Dr. MK Kabir

Dr. MK Kabir German Immigration & Life, German Free Education, Rules and My Own Thoughts Facebook: www.facebook.com/MKMKMKKabir

জার্মানিতে স্টাডি, ইমিগ্রেশন, গাইড লাইন, নিয়ম-কানুন, দৈনন্দিন-জীবনে চলার জন্যে তথ্য যা কিনা একজন বাংলাদেশির জন্যে দরকার হতে পারে, তা আপনারা পাবেন এই পেজ এ। যেকোনো আপডেট পেতে সাথে থাকুন! ধন্যবাদ আপনাদেরকে!

02/06/2026

আমার পরিচিত একটি জার্মান কোম্পানি নিচের কোয়ালিফিকেশনের একটি পসিশন এর জন্যে ইঞ্জিনিয়ার খোঁজছে:

Software Developer – Secure RaSTA Communication (TCP/TLS) for Cyber Security:

Role Overview:

We are seeking an experienced Software Developer to design and implement a RaSTA communication stack over TCP with TLS, aimed at replacing legacy crypto hardwares (e.g., IT-Sec gateways / cryptoboxes) with a software-based, end-to-end secure solution

Key Responsibilities:

Develop and maintain a RaSTA over TCP communication stack
Integrate TLS-based security for end-to-end encryption and data integrity
Replace hardware-based cryptographic solutions with software-based security architecture
Ensure compliance safety standards and cybersecurity frameworks
Analyze and optimize performance, latency, and stability of TLS-secured communication
Support testing, simulation (e.g., CANoe), and debugging of network communication

Required Skills:
Strong experience in C/C++ or Python software development
Solid knowledge of TCP/IP networking and communication protocols
Hands-on experience with TLS / cryptographic protocols

Preferred Qualifications:
Minimum a Bachelor's degree in Computer, Electrical or similar fields

Job Location: Greater Frankfurt, Germany

আপনার আগ্রহ প্রকাশ করে এখানে কমেন্ট অথবা আমায় সিভি ইনবক্স করতে পারেন। কোম্পানির HR আপনার সাথে যোগাযোগ করবে যদি আপনি কোয়ালিফায়েড হন।

31/05/2026
জার্মানিতে কোরবানির ঈদ-কষ্ট, ঈদ-আনন্দ  এবং আগামী রবিবারের স্টুডেন্ট গেট-টুগেদার: আপনাদের জানাই পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছ...
29/05/2026

জার্মানিতে কোরবানির ঈদ-কষ্ট, ঈদ-আনন্দ এবং আগামী রবিবারের স্টুডেন্ট গেট-টুগেদার:

আপনাদের জানাই পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা!
ঈদ মুবারক!
জার্মানিতে মাস্টার'স করার জন্যে প্রথম যখন এসেছিলাম তার কিছুদিন পরেই ছিল কোরবানীর ঈদ৷ কুরবানীর ঈদটি মুসলমানদের জন্যে বিশেষভাবে আনন্দের দিন৷ গরু কিনতে যাওয়া, গরু কিনে নিয়ে আসা, গরুকে এটা-সেটা খাওয়ানো, গোসল দেয়া, দা-বটি প্রস্তুত করা, মাংস কাটা, মাংস বিলি করা। ঈদের দিন গরু কাটা-কাটির শুরুতেই আম্মা একটি পাতিল পাঠিয়ে দিত রান্নার মাংস, কলিজা দিয়ে দেবার জন্যে। মাংস কাটাকুটি শেষ করেই ফ্রেশ রান্নার মজা অন্য কোনো রান্নার সাথেই তুলনা করা যায় না। দেশে কুরবানী ঈদের পুরা আনন্দটা পরিবারের প্রতিটি মানুষই এক সাথে ভোগ করে।

যাই হোক। জার্মানির প্রথম ঈদের দিনটিতে ঈদের নামাজ পরে যখন বাসায় ফিরছিলাম, তখন মনে পড়ছিলো দেশের ঈদ পালনের মুহূর্তগুলির কথা। ঈদের দিনের মাংস খাবার কথা। আর ভাবছিলাম, আমার এখানে তো আজকে কুরবানীর মাংস তো দূরের কথা, কোনো রান্নাই করিনি। কষ্ট লাগলো অনেক মনের মধ্যে। ভাবলাম, আল্লাহ যখন তৌফিক দিবেন, তখন থেকে এ দেশেও কোরবানি দিব।

আমি যেহেতু নিজে স্টুডেন্ট ছিলাম, স্টুডেন্ট থাকাকালীন সময়ের কষ্টগুলি বুঝি অনেকটাই। কত কত লিমিটেশন, টেনশন এর জীবন।

কিছুদিন আগে চিন্তা করলাম, আমি এবার স্টুডেন্টদের সাথে একটি দিন কুরবানীর মাংস দিয়ে রান্না করা খাবার খাবো। কয়েকজন স্টুডেন্ট দায়িত্ব নিলো দাওয়াত দেয়ার। এ বছর সীমিত পরিসরে করছি। রেজিস্ট্রি করার লিংক আমার ফেইসবুক প্রোফাইলের ওয়াল এ দেয়া আছে।

ইনশাল্লাহ আগামী রবিরবার ৩১.০৫.২০২৬ এ দেখা হবে। আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া, ক্যারিয়ার সম্ভাবনা, জব মার্কেটসহ সব কিছু নিয়েই কথা এবং গল্প হবে ইনশাল্লাহ।

DB বা জার্মান রেলওয়ে: ন্যাশনাল প্রাইড থেকে ন্যাশনাল সাফারিং: পর্ব ২: সম্ভাব্য সমাধান এবং চ্যালেঞ্জেস: জার্মান রেলওয়ের জন...
24/05/2026

DB বা জার্মান রেলওয়ে: ন্যাশনাল প্রাইড থেকে ন্যাশনাল সাফারিং: পর্ব ২: সম্ভাব্য সমাধান এবং চ্যালেঞ্জেস:

জার্মান রেলওয়ের জন্যে সাফারিং এরই মধ্যে চরম পর্যায়ে চলে গিয়েছে। ঠিক সময়ে ট্রেন ছাড়া এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর হার অনেক কমে গিয়েছে। জার্মানিতে কোন ট্রেন যদি গন্তব্যে পৌঁছাতে ৬ মিনিটের বেশি লেট করে, তা হলে এটাকে ডিলে (Verspätung) হিসেবে ধরা হয়। তবে জার্মান সরকার DB এর বর্তমান সমস্যাগুলি সমাধানে রিসেন্ট বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।

১. ডিজিটালাইজ করা:
পুরাতন সিস্টেমের সংস্কারের পাশাপাশি বর্তমানে ট্রেন কন্ট্রোল এবং কম্যান্ড সিস্টেমকে মডার্নাইজ করে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। ট্রেন চালানো এবং কন্ট্রোল করার জন্যে কম্পিউটার বেসড সাব-সিস্টেম এবং আইপি কমিউনিকেশন, হ্যাকিং ঠেকিয়ে সিকিউরিটির জন্যে সবচেয়ে মডার্ন সাইবার-সিকিউরিটির ইন্ট্রোডিউস করা হচ্ছে। ট্রেন লাইনের পয়েন্ট মেশিন থেকে শুরু করে সিগন্যালিং এবং লেভেল ক্রসিং ডিজিটাল করা হবে। সব কিছু কম্পিউটার দিয়ে AI সহ প্রপার এলগোরিদম ব্যবহার করে এফিসিয়েন্টলি ট্রেন চালানো এবং কন্ট্রোল করা হবে। সাইবার এটাক ঠেকানোর জন্যে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার দুই লেভেলে সাইবার-সিকিউরিটি দেয়া হচ্ছে।

কিন্তু এ ক্ষেত্রেও অনেক সমস্যা। বর্তমানে ম্যানুয়াল ট্রেন চালানো এবং ম্যানুয়াল ট্র্যাক কন্ট্রোল করার জন্যে হাজার হাজার এমপ্লয়ী রয়েছে। ডিজিটাল করা হলে সব কিছু কম্পিউটার করবে। সে ক্ষেত্রে বর্তমানে যারা ম্যানুয়াল ট্রেন-ট্র্যাক কন্ট্রোল করে তাদের জব থাকবে না। শুরু হবে সামাজিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা, সরকারের বিরুদ্ধে মিটিং-মিছিল। কাজেই Deutschebahn চাইলেও রাতারাতি ডিজিটাল করা সম্ভব নয়। এটি আস্তে আস্তে করতে হবে (অনেকটা অমন যে, যারা রিটায়ারমেন্ট এ যাবে তাদের সমপরিমাণ কর্মীর কাজ ডিজিটাল করে কমানো হবে)।

২. অটোমেটেড ট্রেন চালানো:
অনেক সময় ট্রেন ড্রাইভার সিক হয়ে যেতে পারে, ড্রাইভাররা স্ট্রাইক করতে পারে। এতে ট্রেন চলা ব্যাঘাত ঘটে। এ জন্যে ইঞ্জিনিয়াররা অটোমেটেড ট্রেন বা ড্রাইভার ছাড়া ট্রেন চালানোর টেকনোলজি রেডি করছে।
কিন্তু এ ক্ষেত্রেও সমস্যা। অটোমেটেড ট্রেন চললে ড্রাইভাররা জবলেস হয়ে গিয়ে সামাজিক অস্থিরতা বাড়বে। কাজেই, এ ক্ষেত্রেও আস্তে চলার নীতিই মানতে হচ্ছে।

৩. অতি গণতন্ত্র:
অনেক জায়গায় নতুন লাইন তৈরী বা স্টেশন তৈরী করতে গেলে অনেক বাঁধা আসে। তারা কোর্টে গিয়ে এ সব প্রজেক্ট বছরের পর বছর ঝুলিয়ে দিতে পারে।
আমি একবার গর্ব করে এক জার্মান ম্যানেজারকে বলেছিলাম যে, আমাদের দেশের গণতন্ত্রে এই প্রব্লেমটা অন্তত নেই। উদাহরণ দিলাম, ঢাকার মেট্রো রেল বানানোর। সেখানে বিমান বাহিনীর আপত্তি, সংসদ ভবনের আপত্তির মত বাঁধা গুলি সরকার প্রধানের নির্দেশে খুব দ্রুত সমাধান হয়ে গিয়েছে। এবং ঢাকা শহরে একটি মেট্র- রেল করা গিয়েছে তুলনামূলক অনেক দ্রুতই, যেটি ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম কিছুটা হলেও কমানোর ভূমিকা রেখেছে।
জার্মানির মতো দেশের অতি গণতন্ত্রের যেমন ভালো ঠিক আছে, তেমনি খারাপ দিকও আছে। আমাদের দেশের গণতন্ত্রের খারাপ দিকের পাশা-পাশি কিছু ভালো দিকও আছে।

উপরের আলোচনার ভিত্তিতে এটি বলা যায় যে, জার্মানির ট্রেনের বর্তমান খুব খারাপ অবস্থার আশু কোনো সমাধান আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখছি না। উন্নতি আস্তে আস্তে আসবে। তবে এটি কত (দশক) বছর লাগে, সেটি দেখার বিষয়।
Wir müssen Geduld haben - আমাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে!

জার্মানিতে চাকুরী ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের সুনাম:শুরুটা হয়েছিল ২০২২ সালে। জার্মানিতে আমার অফিস জার্মান রেলওয়ে বা DB তে আমার...
17/05/2026

জার্মানিতে চাকুরী ক্ষেত্রে বাংলাদেশীদের সুনাম:
শুরুটা হয়েছিল ২০২২ সালে। জার্মানিতে আমার অফিস জার্মান রেলওয়ে বা DB তে আমার প্রজেক্টে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর জন্যে কম্পিউটার প্রোগ্রামার দরকার অনেক। ৬ জন জার্মান প্রোগ্রামার নিয়ে শুরু করলাম। জার্মানির দুইটি বড় কোম্পানিকে কন্ট্রাক্ট দিলাম আমায় কন্সালটেন্সি দেবার জন্যে। প্রজেক্টে যে স্কিল দরকার সে রকম কম্পিউটার প্রোগ্রামার জার্মানিতে পাওয়া হার্ড। যেহেতু জার্মান ভালো প্রোগ্রামার তখন পাচ্ছিলাম না, রিত্রুট করলাম ৩ জন বাংলাদেশী। সেটি আমার ডিপার্টমেন্টে ঘোষণা দিয়েই করলাম।

স্বদেশী নিয়োগের কাজটি অনেকটা রিস্ক নিয়েই করলাম। আমি জানি, যদি বাংলাদেশীরা ভালো পারফর্ম না করতে পারে, তা হলে এর জন্যে বদনামের ভাগ আমায় নিতে হবে। তারপরও নিলাম সেই রিস্ক। ভাবলাম নিজের দেশের মানুষের জন্যে তো রিস্ক নিতেই পারি। ৩ জনের মধ্যে একজন ভালো ফাঁকিবাজ এবং অদক্ষ বলে মনে হলো আমার কাছে কয়েক মাস পর। বার বার সতর্ক করার পরও কাংখিত উন্নতি দেখলাম না। অবশেষে বাদ দিলাম তাকে। বাকি ২ জন্যে মধ্যে একজনের ডেডিকেশন এর অভাব। সে তার সব কাজ জার্মানদের দিয়ে করিয়ে নিতো। বেশ কিছু দিন অবজার্ভ করার পর মনে হলো, হচ্ছে না তাকে দিয়েও। সেও বাদ। বাকি একজন টেকনিক্যালি খুব ভালো। তাকে তৈরী করলাম।
নিলাম আরো ২ জন বাংলাদেশী। নতুন ২ জন ভালো মোটিভেটেড। অনেক ইফোর্ট দিয়ে তারা একটি অবস্থান তৈরী করে নিলো আমার প্রজেক্টে। এর পর বিভিন্নভাবে ভালো মতো ইন্টারভিউ নিয়ে আরো অনেক বাংলাদেশী, জার্মান এবং ইউরোপিয়ান সফটওয়্যার ডেভেলপার নিলাম। দিন-রাত প্রজেক্টে সময় দিয়ে প্রতিটা ডেভেলপারকে প্রস্তুত করলাম, প্রজেক্টের কাজগুলি এগিয়ে নিলাম। আমার এবং অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের জার্মান কলিগরাও সব সময় সাপোর্ট করত।

আমার প্রজেক্টের গুরুত্ব যেহেতু অনেক বেশি জার্মানিতে, বাজেট পেতে সমস্যা হয়নি খুব একটা কখনো। যার ফলে বাড়তে লাগলো আমার প্রজেক্টের ইঞ্জিনিয়ার এবং কম্পিউটার সফটওয়্যার ডেভেলপার সংখ্যা দিনে দিনে।

দুই মাস আগে আমি আমার প্রজেক্টের প্রগ্রেস দেখানোর জন্যে প্রথমে আমার ডিপার্টমেন্ট এর অন্য কলিগদের ইনভাইট করলাম। তারা কাজের প্রগ্রেস দেখে প্রশংসা করলো।

এর পর ওয়ার্কশপ করলাম হাইয়ার ম্যানেজমেন্টকে নিয়ে গত সপ্তাহে। আমার টীম এর প্রতিটি ডেভেলপার দিন-রাত খেটে-খুটে প্ল্যান অনুযায়ী সব রেডি করলো। আমি মেইন প্রেজেনটেশন দিলাম। বাকিদের মধ্যে একেকটা টীম তৈরী করে, একজন টীম-লিডকে দায়িত্ব দিলাম তার টীম এর কাজ প্রেজেন্ট করার।

প্রজেক্টের কাজের প্রগ্রেস দেখে হাইয়ার ম্যানেজমেন্ট অনেক ইম্প্রেসড হলো। অনেক প্রশংসা করলো প্রজেক্টের, ডেভেলপারদের। আমার টীম এর যারা অন-সাইট ওই দিন প্রেজেন্ট ছিল তাদের নিয়ে পিকচারও তোললাম।

আমার বর্তমান টিমের সফটওয়্যার ডেভেলপার এবং ইঞ্জিনিয়াররা যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছে তাদের মধ্যে বুয়েট থেকে শুরু করে পাবলিক এবং প্রাইভেট সব ধরণের ইউনিভার্সিটি এর কম্বিনেশন আছে। এখানে পাঁচ জন পিএইচডি করা সহ জার্মান ডিগ্রী, বাংলাদেশী ডিগ্রী সবই আছে।

বাংলাদেশীদের ব্যাপারে আমার মূল্যায়ন হলো, তাদের অনেকেরই অনেক ভালো মোটিভেশন আছে, মেধা আছে। তবে তাদের জন্যে দরকার হয় একটা ভালো মেন্টর। একটা ভালো লিড। ভালো গাইড।এদেরকে ঠিক মতো গাউড এবং লিড দিলে বাংলাদেশিরাও অনেক ভালো রিজাল্ট দিতে পারে।

আমার টীম এর সবার জন্যেই আজ আমার আনন্দ হয়। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে, আমার নিজ দেশীদের জন্যে। এ জার্মান জীবনে জার্মানদের কাছ থেকে বাংলাদেদেশীদের প্রশংসা শুনলে মনটি ভরে যায়। তারা আমার সম্মান রেখে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে।
আমি গর্বিত আমার দেশ নিয়ে!

Deutschebahn (DB) বা জার্মান রেলওয়ে: ন্যাশনাল প্রাইড থেকে ন্যাশনাল সাফারিং: পর্ব ১: গত রবিবার বুয়েটের এক সিনিয়র ভাইয়ের (...
11/05/2026

Deutschebahn (DB) বা জার্মান রেলওয়ে: ন্যাশনাল প্রাইড থেকে ন্যাশনাল সাফারিং: পর্ব ১:
গত রবিবার বুয়েটের এক সিনিয়র ভাইয়ের (বর্তমানে বুয়েটের প্রফেসর) সাথে বিকেলে ফ্রাঙ্কফুর্টের এক রেস্টুরেন্টে বসে গল্প করছিলাম। তিনি IEEE পলিসি মেকিং গ্রুপের একটি মিটিংয়ে এটেন্ড করার জন্যে জার্মানি এসেছেন। বাংলাদেশের এবং জার্মানির উপর অনেক টপিক নিয়েই খোলামেলা আলোচনা। বুয়েটের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছিলো। এক পর্যায়ে উনি বললেন, আমরা আসলে পরিবর্তন বা ইম্প্রোভমেন্ট যেটা চাই, সেটি কেউই তেমন করতে পারি না। দায়িত্বে না থেকে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখি অনেক, কিন্তু দায়িত্বে যাবার পর খুব কম মানুষই পারি সিস্টেমের পরিবর্তন করতে। দায়িত্বে থেকে তিনিও করতে পারেননি অনেক অনেক আগে থেকে চলতে থাকা বুয়েট বা বাংলাদেশের অনেক সিস্টেমের পরিবর্তন।
পরের দিন সোমবার সকালে তিনি যাবেন বার্লিন। সেখান থেকে পর্তুগালের আরেকটি মিটিং ধরবেন অন্য ফ্লাইটে যেয়ে।
জিজ্ঞেস করলাম, ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে বার্লিন কিভাবে যাবেন। বললেন, ফ্লাই করে। জিজ্ঞেস করলাম, ট্রেনে না কেন? বললো, শুনেছি জার্মান ট্রেন নাকি ঠিক টাইম মত চলে না। সেজন্যে। আমায় জিজ্ঞেস করলেন, তুমি বলত দেখি, জার্মানির মত উন্নত একটি দেশের ট্রেনের অমন বদনাম কেন। অমন বদনাম গুছানোর জন্যে তোমরা কি করছ? উত্তর দিলাম, ওই যে আপনি বলছিলেন না যে, দায়িত্বে না থেকে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা যেমন সহজ, দায়িত্ব নিয়ে পরিবর্তন করা অনেক অনেক কঠিন। জার্মানিতেও ব্যাপারগুলি অনেকটা অমনি।

আমি জানি, জার্মানিতে থাকা আপনাদের অনেকেরই DB এর প্রতি সীমাহীন অভিযোগ।

তারপর বললাম আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে দেখা জার্মানির রেলওয়ের বা DB এর সমস্যাগুলির কারণ।

কি কি মূল কারণ (একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত):

১. অনেক পুরাতন ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং কন্ট্রোল সিস্টেম: জার্মানির বর্তমান ট্রেন লাইন এবং কন্ট্রোলিং সিস্টেম (যেমন, ট্র্যাক বানানোর পয়েন্ট মেশিন, ট্রেন ডিটেকশন সিস্টেম, পাওয়ার সাপ্লাই, সিগন্যালিং, লেভেল ক্রসিং, কন্ট্রোলিং সিস্টেম ইত্যাদি) অনেক বছরের পুরাতন যেগুলি ঠিক মতো রিনোভেশন করা হয়নি বিগত কয়েক দশক ধরে। যার ফলে, ঘন ঘন নষ্ট এবং ট্রেন ক্যানসেল বা ডিলে।

২. পলিটিকাল কারণ: বিগত সরকারগুলি কেউই রেলওয়ে মডার্নাইজেশন এর জন্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়নি। জার্মানির প্রচন্ড শক্তিশালী অটোমোটিভ সেক্টর যেমন মার্সিডিস-বেঞ্জ, বিএমডাব্লিউ, পরশে, অডি এদেরও নিজেদের অনেক লবি থাকে সরকারগুলিতে যারা হয়তো চায়নি ট্রেন উন্নতি করুক। ট্রেন উন্নতি করলে তাদের গাড়ি মানুষ কম ব্যবহার করবে। এজন্যে তারাও ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি ফ্যাক্টর হয়ে থাকতে পারে। দুনিয়াটা চালায় আসলে লৰিষ্টরাই।

৩. জার্মানির প্যাসেঞ্জের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়া: গাড়ির তেলের খরচ বেড়ে যাওয়া, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, কম দামের deutschland টিকেট চালু, শরণার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে প্যাসেঞ্জের সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। ২০১৫ সালের দিকে প্রায় এক মিলিয়ন সিরিয়ান রিফিউজি, ২০২২ সালের দিকে কয়েক মিলিয়ন ইউক্রেনিয়ান রিফিউজি জার্মানিতে আশ্রয় নিয়েছে। তারা জার্মানিতে অলমোস্ট সব কিছু ফ্রি পায় এবং অনেক জায়গার প্রায়োরিটি পায়। ফ্রি পেয়ে সারা দিন ঘুরাঘুরি করতে পারে অনেকেই। ট্রেন লাইনের ক্যাপাসিটি না বাড়িয়ে ট্রেনের পরিমান অনেক বাড়ানো হয়েছে। ক্যাপাসিটির ম্যাক্সিমাম ট্রেন চালানোর ফলে ঘন ঘন বিভ্র্রাট এবং ডিলে হয় ট্রেনের।

৪. সংস্কার কার্যক্রম: অনেক লাইনের সংস্কার চলমান থাকায় ঐসব লাইনে ট্রেন চালানো ব্লক করা থাকে। এর প্রেসার অন্য সব লাইনে পরে।

৫. সোশ্যাল, গণতন্ত্র, ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন, অটোমেটেড: এসব করতে না পাড়ার কারণেও ট্রেন ঠিক সময় মতো চলতে পারেনা।
এ কারণগুলির বিস্তারিত পরের লিখাতে আমি তুলে ধরবো।

৬. অপ্রতুল বাজেট বরাদ্দ: জার্মানির পাশের দেশে রেলওয়ের ডেভেলপমেন্টের জন্যে প্রতি বছর দেশের জনসংখার জন প্রতি বাজেট অনেক বেশি। যেখানে অস্ট্রিয়াতে এটি ৩৫০ ইউরো, সুইজারল্যান্ডে প্রায় ৫০০ ইউরো, সেখানে জার্মানীতি মাত্র ২০০ ইউরোর মতো জনপ্রতি বাজেট রেলওয়ের জন্যে।

(চলমান .... নেক্সট পর্বে সমাধানগুলি নিয়ে লিখবো)

17/04/2026

জার্মানিতে জব বা Ausbildung পাবার ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোফাইলের গুরুত্ব:
সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেইসবুক, linkedin, Xing এর প্রোফাইল ক্যারিয়ার এর ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি কোথাও Ausbildung বা জবের জন্যে এপলাই করে, তা হলে হায়ারিং ম্যানেজার বা এইচআর ওই ক্যান্ডিডেটের টেকনিকাল স্কিলগুলির বাইরে প্রাথমিক ধারণার জন্যে তার সোশ্যাল প্রোফাইল ঘুরে দেখে। এভাবে যাচাই করার হার এখন অনেক বেশি।

আপনার টেকনিকাল বা সাবজেক্ট এরিয়ার নলেজের পাশাপাশি আপনি একজন মানুষ হিসেবে কেমন সেটি সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার ইন্টারঅ্যাকশন দেখে অনেকটা ধারণা করা যায়। আমার নিজের এবং জার্মান ম্যানেজারদের সাথে অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নিচের কিছু টিপস এখানে দিলাম:

১. আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল যত বেশি সম্ভব ক্লিন রাখুন। অযাচিত কোনো টপিক আপনার প্রোফাইলে না থাকা ভাল।

২. সোশ্যাল মিডিয়াতে কারো সাথে তর্ক বা ঝগড়া এড়িয়ে চুলুন। ধরুন, আপনি কোনো একটি শপিং মলে গিয়ে অনেক মানুষের সামনে কারো সাথে কটু কথা বা ঝগড়া করছেন। আশে-পাশের মানুষগুলির তখন আপনার প্রতি ভালো ইম্প্রেশন হবে না। তেমনিভাবে, সোশ্যাল মিডিয়াতেও আপনি তর্ক-তার্কি করা বা ঝগড়া করার মত বিষয়গুলি আপনার প্রোফাইলে থাকলে সেটি আপনাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে ফুটিয়ে তোলবে না।

৩. সামাজিক অনুষ্ঠান, ভ্রমণ বা অন্য কোনো ক্লাবে জড়িত থাকার মত ইত্যাদি ইভেন্টগুলির পিকচার বা বর্ণনা দিতে পারেন প্রোফাইলগুলিতে। এটি আপনাকে অন্যদের সাথে একসাথে চলতে পাড়ার মতো ব্যাপারগুলি ফুটিয়ে তোলে। আপনার জব বা Ausbildung এর ক্ষেত্রেও আপনি টিমে ইন্টিগ্রেটেড হয়ে কাজ করতে সক্ষমতার প্রমান দিয়ে থাকে এ ধরণের ব্যাপারগুলি।

৪. গণহারে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপের মেম্বার হওয়া থেকে বিরত থাকুন। এ ধরণের প্রোফাইল ইম্প্রেশন দিয়ে থাকে যে, আপনি আসলে বুঝতে পারেন না কোনটি আপনার জন্যে রিলিভেন্ট আর কোনটি রিলিভেন্ট না। এটি ইন্ডিকেট করে যে, আপনি জব লাইফেও রিলিভেন্ট গ্রুপ এবং ইরিলিভেন্ট গ্রুপ বুঝতে পারবেন না হয়তো। কাজেই অমন ব্যাপারগুলি এড়িয়ে চলুন।

৫. কোথাও কোনো কমেন্ট করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন। আপনার আজেবাজে কমেন্ট কিন্তু সব মানুষ দেখবে। এটি আপনার প্রোফাইলের একটি খারাপ দিক ফুটিয়ে তোলবে। আপনি যে ভাষায়ই কমেন্ট করেন না কেন, সব ভাষার মানুষই সেটি ট্রান্সলেট করে পড়তে পারে। কাজেই সাবধান থাকবেন।

৬. কারো বাজে কমেন্টের উত্তর পারলে না দেয়াই ভালো। যে লোকগুলি বাজে কমেন্ট করে তারা তাদের চরিত্রের খারাপ দিকটিই ফুটিয়ে তোলে। সেখানে পারলে আপনার কমেন্ট না করাই ভালো। কারণ, এতে ওই লোকের সাথে আপনার অযাচিত তর্কা -তর্কিতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্খা থাকে। সে সব ক্ষেত্রে আপনার কমেন্ট না করাটি আপনার টলারেন্স গুনের পরিচয় দিয়ে থাকে।

৭. অনেকেই আছেন শুধুই ধর্মীয় বিষয়গুলি প্রকাশ করেন প্রোফাইলে। এটিও খুব ভালো ইম্প্রেশন নাও আনতে পারে। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না।

৮. আপনার ক্যারিয়ার রিলেটেড কোনো হবি থাকলে সেটি সোশ্যাল মিডিয়াতে দিন। যেমন ধরুন, আপনি কোনো সফটওয়্যার লিখেন শখ করে কিছু বানানোর জন্যে। অথবা, আপনি একটি মার্কেটিং সেমিনার বা ওয়ার্কশপে গেলেন। এ ধরণের ইভেন্টগুলি আপনার ক্যারিয়ার নিয়ে ডেডিকেশন প্রকাশ করে যা আপনার জন্যে পজিটিভ।

আশা করছি উপরের পয়েন্টগুলির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি মনে রেখে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটিভ থাকবেন। যাতে আপনাকে একজন ভাল মানুষ এবং ক্যান্ডিডেট হিসেবে কোম্পানি আপনার প্রতি পজিটিভ ডিসিশন নিতে পারে। কারণ দিন শেষে আপনার ক্যারিয়ার আপনার লাইফের সকল লেভেলকে প্রভাবিত করে।

সাবধান! জার্মানিতে লাইসেন্স ছাড়া সাইকেল এবং ই-বাইক: কেনা, চালানো, ক্রিমিনাল কেইস:ঘটনা ১: গতবছর এক বাঙ্গালী স্টুডেন্ট জান...
12/04/2026

সাবধান! জার্মানিতে লাইসেন্স ছাড়া সাইকেল এবং ই-বাইক: কেনা, চালানো, ক্রিমিনাল কেইস:

ঘটনা ১:
গতবছর এক বাঙ্গালী স্টুডেন্ট জানালো যে, তার ভিসা এক্সটেনশন হচ্ছেনা, কারণ তার বিরুদ্ধে একটি সাইকেল চুরির মামলা আছে। সে তার ক্রয়কৃত সাইকেল চালানোর সময় পুলিশ তাকে চেক করে। তার সাইকেল এর নম্বর চেক করার পর পুলিশ বললো, এটি একটি চুরির সাইকেল। তখন সে বললো, সে সেকেন্ড হ্যান্ড সাইকেলটি কিনেছিলো এক বিদেশি স্টুডেন্ট এর কাছ থেকে। পুলিশ জিজ্ঞেস করলো, কোন প্রমান আছে কিনা যে সাইকেলটি সে কিনেছে। সে দেখাতে পারেনি কোনো কাগজ। পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে দেয়। মামলাটি চলমান থাকাতে তার ভিসা/রেসিডেন্সি এক্সটেনশন হচ্ছিলোনা। টেম্পরারি ফিকশন দিয়ে থাকার শুধু পারমিশন দিছিলো।

ঘটনা ২:
কিছুদিন আগে একজন বাংলাদেশী স্টুডেন্ট জানালো যে, তার বিরুদ্ধে একটি ক্রিমিনাল কেস এর লেটার এসেছে পুলিশ এর কাছ থেকে। সে ফুড ডেলিভারি জবের কাজে একটি পেডেলচালিত ই-বাইক চালাচ্ছিল। পুলিশ রাস্তায় তার পেডেল-চালিত ই-বাইক চেক করে দেখতে পায় যে, এটি ৪৫ কিঃমিঃ/ঘন্টা চালানো সম্ভব। যদিও এটি ২৫ কিঃমি পর্যন্ত চালানোর জন্যে লক করা ছিল। সে আসলে জানতো না, এটি ম্যাক্সিমাম কত স্পীডে চালানো যায়, বা স্পিড এবং বাইক এর বিস্তারিত রুলস। তার কেইস এর জন্যে তাকে, ১০০০-২০০০ ইউরো জরিমানা সহ ক্রিমিনাল রেকর্ড থাকবে। প্রথমবার জেল নাও হতে পারে। তবে সিভিয়ার কিছু ঘটলে, এক বছর পর্যন্ত জেল হতে পারত।

উপরের দুটি ঘটনায় আমি চেষ্টা করেছি তাদেরকে কোন উপায়ে আগালে পানিশমেন্ট মিনিমাম হবে সেটির পরামর্শ দিতে।

উপরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জার্মানিতে যারা সাইকেল বা ই-বাইক চালাবেন বা কিনবেন তাদের জন্যে কিছু টিপস:
১. যে কোনো সাইকেল বা ই-বাইক কিনার সময় বিক্রেতার বিস্তারিত এবং কেনার লিখিত প্রমান নিয়ে নিবেন।
২. ই-বাইক কেনার সময় দেখে নিবেন এটি প্যাডেল চালিত কিনা। প্যাডেল চালিত হলে ২৫ কিঃমিঃ/ঘন্টা এর বেশি চালানোর জন্যে কিনা। যদি বেশি হয় তা হলে ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ ইন্সুরেন্স করতে হবে, কারণ তখন এটি আর সাইকেল ক্যাটাগিরি থাকবে না।
৩. ই-বাইক যদি প্যাডেল চালিত না হয়, তা হলে ম্যাক্সিমাম ৬ কিঃমিঃ/ঘন্টার জন্যে কোনো লাইসেন্স লাগবে না। এর বেশি চালাতে হলে এর জন্যে লাইসেন্স এবং ইন্সুরেন্স সব লাগবে।
৪. যদি কেউ উপরের ভুলগুলি একান্তই করে ফেলেন, তা হলে উত্তম কাজ হবে ভুল স্বীকার করে পানিশমেন্টটি কমানোর চেষ্টা করা। যেমন, কেউ যদি লাইসেন্স ছাড়া ই-বাইক চালান (২৫ কিঃমিঃ/ঘন্টা এর বেশি) এবং ধরা পড়েন, তা হলে এটা স্বীকার করে নিবেন যে, আপনি জানতেন না এর জন্যে লাইসেন্স লাগবে। এ ক্ষেত্রে কোর্ট সচরাচর মিনিমাম পানিশমেন্ট (যেমন, শুধু ফাইন) দিয়ে থাকে। তবে কেউ একই ক্রাইম রিপিট করলে জেল হতে পারে তার।
৫. পুলিশ এর কাছে প্রোটোকল দেবার সময় প্রতিটি জিনিস ভেবে চিনতে বলবেন, যাতে বিপদ কমানো যায়।

জার্মানি আইনের দেশ। এখানে আইন একবার ভঙ্গ করে ক্রাইম করলে, এর পরিণতি আজীবন জার্মানিতে ভোগ করতে হয়।

জার্মানীতে টিকেট ছাড়া পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার: জরিমানা এবং জেল শাস্তিজার্মানীতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট যেমন ট্রাম, ট্রে...
07/04/2026

জার্মানীতে টিকেট ছাড়া পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার: জরিমানা এবং জেল শাস্তি

জার্মানীতে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট যেমন ট্রাম, ট্রেনে ওঠার সময় সাধারণত টিকেট দেখাতে হয় না। নিয়মিত কোনো চেকিংও হয়না। তবে রেন্ডম চেক হয়ে থাকে। স্ট্যাটিসটিকাল এনালাইসিস দেখে দেখা যায় যে, জার্মানিতে ৩-৪% যাত্রী বিনা টিকেটে ভ্রমণ করে (সোর্স: bussgeldkatalog: Schwarzfahren: Strafen für Schwarzfahre)।

জরিমানা বা জেল কখন কতটুকু:
প্রথমবার কেউ যদি টিকেট ছাড়া ভ্রমণ করে ধরা পরে, তা হলে তাকে মিনিমাম ৬০ ইউরো জরিমানা দিতে হবে। তবে কেউ যদি ১০০ ইউরো ভাড়া সমপরিমাণ বিনা টিকেটে ভ্রমণ করে ধরা পরে, তা হলে তাকে দিতে হবে ২০০ ইউরো জরিমানা (ভাড়ার দ্বিগুন)। কোন স্টেশন থেকে ট্রেনে প্যাসেঞ্জের উঠেছিল, এটি প্রমান করার দায়িত্ব তার নিজের। তা না করতে পারলে ট্রেন যেখান থেকে সর্ব প্রথম স্টার্ট করেছে ওই স্টেশন থেকে ভাড়া কাউন্ট করা হতে পারে। কেউ যদি বিনা টিকেটে কুকুর বা সাইকেল নিয়ে উঠে, তা হলে তাকে ৬০ ইউরো জরিমানা দিতে হবে (যদি ওই জার্নিতে এদের টিকেটের বাধ্যবাধকতা থাকে)।

সাধারণত প্রথমবার কেউ বিনা টিকেটে ভ্রমণ করে ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে কোনো ক্রিমিনাল কেইস হয় না। তবে বিনা টিকেটে একাধিকবার ধরা পড়লে ক্রিমিনাল অফেন্স হয় যেটি সাধারণত জরিমানা হয়। তবে জরিমানা ঠিক মতো পরিশোধ না করলে তার এক বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।

টিকেট কাটতে না পারলে:
যদি কোনো টিকেট কাটার মেশিন নষ্ট থাকলে এবং টিকেট কাটতে না পারলে সেটির প্রমান সাথে রাখতে হবে (যেমন একটি ছবি তুলে রাখা)। এক্ষেত্রে পরবর্তী স্টেশনে নেমে গিয়ে টিকেট কেটে নিতে হবে।

টিকেট সাথে না থাকলে:
কারও যদি মোবাইলে টিকেট থাকে এবং মোবাইল নষ্ট হয়ে যায় বা চার্জ না থাকে, সেটি জানাতে হবে টিকেট চেকারকে। কেউ যদি টিকেট কিনেও ভুলে সেটি সাথে না নিয়ে আসে, সেক্ষেত্রেও জানাতে হবে চেকারকে। এ ক্ষেত্রে সাত দিনের মধ্যে ওদের অফিসে গিয়ে টিকেট দেখিয়ে আসলে জরিমানা দিতে হবে না। ৭ ইউরো ফী দিতে হতে পারে।

বিনা টিকেটের ভ্রমণের রেকর্ড কত দিন থাকে:
বিনা টিকেটে ভ্রমণের রেকর্ড সাধারণত ২-৩ বছর তাদের সিস্টেমে থাকে জার্মানিতে। এরপর রিসেট করা হয় সাধারণত। এজন্যে বিনাটিকেটে একাধিকবার চড়ার রেকর্ড যে কারো ইমিগ্রেশন বা ক্রাইম হিস্ট্রোরিতে একটি নেগেটিভ পয়েন্ট হয়ে থাকবে।
তবে রিসেন্টলি জার্মান সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে বিনা টিকেটের যাত্রীদের জেল এ নেবার শাস্তিটুকু বাদ দেয়া যায় কিনা। তাদের যুক্তি হলো, একজন মানুষ টিকেট কিনার মত সামর্থ্য না থাকলে তাকে জেলে নিয়ে যাওয়া মানবিক নয়। অন্যদিকে পুলিশের যুক্তি হলো, এভাবে যদি শাস্তি কমানো হয়, তা হলে এ ধরণের অপরাধ বা ক্রাইম করতে অনেকেই উৎসাহিত হবে। দেখা যাক এটি সামনে কতোটুকু বাস্তবায়িত হয়।

05/04/2026

জার্মানিতে নেকড়ে বাঘের আক্রমণ:
গত সোমবার মার্চের ৩০ তারিখ জার্মানির হামবুর্গ শহরের IKEA স্টোরের পাশে এক মহিলাকে একটি বাঘ (wolf বা নেকড়েবাঘ) আক্রমণ করে। মহিলাটির মুখে আক্রমণ করে বাঘটি সেখান থেকে গিয়ে একটি লেকের মধ্যে চলে যায়। পরে লেক থেকে পুলিশ এবং এনিম্যাল স্পেশালিস্ট বাঘটিকে বন্দি করে খাঁচায় ভরে নিয়ে যায়। উক্তি মহিলাকে হসপিটালে নিয়ে ট্রিটমেন্ট দেয়া হয়েছে।
গত শনিবার থেকেই বাঘটিকে হামবুর্গ শহরের কয়েকটি জায়গায় দেখা গিয়েছে। ২০১৩ সালের পর অন্তত ২১ বার হামবুর্গে বাঘ দেখার রেকর্ড আছে। তবে এই প্রথম বিগত কয়েক দশক পরে বাঘ কোনো মানুষকে এটাক করার ঘটনা ঘটলো।
ধারণা করা হচ্ছে বাঘটি তার নিজের পাল থেকে দলছুট হয়ে লোকালয়ে চলে এসেছে।

জার্মানির Stern পত্রিকায় প্রকাশিত এপ্রিলের ২ তারিখের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বুধবার ১০ জনের কিন্ডারগার্টেন এর ছেলে-মেয়ের একটি গ্রুপ হামবুর্গের ফরেস্ট Klecker এ দুইজন গাইডসহ ঘুরতে যেয়ে একটি বাঘের কবলে পরে। বাঘটি প্রথমে প্রায় ৬০ মিটার দূরে থাকা অবস্থায় তাদের চোখে ধরা পরে।অতঃপর বাঘটি একটু দূরে চলে যায়। সেটি আবার দূর থেকে কাছে চলে আসে। এতে কিন্ডারগার্টেনের ছেলে মেয়েরা চিৎকার শুরু করে। প্রায় ৪০ মিটার কাছে চলে আসলে ছেলে-মেয়েদের চিৎকারে বাঘ সম্ভবত ভয় পেয়ে পালিয়ে চলে যায়। বড় কোনো দুর্ঘটনার হাত থেকে বাচ্চারাও বেঁচে যায়।

বাংলাদেশের ব্যাপারে শুনতাম সুন্দরবনের আশেপাশের লোকালয়ে মাঝে মাঝে বাঘের আক্রমণ হয়। এখন দেখছি জার্মানিতেও বাঘ হানা দেয়। বাঘের ভয়ও দেখছি সব জায়গায়ই আছে!

Adresse

Mannheim

Benachrichtigungen

Lassen Sie sich von uns eine E-Mail senden und seien Sie der erste der Neuigkeiten und Aktionen von Dr. MK Kabir erfährt. Ihre E-Mail-Adresse wird nicht für andere Zwecke verwendet und Sie können sich jederzeit abmelden.

Teilen