22/01/2026
রাজনৈতিক দলগুলো বলছে না- তারা কি দেবে, কি দেবে না। তারা নব্বই দশকের রাজনীতির কাঁদা ছোড়াছুড়িতে ব্যাস্ত। নাগরিক হিসেবে আমরা কি আমাদের চাহিদার কথা বলতে পারি না?
১) ১০০ টাকার বিদ্যুৎ ৩০০ টাকায় কেনার যে গোলামী চুক্তি আদানি/হাসিনা করছে তা যে বাতিল করবে - তারে ভোট দিবো। ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার তসরুপ করা চোরদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। (কানসাট এ বিদ্যুৎ এর দাবিতে পুলিশের গুলিতে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের ক্ষতি পূরণ দিতে হবে)
২) ঋণ খেলাপিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ঋণ পরিশোধ এর ব্যবস্থা যে করবে - তারে ভোট দিবো। প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করতে হবে - শিল্প গ্রুপগুলো যাতে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩) ব্যাংক চোরদের টাকা যারা ফেরত আনবে - চোরদের বিচারের আওতায় আনবে - তারে ভোট দিবো। শেয়ার বাজার চুরির বিচার যে করবে তারে ভোট দিবো। ব্যাংক ও শেয়ারবাজার থেকে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন দূর করবে যারা তাদেরকে ভোট দিবো। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দিতে হবে।
৪) জুলাই গনহত্যার বিচার যে করবে, বিচার বহির্ভূত হত্যার বিচার যে করবে, গুমের বিচার যে করবে, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার যে করবে - তারে ভোট দিবো।
৫) উন্নয়ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিবে তাদের বয়কট করতে হবে। কক্সবাজার এয়ারপোর্ট আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট করতে BIWTA এর কে বা কারা বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে - দ্রুত সমাধান করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প যাতে দুর্নীতি মুক্ত করা যায় তার প্রতিশ্রুতি যারা দিবে - তাদেরকে ভোট দিবো।
৬) রাষ্ট্রপতিকে যারা পুতুল বানিয়ে রাখতে চায়, শুধু দলীয় খুনীদের ক্ষমা করতে রাখে, যারা ক্ষমতার ভারসাম্য চায় না - তাদেরকে বয়কট করবো। যারা পরিবারতন্ত্রের জালে দলীয় মুর্তি পুজা করে - তাদেরকে ভোট দিবো না। গনতন্ত্রের আধুনিকায়ন জাতির অগ্রগতির জন্য আবশ্যক।
৭) এই দেশের অগ্রগতির জন্য পোশাক শ্রমিক এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের চোর বাটপার দালালদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। তাদেরকে সরকারের তহবিল থেকে এবং পোশাক শিল্প মালিকদের যৌথ তহবিলের মাধ্যমে পেনশন স্কিম এর আওতায় আনতে হবে। পোশাক শিল্প মালিকদের ট্যাক্স ওয়েভার এর নামে ৫০০/৭০০ কোটি টাকা দেওয়ার নামে রাষ্ট্রের তহবিল তসরুপ এর কালো আইন বাতিল করতে হবে এবং এনবিআর ঢেলে সাজাতে হবে - যারা প্রতিশ্রুতি দেবে, তাদেরকে ভোট দিবো।
৮) ছাত্র / শিক্ষক, কেরানী / সচিব, সংবাদমাধ্যম / সাংবাদিক, চৌকিদার / সেনাপতি, পুলিশ / মোক্তার / আদালত / ডাক্তার / হাসপাতাল / প্রকৌশলী সবাইকে গনতান্ত্রিক রাজনীতির আওতার বাইরে রাখতে হবে, তারা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক নেতাদের আদেশ নিষেধ চোখ রাঙানি থেকে মুক্ত থাকবেন। সকলে স্বাধীন ভাবে তার দ্বায়িত্ব পালন করবেন। ইউপি মেম্বার থেকে প্রধানমন্ত্রী সকলেই রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা/ কর্মচারী - তাদের সকলেই তার কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে বাধ্য - একথা যারা মানেন, বিশ্বাস করেন এবং আইনি সংশোধন এর মাধ্যমে পালন করবেন - তাদেরকে ভোট দিবো।
৯) গনতন্ত্র হলো সঠিক প্রার্থী নির্বাচিত করার মাধ্যমে কাউকে পাঁচ বছর এর জন্য নির্দিষ্ট দ্বায়িত্ব দেয়া। দ্বায়িত্ব গ্রহণ করার পর সে তার সাংবিধানিক আওতার ভিতরে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করবেন, তাকে ভোট না দিলেও তাকে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবেন না। কাউকে হুমকি ধামকি দেওয়ার অধিকার তার নাই। চাঁদাবাজি / ঠিকাদারি আইনত নিষিদ্ধ। সে এলাকার পিও অভিভাবক নয়। সে ভগবান বা ঈশ্বর নয়। থানা পুলিশ ব্যবহার করে কাউকে হেনস্থা করবার অধিকার তার নাই। দলীয় নির্দেশে শটগান হাতে নিরস্ত্র নাগরিক এর খুলিতে গুলি করার অধিকার তার নাই। একথা যারা মানেন বা প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে এমন গনতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি দিবেন- তাদের ভোট দিবো।
একদল ক্ষমতায় থাকলে অন্য দল জেল জুলুম আর পলাতক থাকবে তার নাম গনতন্ত্র নয়। পাকিস্তান ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। পাকিস্তান টেনে এনে শিবের গীত গাওয়া রাজনৈতিক ফায়দা তোলার কিছু নাই।
১০) যারা ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের গনতান্ত্রিক পথচলা এবং সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে সংস্কার জরুরি দরকার মনে করেন - তাদেরকে ভোট দিবো।
১১) নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে। খাদ্য / পানীয় / কীটনাশক / সার / বীজ থেকে হেভিমেটাল দূর করতে হবে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা সহ অনেক নদী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ গাজীপুরের মতন ঘনবসতির জনপদের কোটি মানুষের মল মূত্র দিয়ে দূষিত। প্রত্যেক পৌরসভা প্রত্যেক সিটি করপোরেশনের এক বা একাধিক সেন্ট্রাল ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি করে - সিউয়ার এর পানি একটা সহনীয় এবং পরিবেশ বান্ধব মাত্রায় পরিশোধের মাধ্যমে নদীতে ছাড়তে হবে। যারা এমনটা বিশ্বাস করেন তাদের ভোট দিবো।
১২) আমরা ওদের ইলিশ দেই না- ওরা কিনে নেন, তেমনি ডাল পিয়াজ ওরা দেয় না- আমরা কিনে খাই। প্রতিহিংসার জন্য ভারত বিরোধিতা করার দরকার নাই, ভারতীয় নাগরিক তার যোগ্যতা এবং দক্ষতার বলে এদেশের লক্ষ লক্ষ চাকুরির পদ দখল করে আছে ; সেই দক্ষতা এবং যোগ্যতার ঘাটতি পূরণ এ যারা পদক্ষেপ নিবে - তাদের ভোট দিবো।যারা বিশ্বাস করেন যে কোটি কোটি বোর্ড বই বাংলাদেশের প্রিন্ট প্রেস শিল্প ব্যবহার করে ছাপানো যায়- তাদের ভোট দিবো।যারা মনে করেন আমাদের শিল্প সংস্কৃতি নাটক সিনেমা সঙ্গীত এসবকিছুর উন্নয়ন এর মাধ্যমে আমরা প্রতিবেশীর অপসংস্কৃতির বলয় থেকে বের হয়ে আসবো- তাদেরকে ভোট দিবো। যারা মানেন এবং বোঝেন যে আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে আমাদের নদীর জলের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে - যারা অধিকার বুঝে নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ - তাদের ভোট দিবো। ট্রানজিটের সকল চুক্তি 'গোলামির ভিত্তিতে নয় ন্যায্যতার ভিত্তিতে' রিভিউ করতে হবে। যারা তা চায়- তাদেরকে ভোট দিবো।
১৩) একসময় দাস প্রথা স্বাভাবিক ছিলো, আজ নয়, রাজনৈতিক চিন্তা চেতনার দাসত্ব বর্জন করে যারা দেশকে এগিয়ে নিতে চায়- তারা সংস্কার এবং প্রগতির পথে হাটতে চায় বলে বিশ্বাস করি। যারা শুধু বাংলাদেশ🇧🇩 পন্থী - তাদের ভোট দিবো।
১৪) সংবিধানের যে ধারা বলে - দলীয় নেতার বিরুদ্ধে ভোট দিলে সদস্য পদ বাতিল, সেই অগণতান্ত্রিক এবং ফ্যাসিজমের বীজ বুনে দেওয়া ধারা যারা বাতিল করবে, তাদেরকে ভোট দিবো।
১৫) আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সমুদ্র ও বিমানবন্দর সমূহ চোর সিন্ডিকেট এর হাত থেকে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন দেশী+বিদেশি জয়েন্ট ভেঞ্চারে দিতে হবে - তাতে দেশি কোম্পানির সক্ষমতা বাড়বে এবং চুরি দুর্নীতি দূর হবে - এ বিষয় এ যারা অগ্রগামী ভূমিকা রাখবেন - তাদেরকে ভোট দিবো।
১৬) যারা ক্ষমতায় এসে বিরোধীদের দমন পীড়ন হামলা মামলা করবে না; যারা সমালোচনা শুনে কন্ঠ রোধ করতে চাইবে না- বাক স্বাধীনতা থাকবে - তাদের ভোট দিবো।
উপরোক্ত পয়েন্ট বিবেচনায় ভোট দেওয়ার প্রার্থী নাই সত্য - যার সাথে নূন্যতম মিলবে - তাকে ভোট দিবো।🇧🇩🇧🇩🇧🇩🇧🇩 শুধু বাংলাদেশ পন্থী রাজনীতির জন্য 'হ্যাঁ'