আপনি চাইলে… আরাম করে বসতে পারেন।”

মেহরিন খুব আস্তে বলল,
“জি।”

আবার নীরবতা।

আয়ান বুঝতে পারছিল না কী বলা উচিত।

শেষ পর্যন্ত সে ধীরে বলল,

“আজকে যা হয়েছে… তার জন্য আমি দুঃখিত।”

মেহরিন মাথা তুলল।

প্রথমবার সে এত কাছে থেকে আয়ানের মুখ দেখছে।

তার বুকের ভেতর কেমন যেন মোচড় দিল।

আয়ান আবার বলল,

“আমি জানি সবকিছু খুব হঠাৎ হয়েছে।”

মেহরিন কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে আস্তে বলল,

“আপনার কোনো দোষ নেই।”

এই প্রথম আয়ান মেয়েটার কণ্ঠ ঠিকভাবে শুনল।

শান্ত, নরম একটা কণ্ঠ।

অদ্ভুতভাবে তার ভেতরের অস্থিরতা একটু কমে গেল।

---

রাত আরও গভীর হলো।

আয়ান সোফায় গিয়ে বসলো।

মেহরিন অবাক হয়ে তাকালো।

“আপনি ওখানে কেন?”

“আপনি বিছানায় ঘুমান। আমি এখানে ঠিক আছি।”

মেহরিন কিছু বলল না।

কিন্তু তার বুকের ভেতর হালকা কষ্ট হলো।

সে জানে—এই মানুষটা এখনো তাকে নিজের জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিতে পারেনি।

তবুও তার মন খারাপ লাগল না।

কারণ ভালোবাসা কখনো জোর করে পাওয়া যায় না।

ধীরে ধীরে হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হয়।

আর মেহরিন মনে মনে ঠিক করল—

সে অপেক্ষা করবে।

14/05/2026

#অপ্রকাশিত_ভালোবাসা
Rakib Ahmed

পর্ব – ৪

অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত

ঘরের ভেতরের পরিবেশ ভারী হয়ে আছে।

কেউ জোরে কথা বলছে না।

আত্মীয়স্বজনরা ফিসফিস করছে, কেউ অবাক, কেউ বিরক্ত, কেউ আবার রহমান সাহেবের পরিবারের জন্য মায়া অনুভব করছে।

আরাফাত এক কোণে মাথা নিচু করে বসে আছে।

নাসরিন বেগম বারবার চোখ মুছছেন।

তিনি কখনো ভাবেননি তার বড় ছেলে এমন একটা কাজ করবে।

রহমান সাহেবের চেহারা শক্ত হয়ে আছে।

কিন্তু ভেতরে ভেতরে মানুষটা ভেঙে পড়েছেন।

---

মেহরিনের বাবাও স্তব্ধ।

এত মানুষের সামনে মেয়ের বিয়ে ভেঙে যাওয়া—এটা কোনো বাবার জন্য সহজ না।

তিনি ধীরে বললেন,
“আমরা তাহলে উঠি…”

কথাটা শুনে রহমান সাহেব তাড়াতাড়ি বললেন,
“একটু দাঁড়ান ভাই সাহেব।”

সবাই তার দিকে তাকালো।

তিনি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে আয়ানের দিকে তাকালেন।

আয়ানের বুক ধক করে উঠল।

“আয়ান…”

“জি আব্বু…”

“তুই যদি রাজি থাকিস…”

কথাটা শেষ করতে পারলেন না।

কিন্তু বাকিটা বুঝতে কারও অসুবিধা হলো না।

পুরো ঘর নিস্তব্ধ।

আয়ান যেন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিল না।

“আমি?”

নাসরিন বেগম কাঁপা গলায় বললেন,
“বাবা… মেয়েটার সম্মানের প্রশ্ন…”

আয়ানের মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল।

সবকিছু এত দ্রুত ঘটছে যে সে ভাবার সুযোগই পাচ্ছে না।

---

অন্যদিকে সাজঘরে বসে থাকা মেহরিন খবরটা শুনে স্থির হয়ে গেল।

তার কানে যেন শব্দ আটকে যাচ্ছে।

“আয়ান…”

নামটা বুকের ভেতর কেঁপে উঠল।

যাকে সে নীরবে এতদিন ভালোবেসেছে…

ভাগ্য কি সত্যিই তাকে সেই মানুষটার কাছেই নিয়ে আসছে?

তার চোখ ভিজে উঠল।

কিন্তু সেই কান্নার ভেতরেও এক অদ্ভুত সুখ লুকিয়ে ছিল।

---

আয়ান উঠে বাইরে চলে এলো।

তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

হঠাৎ পিছন থেকে আরাফাত ডাকল।

“আয়ান…”

আয়ান থামল।

কিন্তু পেছনে তাকালো না।

আরাফাত ধীরে বলল,
“আমি জানি আমি খুব বড় ভুল করেছি।”

আয়ানের কণ্ঠ ঠান্ডা।

“তাহলে করলেন কেন?”

আরাফাত চোখ নামিয়ে ফেলল।

“আমি কাউকে ঠকাতে চাইনি।”

“কিন্তু সবাইকে কষ্ট দিলেন।”

কথাটা বলেই আয়ান চুপ হয়ে গেল।

সে কখনো বড় ভাইয়ের সঙ্গে এভাবে কথা বলেনি।

---

কিছুক্ষণ পর রহমান সাহেব বাইরে এলেন।

তার চোখে ক্লান্তি।

“বাবা… আমি তোকে জোর করবো না।”

আয়ান মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।

“কিন্তু একটা মেয়ের জীবন আজ ভেঙে যাচ্ছে। তুই ছাড়া এখন আর কোনো পথ দেখছি না।”

আয়ান চোখ বন্ধ করল।

তার ভেতরে প্রচণ্ড অস্থিরতা।

সে এই বিয়ের জন্য প্রস্তুত না।

যে মেয়েকে সে চিনেও না, তাকে হঠাৎ করে বিয়ে?

তার ওপর… সে তো তার বড় ভাইয়ের জন্য ঠিক হওয়া মেয়ে।

কিন্তু ঘরের ভেতরের কান্না, বাবার কণ্ঠের অসহায়তা—সবকিছু তাকে ভেঙে দিচ্ছিল।

অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর সে ধীরে বলল—

“আপনারা যেটা ভালো মনে করেন…”

রহমান সাহেবের চোখ ভিজে উঠল।

---

সেদিন রাতেই বদলে গেল কয়েকটা মানুষের জীবন।

আর মেহরিন প্রথমবার অনুভব করল—

কখনো কখনো ভাগ্য মানুষের নীরব প্রার্থনাও শুনে ফেলে।

13/05/2026

#অপ্রকাশিত_ভালোবাসা
Rakib Ahmed

পর্ব – ৩

ভাঙনের শুরু

বিয়ের দিন।

সকাল থেকেই বাড়িটা কোলাহলে ভরা।

ড্রয়িংরুমে আত্মীয়স্বজন, উঠানে সাজানো চেয়ার, রান্নাঘরে একের পর এক পদ তৈরি হচ্ছে।

নাসরিন বেগমের মুখে ক্লান্তি থাকলেও চোখে আনন্দ।

মিম তো একদম স্থির থাকতে পারছে না।

“আম্মু, আমি কি এখন শাড়ি পরবো?”

“না, বোকা মেয়ে! এখনো অনেক সময় আছে।”

আয়ান সবকিছু চুপচাপ দেখছিল।

তার চোখ বারবার বড় ভাই আরাফাতকে খুঁজছিল।

কিন্তু আরাফাত কোথাও নেই।

একজন আত্মীয় এসে বলল,
“বর কোথায়?”

রহমান সাহেব একটু চিন্তিত হয়ে ফোন ধরলেন।

“আরাফাত, তুমি কোথায়?”

ওপাশ থেকে কিছুক্ষণের নীরবতা।

তারপর খুব নিচু গলায় উত্তর এলো,
“আব্বু… আমি আসছি।”

কিন্তু সেই কণ্ঠে কোনো নিশ্চয়তা ছিল না।

---

বিকেল গড়িয়ে এলো।

বিয়ের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে।

মেহরিনকে সাজিয়ে আনা হলো।

লাল বেনারসি, ভারী গয়না, মাথায় ঘোমটা।

সে আয়নায় নিজের দিকে তাকাল।

নিজেকেই চিনতে পারল না।

“এটা কি আমি?”

তার বুকের ভেতর অদ্ভুত শূন্যতা।

কারণ তার সামনে যে জীবন শুরু হতে যাচ্ছে, তার জন্য সে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না।

---

অন্যদিকে আয়ান বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল।

হঠাৎই তার চোখে পড়ল বড় ভাই আরাফাত গেট দিয়ে ঢুকছে।

কিন্তু তার হাঁটায় কোনো স্বাভাবিকতা নেই।

মুখ ফ্যাকাশে।

চোখে অদ্ভুত একটা দৃঢ়তা।

আয়ান এগিয়ে গেল।

“ভাইয়া!”

আরাফাত থেমে গেল।

কিছুক্ষণ আয়ানের দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর খুব ধীরে বলল,
“আজ আমি বিয়ে করতে পারবো না।”

আয়ান স্তব্ধ হয়ে গেল।

“মানে কী বলছেন?”

আরাফাত গভীর শ্বাস নিল।

তার কণ্ঠ কাঁপছে না, কিন্তু চোখে ব্যথা স্পষ্ট।

“আমি আগে থেকেই কাউকে ভালোবাসি, আয়ান।”

এই কথাটা শুনে চারপাশ যেন থেমে গেল।

“আমি ভুল করেছি… কিন্তু এই বিয়ে আমি করতে পারবো না।”

আয়ানের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।

পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই হতবাক।

নাসরিন বেগম কাঁপা গলায় বললেন,
“আরাফাত… তুই কী বলছিস?”

কিন্তু আরাফাত আর কিছু বলল না।

শুধু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।

---

ঘরের ভেতরে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো।

বিয়ে থেমে গেল।

মেহরিন এখনো সাজানো ঘরে বসে আছে।

তার চোখের সামনে হঠাৎ সবকিছু থমকে গেছে।

কেউ কিছু বলছে না।

কেউ কিছু বুঝছে না।

শুধু একটা সিদ্ধান্ত—সবকিছু বদলে দিয়েছে।

---

কিছুক্ষণ পর রহমান সাহেব ভারী কণ্ঠে বললেন,
“এই অসম্মান আমরা সহ্য করতে পারবো না।”

সবাই চুপ।

তখনই নাসরিন বেগম কাঁপা গলায় বললেন,
“তাহলে এখন কী হবে?”

সব চোখ আয়ানের দিকে গেল।

আয়ান কিছু বুঝে উঠতে পারছিল না।

তার ভেতর শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরছে—

“এখন এই মেয়েটার কী হবে?”

---

আর সেখান থেকেই শুরু হলো সেই মুহূর্ত—

যেটা কেউ কল্পনাও করেনি।

12/05/2026

#অপ্রকাশিত_ভালোবাসা
Rakib Ahmed

পর্ব – ২

বিয়ের প্রস্তুতি আর না বলা অস্থিরতা

বিয়ের দিন যত এগিয়ে আসছিল, রহমান সাহেবের বাড়িতে ততই ব্যস্ততা বাড়ছিল।

আত্মীয়স্বজনের যাতায়াত, কেনাকাটা, হল বুকিং—সব মিলিয়ে বাড়িটা যেন ছোটখাটো এক উৎসবস্থল।

নাসরিন বেগম সারাদিন রান্নাঘর আর অতিথিদের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করছেন।

মিম তো পুরোপুরি উত্তেজনায় ভাসছে।

“আম্মু, আমার নতুন জামাটা কেমন লাগবে?”

“আম্মু, আমি কি হেল্প করবো?”

তার প্রশ্ন শেষই হয় না।

আয়ান চুপচাপ সবকিছু দেখছিল।

সে খেয়াল করছিল—বড় ভাই আরাফাত আগের মতো নেই।

সে কম কথা বলে, চোখে সবসময় একটা চাপা অস্থিরতা।

একদিন রাতে আয়ান সাহস করে বলল,
“ভাইয়া, আপনি ঠিক আছেন তো?”

আরাফাত কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর হালকা হেসে বলল,
“হ্যাঁ… ঠিক আছি।”

কিন্তু সেই হাসিতে ঠিক থাকার কোনো চিহ্ন ছিল না।

---

অন্যদিকে মেহরিনের জীবনও থমকে গেছে।

তার পরিবার বিয়ের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছে।

লাল বেনারসি, গয়না, সবকিছু ঠিকঠাক।

কিন্তু মেহরিনের চোখে এখন আর আগের সেই শান্তি নেই।

সে জানে—সে যার কথা কখনো বলেনি, সে এখনো তার হৃদয়ে আছে।

আয়ান।

নিজেকে বারবার বুঝিয়েছে, “এটা ঠিক না।”

কিন্তু হৃদয় যুক্তি মানে না।

এক সন্ধ্যায় সে একা বসে ডায়েরি লিখছিল।

“যে মানুষটা আমাকে কখনো চিনেও না,
তার জন্য আমি এতটা জড়িয়ে গেলাম কেন?”

কলম থেমে গেল।

চোখ ভিজে উঠল।

---

ঠিক সেই সময়ই আয়ানের জীবনেও এক অদ্ভুত পরিবর্তন শুরু হচ্ছিল।

সে লক্ষ্য করছিল—বাড়িতে বিয়ের আলোচনা যত বাড়ছে, বড় ভাই ততই চুপ হয়ে যাচ্ছে।

একদিন রাতে আরাফাত হঠাৎ করে আয়ানের কাছে এলো।

“আয়ান…”

“জি ভাইয়া?”

আরাফাত কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তার চোখে ভারী একটা চাপা কষ্ট।

“যদি… কোনোদিন কিছু এমন হয়, যেটা আমি সামলাতে না পারি…”

আয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,
“মানে?”

আরাফাত আর কিছু বলল না।

শুধু মাথা নিচু করে চলে গেল।

আয়ান সেদিন প্রথম বুঝল—এই বিয়ের ভেতরে কিছু একটা গভীরভাবে ভুল আছে।

---

বিয়ের আগের রাত।

পুরো বাড়ি আলোতে ভেসে যাচ্ছে।

মিম ঘুমাতে পারছে না।

“আম্মু, কাল আমার ভাইয়ের বিয়ে!”

নাসরিন বেগম হাসলেন,
“ঘুম না হলে কাল ক্লান্ত হয়ে যাবি।”

কিন্তু মিমের উত্তেজনা কমছে না।

অন্যদিকে আয়ান বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।

হালকা বাতাস বইছে।

দূরে শহরের আলো ঝিলমিল করছে।

সে জানে না কেন, কিন্তু তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অস্থিরতা কাজ করছে।

যেন আগামীকাল শুধু বিয়ে না—
কিছু একটা বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে।

আর সেই পরিবর্তন তাদের সবার জীবনকে একেবারে নতুন পথে নিয়ে যাবে।

11/05/2026

#অপ্রকাশিত_ভালোবাসা
Rakib Ahmed

পর্ব – ১

সুখী পরিবারের ভেতরের গল্প

সকালটা শুরু হয়েছিল একেবারে সাধারণভাবেই।

রহমান সাহেবের বাড়িতে প্রতিদিনের মতোই ব্যস্ততা, হাসি আর ছোট ছোট দুষ্টুমি।

বাবা-মা, দুই ভাই আর এক ছোট মেয়ে—এই নিয়েই তাদের ছোট্ট সুখী পরিবার।

নাসরিন বেগম রান্নাঘরে ব্যস্ত, এক হাতে চুলায় দুধ ফুটছে, অন্য হাতে পরোটা উল্টাচ্ছেন।

“মিম! স্কুলে যেতে দেরি করবি না,”—তিনি রান্নাঘর থেকেই চেঁচিয়ে বললেন।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়া মিম মুখ ফুলিয়ে বলল,
“আম্মু, আজকে যেতে ইচ্ছা করছে না।”

আয়ান সোফায় বসে বই পড়ছিল। সে হেসে বলল,
“এটা প্রতিদিনের ডায়ালগ হয়ে গেছে।”

মিম চোখ রাঙিয়ে বলল,
“তুমি চুপ করো ভাইয়া। তুমি তো শুধু ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি করো।”

আয়ান শান্ত স্বভাবের ছেলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে পড়ে। খুব বেশি কথা বলে না, নিজের জগতে থাকতে ভালোবাসে।

ঠিক তখনই বড় ভাই আরাফাত ঘর থেকে বের হলো।

ইস্ত্রি করা শার্ট, হাতে অফিস ব্যাগ। সরকারি চাকরি করে। পরিবারের সবচেয়ে দায়িত্ববান ছেলে।

রহমান সাহেব খবরের কাগজ নামিয়ে বললেন,
“আরাফাত, আজ একটু তাড়াতাড়ি আসিস।”

“কেন আব্বু?”

নাসরিন বেগম হেসে বললেন,
“মেয়েপক্ষ আসবে।”

মিম লাফ দিয়ে উঠল,
“ইসস! বড় ভাইয়ার বিয়ে!”

আরাফাত একটু অস্বস্তি নিয়ে বলল,
“এখনই এত তাড়াহুড়ো কেন?”

বাবা শান্ত গলায় বললেন,
“সময় হয়ে গেছে, বাবা।”

আয়ান শুধু চুপচাপ শুনছিল।

তার মনে তখনও কোনো ধারণা ছিল না—এই সাধারণ সকাল খুব শীঘ্রই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের শুরু হতে যাচ্ছে।

---

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়ানের দিনগুলো কাটত একঘেয়ে কিন্তু শান্তভাবে।

ক্লাস, লাইব্রেরি আর বন্ধুদের মাঝে সীমাবদ্ধ জীবন।

কিন্তু তারই অজান্তে, একই ক্যাম্পাসে এক মেয়ে তাকে নীরবে দেখে যেত।

মেয়েটির নাম মেহরিন।

ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী, আয়ানের এক বছরের সিনিয়র।

সে আয়ানের সঙ্গে কখনো কথা বলেনি।

কিন্তু দুই বছর ধরে দূর থেকে তাকে দেখে এসেছে।

লাইব্রেরির সামনে দাঁড়ানো আয়ান,
ক্লাস শেষ করে একা হাঁটা আয়ান,
বৃষ্টি হলে ছাতা ছাড়া দাঁড়িয়ে থাকা আয়ান—

সবকিছুই মেহরিনের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিল।

কিন্তু সে কখনো কিছু বলেনি।

কারণ কিছু ভালোবাসা বলা হয় না—শুধু অনুভব করা হয়।

দিনগুলো এগোতে থাকে।

আরাফাতের বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়।

পরিবারে আনন্দ, ব্যস্ততা, আত্মীয়দের ফোন কল—সব মিলিয়ে এক উৎসবের পরিবেশ।

কিন্তু এই উৎসবের মাঝেই একজন মানুষের ভেতরে ধীরে ধীরে অজানা এক ঝড় জমতে শুরু করেছিল—

মেহরিনের।

কারণ যে বিয়েতে সে যাচ্ছে, সেখানে তার জায়গা নির্ধারিত…
কিন্তু তার হৃদয় এখনো অন্য কাউকে চুপচাপ ভালোবেসে যাচ্ছে।

21/04/2026

#বিয়ে_বাড়ির_সেই_রাত
সকল পর্ব
Rakib Ahmed
1.https://www.facebook.com/share/p/1Apwxu54mi/

2..https://www.facebook.com/share/p/1FnfWjGkzF/

3..https://www.facebook.com/share/p/18G9CBXf3n/

4..https://www.facebook.com/share/p/1ArfQjzujM/

5..https://www.facebook.com/share/p/1Dne3Jpp59/

6..https://www.facebook.com/share/p/1FWsbyBAW2/

7..https://www.facebook.com/share/p/1NPiR332tA/

8..https://www.facebook.com/share/p/1GvBdtLjH1/

9..https://www.facebook.com/share/p/1KqbYnGrin/

10..https://www.facebook.com/share/p/18ahyeKqee/

11..https://www.facebook.com/share/p/1CnyvTFz7u/

12..https://www.facebook.com/share/p/1NB7Hydwhm/

13..https://www.facebook.com/share/p/1AqhV9QY97/

14..https://www.facebook.com/share/p/1EaK3FZPge/

15..https://www.facebook.com/share/p/1L2qqMzqeh/

16..https://www.facebook.com/share/p/18Q9koHc2Q/

17..https://www.facebook.com/share/p/1FhVp3KHmz/

18..https://www.facebook.com/share/p/1CMxtMCKiA/

19..https://www.facebook.com/share/p/18Hi2yymMq/

20..https://www.facebook.com/share/p/17de51fJ2L/

21..https://www.facebook.com/share/p/1GgYobTJCt/

22..https://www.facebook.com/share/p/1Ba4MvVh2y/

23..https://www.facebook.com/share/p/1B5ukKcXnU/

24..https://www.facebook.com/share/p/1HcHcXdetp/

25..https://www.facebook.com/share/p/1GZswUqZHy/

26..https://www.facebook.com/share/p/18GZRYLU65/

27..https://www.facebook.com/share/p/1PGiWocAua/

28..https://www.facebook.com/share/p/1KmWi83uKx/

29..https://www.facebook.com/share/p/1DoULKCbTw/

30..https://www.facebook.com/share/p/1AueN2bdSq/

31..https://www.facebook.com/share/p/17UiDUktCd/

32..https://www.facebook.com/share/p/1ChtPKox7q/

33..https://www.facebook.com/share/p/19eEobKA1a/

34..https://www.facebook.com/share/p/1DEUrMLWep/

35..https://www.facebook.com/share/p/1KG5kY6545/

36.https://www.facebook.com/share/p/1GyyPBudNY/

21/04/2026

📖 উপন্যাস: বিয়ে বাড়ির সেই রাত
#বিয়ে_বাড়ির_সেই_রাত

অধ্যায় ছত্রিশ (শেষ অধ্যায়)
নতুন ভোর
ভোরের আলোটা রাজশাহীতে আলাদা।
রাতের আবেগ ধীরে ধীরে মুছে যায়,
কিন্তু রেখে যায় একধরনের স্বচ্ছতা—
যেন সবকিছু নতুন করে শুরু করার সুযোগ।
নীলা ছাদের সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে থামল।
রাতের সেই মুহূর্তগুলো
আর আবেগের গভীরতা
এখনো বুকের ভেতর গরম হয়ে আছে।
কিন্তু আজ আর অস্থিরতা নেই।
আছে শান্তি।
নিচে উঠোনে বিয়ে বাড়ির সকালের ব্যস্ততা।
কেউ চা বানাচ্ছে,
কেউ অতিথিদের জাগাচ্ছে,
কেউ হাসতে হাসতে রাতের গল্প টানছে।
নীলা মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করছিল।
মা একবার তার দিকে তাকিয়ে বললেন,
“আজ তো তোর মুখটা অন্যরকম লাগছে।”
নীলা হালকা হেসে বলল,
“ঘুম ভালো হয়েছে মা।”
মা আর কিছু বললেন না।
কিন্তু মায়েদের চোখ
অনেক কিছু বুঝে ফেলে।
আরিফ উঠোনের একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল।
সকালের আলোয় নীলাকে দেখতে দেখতে
তার মনে হচ্ছিল—
এই মানুষটাকে সে শুধু ভালোবাসে না,
সে তাকে বেছে নিয়েছে।
চোখাচোখি হলো।
কোনো হাত নাড়া নয়,
কোনো ইশারা নয়।
শুধু একটুখানি হাসি।
এই হাসিতেই
সব প্রতিশ্রুতি লুকিয়ে।
নাশতার টেবিলে
সবাই একসাথে বসলো।
হাসি, কথা,
পরিচিত পারিবারিক দৃশ্য।
আরিফ আর নীলা মুখোমুখি বসে।
কথা খুব কম,
কিন্তু উপস্থিতি গভীর।
একসময় মামা বললেন,
“এই বাড়িটা তোকে আবার ডাকবে রে আরিফ।”
আরিফ হাসল।
“আসবো মামা।”
নীলা তাকিয়ে রইল।
এই “আসবো” শব্দটার ভেতর
আজ অন্য অর্থ।
বিদায়ের সময় এলো।
এবার আর আগের মতো ভারী লাগল না।
নীলা গেটের কাছে দাঁড়িয়ে বলল,
“এই গল্পটা…
এখানেই শেষ না।”
আরিফ শান্তভাবে উত্তর দিল,
“না। এখান থেকেই শুরু।”
কোনো চুমু নয়,
কোনো আলিঙ্গন নয়।
শুধু দৃঢ় দৃষ্টি।
বাস চলতে শুরু করল।
রাজশাহীর বাড়িটা ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে গেল।
কিন্তু এইবার
কিছু ফেলে আসা নয়—
বরং কিছু সঙ্গে নেওয়া।
বিশ্বাস।
ভালোবাসা।
আর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা।
এই গল্পটা
হঠাৎ প্রেমের নয়।
এই গল্পটা
ধীরে গড়ে ওঠা
দুজন মানুষের একসাথে হাঁটার গল্প।
বিয়ে বাড়ির সেই রাত
ছিল এক সন্ধিক্ষণ—
যেখান থেকে শুরু হলো
একটা স্থায়ী ভোর।

Address

Sirajgonj
Sirajganj
6700

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rakib Ahmed posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share