16/08/2026
বিদ্যুৎ কর্মীর বাড়িতে ‘বিলের বাহার’! ৯ মাসে মাত্র ৯২২ টাকা, মিটার রিডিং ঘিরে প্রশ্ন
সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল যখন মাসের পর মাস বাড়ছে, তখন উদয়পুর মহকুমার বিদ্যুৎ দপ্তরের এক কর্মীর নামে থাকা একটি বিদ্যুৎ সংযোগের বিলের নথি ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। মুর্শিদা বেগম নামে এক গ্রাহকের সংযোগের বিলের তথ্য সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বিল ছিল ১৬৫ টাকা এবং ডিসেম্বর মাসে ১২০ টাকা। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মাসগুলিতে বিলের পরিমাণ যথাক্রমে ৯২, ৮৮, ৬৯, ৯৮, ৯৩, ১৭ এবং ১০৭ টাকা। অর্থাৎ নথিতে থাকা এই নয় মাসের বিলের মোট পরিমাণ ৯২২ টাকা। যেখানে অনেক সাধারণ গ্রাহকের এক মাসের বিলই ৯২২ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে, সেখানে নয় মাসে মোট ৯২২ টাকার বিল স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সংশ্লিষ্ট সংযোগের মিটার সংক্রান্ত তথ্যে Previous Reading ৫৬৬৪ এবং Present Reading ৫৬৬৪ দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ নথি অনুযায়ী কনজাম্পশন দেখানো হয়েছে শূন্য ইউনিট। তাহলে শূন্য ইউনিট ব্যবহারের পরও বিভিন্ন মাসে কীভাবে আলাদা অঙ্কের বিল তৈরি হল—সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
তবে শুধুমাত্র এই নথির ভিত্তিতে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ নিশ্চিতভাবে করা যায় না। মিটার রিডিংয়ের ভুল, অ্যাভারেজ বিলিং, ডেটা এন্ট্রির ত্রুটি, বিলিং সফটওয়্যারের সমস্যা কিংবা অন্য কোনও কারিগরি কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্তেই স্পষ্ট হতে পারে।
সাধারণ গ্রাহকদের দাবি, বিষয়টি স্বচ্ছভাবে খতিয়ে দেখা হোক। কে মিটার রিডিং নিয়েছেন, কোন রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল তৈরি হয়েছে, মিটারে শূন্য কনজাম্পশন দেখানোর পরও কেন বিভিন্ন অঙ্কের বিল এসেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে একের পর এক অভিযোগ উঠছে, তখন দপ্তরের এক কর্মীর সংযোগে দীর্ঘ সময় ধরে এমন কম বিলের নথি সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এটি কি নিছক বিলিং ব্যবস্থার ত্রুটি, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? সঠিক তদন্তেই বেরিয়ে আসুক এই ‘বিদ্যুৎ রহস্য’।
#বিদ্যুৎবিল #বিদ্যুৎদপ্তর #বিদ্যুৎকর্মী #মিটাররিডিং #বিদ্যুৎবিলরহস্য #৯২২টাকা #শূন্যইউনিট #ত্রিপুরা #উদয়পুর #গোমতীজেলা #জনশক্তিত্রিপুরা